       স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু নভেম্বর ৩০ , ১৮৫৮  নভেম্বর ২৩ , ১৯৩৭ একজন বাঙালি পদার্থবিদ , উদ্ভিদবিদ ও জীববিজ্ঞানী এবং প্রথম দিকের একজন কল্পবিজ্ঞান রচয়িতা১ তাঁর গবেষণা ফলে উদ্ভিদবিজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে তোলে এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যবহারিক ও গবেষণাধর্মী বিজ্ঞানের সূচনা করে২ ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স তাঁকে রেডিও বিজ্ঞানের জনক বলে অভিহিত করেপ্রাথমিক জীবন ও শিক্ষাস্যার জগদীশ চন্দ্র বসু , রয়্যাল ইন্সটিটিউট , লন্ডন , ১৮৯৭ সনজগদীশ চন্দ্র বসু ১৮৫৮ সালের ৩০শে নভেম্বর ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি অঞ্চলের বিক্রমপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন বিক্রমপুরের রাঢ়িখাল গ্রামে তাঁর পরিবারের প্রকৃত বাসস্থান ছিল ৪ তার পিতা ব্রাহ্ম ধর্মাবলম্বী ভগবান চন্দ্র বসু তখন ফরিদপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন৫ এর পূর্বে তিনি ১৮৫৩ থেকে ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন ভগবান চন্দ্রই এই স্কুলের প্রথম প্রধান শিক্ষক ছিলেন পরবর্তিতে তিনি বর্ধমান ও অন্যান্য কিছু অঞ্চলের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেছেন৬৩১০ইংরেজ সরকারের অধীনে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও ভগবান চন্দ্র নিজের ছেলেকে ইংরেজি স্কুলে ভর্তি করাননি জগদীশ চন্দ্রের প্রথম স্কুল ছিল ময়মনসিংহ জিলা স্কুল বাংলা স্কুলে ভর্তি করানোর ব্যাপারে তাঁর নিজস্ব যুক্তি ছিল তিনি মনে করতেন ইংরেজি শেখার আগে এদেশীয় ছেলেমেয়েদের মাতৃভাষা আয়ত্ব করা উচিত বাংলা স্কুলে পড়ার ব্যাপারটি জগদীশ চন্দ্রের জীবনে যেমন গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছে তেমনি বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করতেও সাহায্য করেছে এর প্রমাণ বাংলা ভাষায় রচিত জগদীশের বিজ্ঞান প্রবন্ধগুলো ভাষার প্রতি বিশেষ মমত্ববোধ ছাড়াও ভগবান চন্দ্র চেয়েছিলেন তার পুত্র দেশের আপামর জনসাধারণের সাথে মিলেমিশে মানুষ হোক এবং তার মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হোক৭ জগদীশ চন্দ্রের পরবর্তী জীবনে তাঁর প্রথম বাংলা স্কুলের অধ্যয় গুরুত্বপূর্ণ ছাপ ফেলেছিল ১জগদীশ কলকাতার হেয়ার স্কুল থেকে পড়াশোনা করে ১৮৭৯ খ্রিষ্টাব্দে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন৫ এই কলেজে ইউজিন ল্যাফন্ট নামক একজন খ্রিষ্টান যাজক প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের ওপর তাঁর আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন৪৬৩১০ এরপর তিনি আইসিএস পরীক্ষায় বসার জন্য ইংল্যান্ডে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ভগবান চন্দ্র এতে রাজী হননি কারণ তিনি চেয়েছিলেন তাঁর পুত্র একজন বিদ্বান হোন৮বাবার ইচ্ছা ও তার আগ্রহে তিনি ১৮৮০ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞান পাঠের উদ্দেশ্যেই লন্ডনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান , কিন্তু অসুস্থতার কারণে বেশিদিন এই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেননি৯ তাঁর ভগ্নীপতি আনন্দমোহন বসুর আনুকুল্যে জগদীশ চন্দ্র প্রকৃতি বিজ্ঞান সম্বন্ধে শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে কেমব্রিজের ক্রাইস্ট কলেজে ভর্তি হন এখান থেকে ট্রাইপস পাশ করেন ১৮৮৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি পাঠ সম্পন্ন করেন১০ কেম্ব্রিজে জন উইলিয়াম স্ট্রাট , ৩য় ব্যারন রেলি , মাইকেল ফস্টার , জেমস ডেওয়ার , ফ্রান্সিস ডারউইন , ফ্রান্সিস মেটল্যান্ড বালফুর , সিডনি ভাইনসের মতো বিখ্যাত বিজ্ঞানসাধকেরা তাঁর শিক্ষক ছিলেনপ্রেসিডেন্সি কলেজে যোগদানজগদীশ চন্দ্র বসু১৮৮৫ খ্রিষ্টাব্দে জগদীশ চন্দ্র ভারতে ফিরে আসেন তৎকালীন ভারতের গভর্নরজেনারেল জর্জ রবিনসন , প্রথম মার্কুইস অব রিপন অনুরোধে স্যার অ্যালফ্রেড ক্রফট বসুকে প্রেসিডেন্সি কলেজে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক নিযুক্ত করেন কলেজের অধ্যক্ষ চার্লস হেনরি টনি এই নিয়োগের বিপক্ষে ছিলেন শুধু যে তাঁকে গবেষণার জন্য কোন রকম সুবিধা দেওয়া হত না তাই নয় , তিনি ইউরোপীয় অধ্যাপকদের অর্ধেক বেতনেরও কম অর্থ লাভ করতেন৬১১১৩১১ এর প্রতিবাদে বস্য বেতন নেওয়া বন্ধ করে দেন এবং তিন বছর অবৈতনিক ভাবেই অধ্যাপনা চালিয়ে যান৬১১১৩১২ দীর্ঘকাল ধরে এই প্রতিবাদের ফলে তাঁর বেতন ইউরোপীয়দের সমতুল্য করা হয়৫ প্রেসিডেন্সি কলেজে গবেষণার কোন রকম উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা না থাকায় ২৪বর্গফুট ২২ মি২ একটি ছোট ঘরে তাঁকে গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে হত পদে পদে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁর বিজ্ঞান সাধনার প্রতি আগ্রহ ভগিনী নিবেদিতাকে বিস্মিত করেছিল ২ কলেজে যোগ দেওয়ার এক দশকের মধ্যে তিনি বেতার গবেষণার একজন দিকপাল হিসেবে উঠে আসেনপ্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনার প্রথম আঠারো মাসে জগদীশ যে সকল গবেষণা কাজ সম্পন্ন করেছিলেন তা লন্ডনের রয়েল সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত হয় এই গবেষণা পত্রগুলোর সূত্র ধরেই লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯৬ সালের মে মাসে তাকে ডিএসসি ডিগ্রী প্রদান করে এই গবেষণাগুলো একটু ভিন্ন আঙ্গিকে বিচার করতে হবে প্রতিদিন নিয়মিত ৪ ঘণ্টা শিক্ষকতার পর যেটুকু সময় পেতেন তখন তিনি এই গবেষণার কাজ করতেন তার উপর প্রেসিডেন্সি কলেজে কোন উন্নতমানের গবেষণাগার ছিলনা , অর্থ সংকটও ছিল প্রকট সীমিত ব্যয়ে স্থানীয় মিস্ত্রীদেরকে শিখিয়ে পড়িয়ে তিনি পরীক্ষণের জন্য উপকরণ প্রস্তুত করতেন তার এই গবেষণা কর্মগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করেই ইংল্যান্ডের লিভারপুলে বক্তৃতা দেয়ার জন্য ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশন তাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল এই বক্তৃতার সাফল্যের পর তিনি বহু স্থান থেকে বক্তৃতার নিমন্ত্রণ পান এর মধ্যে ছিল রয়েল ইন্সটিটিউশন , ফ্রান্স এবং জার্মানি সফল বক্তৃতা শেষে ১৮৯৮ সালের এপ্রিল মাসে তিনি সস্ত্রীক দেশে ফিরে এসেছিলেনবিবাহ১৮৮৭ সালে জগদীশচন্দ্র বসুর সাথে অবলার বিয়ে হয় অবলা ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের বিখ্যাত সংস্কারক দুর্গা মোহন দাসের কন্যা বিয়ের আগে অবলা বসু কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে চাইলেও তাকে ভর্তি হতে দেয়া হয়নি , কারণ সেখানে তখন মেয়েদের পড়ানো নিষেধ ছিল ১৮৮২ সালে বঙ্গ সরকারের বৃত্তি নিয়ে অবলা মাদ্রাজে যান পড়াশোনার উদ্দেশ্যে সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞান অধ্যয়ন শুরু করলেও অসুস্থতার কারণে আবার ফিরে আসতে বাধ্য হন তাদের বিয়ের সময় জগদীশচন্দ্র বসু আর্থিক কষ্টের মধ্যে ছিলেন এর মধ্যে আবার তিনি তখন কলেজ থেকে বেতন নিতেন না এছাড়া জগদীশের বাবার কিছু ঋণ ছিল যার কারণে তার পরিবারকে পথে বসতে হয় এর মধ্য থেকে অবলা ও জগদীশ অনেক কষ্টে বেরিয়ে আসেন এবং সব ঋণ পরিশোধ করতে সমর্থ হন সব ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কিছুদিন মাত্র বসুর পিতামাতা জীবিত ছিলেনগবেষণা কর্মঅতিক্ষুদ্র তরঙ্গ সৃষ্টি ও প্রেরণজগদীশের আঠারো মাসের সেই গবেষণার মধ্যে মুখ্য ছিল অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ নিয়ে গবেষণা ১৮৯৫ সালে তিনি অতিক্ষুদ্র তরঙ্গ সৃষ্টি এবং কোন তার ছাড়া এক স্থান থেকে অন্য স্থানে তা প্রেরণে সফলতা পান ১৮৮৭ সালে বিজ্ঞনী হের্ৎস প্রতক্ষভাবে বৈদ্যুতিক তরঙ্গের অস্তিত্ব প্রমাণ করেন এ নিয়ে আরও গবেষণা করার জন্য তিনি চেষ্টা করছিলেন যদিও শেষ করার আগেই তিনি মারা যান জগদীশচন্দ্র তার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করে সর্বপ্রথম প্রায় ৫ মিলিমিটার তরঙ্গ দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তরঙ্গ তৈরি করেন এ ধরণের তরঙ্গকেই বলা হয়ে অতি ক্ষুদ্র তরঙ্গ বা মাউক্রোওয়েভ আধুনিক রাডার , টেলিভিশন এবং মহাকাশ যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই তরঙ্গের ভূমিকা অনস্বীকার্য মূলত এর মাধ্যমেই বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ তথ্যের আদান প্রদান ঘটে থাকেউদ্ভিদ ও প্রাণী জীবনের সাদৃশ্যবক্তৃতাসমূহব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনে বক্তৃতা , লিভারপুলব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনে তার বক্তৃতার বিষয় ছিল অন ইলেকট্রিক ওয়েভ্স মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে করা পরীক্ষণগুলোর উপর ভিত্তি করেই তিনি বক্তৃতা করেন যা ইউরোপীয় বিজ্ঞানীদের চমৎকৃত ও আশ্চর্যান্বিত করে অশীতিপর বৃদ্ধ বিজ্ঞানী লর্ড কেলভিন বক্তৃতা শোনার পর লাঠিতে ভর দিয়ে এসে জগদীশের স্ত্রী অবলা বসুকে তার স্বামীর সফলতার জন্য অভিবাদন জানান জগদীশ এবং অবলা দুজনকেই তিনি তার বাসায় নিমন্ত্রণ করেছিলেন এই বিষয়ের উপর বিখ্যাত সাময়িকী টাইম্সএ একটি রিপোর্ট ছাপা হয় যাতে বলা হয় , এ বছর ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মিলনে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল বিদ্যুৎতরঙ্গ সম্পর্কে অধ্যাপক বসুর বক্তৃতা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক , কেমব্রিজের এমএ এবং লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর অফ সাইন্স এই বিজ্ঞানী বিদ্যুৎরশ্মির সমাবর্তন সম্পর্কে যে মৌলিক গবেষণা করেছেন , তার প্রতি ইউরোপীয় বিজ্ঞানী মহলে আগ্রহ জন্মেছে রয়্যাল সোসাইটি বিদ্যুৎরশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য ও প্রতিসরাঙ্ক নির্ণয়ের গবেষণাপত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেছে এই বক্তৃতা বিষয়ে পারসন্স ম্যাগাজিন লিখেছিল বিদেশী আক্রমণে ও অন্তর্দ্বন্দ্বে বহুবছর ধরে ভারতে জ্ঞানের অগ্রগতি ব্যাহত হয়ে চলেছিল প্রবল বাধাবিপত্তির মধ্যে গবেষণা চালিয়ে একজন ভারতীয় অধ্যাপক আধুনিক বিজ্ঞানের জগতেও বিশেষ উল্লেখযোগ্য কাজের নজির রেখেছেন বিদ্যুৎরশ্মি বিষয়ে তার গবেষণাপত্র ব্রিটিশ অ্যাসোসিয়েশনে পঠিত হবার সময় তা ইউরোপীয় জ্ঞানীগুণীমহলে প্রবল আলোড়নের সৃষ্টি করেছে তাঁর ধৈর্য ও অসাধারণ শক্তির প্রশংসা করতেই হয় অন্ততঃ যখন ভাবি যে তিনি মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে বিদ্যুতের মতো অত্যন্ত দুরূহ বিভাগের ছয়টি উল্লেখযোগ্য গবেষণা শেষ করেছেনরয়্যাল ইন্সটিটিউশনে সান্ধ্য বক্তৃতালিভারপুলে বক্তৃতার পর তার আরও সাফল্য আসে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রয়্যাল ইন্সটিটিউশনে সান্ধ্য বক্তৃতা দেয়ার নিমন্ত্রণ এই বক্তৃতাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রাইডে ইভনিং ডিসকোর্স নামে সুপরিচিত ছিল এই ডিসকোর্সগুলোতে আমন্ত্রিত হতেন একেবারে প্রথম সারির কোন আবিষ্কারক সে হিসেবে এটি জগদীশচন্দ্রের জন্য একটি দুর্লভ সম্মাননা ছিল ১৮৯৮ সালের জানুয়ারি ১৯ তারিখে প্রদত্ত তার এই বক্তৃতার বিষয় ছিল অন দ্য পোলারাইজেশন অফ ইলেকট্রিক রেইস তথা বিদ্যুৎরশ্মির সমাবর্তন এই বক্তৃতার সফলতা ছিল সবচেয়ে বেশি বায়ুতে উপস্থিত বেশ কিছু বিরল গ্যাসের আবিষ্কারক হিসেবে খ্যাত বিজ্ঞানী লর্ড র্যালে তার বক্তৃতা শুনে এবং পরীক্ষাগুলো দেখে এতোটাই বিস্মিত হয়েছিলেন তার কাছে সবকিছু অলৌকিক মনে হয়েছিল তিনি এ সম্পর্কে বলেছিলেন , এমন নির্ভুল পরীক্ষা এর আগে কখনও দেখিনি এ যেন মায়াজাল এই বক্তৃতার সূত্র ধরেই বিজ্ঞানী জেমস ডিউয়ারএর সাথে জগদীশচন্দ্রের বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয় ডিউয়ার গ্যাসের তরলীকরণের পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য বিখ্যাত এই বক্তৃতা সম্বন্ধে স্পেক্টেটর পত্রিকায় লিখা হয়েছিল , একজন খাঁটি বাঙালি লন্ডনে সমাগত , চমৎকৃত ইউরোপীয় বিজ্ঞানীমণ্ডলীর সামনে দাঁড়িয়ে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অত্যন্ত দুরূহ বিষয়ে বক্তৃতা দিচ্ছেন এ দৃশ্য অভিনবএই বক্তৃতার পর ফ্রান্স এবং জার্মানি থেকে আমন্ত্রণ আসে এবং তিনি সেখানে কয়েকটি বক্তৃতা দেন সবখানেই বিশেষ প্রশংসিত হন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও অধ্যাপক কর্ন তার বন্ধু হয়ে যায় এবং তিনি ফ্রান্সের বিখ্যাত বিজ্ঞান সমিতি   এর সদস্য মনোনীত হনসুখ্যাতিবিজ্ঞান শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে জগদীশ চন্দ্রের সফলতার কথা কর্মজীবন অংশেই উল্লেখিত হয়েছে এছাড়া তিনি বিজ্ঞান গবেষণায়ও প্রভূত সাফল্য অর্জন করেছিলেন যার জন্য তার সুখ্যাতি তখনই ছড়িয়ে পড়েছিল বাঙালিরাও বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে নিউটনআইনস্টাইনের চেয়ে কম যায়না তিনি তা প্রমাণ করেন জগদীশ চন্দ্র যে গ্যালিলিওনিউটনের সমকক্ষ বিজ্ঞানী তার স্বীকৃতি দিয়েছিল লন্ডনের ডেইলি এক্সপ্রেস পত্রিকা , ১৯২৭ সালে আর আইনস্টাইন তার সম্পর্কে নিজেই বলেছেনরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৭ই মে , ১৮৬১  ৭ই আগস্ট , ১৯৪১১ ২৫ বৈশাখ , ১২৬৮  ২২ শ্রাবণ , ১৩৪৮ বঙ্গাব্দ১ ছিলেন অগ্রণী বাঙালি কবি , ঔপন্যাসিক , সংগীতস্রষ্টা , নাট্যকার , চিত্রকর , ছোটগল্পকার , প্রাবন্ধিক , অভিনেতা , কণ্ঠশিল্পী ও দার্শনিক২ তাঁকে বাংলা ভাষার সর্বশ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক মনে করা হয়৩ রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব , কবিগুরু ও বিশ্বকবি অভিধায় ভূষিত করা হয়৪ রবীন্দ্রনাথের ৫২টি কাব্যগ্রন্থ ,৫ ৩৮টি নাটক ,৬ ১৩টি উপন্যাস৭ ও ৩৬টি প্রবন্ধ ও অন্যান্য গদ্যসংকলন৮ তাঁর জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর অব্যবহিত পরে প্রকাশিত হয় তাঁর সর্বমোট ৯৫টি ছোটগল্প৯ ও ১৯১৫টি গান১০ যথাক্রমে গল্পগুচ্ছ ও গীতবিতান সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় প্রকাশিত ও গ্রন্থাকারে অপ্রকাশিত রচনা ৩২ খণ্ডে রবীন্দ্র রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়েছে১১ রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় পত্রসাহিত্য উনিশ খণ্ডে চিঠিপত্র ও চারটি পৃথক গ্রন্থে প্রকাশিত১২ এছাড়া তিনি প্রায় দুই হাজার ছবি এঁকেছিলেন১৩ রবীন্দ্রনাথের রচনা বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন১৪রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার এক ধনাঢ্য ও সংস্কৃতিবান ব্রাহ্ম পিরালী ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন১৫১৬১৭১৮ বাল্যকালে প্রথাগত বিদ্যালয়শিক্ষা তিনি গ্রহণ করেননি গৃহশিক্ষক রেখে বাড়িতেই তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল১৯ আট বছর বয়সে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেনক২০ ১৮৭৪ সালে তত্ত্ববোধিনী পত্রিকাএ তাঁর অভিলাষ কবিতাটি প্রকাশিত হয় এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা২১ ১৮৭৮ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান২২ ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়২২ ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন২২ ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন২৩ ১৯০২ সালে তাঁর পত্নীবিয়োগ হয়২৩ ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন২৩ ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন২৩ কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন২৪ ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য তিনি শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন২৫ ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়২৬ দীর্ঘজীবনে তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্বে বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন২৫ ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈত্রিক বাসভবনেই তাঁর মৃত্যু হয়২৭রবীন্দ্রনাথের কাব্যসাহিত্যের বৈশিষ্ট্য ভাবগভীরতা , গীতিধর্মিতা চিত্ররূপময়তা , অধ্যাত্মচেতনা , ঐতিহ্যপ্রীতি , প্রকৃতিপ্রেম , মানবপ্রেম , স্বদেশপ্রেম , বিশ্বপ্রেম , রোম্যান্টিক সৌন্দর্যচেতনা , ভাব , ভাষা , ছন্দ ও আঙ্গিকের বৈচিত্র্য , বাস্তবচেতনা ও প্রগতিচেতনা২৮ রবীন্দ্রনাথের গদ্যভাষাও কাব্যিক২৯ ভারতের ধ্রুপদি ও লৌকিক সংস্কৃতি এবং পাশ্চাত্য বিজ্ঞানচেতনা ও শিল্পদর্শন তাঁর রচনায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিল৩০ কথাসাহিত্য ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ , রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে নিজ মতামত প্রকাশ করেছিলেন৩১ সমাজকল্যাণের উপায় হিসেবে তিনি গ্রামোন্নয়ন ও গ্রামের দরিদ্র জনসাধারণকে শিক্ষিত করে তোলার পক্ষে মতপ্রকাশ করেন৩২ এর পাশাপাশি সামাজিক ভেদাভেদ , অস্পৃশ্যতা , ধর্মীয় গোঁড়ামি ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধেও তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন৩৩ রবীন্দ্রনাথের দর্শনচেতনায় ঈশ্বরের মূল হিসেবে মানব সংসারকেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ দেববিগ্রহের পরিবর্তে কর্মী অর্থাৎ মানুষ ঈশ্বরের পূজার কথা বলেছিলেন৩৪ সংগীত ও নৃত্যকে তিনি শিক্ষার অপরিহার্য অঙ্গ মনে করতেন৩৫ রবীন্দ্রনাথের গান তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি৩৬ তাঁর রচিত আমার সোনার বাংলা ও জনগণমনঅধিনায়ক জয় হে গানদুটি যথাক্রমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় সংগীত৩৭পরিচ্ছেদসমূহ    ১ জীবন        ১১ প্রথম জীবন ১৮৬১১৯০১            ১১১ শৈশব ও কৈশোর ১৮৬১  ১৮৭৮            ১১২ যৌবন ১৮৭৮১৯০১        ১২ মধ্য জীবন ১৯০১১৯৩২        ১৩ শেষ জীবন ১৯৩২১৯৪১    ২ বিশ্বভ্রমণ    ৩ সৃষ্টিকর্ম        ৩১ কবিতা        ৩২ ছোটগল্প        ৩৩ উপন্যাস        ৩৪ প্রবন্ধ ও পত্রসাহিত্য        ৩৫ নাট্যসাহিত্য        ৩৬ সংগীত ও নৃত্যকলা        ৩৭ চিত্রকলা    ৪ রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তা    ৫ প্রভাব    ৬ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামাঙ্কিত স্মারক ও দ্রষ্টব্যস্থল    ৭ পাদটীকা    ৮ তথ্যসূত্র    ৯ মূল সূত্র    ১০ আরও পড়ুন    ১১ বহিঃসংযোগজীবনপ্রথম জীবন ১৮৬১১৯০১মূল নিবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ১৮৬১১৯০১শৈশব ও কৈশোর ১৮৬১  ১৮৭৮কিশোর রবীন্দ্রনাথ , ১৮৭৭ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্কেচ অবলম্বনে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর কর্তৃক অঙ্কিতরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তাঁর পিতা ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মগুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮১৭১৯০৫৩৮ এবং মাতা ছিলেন সারদাসুন্দরী দেবী ১৮২৬১৮৭৫৩৯ রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পিতামাতার চতুর্দশ সন্তানখ৪০ জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার ছিল ব্রাহ্ম আদিধর্ম মতবাদের প্রবক্তা৪১৪২ রবীন্দ্রনাথের পূর্ব পুরুষেরা খুলনা জেলার রূপসা উপজেলা পিঠাভোগে বাস করতেন৪৩ ১৮৭৫ সালে মাত্র চোদ্দ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের মাতৃবিয়োগ ঘটে২২ পিতা দেবেন্দ্রনাথ দেশভ্রমণের নেশায় বছরের অধিকাংশ সময় কলকাতার বাইরে অতিবাহিত করতেন তাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছিল ভৃত্যদের অনুশাসনে৪৪৪৫ শৈশবে রবীন্দ্রনাথ কলকাতার ওরিয়েন্টাল সেমিনারি , নর্ম্যাল স্কুল , বেঙ্গল অ্যাকাডেমি এবং সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজিয়েট স্কুলে কিছুদিন করে পড়াশোনা করেছিলেন৪৬ কিন্তু বিদ্যালয়শিক্ষায় অনাগ্রহী হওয়ায় বাড়িতেই গৃহশিক্ষক রেখে তাঁর শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল৪৭ ছেলেবেলায় জোড়াসাঁকোর বাড়িতে অথবা বোলপুর ও পানিহাটির বাগানবাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে বেশি স্বচ্ছন্দবোধ করতেন রবীন্দ্রনাথ৪৮৪৯১৮৭৩ সালে এগারো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের উপনয়ন অনুষ্ঠিত হয়েছিল২১ এরপর তিনি কয়েক মাসের জন্য পিতার সঙ্গে দেশভ্রমণে বের হন২১ প্রথমে তাঁরা আসেন শান্তিনিকেতনে৫০ এরপর পাঞ্জাবের অমৃতসরে কিছুকাল কাটিয়ে শিখদের উপাসনা পদ্ধতি পরিদর্শন করেন৫০ শেষে পুত্রকে নিয়ে দেবেন্দ্রনাথ যান পাঞ্জাবেরই অধুনা ভারতের হিমাচল প্রদেশ রাজ্যে অবস্থিত ডালহৌসি শৈলশহরের নিকট বক্রোটায়৫০ এখানকার বক্রোটা বাংলোয় বসে রবীন্দ্রনাথ পিতার কাছ থেকে সংস্কৃত ব্যাকরণ , ইংরেজি , জ্যোতির্বিজ্ঞান , সাধারণ বিজ্ঞান ও ইতিহাসের নিয়মিত পাঠ নিতে শুরু করেন৫০ দেবেন্দ্রনাথ তাঁকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী , কালিদাস রচিত ধ্রুপদি সংস্কৃত কাব্য ও নাটক এবং উপনিষদ্ পাঠেও উৎসাহিত করতেন৫১৫২ ১৮৭৭ সালে ভারতী পত্রিকায় তরুণ রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা প্রকাশিত হয় এগুলি হল মাইকেল মধুসূদনের মেঘনাদবধ কাব্যের সমালোচনা , ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী এবং ভিখারিণী ও করুণা নামে দুটি গল্প এর মধ্যে ভানুসিংহ ঠাকুরের পদাবলী বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য এই কবিতাগুলি রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলির অনুকরণে ভানুসিংহ ভণিতায় রচিত৫৩ রবীন্দ্রনাথের ভিখারিণী গল্পটি ১৮৭৭ বাংলা সাহিত্যের প্রথম ছোটগল্প৫৪৫৫ ১৮৭৮ সালে প্রকাশিত হয় রবীন্দ্রনাথের প্রথম কাব্যগ্রন্থ তথা প্রথম মুদ্রিত গ্রন্থ কবিকাহিনী৫৬ এছাড়া এই পর্বে তিনি রচনা করেছিলেন সন্ধ্যাসংগীত ১৮৮২ কাব্যগ্রন্থটি রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত কবিতা নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ এই কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত৫৭যৌবন ১৮৭৮১৯০১           ,  ,                    ,     ,                  স্ত্রী মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ , ১৮৮৩১৮৭৮ সালে ব্যারিস্টারি পড়ার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডে যান রবীন্দ্রনাথ৫৮ প্রথমে তিনি ব্রাইটনের একটি পাবলিক স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন৫৮ ১৮৭৯ সালে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে আইনবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেন কিন্তু সাহিত্যচর্চার আকর্ষণে সেই পড়াশোনা তিনি সমাপ্ত করতে পারেননি৫৮ ইংল্যান্ডে থাকাকালীন শেকসপিয়র ও অন্যান্য ইংরেজ সাহিত্যিকদের রচনার সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় ঘটে এই সময় তিনি বিশেষ মনোযোগ সহকারে পাঠ করেন রিলিজিও মেদিচি , কোরিওলেনাস এবং অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা৫৯ এই সময় তাঁর ইংল্যান্ডবাসের অভিজ্ঞতার কথা ভারতী পত্রিকায় পত্রাকারে পাঠাতেন রবীন্দ্রনাথ উক্ত পত্রিকায় এই লেখাগুলি জ্যেষ্ঠভ্রাতা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সমালোচনাসহ৫৮ প্রকাশিত হত য়ুরোপযাত্রী কোনো বঙ্গীয় যুবকের পত্রধারা নামে২২ ১৮৮১ সালে সেই পত্রাবলি য়ুরোপপ্রবাসীর পত্র নামে গ্রন্থাকারে ছাপা হয় এটিই ছিল রবীন্দ্রনাথের প্রথম গদ্যগ্রন্থ তথা প্রথম চলিত ভাষায় লেখা গ্রন্থ৫৮ অবশেষে ১৮৮০ সালে প্রায় দেড় বছর ইংল্যান্ডে কাটিয়ে কোনো ডিগ্রি না নিয়ে এবং ব্যারিস্টারি পড়া শুরু না করেই তিনি দেশে ফিরে আসেন৫৮১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর ২৪ অগ্রহায়ণ , ১২৯০ বঙ্গাব্দ ঠাকুরবাড়ির অধস্তন কর্মচারী বেণীমাধব রায়চৌধুরীর কন্যা ভবতারিণীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের বিবাহ সম্পন্ন হয়৬০ বিবাহিত জীবনে ভবতারিণীর নামকরণ হয়েছিল মৃণালিনী দেবী ১৮৭৩১৯০২ ৬০ রবীন্দ্রনাথ ও মৃণালিনীর সন্তান ছিলেন পাঁচ জন মাধুরীলতা ১৮৮৬১৯১৮ , রথীন্দ্রনাথ ১৮৮৮১৯৬১ , রেণুকা ১৮৯১১৯০৩ , মীরা ১৮৯৪১৯৬৯ এবং শমীন্দ্রনাথ ১৮৯৬১৯০৭৬০ এঁদের মধ্যে অতি অল্প বয়সেই রেণুকা ও শমীন্দ্রনাথের মৃত্যু ঘটে৬১শিলাইদহ কুঠিবাড়ি , বর্তমান চিত্র১৮৯১ সাল থেকে পিতার আদেশে নদিয়া নদিয়ার উক্ত অংশটি অধুনা বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলা , পাবনা ও রাজশাহী জেলা এবং উড়িষ্যার জমিদারিগুলির তদারকি শুরু করেন রবীন্দ্রনাথ৬২ কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছিলেন জমিদার রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে পদ্মা নামে একটি বিলাসবহুল পারিবারিক বজরায় চড়ে প্রজাবর্গের কাছে খাজনা আদায় ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে যেতেন গ্রামবাসীরাও তাঁর সম্মানে ভোজসভার আয়োজন করত৬৩১৮৯০ সালে রবীন্দ্রনাথের অপর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ মানসী প্রকাশিত হয় কুড়ি থেকে ত্রিশ বছর বয়সের মধ্যে তাঁর আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ ও গীতিসংকলন প্রকাশিত হয়েছিল এগুলি হলো প্রভাতসংগীত , শৈশবসঙ্গীত , রবিচ্ছায়া , কড়ি ও কোমল ইত্যাদি৬৪ ১৮৯১ থেকে ১৮৯৫ সাল পর্যন্ত নিজের সম্পাদিত সাধনা পত্রিকায় রবীন্দ্রনাথের বেশ কিছু উৎকৃষ্ট রচনা প্রকাশিত হয় তাঁর সাহিত্যজীবনের এই পর্যায়টি তাই সাধনা পর্যায় নামে পরিচিত৪৪ রবীন্দ্রনাথের গল্পগুচ্ছ গ্রন্থের প্রথম চুরাশিটি গল্পের অর্ধেকই এই পর্যায়ের রচনা৫৪ এই ছোটগল্পগুলিতে তিনি বাংলার গ্রামীণ জনজীবনের এক আবেগময় ও শ্লেষাত্মক চিত্র এঁকেছিলেন৬৫মধ্য জীবন ১৯০১১৯৩২মূল নিবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ১৯০১১৯৩২                                     ,    ১৯১২ সালে হ্যাম্পস্টেডে রবীন্দ্রনাথ বন্ধু উইলিয়াম রোদেনস্টাইনের শিশুপুত্র জন রোদেনস্টাইন কর্তৃক গৃহীত ফটোগ্রাফ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ সপরিবারে শিলাইদহ ছেড়ে চলে আসেন বীরভূম জেলার বোলপুর শহরের উপকণ্ঠে শান্তিনিকেতনে৬৬ এখানে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৮৮ সালে একটি আশ্রম ও ১৮৯১ সালে একটি ব্রহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন৬৭ আশ্রমের আম্রকুঞ্জ উদ্যানে একটি গ্রন্থাগার নিয়ে রবীন্দ্রনাথ চালু করলেন ব্রহ্মবিদ্যালয় বা ব্রহ্মচর্যাশ্র নামে একটি পরীক্ষামূলক স্কুল৬৮ ১৯০২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে কবিপত্নী মৃণালিনী দেবী মারা যান৬৯ এরপর ১৯০৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর কন্যা রেণুকা ,৭০ ১৯০৫ সালের ১৯ জানুয়ারি পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর৭১ ও ১৯০৭ সালের ২৩ নভেম্বর কনিষ্ঠ পুত্র শমীন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়৭১এসবের মধ্যেই ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ বঙ্গভঙ্গবিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন৭২ ১৯০৬ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠান আধুনিক কৃষি ও গোপালন বিদ্যা শেখার জন্য৭৩ ১৯০৭ সালে কনিষ্ঠা জামাতা নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়কেও কৃষিবিজ্ঞান শেখার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ৭৪এই সময় শান্তিনিকেতনের ব্রহ্মবিদ্যালয়ে অর্থসংকট তীব্র হয়ে ওঠে পাশাপাশি পুত্র ও জামাতার বিদেশে পড়াশোনার ব্যয়ভারও রবীন্দ্রনাথকে বহন করতে হয়৭৪ এমতাবস্থায় রবীন্দ্রনাথ স্ত্রীর গয়না ও পুরীর বসতবাড়িটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন৭৫ইতোমধ্যেই অবশ্য বাংলা ও বহির্বঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কবিখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল ১৯০১ সালে নৈবেদ্য ও ১৯০৬ সালে খেয়া কাব্যগ্রন্থের পর ১৯১০ সালে তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গীতাঞ্জলি প্রকাশিত হয়৫৭৬ ১৯১৩ সালে গীতাঞ্জলি ইংরেজি অনুবাদ , ১৯১২ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য সুইডিশ অ্যাকাডেমি রবীন্দ্রনাথকে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার প্রদান করেগ৭৭ ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে স্যার উপাধি নাইটহুড দেয়৭৮১৯২১ সালে শান্তিনিকেতনের অদূরে সুরুল গ্রামে মার্কিন কৃষিঅর্থনীতিবিদ লেনার্ড নাইট এলমহার্স্ট , রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং শান্তিনিকেতনের আরও কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রের সহায়তায় রবীন্দ্রনাথ পল্লীসংগঠন কেন্দ্র নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন৭৯ এই সংস্থার উদ্দেশ্য ছিল কৃষির উন্নতিসাধন , ম্যালেরিয়া ইত্যাদি রোগ নিবারণ , সমবায় প্রথায় ধর্মগোলা স্থাপন , চিকিৎসার সুব্যবস্থা এবং সাধারণ গ্রামবাসীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি করা৭৯ ১৯২৩ সালে রবীন্দ্রনাথ এই সংস্থার নাম পরিবর্তন করে রাখেন শ্রীনিকেতন৮০ শ্রীনিকেতন ছিল মহাত্মা গান্ধীর প্রতীক ও প্রতিবাদসর্বস্ব স্বরাজ আন্দোলনের একটি বিকল্প ব্যবস্থা উল্লেখ্য , রবীন্দ্রনাথ , গান্ধীর আন্দোলনের পন্থাবিরোধী ছিলেন৮১ পরবর্তীকালে দেশ ও বিদেশের একাধিক বিশেষজ্ঞ , দাতা ও অন্যান্য পদাধিকারীরা শ্রীনিকেতনের জন্য আর্থিক ও অন্যান্য সাহায্য পাঠিয়েছিলেন৮২৮৩১৯৩০এর দশকের প্রথম ভাগে একাধিক বক্তৃতা , গান ও কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ভারতীয় সমাজের বর্ণাশ্রম প্রথা ও অস্পৃশ্যতার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন৮৪৮৫শেষ জীবন ১৯৩২১৯৪১মূল নিবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ১৯৩২১৯৪১                                           ১৯৩০ সালে বার্লিনে রবীন্দ্রনাথজীবনের শেষ দশকে ১৯৩২১৯৪১ রবীন্দ্রনাথের মোট পঞ্চাশটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়৮৬ তাঁর এই সময়কার কাব্যগ্রন্থগুলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য পুনশ্চ ১৯৩২ , শেষ সপ্তক ১৯৩৫ , শ্যামলী ও পত্রপুট ১৯৩৬  এই গদ্যকবিতা সংকলন তিনটি৫ জীবনের এই পর্বে সাহিত্যের নানা শাখায় পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ তাঁর এই পরীক্ষানিরীক্ষার ফসল হলো তাঁর একাধিক গদ্যগীতিকা ও নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা ১৯৩৬ চিত্রাঙ্গদা ১৮৯২ কাব্যনাট্যের নৃত্যাভিনয়উপযোগী রূপ ৮৭ , শ্যামা ১৯৩৯ ও চণ্ডালিকা ১৯৩৯ নৃত্যনাট্যত্রয়ী৮৮ এছাড়া রবীন্দ্রনাথ তাঁর শেষ তিনটি উপন্যাসও দুই বোন ১৯৩৩ , মালঞ্চ ১৯৩৪ ও চার অধ্যায় ১৯৩৪ এই পর্বে রচনা করেছিলেন৭ তাঁর অধিকাংশ ছবি জীবনের এই পর্বেই আঁকা১৩ এর সঙ্গে সঙ্গে জীবনের শেষ বছরগুলিতে বিজ্ঞান বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বিজ্ঞানবিষয়ক প্রবন্ধ সংকলন বিশ্বপরিচয়৮৯ এই গ্রন্থে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানের আধুনিকতম সিদ্ধান্তগুলি সরল বাংলা গদ্যে লিপিবদ্ধ করেছিলেন৮৯ পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে তাঁর অর্জিত জ্ঞানের প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তাঁর কাব্যেও৯০ সে ১৯৩৭ , তিন সঙ্গী ১৯৪০ ও গল্পসল্প ১৯৪১ গল্পসংকলন তিনটিতে তাঁর বিজ্ঞানী চরিত্রকেন্দ্রিক একাধিক গল্প সংকলিত হয়েছে৯১জীবনের এই পর্বে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তীব্রতম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ১৯৩৪ সালে ব্রিটিশ বিহার প্রদেশে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুকে গান্ধীজি ঈশ্বরের রোষ বলে অভিহিত করলে , রবীন্দ্রনাথ গান্ধীজির এহেন বক্তব্যকে অবৈজ্ঞানিক বলে চিহ্নিত করেন এবং প্রকাশ্যে তাঁর সমালোচনা করেন৯২ কলকাতার সাধারণ মানুষের আর্থিক দুরবস্থা ও ব্রিটিশ বাংলা প্রদেশের দ্রুত আর্থসামাজিক অবক্ষয় তাঁকে বিশেষভাবে বিচলিত করে তুলেছিল গদ্যছন্দে রচিত একটি শতপংক্তির কবিতায় তিনি এই ঘটনা চিত্রায়িতও করেছিলেন৯৩৯৪জীবনের শেষ চার বছর ছিল তাঁর ধারাবাহিক শারীরিক অসুস্থতার সময়৯৫ এই সময়ের মধ্যে দুইবার অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী থাকতে হয়েছিল তাঁকে৯৫ ১৯৩৭ সালে একবার অচৈতন্য হয়ে গিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থা হয়েছিল কবির৯৫ সেবার সেরে উঠলেও ১৯৪০ সালে অসুস্থ হওয়ার পর আর তিনি সেরে উঠতে পারেননি৯৫ এই সময়পর্বে রচিত রবীন্দ্রনাথের কবিতাগুলি ছিল মৃত্যুচেতনাকে কেন্দ্র করে সৃজিত কিছু অবিস্মরণীয় পংক্তিমালা৯৫৯৬ মৃত্যুর সাত দিন আগে পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ সৃষ্টিশীল ছিলেন২৭ দীর্ঘ রোগভোগের পর ১৯৪১ সালে জোড়াসাঁকোর বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর৯৭৯৮বিশ্বভ্রমণমূল নিবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশ্বভ্রমণ               ,           আইনস্টাইনের সঙ্গে , ১৯৩০রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট বারো বার বিশ্বভ্রমণে বেরিয়েছিলেন৯৯ ১৮৭৮ থেকে ১৯৩২ সালের মধ্যে তিনি পাঁচটি মহাদেশের ত্রিশটিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেন১০০ প্রথম জীবনে দুই বার ১৮৭৮ ও ১৮৯০ সালে তিনি ইংল্যান্ডে গিয়েছিলেন৯৯ ১৯১২ সালে ব্যক্তিগত চিকিৎসার জন্য তৃতীয়বার ইংল্যান্ডে গিয়ে ইয়েটস প্রমুখ কয়েকজন ইংরেজ কবি ও বুদ্ধিজীবীদের কাছে সদ্যরচিত গীতাঞ্জলি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ পাঠ করে শোনান৯৯ কবিতাগুলি শুনে তাঁরাও মুগ্ধ হয়েছিলেন৯৯ ইয়েটস স্বয়ং উক্ত কাব্যের ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকাটি লিখে দিয়েছিলেন১০১ এই ভ্রমণের সময়েই দীনবন্ধু চার্লস ফ্রিয়ার অ্যান্ড্রুজের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচয় ঘটে১০২ ১৯১৩ সালে সুইডিশ অ্যাকাডেমি তাঁকে নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করে৯৯ ১৯১৬১৭ সালে জাপান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ সাম্রাজ্যবাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে কতকগুলি বক্তৃতা দেন১০৩১০৪১০৫ এই বক্তৃতাগুলি সংকলিত হয় তাঁর ন্যাশনালিজম ১৯১৭ গ্রন্থে৯৯১০৬ তবে জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের বিরূপ মতামত উক্ত দুই দেশে সেই সফরকালে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল৯৯ ১৯২০২১ সাল নাগাদ আবার ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান কবি৯৯ এই সফরের সময় পাশ্চাত্য দেশগুলিতে তিনি সংবর্ধিত হয়েছিলেন৯৯ ১৯২৪ সালে রবীন্দ্রনাথ যান চীন সফরে৯৯ এরপর চীন থেকে জাপানে গিয়ে সেখানেও জাতীয়তাবাদবিরোধী বক্তৃতা দেন কবি৯৯ ১৯২৪ সালের শেষের দিকে পেরু সরকারের আমন্ত্রণে সেদেশে যাওয়ার পথে আর্জেন্টিনায় অসুস্থ হয়ে কবি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর আতিথ্যে তিন মাস কাটান১০৭ স্বাস্থ্যের কারণে পেরু ভ্রমণ তিনি স্থগিত করে দেন১০৮ পরে পেরু ও মেক্সিকো উভয় দেশের সরকারই বিশ্বভারতীকে ১ ,০০ ,০০০ মার্কিন ডলার অর্থসাহায্য প্রদান করেছিল১০৯ ১৯২৬ সালে বেনিতো মুসোলিনির আমন্ত্রণে ইতালি সফরে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ১১০ প্রথমে মুসোলিনির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হলেও , পরে লোকমুখে তাঁর স্বৈরাচারের কথা জানতে পেরে , মুসোলিনির কাজকর্মের সমালোচনা করেন কবি এর ফলে উভয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে ছেদ পড়ে১১১ এরপর রবীন্দ্রনাথ গ্রিস , তুরস্ক ও মিশর ভ্রমণ করে ভারতে ফিরে আসেন৯৯                                            ,   ,          তেহরানের মজলিশে , ১৯৩২১১২১৯২৭ সালে সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়সহ চার সঙ্গীকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ গিয়েছিলেন দক্ষিণপূর্ব এশিয়া সফরে এই সময় তিনি ভ্রমণ করেন বালি , জাভা , কুয়ালালামপুর , মালাক্কা , পেনাং , সিয়াম ও সিঙ্গাপুর১১৩ ১৯৩০ সালে কবি শেষবার ইংল্যান্ডে যান অক্সফোর্ডে হিবার্ট বক্তৃতা দেওয়ার জন্য৯৯ এরপর তিনি ভ্রমণ করেন ফ্রান্স , জার্মানি , সুইজারল্যান্ড , সোভিয়েত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র১১৪১১৫১১৬ ১৯৩২ সালে ইরাক ও পারস্য ভ্রমণে গিয়েছিলেন কবি৯৯ এরপর ১৯৩৪ সালে সিংহলে যান রবীন্দ্রনাথ এটিই ছিল তাঁর সর্বশেষ বিদেশ সফর১১৭১১৮রবীন্দ্রনাথ যেসকল বইতে তাঁর বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতাগুলি লিপিবদ্ধ করে রাখেন সেগুলি হল য়ুরোপপ্রবাসীর পত্র ১৮৮১ , য়ুরোপযাত্রীর ডায়ারি ১৮৯১ , ১৮৯৩ , জাপানযাত্রী ১৯১৯ , যাত্রী পশ্চিমযাত্রীর ডায়ারি ও জাভাযাত্রীর পত্র , ১৯২৯ , রাশিয়ার চিঠি ১৯৩১ , পারস্যে ১৯৩৬ ও পথের সঞ্চয় ১৯৩৯৯৯ ব্যাপক বিশ্বভ্রমণের ফলে রবীন্দ্রনাথ তাঁর সমসাময়িক অরিঁ বের্গসঁ , আলবার্ট আইনস্টাইন , রবার্ট ফ্রস্ট , টমাস মান , জর্জ বার্নার্ড শ , এইচ জি ওয়েলস , রোম্যাঁ রোলাঁ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়েছিলেন১১৯১২০ জীবনের একেবারে শেষপর্বে পারস্য , ইরাক ও সিংহল ভ্রমণের সময় মানুষের পারস্পরিক ভেদাভেদ ও জাতীয়তাবাদ সম্পর্কে তাঁর বিতৃষ্ণা আরও তীব্র হয়েছিল মাত্র১২১ অন্যদিকে বিশ্বপরিক্রমার ফলে ভারতের বাইরে নিজের রচনাকে পরিচিত করে তোলার এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে রাজনৈতিক মতবিনিময়ের সুযোগও পেয়েছিলেন তিনি৯৯সৃষ্টিকর্মমূল নিবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্টিকর্মরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন মূলত এক কবি মাত্র আট বছর বয়সে তিনি কাব্যরচনা শুরু করেন তাঁর প্রকাশিত মৌলিক কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ৫২ তবে বাঙালি সমাজে তাঁর জনপ্রিয়তা প্রধানত সংগীতস্রষ্টা হিসেবে রবীন্দ্রনাথ প্রায় দুই হাজার গান লিখেছিলেন কবিতা ও গান ছাড়াও তিনি ১৩টি উপন্যাস , ৯৫টি ছোটগল্প , ৩৬টি প্রবন্ধ ও গদ্যগ্রন্থ এবং ৩৮টি নাটক রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথের সমগ্র রচনা রবীন্দ্র রচনাবলী নামে ৩২ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে এছাড়া তাঁর সামগ্রিক চিঠিপত্র উনিশ খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর প্রবর্তিত নৃত্যশৈলী রবীন্দ্রনৃত্য নামে পরিচিত১২২কবিতা                                ,                    ,     কবির হস্তাক্ষরে কবিতা , হাঙ্গেরিতে লিখিত , ১৯২৬ বাংলা ও ইংরেজিতেরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথম জীবনে ছিলেন বিহারীলাল চক্রবর্তীর ১৮৩৫১৮৯৪ অনুসারী কবি১২৩ তাঁর কবিকাহিনী , বনফুল ও ভগ্নহৃদয় কাব্য তিনটিতে বিহারীলালের প্রভাব সুস্পষ্ট১২৪ সন্ধ্যাসংগীত কাব্যগ্রন্থ থেকে রবীন্দ্রনাথ নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে শুরু করেন১২৪ এই পর্বের সন্ধ্যাসংগীত , প্রভাতসংগীত , ছবি ও গান ও কড়ি ও কোমল কাব্যগ্রন্থের মূল বিষয়বস্তু ছিল মানব হৃদয়ের বিষণ্ণতা , আনন্দ , মর্ত্যপ্রীতি ও মানবপ্রেম১২৪ ১৮৯০ সালে প্রকাশিত মানসী এবং তার পর প্রকাশিত সোনার তরী ১৮৯৪ , চিত্রা ১৮৯৬ , চৈতালি ১৮৯৬ , কল্পনা ১৯০০ ও ক্ষণিকা ১৯০০ কাব্যগ্রন্থে ফুটে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের প্রেম ও সৌন্দর্য সম্পর্কিত রোম্যান্টিক ভাবনা১২৪ ১৯০১ সালে ব্রহ্মচর্যাশ্রম প্রতিষ্ঠার পর রবীন্দ্রনাথের কবিতায় আধ্যাত্মিক চিন্তার প্রাধান্য লক্ষিত হয় এই চিন্তা ধরা পড়েছে নৈবেদ্য ১৯০১ , খেয়া ১৯০৬ , গীতাঞ্জলি ১৯১০ , গীতিমাল্য ১৯১৪ ও গীতালি ১৯১৪ কাব্যগ্রন্থে১২৪ ১৯১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সূচনা ঘটলে বলাকা ১৯১৬ কাব্যে রবীন্দ্রনাথের কবিতায় আধ্যাত্মিক চিন্তার পরিবর্তে আবার মর্ত্যজীবন সম্পর্কে আগ্রহ ফুটে ওঠে১২৪ পলাতকা ১৯১৮ কাব্যে গল্পকবিতার আকারে তিনি নারীজীবনের সমসাময়িক সমস্যাগুলি তুলে ধরেন১২৪ পূরবী ১৯২৫ ও মহুয়া ১৯২৯ কাব্যগ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ আবার প্রেমকে উপজীব্য করেন১২৪ এরপর পুনশ্চ ১৯৩২ , শেষ সপ্তক ১৯৩৫ , পত্রপুট ১৯৩৬ ও শ্যামলী ১৯৩৬ নামে চারটি গদ্যকাব্য প্রকাশিত হয়১২৪ জীবনের শেষ দশকে কবিতার আঙ্গিক ও বিষয়বস্তু নিয়ে কয়েকটি নতুন পরীক্ষানিরীক্ষা চালিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ১২৪ এই সময়কার রোগশয্যায় ১৯৪০ , আরোগ্য ১৯৪১ , জন্মদিনে ১৯৪১ ও শেষ লেখা ১৯৪১ , মরণোত্তর প্রকাশিত কাব্যে মৃত্যু ও মর্ত্যপ্রীতিকে একটি নতুন আঙ্গিকে পরিস্ফুট করেছিলেন তিনি১২৪ শেষ কবিতা তোমার সৃষ্টির পথ মৃত্যুর আট দিন আগে মৌখিকভাবে রচনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ১২৪রবীন্দ্রনাথের কবিতায় মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব পদাবলি , উপনিষদ্ , কবীরের দোঁহাবলি , লালনের বাউল গান ও রামপ্রসাদ সেনের শাক্ত পদাবলি সাহিত্যের প্রভাব লক্ষিত হয়১২৫১২৬১২৭ তবে প্রাচীন সাহিত্যের দুরূহতার পরিবর্তে তিনি এক সহজ ও সরস কাব্যরচনার আঙ্গিক গ্রহণ করেছিলেন আবার ১৯৩০এর দশকে কিছু পরীক্ষামূলক লেখালেখির মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতা ও বাস্তবতাবোধের প্রাথমিক আবির্ভাব প্রসঙ্গে নিজ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেছিলেন কবি১২৮ বহির্বিশ্বে তাঁর সর্বাপেক্ষা সুপরিচিত কাব্যগ্রন্থটি হল গীতাঞ্জলি এ বইটির জন্যই তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন১২৯ নোবেল ফাউন্ডেশন তাঁর এই কাব্যগ্রন্থটিকে বর্ণনা করেছিল একটি গভীরভাবে সংবেদনশীল , উজ্জ্বল ও সুন্দর কাব্যগ্রন্থ রূপে১৩০ছোটগল্পচিত্র  ১৯১৩ সালে ম্যাকমিলান প্রকাশিত দ্য ক্রেসেন্ট মুন শিশু ভোলানাথ অনুবাদগ্রন্থের দ্য হিরো বীরপুরুষ আখ্যানকবিতার নন্দলাল বসুকৃত অলংকরণরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ছোটগল্পকার১৩১১৩২ মূলত হিতবাদী , সাধনা , ভারতী , সবুজ পত্র প্রভৃতি মাসিক পত্রিকাগুলির চাহিদা মেটাতে তিনি তাঁর ছোটগল্পগুলি রচনা করেছিলেন১৩৩ এই গল্পগুলির উচ্চ সাহিত্যমূল্যসম্পন্ন১৩৩ রবীন্দ্রনাথের জীবনের সাধনা পর্বটি ১৮৯১৯৫ ছিল সর্বাপেক্ষা সৃষ্টিশীল পর্যায় তাঁর গল্পগুচ্ছ গল্পসংকলনের প্রথম তিন খণ্ডের চুরাশিটি গল্পের অর্ধেকই রচিত হয় এই সময়কালের মধ্যে৫৪ গল্পগুচ্ছ সংকলনের অন্য গল্পগুলির অনেকগুলিই রচিত হয়েছিল রবীন্দ্রজীবনের সবুজ পত্র পর্বে ১৯১৪১৭ প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত পত্রিকার নামানুসারে ৫৪ তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গল্প হল কঙ্কাল , নিশীথে , মণিহারা , ক্ষুধিত পাষাণ , স্ত্রীর পত্র , নষ্টনীড় , কাবুলিওয়ালা , হৈমন্তী , দেনাপাওনা , মুসলমানীর গল্প ইত্যাদি১৩৩ শেষ জীবনে রবীন্দ্রনাথ লিপিকা , সে ও তিনসঙ্গী গল্পগ্রন্থে নতুন আঙ্গিকে গল্পরচনা করেছিলেন১৩৪রবীন্দ্রনাথ তাঁর গল্পে পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলি বা আধুনিক ধ্যানধারণা সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করতেন কখনও তিনি মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বৌদ্ধিক বিশ্লেষণকেই গল্পে বেশি প্রাধান্য দিতেন১৩৫রবীন্দ্রনাথের একাধিক ছোটগল্প অবলম্বনে চলচ্চিত্র , নাটক ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মিত হয়েছে তাঁর গল্পের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রায়ণ হল সত্যজিৎ রায় পরিচালিত তিন কন্যা মনিহারা , পোস্টমাস্টার ও সমাপ্তি অবলম্বনে১৩৬ ও চারুলতা নষ্টনীড় অবলম্বনে ১৩৭ , তপন সিংহ পরিচালিত অতিথি , কাবুলিওয়ালা ও ক্ষুধিত পাষাণ১৩৮ , পূর্ণেন্দু পত্রী পরিচালিত স্ত্রীর পত্র১৩৯ ইত্যাদিউপন্যাস                             কাঠের সিলে খোদিত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামের আদ্যক্ষরদ্বয় রঠ প্রাচীন হাইদা খোদাই লিপির সঙ্গে এর শৈলীগত মিল লক্ষণীয় রবীন্দ্রনাথ প্রায়ই তাঁর পাণ্ডুলিপিগুলিতে এই ধরণের নকশা অঙ্কন করতেন১৪০রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মোট তেরোটি উপন্যাস রচনা করেছিলেন১৩৩ এগুলি হল বৌঠাকুরাণীর হাট ১৮৮৩ , রাজর্ষি ১৮৮৭ , চোখের বালি ১৯০৩ , নৌকাডুবি ১৯০৬ , প্রজাপতির নির্বন্ধ ১৯০৮ , গোরা ১৯১০ , ঘরে বাইরে ১৯১৬ , চতুরঙ্গ ১৯১৬ , যোগাযোগ ১৯২৯ , শেষের কবিতা ১৯২৯ , দুই বোন ১৯৩৩ , মালঞ্চ ১৯৩৪ ও চার অধ্যায় ১৯৩৪১৩৩ বৌঠাকুরাণীর হাট ও রাজর্ষি ঐতিহাসিক উপন্যাস এদুটি রবীন্দ্রনাথের প্রথম উপন্যাস রচনার প্রচেষ্টা১৩৩ এরপর থেকে ছোটগল্পের মতো তাঁর উপন্যাসগুলিও মাসিকপত্রের চাহিদা অনুযায়ী নবপর্যায় বঙ্গদর্শন , প্রবাসী , সবুজ পত্র , বিচিত্রা প্রভৃতি পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়১৩৩চোখের বালি উপন্যাসে দেখানো হয়েছে সমসাময়িককালে বিধবাদের জীবনের নানা সমস্যা১৩৩ নৌকাডুবি উপন্যাসটি আবার লেখা হয়েছে জটিল পারিবারিক সমস্যাগুলিকে কেন্দ্র করে১৩৩ গোরা রবীন্দ্রনাথের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস১৩৩ এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধের হিন্দু ও ব্রাহ্মসমাজের সংঘাত ও ভারতের তদানীন্তন সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলি১৩৩ ঘরে বাইরে উপন্যাসের বিষয়বস্তু ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নারী ও পুরুষের সম্পর্কের জটিলতা১৪১১৪২১৪৩ স্বামীস্ত্রীর সম্পর্কের জটিলতা আরও সূক্ষ্মভাবে উঠে এসেছে তাঁর পরবর্তী যোগাযোগ উপন্যাসেও১৩৩ চতুরঙ্গ উপন্যাসটি রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পধর্মী উপন্যাস১৩৩ স্ত্রীর অসুস্থতার সুযোগে স্বামীর অন্য স্ত্রীলোকের প্রতি আসক্তি  এই বিষয়টিকে উপজীব্য করে রবীন্দ্রনাথ দুই বোন ও মালঞ্চ উপন্যাসদুটি লেখেন১৩৩ এর মধ্যে প্রথম উপন্যাসটি মিলনান্তক ও দ্বিতীয়টি বিয়োগান্তক১৩৩ রবীন্দ্রনাথের শেষ উপন্যাস চার অধ্যায় সমসাময়িক বিপ্লবী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি বিয়োগান্তক প্রেমের উপন্যাস১৩৩রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্যজিৎ রায়ের ঘরে বাইরে১৪৪ ও ঋতুপর্ণ ঘোষের চোখের বালিপ্রবন্ধ ও পত্রসাহিত্যরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় অসংখ্য প্রবন্ধ রচনা করেছিলেন ৩১ এইসব প্রবন্ধে তিনি সমাজ , রাষ্ট্রনীতি , ধর্ম , সাহিত্যতত্ত্ব , ইতিহাস , ভাষাতত্ত্ব , ছন্দ , সংগীত ইত্যাদি নানা বিষয়ে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করেন৩১ রবীন্দ্রনাথের সমাজচিন্তামূলক প্রবন্ধগুলি সমাজ ১৯০৮ সংকলনে সংকলিত হয়েছে৩১ রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন সময়ে লেখা রাজনীতিসংক্রান্ত প্রবন্ধগুলি সংকলিত হয়েছে কালান্তর ১৯৩৭ সংকলনে৩১ রবীন্দ্রনাথের ধর্মভাবনা ও আধ্যাত্মিক অভিভাষণগুলি সংকলিত হয়েছে ধর্ম ১৯০৯ ও শান্তিনিকেতন ১৯০৯১৬ অভিভাষণমালায়৩১ রবীন্দ্রনাথের ইতিহাসসংক্রান্ত প্রবন্ধগুলি স্থান পেয়েছে ভারতবর্ষ ১৯০৬ , ইতিহাস ১৯৫৫ ইত্যাদি গ্রন্থে৩১ সাহিত্য ১৯০৭ , সাহিত্যের পথে ১৯৩৬ ও সাহিত্যের স্বরূপ ১৯৪৩ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যতত্ত্ব আলোচনা করেছেন৩১ রবীন্দ্রনাথ ধ্রুপদি ভারতীয় সাহিত্য ও আধুনিক সাহিত্যের সমালোচনা করেছেন যথাক্রমে প্রাচীন সাহিত্য ১৯০৭ ও আধুনিক সাহিত্য ১৯০৭ গ্রন্থদুটিতে৩১ লোকসাহিত্য ১৯০৭ প্রবন্ধমালায় তিনি আলোচনা করেছেন বাংলা লোকসাহিত্যের প্রকৃতি৩১ ভাষাতত্ত্ব নিয়ে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনা লিপিবদ্ধ রয়েছে শব্দতত্ত্ব ১৯০৯ , বাংলা ভাষা পরিচয় ১৯৩৮ ইত্যাদি গ্রন্থে৩১ ছন্দ ও সংগীত নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন যথাক্রমে ছন্দ ১৯৩৬ ও সংগীতচিন্তা ১৯৬৬ গ্রন্থে৩১ বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনাথ তাঁর শিক্ষাসংক্রান্ত ভাবনাচিন্তার কথা প্রকাশ করেছেন শিক্ষা ১৯০৮ প্রবন্ধমালায়৩১ ন্যাশনালিজম ইংরেজি  , ১৯১৭ গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ উগ্র জাতীয়তাবাদের বিশ্লেষণ করে তার বিরোধিতা করেছেন৩১ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দর্শন বিষয়ে যে বিখ্যাত বক্তৃতাগুলি দিয়েছিলেন সেগুলি রিলিজিয়ন অফ ম্যান ইংরেজি    , ১৯৩০ বাংলা অনুবাদ মানুষের ধর্ম , ১৯৩৩ নামে সংকলিত হয়৩১ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে লেখা জন্মদিনের অভিভাষণ সভ্যতার সংকট ১৯৪১ তাঁর সর্বশেষ প্রবন্ধগ্রন্থ৩১ জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বপরিচয় ১৯৩৭ নামে একটি তথ্যমূলক প্রবন্ধগ্রন্থ রচনা করেছিলেন৩১ জীবনস্মৃতি ১৯১২ , ছেলেবেলা ১৯৪০ ও আত্মপরিচয় ১৯৪৩ তাঁর আত্মকথামূলক গ্রন্থ৩১রবীন্দ্রনাথের সামগ্রিক পত্রসাহিত্য আজ পর্যন্ত উনিশটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে১২ এছাড়া ছিন্নপত্র ও ছিন্নপত্রাবলী ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবী চৌধুরাণীকে লেখা , ভানুসিংহের পত্রাবলী রানু অধিকারীকে মুখোপাধ্যায় লেখা ও পথে ও পথের প্রান্তে নির্মলকুমারী মহলানবিশকে লেখা বই তিনটি রবীন্দ্রনাথের তিনটি উল্লেখযোগ্য পত্রসংকলন১২নাট্যসাহিত্যবাল্মীকিপ্রতিভা নাটকের দৃশ্য , কলকাতার একটি দুর্গাপূজা মণ্ডপের দেওয়ালচিত্রেরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাধারে ছিলেন নাট্যকার ও নাট্যাভিনেতা১৪৫ জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির পারিবারিক নাট্যমঞ্চে মাত্র ষোলো বছর বয়সে অগ্রজ জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত হঠাৎ নবাব নাটকে মলিয়ের লা বুর্জোয়া জাঁতিরোম অবলম্বনে রচিত ১৪৬ ও পরে জ্যোতিরিন্দ্রনাথেরই অলীকবাবু নাটকে নামভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ১৪৫ ১৮৮১ সালে তাঁর প্রথম গীতিনাট্য বাল্মীকিপ্রতিভা মঞ্চস্থ হয়১৪৫১৪৭ এই নাটকে তিনি ঋষি বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন১৪৫১৪৭ ১৮৮২ সালে রবীন্দ্রনাথ রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে কালমৃগয়া নামে আরও একটি গীতিনাট্য রচনা করেছিলেন১৪৫১৪৭ এই নাটক মঞ্চায়নের সময় তিনি অন্ধমুনির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন১৪৫১৪৭গীতিনাট্য রচনার পর রবীন্দ্রনাথ কয়েকটি কাব্যনাট্য রচনা করেন১৪৫১৪৭ শেকসপিয়রীয় পঞ্চাঙ্ক রীতিতে রচিত তাঁর রাজা ও রাণী ১৮৮৯১৪৮ ও বিসর্জন ১৮৯০১৪৯ বহুবার সাধারণ রঙ্গমঞ্চে অভিনীত হয় এবং তিনি নিজে এই নাটকগুলিতে অভিনয়ও করেন১৪৫ ১৮৮৯ সালে রাজা ও রাণী নাটকে বিক্রমদেবের ভূমিকায় অভিনয় করেন রবীন্দ্রনাথ১৪৫ বিসর্জন নাটকটি দুটি ভিন্ন সময়ে মঞ্চায়িত করেছিলেন তিনি১৪৫ ১৮৯০ সালের মঞ্চায়নের সময় যুবক রবীন্দ্রনাথ বৃদ্ধ রঘুপতির ভূমিকায় এবং ১৯২৩ সালের মঞ্চায়নের সময় বৃদ্ধ রবীন্দ্রনাথ যুবক জয়সিংহের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন১৪৫ কাব্যনাট্য পর্বে রবীন্দ্রনাথের আরও দুটি উল্লেখযোগ্য নাটক হল চিত্রাঙ্গদা ১৮৯২১৫০ ও মালিনী ১৮৯৬১৪৫১৫১কাব্যনাট্যের পর রবীন্দ্রনাথ প্রহসন রচনায় মনোনিবেশ করেন১৪৫ এই পর্বে প্রকাশিত হয় গোড়ায় গলদ ১৮৯২ , বৈকুণ্ঠের খাতা ১৮৯৭ , হাস্যকৌতুক ১৯০৭ ও ব্যঙ্গকৌতুক ১৯০৭১৪৫ বৈকুণ্ঠের খাতা নাটকে রবীন্দ্রনাথ কেদারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন১৪৫ ১৯২৬ সালে তিনি প্রজাপতির নির্বন্ধ উপন্যাসটিকেও চিরকুমার সভা নামে একটি প্রহসনমূলক নাটকের রূপ দেন১৪৫১৫২তাসের দেশ নাটকের একটি আধুনিক উপস্থাপনা১৯০৮ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ রূপকসাংকেতিক তত্ত্বধর্মী নাট্যরচনা শুরু করেন১৪৫ ইতিপূর্বে প্রকৃতির প্রতিশোধ ১৮৮৪ নাটকে তিনি কিছুটা রূপকসাংকেতিক আঙ্গিক ব্যবহার করেছিলেন১৪৫ কিন্তু ১৯০৮ সালের পর থেকে একের পর এক নাটক তিনি এই আঙ্গিকে লিখতে শুরু করেন১৪৫ এই নাটকগুলি হল শারদোৎসব ১৯০৮ , রাজা ১৯১০ , ডাকঘর ১৯১২ , অচলায়তন ১৯১২ , ফাল্গুনী ১৯১৬ , মুক্তধারা ১৯২২ , রক্তকরবী ১৯২৬ , তাসের দেশ ১৯৩৩ , কালের যাত্রা ১৯৩২ ইত্যাদি১৪৫ এই সময় রবীন্দ্রনাথ প্রধানত শান্তিনিকেতনে মঞ্চ তৈরি করে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে অভিনয়ের দল গড়ে মঞ্চস্থ করতেন১৪৫ কখনও কখনও কলকাতায় গিয়েও ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করতেন তিনি১৪৫ এই সব নাটকেও একাধিক চরিত্রে অভিনয় করেন রবীন্দ্রনাথ১৪৫ তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১৯১১ সালে শারদোৎসব নাটকে সন্ন্যাসী এবং রাজা নাটকে রাজা ও ঠাকুরদাদার যুগ্ম ভূমিকায় অভিনয় ১৯১৪ সালে অচলায়তন নাটকে অদীনপুণ্যের ভূমিকায় অভিনয় ১৯১৫ সালে ফাল্গুনী নাটকে অন্ধ বাউলের ভূমিকায় অভিনয় ১৯১৭ সালে ডাকঘর নাটকে ঠাকুরদা , প্রহরী ও বাউলের ভূমিকায় অভিনয়১৪৫ নাট্যরচনার পাশাপাশি এই পর্বে ছাত্রছাত্রীদের অভিনয়ের প্রয়োজনে রবীন্দ্রনাথ পুরোন নাটকগুলি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ করে নতুন নামে প্রকাশ করেন১৪৫ শারদোৎসব নাটকটি হয় ঋণশোধ ১৯২১ , রাজা হয় অরূপরতন ১৯২০ , অচলায়তন হয় গুরু ১৯১৮ , গোড়ায় গলদ হয় শেষরক্ষা ১৯২৮ , রাজা ও রাণী হয় তপতী ১৯২৯ এবং প্রায়শ্চিত্ত হয় পরিত্রাণ ১৯২৯১৪৫১৯২৬ সালে নটীর পূজা নাটকে অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে নাচ ও গানের প্রয়োগ ঘটিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ১৪৫ এই ধারাটিই তাঁর জীবনের শেষ পর্বে নৃত্যনাট্য নামে পূর্ণ বিকাশ লাভ করে১৪৫ নটীর পূজা নৃত্যনাট্যের পর রবীন্দ্রনাথ একে একে রচনা করেন শাপমোচন ১৯৩১ , তাসের দেশ ১৯৩৩ , নৃত্যনাট্য চিত্রাঙ্গদা ১৯৩৬ , নৃত্যনাট্য চণ্ডালিকা ১৯৩৮ ও শ্যামা ১৯৩৯১৪৫ এগুলিও শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীরাই প্রথম মঞ্চস্থ করেছিলেন১৪৫সংগীত ও নৃত্যকলারবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্ঠে তবু মনে রেখোমেনুরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কন্ঠে তবু মনে রেখো গান১৫৩এই ফাইলটি শুনতে অসুবিধা হচ্ছে মিডিয়া সাহায্য দেখুনমূল নিবন্ধ রবীন্দ্রসংগীতরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৫টি গান রচনা করেছিলেন১০ ধ্রুপদি ভারতীয় সংগীত , বাংলা লোকসংগীত ও ইউরোপীয় সংগীতের ধারা তিনটিকে আত্মস্থ করে তিনি একটি স্বকীয় সুরশৈলীর জন্ম দেন১৫৪ রবীন্দ্রনাথ তাঁর বহু কবিতাকে গানে রূপান্তরিত করেছিলেন১৫৫ রবীন্দ্রবিশেষজ্ঞ সুকুমার সেন রবীন্দ্রসংগীত রচনার ইতিহাসে চারটি পর্ব নির্দেশ করেছেন১৫৬ প্রথম পর্বে তিনি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্ট গীতের অনুসরণে গান রচনা শুরু করেছিলেন১৫৬ দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮৮৪১৯০০ পল্লীগীতি ও কীর্তনের অনুসরণে রবীন্দ্রনাথ নিজস্ব সুরে গান রচনা শুরু করেন১৫৬ এই পর্বের রবীন্দ্রসংগীতে ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট সংগীতস্রষ্টা মধুকান , রামনিধি গুপ্ত , শ্রীধর কথক প্রমুখের প্রভাবও সুস্পষ্ট১৫৬ এই সময় থেকেই তিনি স্বরচিত কবিতায় সুর দিয়ে গান রচনাও শুরু করেছিলেন১৫৬ ১৯০০ সালে শান্তিনিকেতনে বসবাস শুরু করার পর থেকে রবীন্দ্রসংগীত রচনার তৃতীয় পর্বের সূচনা ঘটে১৫৬ এই সময় রবীন্দ্রনাথ বাউল গানের সুর ও ভাব তাঁর নিজের গানের অঙ্গীভূত করেন১৫৬ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর রবীন্দ্রনাথের গান রচনার চতুর্থ পর্বের সূচনা হয়১৫৬ কবির এই সময়কার গানের বৈশিষ্ট্য ছিল নতুন নতুন ঠাটের প্রয়োগ এবং বিচিত্র ও দুরূহ সুরসৃষ্টি১৫৬ তাঁর রচিত সকল গান সংকলিত হয়েছে গীতবিতান গ্রন্থে৩৬ এই গ্রন্থের পূজা , প্রেম , প্রকৃতি , স্বদেশ , আনুষ্ঠানিক ও বিচিত্র পর্যায়ে মোট দেড় হাজার গান সংকলিত হয়৩৬ পরে গীতিনাট্য , নৃত্যনাট্য , নাটক , কাব্যগ্রন্থ ও অন্যান্য সংকলন গ্রন্থ থেকে বহু গান এই বইতে সংকলিত হয়েছিল৩৬ ইউরোপীয় অপেরার আদর্শে বাল্মীকিপ্রতিভা , কালমৃগয়া গীতিনাট্য এবং চিত্রাঙ্গদা , চণ্ডালিকা , ও শ্যামা সম্পূর্ণ গানের আকারে লেখা৩৬রবীন্দ্রনাথের সময় বাংলার শিক্ষিত পরিবারে নৃত্যের চর্চা নিষিদ্ধ ছিল১২২ কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বিশ্বভারতীর পাঠক্রমে সংগীত ও চিত্রকলার সঙ্গে সঙ্গে নৃত্যকেও অন্তর্ভুক্ত করেন১২২ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের লোকনৃত্য ও ধ্রুপদি নৃত্যশৈলীগুলির সংমিশ্রণে তিনি এক নতুন শৈলীর প্রবর্তন করেন১২২ এই শৈলীটি রবীন্দ্রনৃত্য নামে পরিচিত১২২ রবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্য ও নৃত্যনাট্যগুলিতে গানের পাশাপাশি নাচও অপরিহার্য১২২ বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী উদয় শংকর যে আধুনিক ভারতীয় নৃত্যধারার প্রবর্তন করেছিলেন , তার পিছনেও রবীন্দ্রনাথের প্রেরণা ছিল১২২চিত্রকলা  ,           ,           ,    ,   ,                     ড্যান্সিং গার্ল , রবীন্দ্রনাথ অঙ্কিত একটি তারিখবিহীন চিত্ররবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিয়মিত ছবি আঁকা শুরু করেন প্রায় সত্তর বছর বয়সে১৩ চিত্রাঙ্কনে কোনো প্রথাগত শিক্ষা তাঁর ছিল না১৩ প্রথমদিকে তিনি লেখার হিজিবিজি কাটাকুটিগুলিকে একটি চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করতেন১৩ এই প্রচেষ্টা থেকেই তাঁর ছবি আঁকার সূত্রপাত ঘটে১৩ ১৯২৮ থেকে ১৯৩৯ কালপরিধিতে অঙ্কিত তাঁর স্কেচ ও ছবির সংখ্যা আড়াই হাজারের ওপর , যার ১৫৭৪টি শান্তিনিকেতনের রবীন্দ্রভবনে সংরক্ষিত আছে১৫৭ দক্ষিণ ফ্রান্সের শিল্পীদের উৎসাহে ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর প্রথম চিত্র প্রদর্শনী হয় প্যারিসের পিগাল আর্ট গ্যালারিতে১৫৮ এরপর সমগ্র ইউরোপেই কবির একাধিক চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়১৩ ছবিতে রং ও রেখার সাহায্যে রবীন্দ্রনাথ সংকেতের ব্যবহার করতেন১৩ রবীন্দ্রনাথ প্রাচ্য চিত্রকলার পুনরুত্থানে আগ্রহী হলেও , তাঁর নিজের ছবিতে আধুনিক বিমূর্তধর্মিতাই বেশি প্রস্ফুটিত হয়েছে মূলত কালিকলমে আঁকা স্কেচ , জলরং ও দেশজ রঙের ব্যবহার করে তিনি ছবি আঁকতেন১৩ তাঁর ছবিতে দেখা যায় মানুষের মুখের স্কেচ , অনির্ণেয় প্রাণীর আদল , নিসর্গদৃশ্য , ফুল , পাখি ইত্যাদি তিনি নিজের প্রতিকৃতিও এঁকেছেন১৩ নন্দনতাত্ত্বিক ও বর্ণ পরিকল্পনার দিক থেকে তাঁর চিত্রকলা বেশ অদ্ভুত ধরণেরই বলে মনে হয়১৩ তবে তিনি একাধিক অঙ্কনশৈলী রপ্ত করেছিলেন১৩ তন্মধ্যে , কয়েকটি শৈলী হল নিউ আয়ারল্যান্ডের হস্তশিল্প , কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশ পশ্চিম উপকূলের হাইদা খোদাইশিল্প ও ম্যাক্স পেকস্টাইনের কাঠখোদাই শিল্প১৪০রাজনৈতিক মতাদর্শ ও শিক্ষাচিন্তামূল নিবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক মতাদর্শরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক দর্শন অত্যন্ত জটিল তিনি সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ও ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের সমর্থন করতেন১৫৯১৬০১৬১ ১৮৯০ সালে প্রকাশিত মানসী কাব্যগ্রন্থের কয়েকটি কবিতায় রবীন্দ্রনাথের প্রথম জীবনের রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তাভাবনার পরিচয় পাওয়া যায়১৬২ হিন্দুজার্মান ষড়যন্ত্র মামলার তথ্যপ্রমাণ এবং পরবর্তীকালে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায় , রবীন্দ্রনাথ গদর ষড়যন্ত্রের কথা শুধু জানতেনই না , বরং উক্ত ষড়যন্ত্রে জাপানি প্রধানমন্ত্রী তেরাউচি মাসাতাকি ও প্রাক্তন প্রিমিয়ার ওকুমা শিগেনোবুর সাহায্যও প্রার্থনা করেছিলেন১৬৩ আবার ১৯২৫ সালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে স্বদেশী আন্দোলনকে চরকাসংস্কৃতি বলে বিদ্রুপ করে রবীন্দ্রনাথ কঠোর ভাষায় তার বিরোধিতা করেন১৬৪ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ তাঁর চোখে ছিল আমাদের সামাজিক সমস্যাগুলির রাজনৈতিক উপসর্গ তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে বৃহত্তর জনসাধারণের স্বনির্ভরতা ও বৌদ্ধিক উন্নতির উপর অধিক গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি ভারতবাসীকে অন্ধ বিপ্লবের পন্থা ত্যাগ করে দৃঢ় ও প্রগতিশীল শিক্ষার পন্থাটিকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান রবীন্দ্রনাথ১৬৫১৬৬    ,                              ,  ,           ,                 ,           ,         শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের আতিথেয়তায় মহাত্মা গান্ধী ও তাঁর পত্নী কস্তুরবা গান্ধী , ১৯৪০রবীন্দ্রনাথের এই ধরনের মতাদর্শ অনেককেই বিক্ষুব্ধ করে তোলে ১৯১৬ সালের শেষ দিকে সানফ্রান্সিসকোয় একটি হোটেলে অবস্থানকালে একদল চরমপন্থী বিপ্লবী রবীন্দ্রনাথকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল কিন্তু নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ উপস্থিত হওয়ায় তাঁদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছিল১৬৭ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতার ভূমিকা অনস্বীকার্য ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি নাইটহুড বর্জন করেন১৬৮ নাইটহুড প্রত্যাখ্যানপত্রে লর্ড চেমসফোর্ডকে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন , আমার এই প্রতিবাদ আমার আতঙ্কিত দেশবাসীর মৌনযন্ত্রণার অভিব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের চিত্ত যেথা ভয়শূন্য ও একলা চলো রে রাজনৈতিক রচনা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে একলা চলো রে গানটি গান্ধীজির বিশেষ প্রিয় ছিল১৬৯ যদিও মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক ছিল অম্লমধুর হিন্দু নিম্নবর্ণীয় জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে গান্ধীজি ও আম্বেডকরের যে মতবিরোধের সূত্রপাত হয় , তা নিরসনেও রবীন্দ্রনাথ বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন ফলে গান্ধীজিও তাঁর অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন১৭০১৭১রবীন্দ্রনাথ তাঁর তোতাকাহিনী গল্পে বিদ্যালয়ের মুখস্তসর্বস্ব শিক্ষাকে প্রতি তীব্রভাবে আক্রমণ করেন এই গল্পে রবীন্দ্রনাথ দেখিয়েছিলেন , দেশের ছাত্রসমাজকে খাঁচাবদ্ধ পাখিটির মতো শুকনো বিদ্যা গিলিয়ে কিভাবে তাদের বৌদ্ধিক মৃত্যুর পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে১৭২১৭৩ ১৯১৭ সালের ১১ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা বারবারা ভ্রমণের সময় রবীন্দ্রনাথ শিক্ষা সম্পর্কে প্রথাবিরুদ্ধ চিন্তাভাবনা শুরু করেন শান্তিনিকেতন আশ্রমকে দেশ ও ভূগোলের গণ্ডীর বাইরে বের করে ভারত ও বিশ্বকে একসূত্রে বেঁধে একটি বিশ্ব শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও এই সময়েই গ্রহণ করেছিলেন কবি১৬৭ ১৯১৮ সালের ২২ অক্টোবর বিশ্বভারতী নামাঙ্কিত তাঁর এই বিদ্যালয়ের শিলান্যাস করা হয়েছিল এরপর ১৯২২ সালের ২২ ডিসেম্বর উদ্বোধন হয়েছিল এই বিদ্যালয়ের১৭৪ বিশ্বভারতীতে কবি সনাতন ভারতীয় শিক্ষাব্যবস্থার ব্রহ্মচর্য ও গুরুপ্রথার পুনর্প্রবর্তন করেছিলেন এই বিদ্যালয়ের জন্য অর্থসংগ্রহ করতে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন তিনি নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ তিনি ঢেলে দিয়েছিলেন এই বিদ্যালয়ের পরিচালন খাতে১৭৫ নিজেও শান্তিনিকেতনের অধ্যক্ষ ও শিক্ষক হিসেবেও অত্যন্ত ব্যস্ত থাকতেন তিনি সকালে ছাত্রদের ক্লাস নিতেন এবং বিকেল ও সন্ধ্যায় তাদের জন্য পাঠ্যপুস্তক রচনা করতেন১৭৬ ১৯১৯ সাল থেকে ১৯২১ সালের মধ্যে বিদ্যালয়ের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে তিনি একাধিকবার ইউরোপ ও আমেরিকা ভ্রমণ করেন১৭৭প্রভাব                 ,     প্রাগের রবীন্দ্রমূর্তিবিংশ শতাব্দীর বাঙালি সংস্কৃতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ তথা দার্শনিক অমর্ত্য সেন রবীন্দ্রনাথকে এক হিমালয়প্রতিম ব্যক্তিত্ব ও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক ও বহুমাত্রিক সমসাময়িক দার্শনিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন১৭৮ বত্রিশ খণ্ডে প্রকাশিত রবীন্দ্র রচনাবলী বাংলা সাহিত্যের একটি বিশেষ সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হয় রবীন্দ্রনাথকে ভারতের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি হিসেবেও বর্ণনা করা হয়ে থাকে১৭৯ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী পঁচিশে বৈশাখ ও প্রয়াণবার্ষিকী বাইশে শ্রাবণ আজও বাঙালি সমাজে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়ে থাকে এই উপলক্ষ্যে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি , শান্তিনিকেতন আশ্রম ও শিলাইদহ কুঠিবাড়িতে প্রচুর জনসমাগম হয় শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথপ্রবর্তিত ধর্মীয় ও ঋতুউৎসবগুলির মাধ্যমেও তাঁকে শ্রদ্ধা নিবেদনের রীতি অক্ষুন্ন আছে এছাড়াও বিভিন্ন উৎসবে ও অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া বা রবীন্দ্ররচনা পাঠের রেওয়াজও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এগুলি ছাড়াও কবির সম্মানে আরও কতকগুলি বিশেষ ও অভিনব অনুষ্ঠান পালন করা হয় যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যের আরবানাতে আয়োজিত বার্ষিক রবীন্দ্র উৎসব , কলকাতাশান্তিনিকেতন তীর্থপদযাত্রা রবীন্দ্র পথপরিক্রমা ইত্যাদি১০৩১৭৮১৮০      ,           ,          জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি , বর্তমানে কবির নামাঙ্কিত রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাপ্রাঙ্গনজীবদ্দশাতেই ইউরোপ , উত্তর আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়ায় প্রভূত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ডে ডার্টিংটন হল স্কুল নামে একটি প্রগতিশীল সহশিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপনে মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তিনি১৮১ অনেজ জাপানি সাহিত্যিককে তিনি প্রভাবিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন এঁদের মধ্যে ইয়াসুনারি কাওয়াবাতার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য১৮২ রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থাবলি অনূদিত হয় ইংরেজি , ওলন্দাজ , জার্মান , স্প্যানিশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় চেক ভারততত্ত্ববিদ ভিনসেন্স লেনসি সহ একাধিক ইউরোপীয় ভাষায় তাঁর গ্রন্থ অনুবাদ করেন১৮৩ ফরাসি নোবেলজয়ী সাহিত্যিক আন্দ্রে জিদ্ , রাশিয়ান কবি আনা আখমাতোভা ১৮৪ , প্রাক্তন তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বুলেন্ত একেভিত১৮৫ , মার্কিন ঔপন্যাসিক জোনা গেইল সহ অনেকেই অনুপ্রেরণা লাভ করেন রবীন্দ্রনাথের রচনা থেকে ১৯১৬১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া তাঁর ভাষণগুলি বিশেষ জনপ্রিয়তা ও প্রশংসা পায় তবে কয়েকটি বিতর্ককে কেন্দ্র করে ১৯২০এর দশকের শেষদিকে জাপান ও উত্তর আমেরিকায় তাঁর জনপ্রিয়তা হ্রাস পায় কালক্রমে বাংলার বাইরে রবীন্দ্রনাথ প্রায় অস্তমিত হয়ে পড়েছিলেন১৮৬চিলিয়ান সাহিত্যিক পাবলো নেরুদা ও গ্যাব্রিয়েলা মিস্ত্রাল , মেক্সিকান লেখক অক্টাভিও পাজ ও স্প্যানিশ লেখক হোসে অরতেগা ওয়াই গ্যাসেৎ , থেনোবিয়া কামপ্রুবি আইমার , ও হুয়ান রামোন হিমেনেথ প্রমুখ স্প্যানিশভাষী সাহিত্যিকদেরও অনুবাদের সূত্রে অনুপ্রাণিত করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ১৯১৪ থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে হিমেনেথকামপ্রুবি দম্পতি রবীন্দ্রনাথের বাইশটি বই ইংরেজি থেকে স্প্যানিশে অনুবাদ করেছিলেন দ্য ক্রেসেন্ট মুন শিশু ভোলানাথ সহ রবীন্দ্রনাথের বেশ কিছু রচনার বিস্তারিত পর্যালোচনা ও স্প্যানিশ সংস্করণ প্রকাশও করেছিলেন তাঁরা উল্লেখ্য , এই সময়েই হিমেনেথ নগ্ন কবিতা স্প্যানিশ   নামে এক বিশেষ সাহিত্যশৈলীর উদ্ভাবন ঘটান১৮৭রবীন্দ্রনাথের মূল বাংলা কবিতা পড়েননি এমন বহু পাশ্চাত্য সাহিত্যিক ও সাহিত্য সমালোচক রবীন্দ্রনাথের গুরুত্ব অস্বীকারও করেছিলেন গ্রাহাম গ্রিন সন্দিগ্ধচিত্তে মন্তব্য করেছিলেন , ইয়েটস সাহেব ছাড়া আর কেউই রবীন্দ্রনাথের লেখাকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন না১৮৬ রবীন্দ্রনাথের সম্মানের কিছু পুরনো লাতিন আমেরিকান খণ্ডাংশ সম্প্রতি আবিষ্কৃত হয়েছে নিকারাগুয়া ভ্রমণের সময় সালমান রুশদি এই জাতীয় কিছু উদাহরণ দেখে অবাক হন১৮৮রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামাঙ্কিত স্মারক ও দ্রষ্টব্যস্থলবাংলা ভাষার উইকিসংকলনে এই নিবন্ধ বা অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত মৌলিক রচনা রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরইংরেজি ভাষার উইকিসংকলনে এই নিবন্ধ বা অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত মৌলিক রচনা রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরউইকিমিডিয়া কমন্সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংক্রান্ত মিডিয়া রয়েছে    রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় , কলকাতা  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত বিশ্ববিদ্যালয় জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাপ্রাঙ্গন    বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় , বীরভূম  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিনিকেতন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাপ্রাঙ্গন    শিলাইদহ কুঠিবাড়ি , কুষ্টিয়া , বাংলাদেশ  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারি কুঠিবাড়ি ১৮৯    রবীন্দ্র পুরস্কার  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার    রবীন্দ্রসদন  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত কলকাতার একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাগৃহ ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান কার্যালয়    রবীন্দ্র সেতু  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত হাওড়া ও কলকাতা শহরের মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী সেতু    রবীন্দ্র সরোবর , কলকাতা  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামাঙ্কিত ভারতের একটি জাতীয় হ্রদ এটি কলকাতার বৃহত্তম হ্রদ১৯০    রবীন্দ্রনাথ সড়ক , যশোর , বাংলাদেশ  মনিহার সিনেমা হল থেকে চৌরাস্তার চার রাস্তা মোড় এর মধ্যে সংযোগরক্ষাকারী রাস্তা পাদটীকা     ক  তাঁর প্রথম রচনা , মীনগণ দীন হয়ে ছিল সরোবরে  এখন তাহারা সুখে জলে ক্রীড়া করে     খ রবীন্দ্রনাথের জন্ম হয়েছিল ৬ নং দ্বারকানাথ লেনের জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির মূল বাসভবনে এই বাড়িতেই বাস করতেন ঠাকুর পরিবারের জোড়াসাঁকো শাখাটি পারিবারিক বিবাদের কারণে এই শাখাটি মূল পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় জোড়াসাঁকো বর্তমানে উত্তর কলকাতার রবীন্দ্র সরণির তৎকালীন চিৎপুর রোড নিকটস্থ১৯১     গ  স্টকহোমে সুইডিশ একাডেমী নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করেছিল ১৩ নবেম্বর ১৯১৩ তারিখে১৯২     ঘ  যেমন বেহাগ বা খাম্বাজ রাগিনীতে কোমল ধৈবত প্রয়োগ সিদ্ধ হয় না  কিন্তু আমার নিশীথরাতের বাদলধারা  এসো হে গোপনে  আমার স্বপনলোকে দিশাহারা গানটিতে রবীন্দ্রনাথ উদ্দীষ্ট আবেগ ফুটিয়ে তুলতে কোমল ধৈবত লাগিয়েছেনভারত দক্ষিণ এশিয়ার একটি রাষ্ট্র দেশটির সরকারি নাম ভারতীয় প্রজাতন্ত্র ভৌগোলিক আয়তনের বিচারে এটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম রাষ্ট্র অন্যদিকে জনসংখ্যার বিচারে এই দেশ বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল তথা বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের পশ্চিম সীমান্তে পাকিস্তান১৪ উত্তরপূর্বে চীন , নেপাল , ও ভূটান এবং পূর্বে বাংলাদেশ , মায়ানমার ও মালয়েশিয়া অবস্থিত এছাড়া ভারত মহাসাগরে অবস্থিত শ্রীলঙ্কা , মালদ্বীপ ও ইন্দোনেশিয়া ভারতের নিকটবর্তী কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্র দক্ষিণে ভারত মহাসাগর , পশ্চিমে আরব সাগর ও পূর্বে বঙ্গোপসাগর দ্বারা বেষ্টিত ভারতের উপকূলরেখার সম্মিলিত দৈর্ঘ্য ৭ ,৫১৭ কিলোমিটার ৪ ,৬৭১ মাইল১৫সুপ্রাচীন কাল থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য সুপরিচিত ঐতিহাসিক সিন্ধু সভ্যতা এই অঞ্চলেই গড়ে উঠেছিল ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে এখানেই স্থাপিত হয়েছিল বিশালাকার একাধিক সাম্রাজ্য নানা ইতিহাসপ্রসিদ্ধ বাণিজ্যপথ এই অঞ্চলের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য সভ্যতার বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রক্ষা করত হিন্দু , বৌদ্ধ , জৈন ও শিখবিশ্বের এই চার ধর্মের উৎসভূমি ভারত খ্রিষ্টীয় প্রথম সহস্রাব্দে জরথুষ্ট্রীয় ধর্ম পারসি ধর্ম , ইহুদি ধর্ম , খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলাম এদেশে প্রবেশ করে , ও ভারতীয় সংস্কৃতিতে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধীরে ধীরে ভারতীয় ভূখণ্ডের অধিকাংশ অঞ্চল নিজেদের শাসনাধীনে আনতে সক্ষম হয় ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই দেশ পুরোদস্তুর একটি ব্রিটিশ উপনিবেশে পরিণত হয় অতঃপর এক সুদীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের মাধ্যমে ১৯৪৭ সালে ভারত একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্ররূপে আত্মপ্রকাশ করে ১৯৫০ সালে সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে ভারত একটি সার্বভৌম গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে পরিণত হয়বর্তমানে ভারত ২৯টি রাজ্য ও সাতটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল বিশিষ্ট একটি সংসদীয় সাধারণতন্ত্র ভারতীয় অর্থব্যবস্থা বাজারি বিনিময় হারের বিচারে বিশ্বে দ্বাদশ ও ক্রয়ক্ষমতা সমতার বিচারে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম ১৯৯১ সালে ভারত সরকার গৃহীত আর্থিক সংস্কার নীতির ফলশ্রুতিতে আজ আর্থিক বৃদ্ধিহারের বিচারে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলির মধ্যে দ্বিতীয়১৬ তবে অতিমাত্রায় দারিদ্র্য১৭ , নিরক্ষরতা ও অপুষ্টি এখনও ভারতের অন্যতম প্রধান সমস্যা সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারত একটি বহুধর্মীয় , বহুভাষিক , ও বহুজাতিক রাষ্ট্র আবার বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের নানা বৈচিত্রও এদেশে পরিলক্ষিত হয়পরিচ্ছেদসমূহ    ১ ব্যুৎপত্তি    ২ ইতিহাস    ৩ সরকার    ৪ রাজনীতি    ৫ বৈদেশিক সম্পর্ক ও সামরিক বাহিনী    ৬ রাজনৈতিক বিভাগ    ৭ ভূগোল        ৭১ জলবায়ু    ৮ জৈব বৈচিত্র্য    ৯ অর্থনীতি    ১০ জনপরিসংখ্যান    ১১ সংস্কৃতি    ১২ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি    ১৩ খেলাধূলা    ১৪ গ্রন্থপঞ্জি    ১৫ পাদটীকা    ১৬ বহিঃসংযোগব্যুৎপত্তিভরত রবি বর্মা অঙ্কিত    আরও দেখুন  ভারতের নামসমূহভারত নামটির উৎপত্তি চন্দ্রবংশীয় পৌরাণিক রাজা ভরতের নামানুসারে কথিত আছে এই বর্ষ বা অঞ্চলটি রাজা ভরতকে দান করা হয়েছিল বলে এর নাম ভারতবর্ষ ইংরেজি ইন্ডিয়া  শব্দটি এসেছে সিন্ধু নদের আদি ফার্সি নাম হিন্দু থেকে১৮ এছাড়াও প্রাচীন গ্রিকরা ভারতীয়দের ইন্দোই  অর্থাৎ , ইন্দাস সিন্ধু নদী অববাহিকার অধিবাসী নামে অভিহিত করতেন১৯ স্বাধীনতার পর ভারতের সংবিধানে ও লোকমুখে ভারত নামটিই প্রচলিত হয়২০ এছাড়া মধ্যযুগে উত্তর ভারত অর্থে ফার্সি হিন্দুস্তান বা হিন্দুস্থান অর্থাৎ , হিন্দুদের দেশ শব্দটিও ব্যবহৃত হত কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই শব্দটি সমগ্র ভারত অর্থেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে২১ইতিহাসমূল নিবন্ধগুলি ভারতের ইতিহাস এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ইতিহাসমধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ভীমবেটকা প্রস্তর ক্ষেত্র ভারতে মানববসতির প্রাচীনতম নিদর্শন এক লক্ষ বছর আগেও এখানে মানুষের বসবাস ছিল২২২৩ প্রায় ৯০০০ বছর আগে এদেশে স্থায়ী মানববসতি গড়ে উঠে যা কালক্রমে পশ্চিম ভারতের ইতিহাসপ্রসিদ্ধ সিন্ধু সভ্যতার রূপ ধারণ করে২৪ এই সভ্যতার আনুমানিক সময়কাল ৩৩০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ এরপর ভারতে বৈদিক যুগের সূত্রপাত হয় এই যুগেই হিন্দুধর্ম তথা প্রাচীন ভারতীয় সমাজের অন্যান্য সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলির আবির্ভাব ঘটে বৈদিক যুগের সমাপ্তিকাল আনুমানিক ৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ আনুমানিক ৫৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ ভারতে প্রতিষ্ঠিত হয় মহাজনপদ নামে অনেকগুলি স্বাধীন রাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজ্য২৫অজন্তা গুহাচিত্রঔরঙ্গাবাদ , মহারাষ্ট্র খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠ শতকখ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য প্রতিষ্ঠিত ও মহামতি অশোকের শাসিত মৌর্য সাম্রাজ্যের অধীনে দক্ষিণ এশিয়ার সিংহভাগ অঞ্চল একত্রিত হয়২৬ খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতকে গুপ্ত সম্রাটদের শাসনকাল প্রাচীন ভারতের সুবর্ণ যুগ নামে আখ্যাত হয়২৭ এছাড়া পূর্ব ভারতে পাল এবং দাক্ষিণাত্যে চালুক্য , চোল ও বিজয়নগর প্রভৃতি সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে এই সকল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় বিজ্ঞান , প্রযুক্তি , শিল্পকলা , সাহিত্য , জ্যোতির্বিদ্যা ও দর্শন সমৃদ্ধি লাভ করেখ্রিষ্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মধ্য এশিয়া থেকে ভারতে ইসলামের অনুপ্রবেশ ঘটে এর ফলে সমগ্র উত্তর ভারত প্রথমে সুলতানি ও পরে মুঘল সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয় মহামতি আকবরের রাজত্বকালে দেশে একাধারে যেমন সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচনা হয় , তেমনই প্রতিষ্ঠিত হয় হিন্দুমুসলমানের ধর্মীয় সম্প্রীতি২৮২৯ ক্রমে ক্রমে মুঘল সম্রাটগণ উপমহাদেশের এক বৃহৎ অংশে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপনে সক্ষম হন যদিও উত্তরপূর্বাঞ্চলে প্রাধান্যকারী অসমের অহোম রাজশক্তি এবং আরও কয়েকটি রাজ্য মুঘল আগ্রাসন সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছিলষোড়শ শতক থেকে পর্তুগাল , নেদারল্যান্ডস , ফ্রান্স ও ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় শক্তিগুলি ভারতে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করতে শুরু করে পরবর্তীকালে দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক গোলযোগের সুযোগ নিয়ে তারা ভারতে উপনিবেশ স্থাপন করতেও সক্ষম হয় ১৮৫৬ সালের মধ্যেই ভারতের অধিকাংশ অঞ্চল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হস্তগত হয়েছিল৩০ এর এক বছর পরেই ঘটে ভারতীয় সিপাহি ও দেশীয় রাজ্যগুলির সম্মিলিত এক জাতীয় গণঅভ্যুত্থান ভারতের ইতিহাসে এই ঘটনা ভারতের প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধ বা সিপাহি বিদ্রোহ নামে পরিচিত এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও তা দেশে কোম্পানির শাসনের দুর্বলতার দিকগুলি উন্মোচিত করে দেয় তাই ভারতকে আনা হয় ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের প্রত্যক্ষ শাসনাধীনেমহাত্মা গান্ধীর ডানদিকে সঙ্গে জওহরলাল নেহেরু , ১৯৩৭ ১৯৪৭ সালে নেহেরু ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হনবিংশ শতকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ও অন্যান্য রাজনৈতিক সংগঠনগুলি দেশজুড়ে স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায় ভারতীয় নেতা মহাত্মা গান্ধী লক্ষাধিক মানুষকে সঙ্গে নিয়ে অহিংস গণআইন অমান্য জাতীয় আন্দোলন শুরু করেন৩১ স্বাধীনতা আন্দোলনের শেষলগ্নে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও তাঁর আজাদ হিন্দ ফৌজের সংগ্রাম ভারতের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ১৫ অগস্ট , ১৯৪৭ তারিখে , ভারত ব্রিটিশ শাসনজাল থেকে মুক্তিলাভ করে একই সঙ্গে দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের মুসলমানঅধ্যুষিত অঞ্চলগুলি বিভক্ত হয়ে গঠন করে পাকিস্তান রাষ্ট্র৩২ ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি নতুন সংবিধান প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে ভারতে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র স্থাপিত হয়৩৩স্বাধীনতার পরে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা , জাতপাত , নকশালবাদ , সন্ত্রাসবাদ এবং জম্মু ও কাশ্মীর , পাঞ্জাব ও উত্তরপূর্বাঞ্চলের আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভুত্থান দেশে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে ১৯৯০এর দশক থেকে ভারতের শহরাঞ্চলগুলি এই হানাহানির শিকার হতে থাকে ১৯৬২ সালের ভারতচীন যুদ্ধের ফলে চীনের সঙ্গে এবং ১৯৪৭ , ১৯৬৫ , ১৯৭১ ও ১৯৯৯ সালে পাকভারত যুদ্ধের ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত নিয়ে বিরোধ তীব্র হয় ভারত রাষ্ট্রসংঘ ব্রিটিশ ভারত হিসাবে ও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ১৯৭৪ সালে একটি ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষণ৩৪ ও ১৯৯৮ সালে আরও পাঁচটি পরমাণু পরীক্ষা চালিয়ে ভারত নিজেদের একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রকাশ করে৩৪ ১৯৯১ সালে শুরু হওয়া অর্থনৈতিক সংস্কারের ফলে৩৫ বর্তমানে পৃথিবীর অতিদ্রুতবর্ধনশীল এক অর্থব্যবস্থা হিসাবে ভারত সারা বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করতেও সক্ষম হয়েছে১৬সরকার    মূল নিবন্ধ ভারত সরকাররাষ্ট্রপতি ভবন , ভারতীয় রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ তারিখে প্রবর্তিত ভারতীয় সংবিধান বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধিক বিস্তারিত ব্যাখ্যাসমৃদ্ধ সংবিধান৩৬ সংবিধানের প্রস্তাবনা অংশে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রকে একটি সার্বভৌম , সমাজতান্ত্রিক , ধর্মনিরপেক্ষ , গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র রূপে বর্ণিত হয়েছে৩৭ ভারতে প্রচলিত দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ওয়েস্টমিনিস্টারধাঁচের একটি সংসদ ব্যবস্থা এদেশের সরকার প্রথাগতভাবে আধাযুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার ব্যবস্থা হিসাবে বর্ণিত হয় যার বৈশিষ্ট্য হল একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার ও অপেক্ষাকৃত দুর্বল একাধিক রাজ্য সরকারের সহাবস্থান৩৮ যদিও ১৯৯০এর দশকের শেষভাগ থেকে রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক সংস্কার ও পরিবর্তনের ফলে রাজ্য সরকারগুলির ক্ষমতার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি দেশকে চালিত করছে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দিকে৩৯ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি৪০ তিনি পরোক্ষভাবে একটি নির্বাচক মণ্ডলী কর্তৃক পাঁচ বছরের সময়কালের ব্যবধানে৪১৪২ নির্বাচিত হন৪৩ অন্যদিকে ভারতের সরকার প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী অধিকাংশ শাসনক্ষমতা ন্যস্ত থাকে তাঁর হাতেই৪০ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত৪৪ প্রধানমন্ত্রীকে প্রথাগতভাবে সংসদের নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ট আসনপ্রাপ্ত রাজনৈতিক দল বা জোটের সমর্থন লাভ করতে হয়৪০ রাষ্ট্রপতি , উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রী পরিষদ যার কার্যনির্বাহী সমিতি হল ক্যাবিনেটএই নিয়ে গঠিত ভারতের শাসনবিভাগ দপ্তরযুক্ত মন্ত্রীদের সকলকেই সংসদের কোনও না কোনও কক্ষের সদস্য হতে হয় ভারতীয় সংসদীয় ব্যবস্থায় শাসনবিভাগ আইনবিভাগের অধস্তন সেই কারণে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রী পরিষদকে সংসদের নিম্নকক্ষের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়৪৫ভারতীয় সংসদভারতের আইনবিভাগ হল দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ এটি গঠিত হয়েছে রাজ্যসভা নামক একটি উচ্চকক্ষ ও লোকসভা নামক একটি নিম্নকক্ষ নিয়ে৪৬ রাজ্যসভার সদস্যসংখ্যা ২৪৫ এঁদের দপ্তরকাল ছয় বছর৪৭ এঁদের অধিকাংশই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির বিধানসভা থেকে রাজ্যের জনসংখ্যার ভিত্তিতে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হয়ে আসেন৪৭ অন্যদিকে লোকসভার ৫৪৫ জন সদস্যের মধ্যে ৫৪৩ জন পাঁচ বছরের মেয়াদে নিজ নিজ নির্বাচন কেন্দ্র থেকে প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন৪৭ এছাড়া রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন যে সংসদে অ্যাংলোইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের যথেষ্ট সংখ্যক প্রতিনিধি নেই , তবে তিনি দুই জন সদস্যকে উক্ত সম্প্রদায় থেকে সাংসদ মনোনীত করতে পারেন৪৭ভারতে এককেন্দ্রিক ত্রিস্তর বিচারব্যবস্থা প্রচলিত এই বিচারব্যবস্থা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট , ২১টি হাইকোর্ট ও অসংখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতের সমন্বয়ে গঠিত৪৮ মৌলিক অধিকার , কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে বিবাদ ও হাইকোর্টের আপিল বিচার এলাকা সংক্রান্ত মামলাগুলির ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের মূল বিচার এলাকার অন্তর্গত৪৯ এই বিচারব্যবস্থা স্বতন্ত্র৪৮ এবং আইন ঘোষণা এবং সংবিধানবিরোধী কেন্দ্রীয় বা রাজ্য আইন প্রতিহত করার ক্ষমতাযুক্ত৫০ সংবিধানের অভিভাবকত্ব ও ব্যাখ্যাদান সুপ্রিম কোর্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার অন্তর্গত৫১রাজনীতি    মূল নিবন্ধ ভারতের রাজনীতিনর্থ ব্লক , নতুন দিল্লি ভারত সরকারের প্রধান কার্যালয়বিধানসৌধ , বেঙ্গালুরুতে স্থিত কর্ণাটকের নয়নাভিরাম বিধানসভা ভবনভারতীয় প্রজাতন্ত্র বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র৫২৫৩ স্বাধীনোত্তর কালে অধিকাংশ সময় জুড়েই এদেশের শাসনকর্তৃত্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের আওতাধীন৫৪ অন্যদিকে ভারতের রাজ্যরাজনীতিতে প্রাধান্য বিস্তার করেছে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস , ভারতীয় জনতা পার্টি বিজেপি , ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদী সিপিআইএম প্রভৃতি জাতীয় দল ও একাধিক আঞ্চলিক পার্টি দুটি সংক্ষিপ্ত পর্যায় বাদে ১৯৫০ সাল থেকে ১৯৯০ সাল অবধি জাতীয় কংগ্রেস সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মর্যাদা ভোগ করেছে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ঘোষিত জরুরি অবস্থাজনিত গণঅসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ১৯৭৭ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতাচ্যুত করে জনতা পার্টি সরকার গঠন করে ১৯৮৯ সালে জনতা দলের নেতৃত্বে জাতীয় ফ্রন্ট বামফ্রন্টের সহযোগিতায় নির্বাচনে জয়লাভ করে দুবছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকে৫৫ ১৯৯১ সালে কোনও পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ না করতে পারায় কংগ্রেস পি ভি নরসিমা রাওয়ের প্রধানমন্ত্রিত্বে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করে এই সরকার অবশ্য পূর্ণ মেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সক্ষম হয় ৫৬১৯৯৬১৯৯৮ সালটি কেন্দ্রীয় সরকারের অস্থিরতার যুগ এই সময় একাধিক স্বল্পকালীন জোট কেন্দ্রে সরকার গঠন করে ১৯৯৬ সালে সংক্ষিপ্ত সময়কালের জন্য বিজেপি সরকার গঠন করে তারপর কংগ্রেস ও বিজেপিবিরোধী যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে বিজেপির নেতৃত্বে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট এনডিএ ক্ষমতা দখল করে এই সরকারই ভারতের প্রথম পূর্ণ সময়কালের অকংগ্রেসি সরকার৫৭ ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল জোট ইউপিএ লোকসভায় বিপুল সংখ্যক আসনে জয়লাভ করে এবং বিজেপিবিরোধী বাম সাংসদদের সহায়তায় সরকার গঠন করে ইউপিএ ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে পুনরায় ক্ষমতায় আসে তবে বামদলগুলি আর এই জোটের সমর্থক নয়৫৮বৈদেশিক সম্পর্ক ও সামরিক বাহিনী    মূল নিবন্ধগুলি ভারতের বৈদেশিক সম্পর্ক এবং ভারতের সামরিক বাহিনীসুখোই৩০ এমকেআই , ভারতীয় বায়ুসেনার একটি অঙ্গ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আন্তরিক ১৯৫০এর দশকে ভারত আফ্রিকা ও এশিয়ার ইউরোপীয় উপনিবেশগুলির স্বাধীনতার স্বপক্ষে সওয়াল করে৫৯ শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণ ও মালদ্বীপে অপারেশন ক্যাকটাসএই দুই ক্ষেত্রে ভারত তার প্রতিবেশী রাষ্ট্রে সামরিক মধ্যস্থতায় অংশ নেয় কমনওয়েলথের এক সদস্য ভারত , জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য৬০ ভারতচীন যুদ্ধ ও ১৯৬৫ সালের পাকভারত যুদ্ধের পর সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আন্তরিক হয়ে ওঠে ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয় ঠান্ডা যুদ্ধের সমাপ্তি পর্যন্ত সেই সম্পর্ক একই রকম থাকে কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের তিনটি যুদ্ধ হয় ১৯৭১ সালের ভারতপাকিস্তান যুদ্ধ বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠনের সহায়ক হয়৬১ এছাড়াও ১৯৮৪ সালে সিয়াচেন হিমবাহ ও ১৯৯৯ সালে কার্গিলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ বাধেভারতের প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ বুশ করমর্দনরত , মার্চ ২০০৬ সাম্প্রতিককালে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছেবর্তমানকালে , ভারত যে সকল প্রতিষ্ঠানে নিজ প্রভাব বিস্তারে সক্ষম হয়েছে সেগুলি হল অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশনস আসিয়ান ৬২ , সাউথ এশিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর রিজিওন্যাল কোঅপারেশন সার্ক ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ডব্লিউটিও৬৩ ভারত চারটি মহাদেশে রাষ্ট্রসংঘের ৩৫টি শান্তিরক্ষা অভিযানে প্রায় ৫৫ ,০০০ সেনা ও পুলিশ প্রেরণ করেছে১৩ ব্যাপক সমালোচনা ও সামরিক অনুমোদন সত্ত্বেও পরমাণু কর্মসূচির উপর সার্বভৌমত্ব রক্ষার খাতিরে ভারত কম্প্রিহেনসিভ নিউক্লিয়ারটেস্টব্যান ট্রিটি সিটিবিটি ও নিউক্লিয়ার ননপ্রলিফারেশন ট্রিটি এনপিটিতে সই করতে উপর্যুপরি অস্বীকার করছে ভারত সরকারের সাম্প্রতিক প্রচেষ্টার ফলে যুক্তরাষ্ট্র , পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দক্ষিণ আমেরিকা , এশিয়া ও আফ্রিকার উন্নয়নশীল দেশগুলির সঙ্গেও ভারত সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেপাঁচটি রাষ্ট্রের নৌবহর , মালাবার ২০০৭ , ভারত আয়োজিত বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধক্রীড়া৬৪স্থলসেনা , বায়ুসেনা ও নৌসেনা নিয়ে গঠিত ভারতের সামরিক বাহিনী বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম সামরিক বাহিনী৩৩ এই সামরিক বাহিনীর সমান্তরালে কাজ করে থাকে একাধিক সহকারী বাহিনী যথা আধাসামরিক বাহিনী , উপকূলরক্ষী বাহিনী ও স্ট্রাটেজিক ফোর্সেস কম্যান্ড  রাষ্ট্রপতি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক রাশিয়া , ফ্রান্স ও ইসরায়েল ভারতের প্রধান অস্ত্রসরবরাহকারী রাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা সহকারী দেশ প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংগঠন ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গ্যানাইজেশন বা ডিআরডিও ব্যালিস্টিক মিসাইল , যুদ্ধবিমান , যুদ্ধট্যাঙ্ক সহ দেশজ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের কাজ তত্ত্ববধান করে , যাতে সামরিক সরঞ্জামের ক্ষেত্রে ভারতকে অধিক মাত্রায় বিদেশি আমদানির উপর নির্ভর করতে না হয় ১৯৭৪ সালে স্মাইলিং বুদ্ধ ও ১৯৯৮ সালে পোখরান২ নামে মোট ছয়টি প্রাথমিক পরমাণু পরীক্ষণের মাধ্যমে ভারত পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয় যদিও ভারতের ঘোষিত পরমাণু নীতি হল প্রথম প্রয়োগ নয়৬৫ ১০ অক্টোবর , ২০০৮ তারিখে ভারতমার্কিন বেসামরিক পরমাণু চুক্তি সাক্ষরিত হয় তার পূর্বেই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা ও নিউক্লিয়ার সাপ্লায়ারস গ্রুপ ভারতের উপর থেকে পরমাণু প্রযুক্তি ক্রয়বিক্রয়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় ফলে ভারত কার্যত পরিণত হয় বিশ্বের ষষ্ঠ পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রে৬৬রাজনৈতিক বিভাগ    মূল নিবন্ধ ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলভারত ২৮টি রাজ্য ও সাতটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলবিশিষ্ট একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় সাধারণতন্ত্র ভারতে প্রত্যেক রাজ্যে নির্বাচিত রাজ্য সরকার অধিষ্ঠিত রয়েছে নির্বাচিত সরকার রয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরি ও দিল্লিতেও অপর পাঁচটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ শাসনাধীন এই অঞ্চলগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রশাসক নিয়োগ করে থাকেন ১৯৫৬ সালে রাজ্য পুনর্গঠন আইন বলে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যগুলি স্থাপিত হয়৬৭ তারপর থেকে এই কাঠামোটি মোটামুটি অপরিবর্তিত রয়েছে তৃণমূল স্তরে শাসন ও প্রশাসন পরিচালনার লক্ষ্যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি মোট ৬১০টি জেলায় বিভক্ত৬৮ জেলাগুলি আবার মহকুমা বা তহসিলে এবং গ্রামে বিভক্তরাজ্য কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল১ অন্ধ্রপ্রদেশ২ অরুণাচল প্রদেশ৩ অসম৪ বিহার৫ ছত্তীসগঢ়৬ গোয়া৭ গুজরাত৮ হরিয়ানা৯ হিমাচল প্রদেশ১০ জম্মু ও কাশ্মীর১১ ঝাড়খন্ড১২ কর্ণাটক১৩ কেরল১৪ মধ্যপ্রদেশ১৫ মহারাষ্ট্র১৬ মণিপুর১৭ মেঘালয়১৮ মিজোরাম১৯ নাগাল্যান্ড২০ ওড়িশা২১ পাঞ্জাব২২ রাজস্থান২৩ সিকিম২৪ তামিলনাড়ু২৫ ত্রিপুরা২৬ উত্তরপ্রদেশ২৭ উত্তরাখণ্ড২৮ পশ্চিমবঙ্গ২৯ তেলঙ্গানাক আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জখ চন্ডীগড়গ দাদরা ও নগর হাভেলিঘ দমন ও দিউঙ লাক্ষাদ্বীপচ পন্ডিচেরীছ দিল্লি জাতীয় রাজধানী অঞ্চলভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলভূগোল    মূল নিবন্ধ ভারতের ভূগোল    আরও দেখুন ভারতের ভূতত্ত্বহিমালয় পর্বতমালা , উত্তর সিক্কিমের ক্রোস হ্রদভারতীয় উপমহাদেশের সিংহভাগ নিয়ে গঠিত ভারতীয় ভূখণ্ডটি ভারতীয় টেকটোনিক পাত ও ইন্দোঅস্ট্রেলীয় পাতের মধ্যস্থিত একটি গৌণ পাতের উপর অবস্থিত৬৯ এই ভূখণ্ড গঠনের প্রধান ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়াটি শুরু হয় আজ থেকে ৭৫ কোটি বছর পূর্বে , যখন দক্ষিণের অতিমহাদেশ গন্ডোয়ানার অংশ হিসাবে ভারতীয় উপমহাদেশ উত্তরপূর্ব দিকে সরতে শুরু করে তৎকালীন অসংগঠিত ভারত মহাসাগরব্যাপী এই সরণ স্থায়ী হয় ৫০ কোটি বছর৬৯ এর পরে উপমহাদেশটির সঙ্গে ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষ ঘটে এবং উপমহাদেশের পাতটি ইউরেশীয় পাতের তলায় অবনমিত হয়ে পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতমালা হিমালয়ের উত্থান ঘটায় এই পর্বতমালা বর্তমানে ভারতের উত্তর ও উত্তরপূর্ব দিক বেষ্টন করে আছে৬৯ উত্থানশীল হিমালয়ের দক্ষিণ পাদদেশে অবস্থিত সমুদ্রে পাতসঞ্চরণের ফলে একটি বৃহৎ খাত সৃষ্টি হয় , এবং কালক্রমে নদীর পলি জমে৭০ এই খাতটি গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলে পরিণত হয়৭১ এই সমভূমির পশ্চিমে আরাবল্লী পর্বতশ্রেণী কর্তৃক বিচ্ছিন্ন হয়ে অবস্থান করছে থর মরুভূমি৭২ মূল ভারতীয় পাতটি আজ ভারতীয় উপদ্বীপ রূপে অবস্থান করছে এটিই ভারতের প্রাচীনতম ও ভৌগোলিকভাবে সর্বাপেক্ষা দৃঢ় অংশ উত্তরদিকে মধ্য ভারতে অবস্থিত সাতপুরা ও বিন্ধ্য পর্বতমালা পর্যন্ত এই উপদ্বীপ বিস্তৃত এই সমান্তরাল পর্বতমালাদুটি পশ্চিমে গুজরাটের আরব সাগর উপকূল থেকে পূর্বে ঝাড়খণ্ডের কয়লাসমৃদ্ধ ছোটনাগপুর মালভূমি পর্যন্ত ব্যাপ্ত৭৩ দক্ষিণে উপদ্বীপীয় ভূখণ্ডে দাক্ষিণাত্য মালভূমি বামে ও ডানে যথাক্রমে পশ্চিমঘাট ও পূর্বঘাট পর্বতমালাদ্বয় দ্বারা উপকূলীয় সমভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন৭৪ এই মালভূমিতেই ভারতের প্রাচীনতম প্রস্তরগঠনটি পরিলক্ষিত হয় যার কিয়দংশের বয়স ১০০ কোটি বছরেরও বেশি এইভাবে ভারত বিষুবরেখার উত্তরে ৬৪৪ ও ৩৫৩০ উত্তর অক্ষাংশ৭৫ ও ৬৮৭ ও ৯৭২৫ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত৭৬লাক্ষাদ্বীপভারতীয় উপকূলরেখার দৈর্ঘ্য ৭ ,৫১৭ কিলোমিটার ৪ ,৬৭১ মাইল এর মধ্যে ৫ ,৪২৩ কিলোমিটার ৩ ,৩৭০ মাইল ভারতীয় উপদ্বীপের এবং ২ ,০৯৪ কিলোমিটার ১ ,৩০১ মাইল আন্দামান , নিকোবর ও লাক্ষাদ্বীপের অন্তর্গত১৫ ভারতীয় নৌবাহিনীর হাইড্রোগ্রাফিক চার্ট অনুসারে মূল অঞ্চলের উপকূলভূমি ৪৩ বালুকাময় সৈকত , ১১ পাথুরে উপকূল ও ভৃগু উঁচু খাড়া পাড় বা ক্লিফ , ৪৬ জলাজমিপূর্ণ উপকূল দ্বারা গঠিত১৫সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান বিশ্বের বৃহত্তম নদীবদ্বীপ গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত এই বনাঞ্চলটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রসারিতহিমালয় থেকে উৎপন্ন নদনদীগুলির মধ্যে প্রধান গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র উভয়েই বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে৭৭ গঙ্গার প্রধান উপনদীগুলি হল যমুনা ও কোশী নদী কোশী নদীতে নাব্যতা অত্যন্ত কম থাকায় প্রতি বছর ভয়াল বন্যা দেখা দেয় উপদ্বীপের প্রধান নদীগুলি হল গোদাবরী , মহানদী , কৃষ্ণা , ও কাবেরী এই নদীগুলির খাত অত্যন্ত নাব্য হওয়ায় বন্যা কম হয়ে থাকে এই নদীগুলিও বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে৭৮ অন্যদিকে নর্মদা ও তাপ্তি পতিত হয়েছে আরব সাগরে৭৯ ভারতীয় উপকূলভূমির অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হল পশ্চিম ভারতে কচ্ছের রাণ ও পূর্বভারতে সুন্দরবনের পলিগঠিত বদ্বীপ অঞ্চল , যা ভারত ও বাংলাদেশে বিস্তৃত৮০ ভারতে দুটি দ্বীপপুঞ্জ দেখা যায় ভারতের দক্ষিণপশ্চিম উপকূলভাগের নিকটে প্রবালদ্বীপ লাক্ষাদ্বীপ এবং আন্দামান সাগরের আগ্নেয় দ্বীপমালা আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ৮১জলবায়ুমূল নিবন্ধ ভারতের জলবায়ুভারতের বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক ও ভূতাত্ত্বিক উপাদানগুলি দেশের জলবায়ুকে অনেকাংশেই প্রভাবিত করে কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের মাঝবরাবর প্রসারিত কিন্তু দেশের উত্তর সীমান্ত বরাবর অবস্থিত হিমালয় পর্বতমালা মধ্য এশিয়া থেকে আগত ক্যাটাবেটিক বায়ুপ্রবাহকে প্রতিরোধ করে দেশে ক্রান্তীয় জলবায়ু বজায় রাখতে সহায়তা করে৮২৮৩ হিমালয় পর্বতমালা ও থর মরুভূমি দেশে মৌসুমি বায়ুপ্রবাহকেও নিয়ন্ত্রণ করে৮৪ থর মরুভূমি গ্রীষ্মকালীন আর্দ্র দক্ষিণপূর্ব মৌসুমি বায়ুকে আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে জুন থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যবর্তী সময়ে আগত এই বায়ুপ্রবাহই ভারতে বর্ষার মূল কারণ৮৪ ভারতে চারটি প্রধান ঋতু দেখা যায় শীত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি , গ্রীষ্ম মার্চ থেকে মে , বর্ষা জুন থেকে সেপ্টেম্বর , এবং শরৎ ও হেমন্ত অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরক্রান্তীয় জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য অনুসারে বর্ষা ও অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতি দেশে খরা , বন্যা , সাইক্লোন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী এর ফলে প্রতি বছর দেশটি লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যু ও সম্পত্তিহানির কারণ হয় বর্তমানে বিশ্ব উষ্ণায়ণের ফলে ভারতের জলবায়ুতে নানাপ্রকার অস্থিরতা দেখা দিচ্ছেজৈব বৈচিত্র্য    মূল নিবন্ধ ভারতের উদ্ভিদ    ও ভারতের প্রাণীবেঙ্গল টাইগার , ভারতের জাতীয় পশুইন্দোমালয় পরিবেশক্ষেত্রে অবস্থিত ভারত জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ১৮টি মহাবৈচিত্র্যপূর্ণ রাষ্ট্রের একটি এই দেশ পৃথিবীর ৭৬ স্তন্যপায়ী , ১২৬ পাখি , ৬২ সরীসৃপ , ৪৪ উভচর , ১১৭ মাছ ও ৬০ সপুষ্পক উদ্ভিদের বাসস্থান৮৫ পশ্চিমঘাট পর্বতমালার শোলা বর্ষণারণ্যের মতো ভারতের অনেক অঞ্চলেই স্বাভাবিক উদ্ভিদের প্রাচুর্য দেখা যায় ৩৩ ভারতীয় বৃক্ষপ্রজাতি স্বাভাবিক উদ্ভিদশ্রেণীর অন্তর্গত৮৬৮৭ ভারতের প্রধান অরণ্যক্ষেত্রগুলি আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ , পশ্চিমঘাট পর্বতমালা ও উত্তরপূর্ব ভারতের বিষুবীয় বর্ষণারণ্য থেকে হিমালয়ের চিরহরিৎ অরণ্যক্ষেত্র পর্যন্ত বিস্তৃত এছাড়া পূর্ব ভারতের শালঅধ্যুষিত , মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের টিকঅধ্যুষিত ও মধ্য দাক্ষিণাত্য ও গাঙ্গেয় সমভূমির বাবুল অধ্যুষিত বনাঞ্চলও উল্লেখযোগ্য৮৮ গ্রামীণ ভারতে নিম গাছ ঔষধি রূপে ব্যবহৃত হয় পিপল গাছ মহেঞ্জোদাড়োর প্রতীকচিহ্নে দেখা গাছে এই গাছের তলাতেই গৌতম বুদ্ধ সিদ্ধিলাভ করেছিলেনভারতের জাতীয় পাখি ময়ূরবহু ভারতীয় প্রজাতি গন্ডোয়ানায় জাত টেক্সা থেকে উদ্ভুত উপদ্বীপীয় ভারতের ক্রমসরণ ও ইউরেশীয় ভূমিভাগের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে প্রজাতিগুলির মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দেয় যদিও অগ্ন্যুৎপাত ও অন্যান্য জলবায়ুগত পরিবর্তনের কারণে বিগত ২ কোটি বছরে বহু দেশজ প্রজাতিই অবলুপ্ত হয়ে যায়৮৯ এর ঠিক পরেই দুটি প্রাণীভৌগোলিক পথে উত্থানশীল হিমালয়ের দুই পাশ দিয়ে ভারতে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা প্রবেশ করে৮৮ প্রসঙ্গত উল্লেখ্য , ভারতের মোট স্তন্যপায়ী ও পাখিদের যথাক্রমে মাত্র ১২৬ ও ৪৫ দেশজ যেখানে দেশের সরীসৃপ ও উভচরদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা যথাক্রমে ৪৫৮ ও ৫৫৮৮৫ উল্লেখযোগ্য দেশীয় প্রাণী হল নীলগিরি লেঙ্গুর , পশ্চিমঘাট পর্বতমালার বাদামি ও গাঢ় লাল রঙের বেডোমি ব্যাঙ ভারত ১৭২টি ২৯ আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘগণিত লুপ্তপ্রায় প্রাণীর আবাসস্থল৯০ এর মধ্যে রয়েছে এশীয় সিংহ , বাংলা বাঘ , ভারতীয় শ্বেতপৃষ্ঠ শকুন বর্তমানে প্রায় অবলুপ্তবিগত দশকগুলিতে মানুষের অরণ্য আগ্রাসন বন্যপ্রাণী অবলুপ্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায় ফলে ১৯৩৫ সালে চালু হওয়া জাতীয় উদ্যান ও সংরক্ষিত স্থানের ব্যবস্থাটিকে ব্যাপ্ত করা হয় ১৯৭২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন৯১ ও বাঘ সংরক্ষণের জন্য ব্যাঘ্র প্রকল্প চালু হয় এর সঙ্গে ১৯৮০ সালে প্রবর্তিত হয় অরণ্য সংরক্ষণ আইন৯২ ভারতে অভয়ারণ্যের সংখ্যা পাঁচশোর অধিক সঙ্গে দেশে ১৩টি জৈবক্ষেত্র সংরক্ষণও করা হয়৯৩ এর মধ্যে চারটি বিশ্ব জৈবক্ষেত্র সংরক্ষণ নেটওয়ার্কের অন্তর্গত রামসর কনভেনশন অনুসারে ভারতে পঁচিশটি জলাভূমি আছে যার একটি কলকাতা মহানগরীর পূর্বভাগে অবস্থিত৯৪অর্থনীতি    মূল নিবন্ধগুলি ভারতের অর্থনীতি এবং ভারতে অর্থনৈতিক উদারীকরণ    আরও দেখুন ভারতের অর্থনৈতিক ইতিহাস , ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন , ভারতীয় টাকা , ও ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কড অমর্ত্য সেন , নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ তথা জনকল্যাণ অর্থনীতির প্রবক্তা১৯৫০এর দশক থেকে ১৯৮০এর দশক পর্যন্ত ভারত সমাজতান্ত্রিকধাঁচের অর্থনৈতিক নীতি অনুসরণ করে চলে স্বাধীনতাউত্তর যুগের অধিকাংশ সময় জুড়ে ভারতে যে আধাযুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল , তাতে বেসরকারি উদ্যোগ , বৈদেশিক বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ওপর কঠোর সরকারি বিধিনিষেধ আরোপিত থাকত ১৯৯১ সালে অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে ভারত তার বাজার উন্মুক্ত করে দেয় বিদেশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের উপর সরকারি কর্তৃত্ব শিথিল করা হয়৩৫ এর ধনাত্মক প্রভাবে মার্চ ১৯৯১ সালে ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয় ৪ জুলাই , ২০০৮ তারিখে বেড়ে দাঁড়ায় ৩০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে৯৫ ঘাটতি কমে আসে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাজেটগুলিতে৯৬ যদিও সরকারি মালিকানাধীন সংস্থাগুলির বেসরকারিকরণ এবং কোনও কোনও সরকারি খাত বেসরকারি ও বৈদেশিক অংশীদারদের নিকট মুক্ত করে দেওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়৯৭৯৮ভারতের মোট স্থুল আভ্যন্তরীক উৎপাদন বা জিডিপি ১২৪৩ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার১১ যা ক্রয়ক্ষমতা সমতার পিপিপি পরিমাপে ৪৭২৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমতূল্য জিডিপির মানদণ্ডে ভারত বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি চলতি মূল্যে ভারতের মাথাপিছু আয় ৯৭৭ মার্কিন ডলার বিশ্বে ১২৮তম যা ক্রয়ক্ষমতা সমতা পিপিপি ভিত্তিক পরিমাপে ২ ,৭০০ মার্কিন ডলারের সমতূল্য বিশ্বে ১১৮তম বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে কৃষি প্রধান দেশ হিসাবে পরিচিত ভারতের বর্তমান জিডিপিতে পরিষেবা খাতের অবদান ৫৪ শতাংশ  ইতিমধ্যে কৃষিখাতের অবদান হ্রাস পেয়ে ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং শিল্পখাতের অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ বিগত দুই দশকে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি ভারতের গড় বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৫৭ শতাংশ৯৯বোম্বাই শেয়ার বাজার , মুম্বাই  ভারতের বৃহত্তম তথা এশিয়ার প্রাচীনতম স্টক এক্সচেঞ্জ৫১৬৩ মিলিয়ন জনসংখ্যা অধ্যুষিত ভারত পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমশক্তির দেশ এই শক্তির ৬০ শতাংশ নিয়োজিত কৃষিখাতে ও কৃষিসংক্রান্ত শিল্পগুলিতে , ২৮ শতাংশ পরিষেবা ও পরিষেবাসংক্রান্ত শিল্পে এবং ১২ শতাংশ নিযুক্ত শিল্পখাতে৩৩ প্রধান কৃষিজ ফসলগুলি হল ধান , গম , তৈলবীজ , তুলা , পাট , চা , আখ ও আলু প্রধান শিল্পগুলি হল অটোমোবাইল , সিমেন্ট , রাসায়নিক , বৈদ্যুতিন ভোগ্যপণ্য , খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ , যন্ত্রশিল্প , খনি , পেট্রোলিয়াম , ভেষজ , ইস্পাত , পরিবহণ উপকরণ ও বস্ত্রশিল্প ভারতের প্রাকৃতিক সম্পদগুলি হল আবাদি জমি , বক্সাইট , ক্রোমাইট , কয়লা , হিরে , আকরিক লৌহ , চুনাপাথর , ম্যাঙ্গানিজ , অভ্র , প্রাকৃতিক গ্যাস , পেট্রোলিয়াম ও আকরিক টাইটানিয়াম৫৪ ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শক্তির চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের মতে , ভারত পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ষষ্ঠ বৃহত্তম ও কয়লার তৃতীয় বৃহত্তম ভোক্তা১০০বিগত দুই দশকের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও ভারত বিশ্বের সর্বাপেক্ষা দারিদ্র্যপীড়িত রাষ্ট্র শিশুঅপুষ্টির হারও বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় ভারতে সর্বাধিক ২০০৭ সালের হিসেব অনুযায়ী ৪৬ শতাংশ ১০১১০২ তবে বিশ্বব্যাঙ্ক নির্ধারিত দৈনিক ১২৫ মার্কিন ডলারের আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যরেখার ২০০৪ সালের হিসেব অনুযায়ী , ক্রয়ক্ষমতা সমতা নামমাত্র হিসেবে নগরাঞ্চলে দৈনিক ২১৬ টাকা ও গ্রামাঞ্চলে দৈনিক ১৪৩ টাকা নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ১৯৮১ সালে ৬০ শতাংশ থেকে ২০০৫ সালে ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে ১০৩ সাম্প্রতিক দশকগুলিতে ভারত মন্বন্তর প্রতিরোধ করতে পারলেও , দেশের অর্ধেক শিশু ওজন ঘাটতিতে ভুগছে এই হার সারা বিশ্বের নিরিখে কেবল উচ্চই নয় , এমনকী সাবসাহারান আফ্রিকার হারের প্রায় দ্বিগুণ১০৪সাম্প্রতিককালে , ভারতের বহুসংখ্যক শিক্ষিত ইংরেজিপটু প্রশিক্ষিত পেশাদারগণ বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা , মেডিক্যাল ট্যুরিজমে ও আউটসোর্সিংএর কাজে নিযুক্ত হয়েছেন১০৫ বর্তমানে ভারত সফটওয়্যার ও অর্থসংক্রান্ত , গবেষণাসংক্রান্ত ও প্রকৌশলগত পরিষেবার এক বৃহৎ রপ্তানিকারক২০০৭ সালে রপ্তানি ও আমদানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ২১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার১০৬ বস্ত্র , রত্ন , ইঞ্জিনিয়ারিং দ্রব্যাদি ও সফটওয়্যার ভারতের প্রধান রপ্তানি পণ্য প্রধান প্রধান আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল , যন্ত্রপাতি , সার ও রাসায়নিক দ্রব্য ভারতের প্রধানতম বাণিজ্য সহযোগী হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীন ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের সদর দপ্তর দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী নামে খ্যাত মুম্বই মহানগরীতে অবস্থিতজনপরিসংখ্যানমূল নিবন্ধ ভারতের জনতত্ত্বআরও দেখুন ভারতের ধর্ম , ভারতের ভাষা , ও দক্ষিণ এশীয় জনগোষ্ঠীদাক্ষিণাত্যের তোডা উপজাতির কুটিরভারত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক জনবহুল রাষ্ট্র ২০০৯ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশটির আনুমানিক জনসংখ্যা প্রায় ১১৬ কোটি৩৩ যদিও সাম্প্রতিক দশকগুলিতে গ্রাম থেকে শহরে অভিবাসনের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারতে শহরাঞ্চলীয় জনসংখ্যা বহুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে , তথাপি ৭০ শতাংশ ভারতবাসী গ্রামাঞ্চলে বাস করেন ভারতের বৃহত্তম মহানগরগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মুম্বাই পূর্বনাম বম্বে বা বোম্বাই , নতুন দিল্লি , বেঙ্গালুরু পূর্বনাম ব্যাঙ্গালোর , কলকাতা , হায়দ্রাবাদ ও আহমদাবাদ৫৪আফ্রিকা মহাদেশের পরেই ভারত সংস্কৃতি , ভাষা ও জাতিগতভাবে বিশ্বে সর্বাধিক বৈচিত্র্যপূর্ণ ভৌগোলিক অঞ্চল৫৪ ভারতের দুটি প্রধান ভাষাগোষ্ঠী হল ইন্দোআর্য মোট জনসংখ্যার ৭৪ ও দ্রাবিড় মোট জনসংখ্যার ২৪ অপরাপর ভাষাগোষ্ঠীগুলি হল অস্ট্রোএশিয়াটিক ও টিবেটোবার্মান ভাষাগোষ্ঠী ভারতের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীয় ভাষা হিন্দি১০৭ যা কিনা কেন্দ্রীয় সরকারের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে নির্ধারিত১০৮ সহকারী দাপ্তরিক ভাষা ইংরেজি প্রশাসন ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে বহুল ব্যবহৃত১০৯ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও ইংরেজির প্রাধান্য প্রশ্নাতীত ভারতের সংবিধান বাংলাসহ ২১টি ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছে এগুলি হয় প্রচলিত , নয় ধ্রুপদি ভাষা প্রাচীনকাল থেকেই ভারতে ধ্রুপদি ভাষার মর্যাদা পেয়ে আসা তামিল ও সংস্কৃত১১০ এবং কন্নড় ও তেলুগু ভাষাকে ভারত সরকার নিজস্ব একটি যোগ্যতাসূচকবলে ধ্রুপদি ভাষার মর্যাদা দান করেছেন১১১ ভারতে উপভাষার সংখ্যা ১ ,৬৫২টি১১২৮০ কোটিরও বেশি ৮০৫ ভারতবাসী হিন্দু অন্যান্য ধর্মসম্প্রদায়গুলির মধ্যে রয়েছে মুসলমান ১৩৪ , খ্রিস্টান ২৩ , শিখ ১৯ , বৌদ্ধ ০৮ , জৈন ০৪ , ইহুদি , পারসি ও বাহাই ধর্মাবলম্বী মানুষ১১৩ উল্লেখ্য , ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা সমগ্র বিশ্বের নিরিখে তৃতীয় বৃহত্তম এবং অমুসলমান প্রধান দেশগুলির মধ্যে বৃহত্তম দেশে আদিবাসী জনসংখ্যা ৮১১১৪ভারতে সাক্ষরতার হার ৬৪৮ ৫৩৭ মহিলা ও ৭৫৩ পুরুষ৩৩ সাক্ষরতার হার সর্বাধিক কেরল রাজ্যে ৯১১১৫ সর্বনিম্ন বিহারে ৪৭১১৬ জাতীয় পর্যায়ে লিঙ্গানুপাত প্রতি হাজার পুরুষের বিপরীতে ৯৪৪ জন মহিলা গড় মধ্যবয়স ২৪৯ বৎসর বাৎসরিক জন্মহার প্রতি হাজার জনে ২২১ জন বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৩৮৩৩সংস্কৃতি    মূল নিবন্ধ ভারতীয় সংস্কৃতিআগ্রার তাজমহল শাহজাহান কর্তৃক পত্নী মুমতাজ মহলের স্মৃতিতে নির্মিত ইউনেস্কো এর অসামান্য বিশ্বজনীন মূল্য বিচার করে এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য ভবন ঘোষণা করেছে১১৭সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের১১৮ মধ্যে ঐক্য১১৯ ভারতীয় সংস্কৃতির প্রধান বৈশিষ্ট্য এই সংস্কৃতি স্বকীয় ঐতিহ্যরক্ষার পাশাপাশি বৈদেশিক আক্রমণকারী ও বহিরাগত জাতিগুলির থেকে গ্রহণ করা রীতিনীতি , ঐতিহ্য ও ধারণা অঙ্গীভূত করে এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলের সংস্কৃতির উপরর নিজ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছেভারতীয় স্থাপত্য এমন একটি বিষয় যার মধ্যে ভারতীয় সংস্কৃতির এই বৈচিত্র্যময় রূপটি ধরা পড়ে তাজমহল ও অন্যান্য মুঘল স্থাপত্য নিদর্শন তথা দ্রাবিড় স্থাপত্য নিদর্শনগুলির মধ্যে ভারত ও বহির্ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাচীন ও স্থানীয় ঐতিহ্যের সম্মিলন লক্ষিত হয় ভারতের স্থানীয় স্থাপত্যশৈলীগুলিও দেশের এক গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক স্থাপত্যবৈচিত্র্যের সাক্ষীভারতীয় সঙ্গীতের জগৎটি গঠিত হয়েছে ধ্রুপদি ও আঞ্চলিক সংগীতধারার সংমিশ্রণে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত দুটি ধারায় বিভক্ত  উত্তর ভারতের হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটিক সংগীত এই দুই প্রধান সংগীতধারা থেকে আবার উৎসারিত হয়েছে অনেক উপধারা আঞ্চলিক জনপ্রিয় সঙ্গীতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রবীন্দ্রসংগীত , হিন্দি ফিল্মি গান ও ইন্ডিপপ এবং বাউল ও অন্যান্য বিভিন্ন প্রকার লোকসংগীতভারতীয় নৃত্যকলাও লোক ও ধ্রুপদীএই দুই প্রধান ভাগে বিভক্ত ভারতের বিখ্যাত লোকনৃত্যগুলি হল পাঞ্জাবের ভাংড়া , অসমের বিহু নৃত্য , পশ্চিমবঙ্গ , ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার ছৌ নাচ এবং রাজস্থানের ঘুমার ভারতের সঙ্গীত নাটক অকাদেমী দেশের আটটি নৃত্যকলাকে ধ্রুপদি ভারতীয় নৃত্য আখ্যা দিয়েছে এগুলি হল তামিলনাড়ুর ভরতনট্যম , উত্তর প্রদেশের কত্থক , কেরলের কথাকলি ও মোহিনীঅট্টম , অন্ধ্রপ্রদেশের কুচিপুডি , মণিপুরের মণিপুরি , ওড়িশার ওড়িশি এবং অসমের সত্রিয় নাচ১২০ এই নৃত্যশৈলীগুলি বর্ণনাত্মক ও পৌরাণিক ঘটনাকেন্দ্রিকভারত ভারতের জাতীয় প্রতীকসমূহ১২১পতাকা তিরঙ্গাপ্রতীক অশোক স্তম্ভসংগীত জনগণমনঅধিনায়ক জয় হেস্তোত্র বন্দে মাতরম্পশু বাংলার বাঘঐতিহ্যবাহী পশু ভারতীয় হাতিপাখি ভারতীয় ময়ূরজলচর প্রাণী গাঙ্গেয় ডলফিনফুল পদ্মগাছ বটফল আমখেলা ফিল্ড হকিসন শকাব্দনদী গঙ্গা১২২রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর  এশিয়ার প্রথম১২৩ সাহিত্যে নোবেল বিজেতা১২৪ এবং ভারতের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা মণিপুরী নৃত্য সহ বহু শিল্পকলার পুণরুজ্জীবনে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য১২৫ভারতীয় নাটকের বৈশিষ্ট্য হল সংগীত , নৃত্য ও তাৎক্ষণিক বা লিখিত সংলাপের যুগলবন্দী১২৬ এর বিষয়বস্তু কখনও পুরাণ থেকে , কখনও মধ্যযুগীয় প্রেমকাহিনিগুলি থেকে , কখনও আবার একালের সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাবলি থেকে গৃহীত ভারতের লোকনাট্যের মধ্যে গুজরাটের ভাবাই , পশ্চিমবঙ্গের যাত্রা , উত্তর ভারতের নৌটঙ্কি ও রামলীলা , মহারাষ্ট্রের তামাশা , অন্ধ্রপ্রদেশের বুরাকথা , তামিলনাড়ুর তেরুককুত্তু ও কর্ণাটকের যক্ষগণ উল্লেখযোগ্য১২৭ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্প সমগ্র বিশ্বের বৃহত্তম চলচ্চিত্র শিল্প১২৮ বাণিজ্যিক হিন্দি সিনেমা প্রস্তুতকারক বলিউড বিশ্বের সর্বাপেক্ষা সৃষ্টিশীল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি১২৯ এছাড়াও বাংলা , কন্নড় , মালয়ালম , মারাঠি , তামিল ও তেলুগু ভাষায় ঐতিহ্যবাহী চলচ্চিত্র শিল্পের আছে১৩০ভারতের প্রাচীনতম সাহিত্য প্রথমে মৌখিকভাবে ও পরে লিখিত আকারে প্রচলিত হয়১৩১ এই রচনাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য বেদ , ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারত , নাটক অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ ইত্যাদি সংস্কৃত সাহিত্যের ধ্রুপদী কীর্তিসমূহ১৩২ এবং তামিলে রচিত সঙ্গম সাহিত্য১৩৩ আধুনিক কালের ভারতীয় সাহিত্যিকদের মধ্যে সর্বাগ্রগণ্য হলেন ১৯১৩ সালে দেশের প্রথম সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এছাড়াও ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যরচনার জন্য ভারতীয় অথবা ভারতীয় বংশোদ্ভুত যেসকল লেখকগণ সারা বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছেন তাঁরা হলেন অমিতাভ ঘোষ , মার্কিনপ্রবাসী বাঙালি সাহিত্যিক ঝুম্পা লাহিড়ী , নোবেলজয়ী ব্রিটিশভারতীয় সাহিত্যিক ভি এস নাইপল প্রমুখভারতীয় রন্ধনশৈলীর বিশেষত্ব হল বিভিন্ন বৈচিত্র্যপূর্ণ আঞ্চলিক রন্ধনপ্রণালী এবং ভেষজ ও মশলার অভিজাত প্রয়োগ দেশের প্রধান খাদ্য ভাত পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে ও রুটি মূলত উত্তর ভারতে১৩৪ভারতে পোষাকের ঐতিহ্য রং , ধরন ও জলবায়ুর মতো বিভিন্ন কারণে অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন থানকাপড়ের পোষাক হিসাবে মহিলাদের ক্ষেত্রে শাড়ি ও পুরুষদের ক্ষেত্রে ধুতি বা লুঙ্গি বিশেষ জনপ্রিয় এছাড়া সেলাইকরা পোষাকের মধ্যে মহিলাদের সালোয়ারকামিজ ও পুরুষদের কুর্তাপাজামা বা ইউরোপীয়ধাঁচে ট্রাউজার্স ও শার্ট বিশেষভাবে প্রচলিতভারতে উৎসব প্রকৃতিগতভাবে ধর্মীয় যদিও অনেক ধর্ম ও জাতি নিরপেক্ষ উৎসবও পালিত হয়ে থাকে দীপাবলি , গণেশ চতুর্থী , উগাদি , পোঙ্গল , দোলযাত্রা , ওনাম , দশেরা , দুর্গাপূজা , ঈদুল ফিত্র , ঈদুল আজহা , বড়দিন , বুদ্ধজয়ন্তী , বৈশাখী প্রভৃতি কয়েকটি জনপ্রিয় উৎসব১৩৫ ভারতে তিনটি জাতীয় উৎসব পালিত হয় এগুলি হল স্বাধীনতা দিবস , সাধারণতন্ত্র দিবস ও গান্ধী জয়ন্তী এছাড়াও বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন আঞ্চলিক উৎসবও যথেষ্ট উৎসাহউদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পালিত হয় ধর্মাচরণও দৈনন্দিন ও গণজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়ভারতে সনাতন পারিবারিক মূল্য বিশেষ সম্মানের অধিকারী একাধিক প্রজন্মের মিলনক্ষেত্র পিতৃতান্ত্রিক যৌথ পরিবারগুলিই ভারতীয় পরিবারতন্ত্রের আদর্শ বলে বিবেচিত হয় যদিও আজকাল নগরাঞ্চলগুলিতে ছোটো ছোটো নিউক্লিয়ার পরিবারের উদ্ভব ঘটতে দেখা যায়১৩৬ ভারতে বিবাহ আয়োজিত হয় পাত্র ও পাত্রীর পিতামাতা ও অন্যান্য গুরুজনস্থানীয় আত্মীয়বর্গের সম্মতিক্রমে আয়োজিত বিবাহ ভারতে এক অতিমাত্রায় লক্ষিত বিবাহরীতি১৩৭ বিবাহবন্ধন সারাজীবনের বন্ধন বলে বিবেচিত হয়১৩৭ তাই এদেশে বিবাহবিচ্ছেদের হারও অত্যন্ত কম১৩৮ ভারতে বাল্যবিবাহ প্রথা আজও প্রচলিত দেশের অর্ধেকেরও বেশি নারী বিবাহের আইনসম্মত বয়স আঠারো বছরে পা রাখার পূর্বেই বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন১৩৯১৪০বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি    মূল নিবন্ধগুলি ভারতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাস এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিযন্তরমন্তর , দিল্লি , উনিশ শতকের প্রথম ভাগে অঙ্কিত প্রতিচিত্রবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিক্ষেত্রে অতি প্রাচীন কাল থেকেই ভারত তার নিজস্ব স্বাক্ষর রেখে এসেছে খ্রিষ্টীয় তৃতীয় শতকে ভারতীয় ধাতুবিদগণ দিল্লির লৌহস্তম্ভটি নির্মাণ করেন বেদাঙ্গ জ্যোতিষ গ্রন্থে সেযুগের মহাকাশ পর্যবেক্ষণের বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায় কোপারনিকাসের সূর্যকেন্দ্রিকতাবাদ প্রস্তাবনার ১০০০ বছর আগেই ভারতীয় গণিতবিদ তথা জ্যোতির্বিদ আর্যভট্ট প্রাচীন বিশ্বধারণার ভ্রান্ততা প্রমাণ করেছিলেন প্রাচীন বিশ্বে একমাত্র ভারতেই গড়ে উঠেছিল হীরের খনি ভারতীয় গণিতজ্ঞ শ্রীনিবাস রামানুজন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গণিতবিদদের অন্যতম বলে বিবেচিত হন ১৯২৮ সালে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন ভারতীয় পদার্থবিদ চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমনবেঙ্গালুরুতে ইনফোসিস গণমাধ্যম কেন্দ্রস্বাধীনোত্তর ভারতকে একটি দরিদ্র রাষ্ট্র বলে বিবেচনা করা হলেও , স্বাধীনতা অর্জনের পাঁচ দশকের মধ্যেই এই দেশ প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষিণ এশিয়ার এক মহাশক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হয় সাক্ষরতার হার ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নগরকেন্দ্রের উদ্ভব ভারতের এই প্রযুক্তিগত উত্থানের কারণ ১৯৭৫ সালে প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ আর্যভট্টের উৎক্ষেপন , তার পূর্ববর্তী বছরে স্মাইলিং বুদ্ধ নামে এক ভূগর্ভস্থ পারমানবিক পরীক্ষণ , দূরসংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন , পারমানবিক চুল্লি ও হোমি জাহাঙ্গির ভাবা পরিচালিত বিএআরসিএর মতো গবেষণাকেন্দ্রের বিকাশ ভারতের উল্লেখযোগ্য বৈজ্ঞানিক সাফল্য বলে বিবেচিত হয়১৪১ লোআর্থ , মেরু ও জিওস্টেশনারি কক্ষপথে উপগ্রহ উৎক্ষেপনের এক দেশীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ভারত এএসএলভি , পিএসএলভি , জিএসএলভি ও সর্বোপরি ইনস্যাট কৃত্রিম উপগ্রহ সিরিজগুলি ভারতের সফল মহাকাশকর্মসূচির স্বাক্ষর ২০০৮ সালে চাঁদের মাটিতে অবতীর্ণ হয় প্রথম ভারতীয় মহাকাশযান চন্দ্রযান১ দেশীয় বিমানশক্তির ক্ষেত্রে বৈকল্পিক শক্তি হিসেবে অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার ও এলসিএ তেজসএর নাম করা যায় লারসেন অ্যান্ড টাব্রো , ডিএফএলএর মতো কোম্পানিগুলির সাহায্যে আবাসন ও পরিকাঠামো শিল্পেও ভারত আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রসর২০০৩ সালে সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং তৈরি করে ভারতের প্রথম সুপারকম্পিউটার পরম পদ্ম এটি পৃথিবীর দ্রুততম সুপারকম্পিউটারগুলির অন্যতম১৪২ ১৯৯০এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং তথ্য প্রযুক্তি বিপ্লব তথ্যপ্রযুক্তির দুনিয়ায় এক অগ্রণী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতকে বিশ্বের মঞ্চে উপস্থাপিত করে বর্তমানে আই বি এম , মাইক্রোসফট , সিসকো সিস্টেমস , ইনফোসিস , টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিস , উইপ্রো ও অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলি ভারতের বেঙ্গালুরু , হায়দ্রাবাদ , চেন্নাই প্রভৃতি শহরে তাদের প্রধান কার্যালয় স্থাপন করেছেখেলাধূলাবার্লিন অলিম্পিকে সোনা জয়ী ভারতীয় হকি দলকলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন , বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুটবল মাঠ    মূল নিবন্ধ ভারতের খেলাধূলাভারতের জাতীয় খেলা ফিল্ড হকি ইন্ডিয়ান হকি ফেডারেশনের উপর এদেশের হকি পরিচালনার দায়িত্ব ন্যস্ত ভারতীয় হকি দল ১৯৭৫ সালের পুরুষদের হকি বিশ্বকাপ ও একাধিক অলিম্পিক মেডেল বিজয়ী যদিও ভারতে সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা হল ক্রিকেট ভারতীয় জাতীয় ক্রিকেট দল ১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ , ২০০৭ সালের আইসিসি বিশ্ব টোয়েন্টি২০ এবং ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ বিজয়ী এছাড়াও ২০০৩ সালে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ও ২০১৪ সালে আইসিসি বিশ্ব টোয়েন্টি২০ তে ফাইনালে পরাজিত হয়  ভারতে ক্রিকেট পরিচালিত হয় বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া বিসিসিআই কর্তৃক ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট প্রতিযোগিতাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য রনজি ট্রফি , দলীপ ট্রফি , দেওধর ট্রফি , ইরানি ট্রফি ও চ্যালেঞ্জার সিরিজ ভারতের জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা দেশে প্রভূত জনপ্রিয়তা ও নানাবিধ বিশ্বরেকর্ডের অধিকারীভারতীয় দলের ডেভিস কাপ বিজয়ের পর থেকে ভারতে টেনিসের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায় অন্যদিকে ফুটবল পশ্চিমবঙ্গ , উত্তরপূর্ব ভারত , গোয়া ও কেরলে বেশ জনপ্রিয়১৪৩ ভারত জাতীয় ফুটবল দল বহুবার সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন কাপ জিতেছে ভারত ১৯৫১ ও ১৯৮২ সালে এশিয়ান গেমস আয়োজন করেছিল এছাড়াও ভারত ছিল ১৯৮৭ ও ১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সহআয়োজক দেশ ছিল ভারত ২০১১ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সহআয়োজক দেশ দাবা খেলার উদ্ভবও হয়েছিল ভারতে দেশে গ্রান্ডমাস্টার দাবাড়ুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ দাবা ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় একটি খেলা১৪৪ এছাড়াও দেশের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় খেলা হল কাবাডি , খো খো , ও গুলি ডান্ডা ইত্যাদি ভারতে প্রাচীন যোগব্যায়াম এবং বিভিন্ন ভারতীয় মার্শাল আর্ট , কালারিপ্পায়াত্তু , বার্মা কলাই ইত্যাদি আজও জনপ্রিয় ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক ক্রীড়া পুরস্কার হল রাজীব গান্ধী খেলরত্ন ও অর্জুন পুরস্কার খেলোয়াড়দের জন্য এব দ্রোণাচার্য পুরস্কার কোচিংএর জন্যসত্যজিৎ রায় এই শব্দ সম্পর্কে উচ্চারণ সাহায্যতথ্য ২ মে , ১৯২১  ২৩ এপ্রিল , ১৯৯২ একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা ও বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক কলকাতা শহরে সাহিত্য ও শিল্পের জগতে খ্যাতনামা এক বাঙালি পরিবারে তাঁর জন্ম হয় তাঁর পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে ছিল তিনি কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন সত্যজিতের কর্মজীবন একজন বাণিজ্যিক চিত্রকর হিসেবে শুরু হলেও প্রথমে কলকাতায় ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা জঁ রনোয়ারের সাথে সাক্ষাৎ ও পরে লন্ডন শহরে সফররত অবস্থায় ইতালীয় নব্য বাস্তবতাবাদী ছবি লাদ্রি দি বিচিক্লেত্তে ইতালীয় ভাষায়    , বাইসাইকেল চোর দেখার পর তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্বুদ্ধ হনচলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে সত্যজিৎ ছিলেন বহুমুখী এবং তাঁর কাজের পরিমাণ বিপুল তিনি ৩৭টি পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র , প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তাঁর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র পথের পাঁচালী ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে , যাদের মধ্যে অন্যতম ছিল কান চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া শ্রেষ্ঠ মানব দলিল    পুরস্কারটি পথের পাঁচালি , অপরাজিত ও অপুর সংসার  এই তিনটি চলচ্চিত্রকে একত্রে অপু ত্রয়ী বলা হয় , এবং এই চলচ্চিত্রত্রয়ী তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ বা ম্যাগনাম ওপাস হিসেবে বহুল স্বীকৃত চলচ্চিত্র মাধ্যমে সত্যজিৎ চিত্রনাট্য রচনা , চরিত্রায়ন , সঙ্গীত স্বরলিপি রচনা , চিত্র গ্রহণ , শিল্প নির্দেশনা , সম্পাদনা , শিল্পীকুশলীদের নামের তালিকা ও প্রচারণাপত্র নকশা করাসহ নানা কাজ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাণের বাইরে তিনি ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক , প্রকাশক , চিত্রকর , গ্রাফিক নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক বর্ণময় কর্মজীবনে তিনি বহু পুরস্কার পেয়েছেন তবে এগুলির মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হল ১৯৯২ সালে পাওয়া একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কারটি অস্কার , যা তিনি সমগ্র কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে অর্জন করেনপরিচ্ছেদসমূহ    ১ জীবন এবং কর্মজীবন        ১১ প্রাথমিক জীবন        ১২ অপুর বছরগুলো ১৯৫০৫৮        ১৩ দেবী থেকে চারুলতা ১৯৫৯৬৪        ১৪ নতুন দিকনির্দেশনা ১৯৬৫১৯৮২        ১৫ শেষ পর্যায় ১৯৮৩১৯৯২    ২ চলচ্চিত্র কুশলতা    ৩ সাহিত্যকর্ম    ৪ চলচ্চিত্রের তালিকা    ৫ দর্শক ও সমালোচকের প্রতিক্রিয়া    ৬ কিংবদন্তির কথা    ৭ প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননা    ৮ রায় পরিবার    ৯ আরো দেখুন    ১০ টীকা    ১১ তথ্যসূত্র    ১২ বহিঃসংযোগজীবন এবং কর্মজীবনপ্রাথমিক জীবনসত্যজিৎ রায়ের বংশানুক্রম প্রায় দশ প্রজন্ম অতীত পর্যন্ত বের করা সম্ভব ১ তার আদি পৈত্রিক ভিটা বর্তমান বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে এখানে তাদের পৈত্রিক বাড়িটি এখনও রয়েছে যেখানে সত্যজিতের পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী এবং বাবা সুকুমার রায় দুজনেরই জন্ম হয়েছিল ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের অনেক আগেই উপেন্দ্রকিশোর সপরিবারে কলকাতা চলে যান বর্তমানে তাদের প্রায় ৪ একরের এই বিশাল জমি ও বাড়ি বাংলাদেশ সরকারের রাজস্ব বিভাগের অধীনে রয়েছে এবং তারা এই বাড়িকে কেন্দ্র করে একটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা নিচ্ছেন এছাড়া সত্যজিৎ রায়ের পূর্বপুরুষ হরি কিশোর রায় চৌধুরী প্রায় ২০০ বছর আগে মসূয়া গ্রামে শ্রীশ্রী কালভৈরব পূজা উপলক্ষ্যে একটি মেলার আয়োজন করেছিলেন এখনও প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শেষ বুধবার এই মেলা পালিত হয়ে আসছে২উপেন্দ্রকিশোরের সময়েই সত্যজিতের পরিবারের ইতিহাস এক নতুন দিকে মোড় নেয় লেখক , চিত্রকর , দার্শনিক , প্রকাশক ও শখের জ্যোতির্বিদ উপেন্দ্রকিশোরের মূল পরিচিতি ১৯শ শতকের বাংলার এক ধর্মীয় ও সামাজিক আন্দোলন ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম নেতা হিসেবে উপেন্দ্রকিশোরের ছেলে সুকুমার রায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের ননসেন্স ও শিশু সাহিত্যের সেরা লেখকদের একজন দক্ষ চিত্রকর ও সমালোচক হিসেবেও সুকুমারের খ্যাতি ছিল ১৯২১ সালে কলকাতায় জন্ম নেন সুকুমারের একমাত্র সন্তান সত্যজিৎ রায় সত্যজিতের মাত্র তিন বছর বয়সেই বাবা সুকুমারের মৃত্যু ঘটে মা সুপ্রভা দেবী বহু কষ্টে তাঁকে বড় করেন সত্যজিৎ বড় হয়ে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অর্থনীতি পড়তে যান , যদিও চারুকলার প্রতি সবসময়েই তাঁর দুর্বলতা ছিল ১৯৪০ সালে সত্যজিতের মা তাঁকে শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকেন কলকাতাপ্রেমী সত্যজিৎ শান্তিনিকেতনের শিক্ষার পরিবেশ সম্বন্ধে খুব উঁচু ধারণা পোষণ করতেন না , কিন্তু শেষে মায়ের প্ররোচনা ও রবিঠাকুরের প্রতি শ্রদ্ধার ফলে রাজি হন ৩ শান্তিনিকেতনে গিয়ে সত্যজিৎ প্রাচ্যের শিল্পের মর্যাদা উপলব্ধি করতে সক্ষম হন পরে তিনি স্বীকার করেন যে সেখানকার বিখ্যাত চিত্রশিল্পী নন্দলাল বসু৪ এবং বিনোদ বিহারী মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে তিনি অনেক কিছু শিখেছিলেন সত্যজিৎ বিনোদবিহারীর ওপর পরবর্তীতে একটি প্রামাণ্যচিত্রও বানান অজন্তা , ইলোরা এবং এলিফ্যান্টায় ভ্রমণের পর ভারতীয় শিল্পের ওপর সত্যজিতের গভীর শ্রদ্ধা ও অনুরাগ জন্মায়৫নিয়মানুযায়ী বিশ্বভারতীতে সত্যজিতের পাঁচ বছর পড়াশোনা করার কথা থাকলেও তার আগেই ১৯৪৩ সালে তিনি শান্তিনিকেতন ছেড়ে কলকাতায় চলে আসেন এবং সেখানে ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন সংস্থা ডি জে কিমারে মাত্র ৮০ টাকা বেতনের বিনিময়ে জুনিয়র ভিজুয়ালাইজার হিসেবে যোগ দেন চিত্রসজ্জা বা ভিজুয়াল ডিজাইন সত্যজিতের পছন্দের একটি বিষয় ছিল ও সংস্থাটিতে তিনি ভালো সমাদরেই ছিলেন , কিন্তু সংস্থাটির ইংরেজ ও ভারতীয় কর্মচারীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল ইংরেজ কর্মচারীদেরকে অনেক বেশি বেতন দেয়া হত , আর সত্যজিতের মনে হত প্রতিষ্ঠানটির ক্লায়েন্টরা ছিলেন মূলত বোকা৬ ১৯৪৩ সালের দিকে সত্যজিৎ ডি কে গুপ্তের প্রকাশনা সংস্থা সিগনেট প্রেসএর সাথে জড়িয়ে পড়েন ডি কে গুপ্ত তাঁকে সিগনেট প্রেস থেকে ছাপা বইগুলোর প্রচ্ছদ আঁকার অনুরোধ করেন ও এ ব্যাপারে তাঁকে সম্পূর্ণ শৈল্পিক স্বাধীনতা দেন এখানে সত্যজিৎ প্রচুর বইয়ের প্রচ্ছদ ডিজাইন করেন , যার মধ্যে জিম করবেটের ম্যানইটার্স অব কুমায়ুন ও জওহরলাল নেহেরুর দ্য ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া উল্লেখযোগ্য এছাড়া তিনি বিভুতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কালজয়ী বাংলা উপন্যাস পথের পাঁচালীর একটি শিশুতোষ সংস্করণ আম আঁটির ভেঁপুর ওপরেও কাজ করেন বিভুতিভূষণের লেখা এ উপন্যাসটি সত্যজিৎকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে এবং এটিকেই পরবর্তীতে সত্যজিৎ তাঁর প্রথম চলচ্চিত্রের বিষয়বস্তু হিসেবে নির্বাচন করেন বইটির প্রচ্ছদ আঁকা ছাড়াও তিনি এর ভেতরের বিভিন্ন ছবিগুলোও এঁকে দেন এই ছবিগুলোই পরে দৃশ্য বা শট হিসেবে তাঁর সাড়া জাগানো চলচ্চিত্রে স্থান পায়৭১৯৪৭ সালে সত্যজিৎ চিদানন্দ দাসগুপ্ত ও অন্যান্যদের সাথে মিলে কলকাতা ফিল্ম সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন সোসাইটির সদস্য হবার সুবাদে তাঁর অনেক বিদেশী চলচ্চিত্র দেখার সুযোগ হয় এ সময় তিনি প্রচুর ছবি গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি কলকাতায় অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেন তিনি তাদের কাছ থেকে শহরে আসা নতুন মার্কিন চলচ্চিত্রগুলোর খবর নিতেন এ সময় তিনি নরম্যান ক্লেয়ার নামের রয়েল এয়ার ফোর্সের এক কর্মচারীর সংস্পর্শে আসেন , যিনি সত্যজিতের মতোই চলচ্চিত্র , দাবা ও পাশ্চাত্যের ধ্রুপদী সঙ্গীত পছন্দ করতেন ৮ ১৯৪৯ সালে সত্যজিৎ তাঁর দূরসম্পর্কের বোন ও বহুদিনের বান্ধবী বিজয়া দাসকে বিয়ে করেন সত্যজিৎ দম্পতির ঘরে ছেলে সন্দীপ রায়ের জন্ম হয় , যিনি নিজেও বর্তমানে একজন প্রথিতযশা চলচ্চিত্র পরিচালক ঐ একই বছরে জঁ রনোয়ার তাঁর দ্য রিভার চলচ্চিত্রটির শুটিং করতে কলকাতায় আসেন সত্যজিৎ রনোয়ারকে গ্রামাঞ্চলে চিত্রস্থান খুঁজতে সহায়তা করেন ঐ সময়েই সত্যজিৎ রনোয়ারের সাথে পথের পাঁচালীর চলচ্চিত্রায়ণ নিয়ে কথা বলেন এবং রনোয়ার এ ব্যাপারে তাঁকে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেন৯১৯৫০ সালে ডি জে কিমার সত্যজিৎকে লন্ডনে তাদের প্রধান কার্যালয়ে কাজ করতে পাঠান লন্ডনে তিন মাস থাকাকালীন অবস্থায় সত্যজিৎ প্রায় ৯৯টি চলচ্চিত্র দেখেন এদের মধ্যে ইতালীয় নব্য বাস্তবতাবাদী ছবি লাদ্রি দি বিচিক্লেত্তে ইতালীয়    সাইকেল চোর তাঁর ওপর গভীর প্রভাব ফেলে পরে সত্যজিৎ বলেছেন যে ঐ ছবিটি দেখে সিনেমা হল থেকে বের হওয়ার সময়েই তিনি ঠিক করেন যে তিনি একজন চলচ্চিত্রকার হবেনঅপুর বছরগুলো ১৯৫০৫৮মূল নিবন্ধ সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রবড় বড় কৌতূহলী চোখ , অপু ত্রয়ীতে এই দৃশ্য বারবার পুণরাবৃত্ত হয়েছেসত্যজিৎ ঠিক করেন যে , বাংলা সাহিত্যের ধ্রুপদী বিল্ডুংস্রোমান পথের পাঁচালীই হবে তাঁর প্রথম চলচ্চিত্রের প্রতিপাদ্য ১৯২৮ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এই প্রায়আত্মজীবনীমূলক উপন্যাসটিতে বাংলার এক গ্রামের ছেলে অপুর বেড়ে ওঠার কাহিনী বিধৃত হয়েছেএ ছবি বানানোর জন্য সত্যজিৎ কিছু পূর্বঅভিজ্ঞতাবিহীন কুশলীকে একত্রিত করেন , যদিও তাঁর ক্যামেরাম্যান সুব্রত মিত্র ও শিল্প নির্দেশক বংশী চন্দ্রগুপ্ত দুজনেই পরবর্তীতে নিজ নিজ ক্ষেত্রে খ্যাতিলাভ করেন এ ছাড়া ছবির বেশির ভাগ অভিনেতাই ছিলেন শৌখিন ১৯৫২ সালের শেষ দিকে সত্যজিৎ তার নিজের জমানো পয়সা খরচ করে দৃশ্যগ্রহণ শুরু করেন তিনি ভেবেছিলেন প্রাথমিক দৃশ্যগুলো দেখার পরে হয়ত কেউ ছবিটিতে অর্থলগ্নি করবেন কিন্তু সে ধরনের আর্থিক সহায়তা মিলছিল না পথের পাঁচালীর দৃশ্যগ্রহণ তাই থেমে থেমে অস্বাভাবিকভাবে প্রায় দীর্ঘ তিন বছর ধরে সম্পন্ন হয় কেবল তখনই দৃশ্যগ্রহণ করা সম্ভব হত যখন সত্যজিৎ বা নির্মাণ ব্যবস্থাপক অনিল চৌধুরী প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান করতে পারতেন শেষ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের থেকে ঋণ নিয়ে ১৯৫৫ সালে ছবিটি নির্মাণ সম্পন্ন হয় ও সে বছরই এটি মুক্তি পায় মুক্তি পাওয়ার পর পরই ছবিটি দর্শকসমালোচক সবার অকুণ্ঠ প্রশংসা লাভ করে ও বহু পুরস্কার জিতে নেয় ছবিটি বহুদিন ধরে ভারতে ও ভারতের বাইরে প্রদর্শিত হয় ছবিটি নির্মাণের সময় অর্থের বিনিময়ে চিত্রনাট্য বদলের জন্য কোন অনুরোধই সত্যজিৎ রাখেননি এমনকি ছবিটির একটি সুখী সমাপ্তির যেখানে ছবির কাহিনীর শেষে অপুর সংসার একটি উন্নয়ন প্রকল্পে যোগ দেয় জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুরোধও তিনি উপেক্ষা করেন ১০ভারতে ছবিটির প্রতিক্রিয়া ছিল উৎসাহসঞ্চারী দ্য টাইম্স অফ ইন্ডিয়াতে লেখা হয় যে                  একে অন্য যেকোনও ভারতীয় চলচ্চিত্রের সাথে তুলনা করা অবাস্তব পথের পাঁচালী হল বিশুদ্ধ চলচ্চিত্র১১ যুক্তরাজ্যে লিন্জি অ্যান্ডারসন চলচ্চিত্রটির অত্যন্ত ইতিবাচক একটি সমালোচনা লেখেন ১১ তবে ছবিটির সব সমালোচনাই এ রকম ইতিবাচক ছিল না বলা হয় যে ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো ছবিটি দেখে মন্তব্য করেছিলেন কৃষকেরা হাত দিয়ে খাচ্ছে  এরকম দৃশ্যসম্বলিত ছবি আমি দেখতে চাই না ১২ দ্য নিউ ইয়র্ক টাইম্সএর সবচেয়ে প্রভাবশালী সমালোচক বসলি ক্রাউদার ছবিটির একটি কঠোর সমালোচনা লেখেন , এবং সেটি পড়ে কেউ কেউ মনে করেছিলেন ছবিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পেলেও ভাল করবে না কিন্তু এর বদলে ছবিটি সেখানে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি দিন ধরে প্রদর্শিত হয়সত্যজিতের পরবর্তী ছবি অপরাজিতএর সাফল্য তাঁকে আন্তর্জাতিক মহলে আরও পরিচিত করে তোলে এই ছবিটিতে তরুণ অপুর উচ্চাভিলাষ ও তার মায়ের ভালবাসার মধ্যকার চিরন্তন সংঘাতকে মর্মভেদী রূপে ফুটিয়ে তোলা হয় বহু সমালোচক , যাদের মধ্যে মৃণাল সেন ও ঋত্বিক ঘটক অন্যতম , ছবিটিকে সত্যজিতের প্রথম ছবিটির চেয়েও ওপরে স্থান দেন অপরাজিত ভেনিসে গোল্ডেন লায়ন পুরস্কার জেতে অপু ত্রয়ী শেষ করার আগে সত্যজিৎ আরও দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ সমাপ্ত করেন প্রথমটি ছিল পরশ পাথর নামের একটি হাস্যরসাত্মক ছবি আর পরেরটি ছিল জমিদারী প্রথার অবক্ষয়ের ওপর নির্মিত জলসাঘর , যেটিকে তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে গণ্য করা হয় ১৩সত্যজিৎ অপরাজিত নির্মাণের সময় একটি ত্রয়ী সম্পন্ন করার কথা ভাবেননি , কিন্তু ভেনিসে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের জিজ্ঞাসা শুনে তাঁর মাথায় এটি বাস্তবায়নের ধারণা আসে ১৪ অপু সিরিজের শেষ ছবি অপুর সংসার ১৯৫৯ সালে নির্মাণ করা হয় আগের দুটি ছবির মত এটিকেও বহু সমালোচক সিরিজের সেরা ছবি হিসেবে আখ্যা দেন রবিন উড , অপর্ণা সেন এ ছবির মাধ্যমেই সত্যজিতের দুই প্রিয় অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও শর্মিলা ঠাকুরের চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে ছবিটিতে অপুকে দেখানো হয় কলকাতার এক জীর্ণ বাড়িতে প্রায়দরিদ্র অবস্থায় বসবাস করতে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অপর্ণার সাথে অপুর বিয়ে হয় তাদের জীবনের বিভিন্ন দৃশ্যতে বিবাহিত জীবন সম্পর্কে ছবিটির ধ্রুপদী ইতিবাচকতা ফুটে ওঠে ,১৫ কিন্তু শীঘ্রই এক বিয়োগান্তক পরিস্থিতির উদ্ভব হয় একজন বাঙালি সমালোচক অপুর সংসারএর একটি কঠোর সমালোচনা লেখেন , এবং সত্যজিৎ এর উত্তরে ছবিটির পক্ষে একটি সুলিখিত নিবন্ধ লেখেন  যা ছিল সত্যজিতের কর্মজীবনে একটি দুর্লভ ঘটনা সত্যজিতের প্রত্যুত্তরের এরকম ঘটনা আরেকবার ঘটে তাঁর পছন্দের চারুলতা ছবিটি নিয়ে ১৬সত্যজিতের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর তাঁর কর্মজীবনের সাফল্যের তেমন কোন প্রভাব পড়েনি সত্যজিতের নিজস্ব কোন বাড়ি ছিল না তিনি তাঁর মা , মামা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে এক ভাড়া বাড়িতেই সারা জীবন কাটিয়ে দেন ১৭ তাঁর স্ত্রী ও ছেলে দুজনেই তাঁর কাজের সাথে জড়িয়ে ছিলেন বেশির ভাগ চিত্রনাট্য বিজয়াই প্রথমে পড়তেন , এবং ছবির সঙ্গীতের সুর তৈরীতেও তিনি স্বামীকে সাহায্য করতেন আয়ের পরিমাণ কম হলেও সত্যজিৎ নিজেকে বিত্তশালীই মনে করতেন , কেননা পছন্দের বই বা সঙ্গীতের অ্যালবাম কিনতে কখনোই তাঁর কষ্ট হয়নি ১৭দেবী থেকে চারুলতা ১৯৫৯৬৪স্থিরদৃষ্টির বিপরীতায়ন , চারুলতা অমলের দিকে তাকিয়েকর্মজীবনের এই পর্বে সত্যজিৎ নির্মাণ করেন রাজ পর্বের ওপর চলচ্চিত্র যেমন দেবী , রবীন্দ্রনাথের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র , একটি হাস্যরসাত্মক ছবি মহাপুরুষ এবং মৌলিক চিত্রনাট্যের ওপর ভিত্তি করে তাঁর প্রথম চলচ্চিত্র কাঞ্চনজঙ্ঘা এছাড়াও তিনি বেশ কিছু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন , সমালোচকদের মতে যেগুলোর মত করে ছবির পর্দায় ভারতীয় নারীদের এত অনুভূতি দিয়ে এর আগে কেউ ফুটিয়ে তোলেনি পলিন কেল মন্তব্য করেন যে তিনি বিশ্বাস করতে পারেন নি সত্যজিৎ নারী নন , পুরুষ ১৮অপুর সংসার নির্মাণের পরে সত্যজিৎ দেবী ছবির কাজে হাত দেন হিন্দু সমাজের বিভিন্ন মজ্জাগত কুসংস্কার ছিল ছবিটির বিষয় ছবিটিতে শর্মিলা ঠাকুর দয়াময়ী নামের এক তরুণ বধুর চরিত্রে অভিনয় করেন , যাকে তার শ্বশুর কালী বলে পূজা করতেন শর্মিলা পরে এই ছবিতে তাঁর অভিনয় নিয়ে মন্তব্য করেন যে দেবীতে তিনি নিজের থেকে কিছু করেননি , বরং এক জিনিয়াস তাঁকে দিয়ে সেটা করিয়ে নিয়েছিলেন সত্যজিৎ আশঙ্কা করেছিলেন যে ভারতীয় সেন্সর বোর্ড হয়ত ছবিটি প্রদর্শনে বাধা দেবে , বা হয়ত তাঁকে ছবিটি পুনরায় সম্পাদনা করতে বলবে , কিন্তু সেরকম কিছু ঘটে নি ১৯৬১ সালে প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর প্ররোচনায় সত্যজিৎ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কবিগুরুর ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন রবীন্দ্রনাথের ভিডিও ফুটেজের অভাবে সত্যজিৎকে মূলত স্থিরচিত্র দিয়েই ছবিটি বানানোর চ্যালেঞ্জ হাতে নিতে হয় , এবং তিনি পরে মন্তব্য করেন যে ছবিটি বানাতে তাঁর সাধারণের চেয়ে তিন গুণ বেশি সময় লেগেছিল১৯ একই বছরে সুভাষ মুখোপাধ্যায় ও অন্যান্যের সাথে মিলে সত্যজিৎ সন্দেশ নামের শিশুদের পত্রিকাটি  যেটি তাঁর পিতামহ একসময় প্রকাশ করতেন  পুনরায় প্রকাশ করা শুরু করেন সত্যজিৎ এ জন্য বহুদিন ধরে অর্থসঞ্চয় করেছিলেন ২০ পত্রিকাটি ছিল একাধারে শিক্ষামূলক ও বিনোদনধর্মী , এবং সন্দেশ নামটিতে শব্দটির দুটি অর্থ হয় খবর ও মিষ্টি এই দ্বিত্বতার প্রতিফলন ঘটেছে সত্যজিৎ পত্রিকাটির ভেতরের ছবি আঁকতেন ও শিশুদের জন্য গল্প ও প্রবন্ধ লিখতেন পরবর্তী বছরগুলোতে লেখালেখি করা তাঁর আয়ের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়১৯৬২ সালে সত্যজিৎ কাঞ্চনজঙ্ঘা ছবিটি পরিচালনা করেন এটি ছিল তাঁর বানানো প্রথম মৌলিক চিত্রনাট্যনির্ভর রঙিন চলচ্চিত্র দার্জিলিং নামের এক পাহাড়ী রিজোর্টে একটি উচ্চবিত্ত পরিবারের কাটানো এক বিকেলের কাহিনী নিয়ে এই জটিল ও সঙ্গীতনির্ভর ছবিটি বানানো হয় , যে বিকেলে পরিবারের সদস্যরা হঠাৎ করেই পরিবারের দণ্ডমুণ্ড কর্তা ইন্দ্রনাথ রায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ছবিটি প্রথমে একটি বিরাট ম্যানশনে চিত্রায়িত করার পরিকল্পনা ছিল , কিন্তু পরে সত্যজিৎ সেই বিখ্যাত রিসোর্টেই দৃশ্যগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেন , যাতে তিনি চিত্রনাট্যটির উত্তেজনা আলোআঁধারের খেলা ও কুয়াশাকে ব্যবহার করে ফুটিয়ে তুলতে পারেন সত্যজিৎ পরে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন যে তাঁর চিত্রনাট্যে যেকোন ধরনের আলোকসম্পাতেই দৃশ্যগ্রহণ সম্ভব ছিল , অথচ একই সময়ে দার্জিলিংএ অবস্থানকারী একটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণকারী দল সূর্যালোকের অভাবে একটি শটও সম্পন্ন করতে পারেনি ২১ ছবিটিতে ইন্দ্রনাথ রায়ের চরিত্রে রূপদানের জন্য সত্যজিৎ ছবি বিশ্বাসকে নির্বাচন করেন এটিই ছিল ছবি বিশ্বাসের করা শেষ ছবি এর কিছুদিন পরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি মারা যান এর ফলে সত্যজিৎ পরবর্তীকালে কিছু চরিত্র অঙ্কনে বাঁধার সম্মুখীন হতে হয় , কেননা তাঁর মনে হয়েছিল একমাত্র ছবি বিশ্বাসই সেসব চরিত্র রূপদান করার যোগ্য ব্যক্তি ছিলেন এসময় সত্যজিৎ একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে বিচারক হিসেবে অংশগ্রহণ করেন , যদিও তিনি অনুযোগ করতেন যে কলকাতার বাইরে তাঁর নিজেকে সৃষ্টিশীল মনে হত না ১৯৬৩ সালে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসবে তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন , ফেদেরিকো ফেলিন্নির  ছবিটি সেরা পুরস্কার জেতে ষাটের দশকে জাপান সফরের সময় তাঁর অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় চলচ্চিত্র পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন দেশে অবস্থানকালে কলকাতার ব্যস্ত জীবন থেকে ছুটি নিয়ে তিনি মাঝে মাঝে দার্জিলিং বা পুরিতে চলে যেতেন ও সেখানে নির্জনে চিত্রনাট্য লিখতেন১৯৬৪ সালে সত্যজিৎ চারুলতা ছবিটি নির্মাণ করেন , যেটি ছিল তাঁর কর্মজীবনের এই পর্বের শেষ ছবি , এবং অনেক সমালোচকের মতে তাঁর সবচেয়ে সফল চলচ্চিত্র ২২ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প নষ্টনীড় অবলম্বনে নির্মিত ছবিটিতে ১৯শ শতকের এক নিঃসঙ্গ বাঙালি বধূ চারু ও ঠাকুরপো অমলের প্রতি তার অনুভূতির কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে মোৎসার্টীয় এই ছবিটিকে প্রায়ই নিখুঁত বলে অভিহিত করা হয় সত্যজিৎ নিজেও বলেছেন যে এই ছবিটিতে তাঁর ভুলের সংখ্যা সবচেয়ে কম এবং এটিই তাঁর নির্মিত একমাত্র ছবি , যেটি আবার সুযোগ পেলে তিনি ঠিক একইভাবে বানাতেন ২৩ ছবিটিতে চারু চরিত্রে মাধবী মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় এবং সুব্রত মিত্র ও বংশী দাশগুপ্তের কাজ উচ্চপ্রশংসা পায় ছবিটির দুটি দৃশ্য সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রথমটি হচ্ছে ছবিটির নির্বাক প্রথম সাত মিনিট , যা চারুর একঘেয়েমি জীবন ফুটিয়ে তোলে , এবং দ্বিতীয়টি হল বাগানের দোলনার দৃশ্য , যেখানে চারু অমলের জন্য তার ভালবাসার মুখোমুখি হয় এ পর্বে সত্যজিতের নির্মিত অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে মহানগর , তিন কন্যা , অভিযান এবং কাপুরুষ ও মহাপুরুষনতুন দিকনির্দেশনা ১৯৬৫১৯৮২কাছের মানুষদের কাছে সত্যজিতের ডাকনাম ছিল মানিক তিনি তাঁর সমসাময়িক চলচ্চিত্রকারদের চেয়ে সাধারণ জনগণের সাথে অনেক বেশি মিশেছেন অচেনা লোকদের তিনি প্রায়ই সাক্ষাৎ দিতেন কিন্তু সাক্ষাৎকারীদের অনেকেই সত্যজিৎ ও তাদের মাঝে একটা দূরত্ব অনুভব করতেন বাঙালিরা এটাকে ভাবতেন তাঁর ইংরেজ মানসিকতার প্রকাশ , আর পশ্চিমীরা ভাবতেন তাঁর শীতল ও গম্ভীর আচরণ ছিল ব্রাহ্মণদের মত অভিনেতাদের প্রতি তাঁর অগাধ আস্থা ছিল , কিন্তু তাদের অযোগ্যতায় বিরূপভাবও কখনো কখনো প্রকাশ করতেন ২৪ তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কখনোই তেমন আলোকপাত করা হয়নি , তবে কারও কারও মতে মাধবী মুখোপাধ্যায়ের সাথে ষাটের দশকে তাঁর সম্পর্ক ছিল ২৫চারুলতাপরবর্তী বছরগুলোতে সত্যজিৎ ছিলেন বৈচিত্র্যের সন্ধানী এসময় কল্পকাহিনী ও গোয়েন্দা কাহিনী থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক ছবিও তিনি বানান এ পর্বে তিনি তাঁর ছবিগুলোতে প্রচুর পরীক্ষা নিরীক্ষা চালান , এবং সমকালীন ভারতীয় জীবনের বিভিন্ন দিকগুলো তাঁর ছবিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেন এ পর্বে তাঁর প্রথম প্রধান চলচ্চিত্র ছিল নায়ক , যার বিষয় ছিল এক চলচ্চিত্র তারকার সাথে এক সহানুভূতিশীল তরুণী সাংবাদিকের রেলযাত্রার সময়কার সাক্ষাৎ ও সংলাপ উত্তম কুমার ও শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত এই ছবিতে ট্রেন যাত্রার ২৪ ঘণ্টার পরিসরে এক আপাতসফল চলচ্চিত্র তারকার মনের অন্তর্সংঘাতগুলো উন্মোচন করা হয় ছবিটি বার্লিনে সমালোচকদের পুরস্কার জিতলেও এটি নিয়ে তেমন আর কোন প্রতিক্রিয়া হয়নি২৬ ১৯৬৭ সালে সত্যজিৎ দি এলিয়েন নামের একটি ছবির জন্য চিত্রনাট্য লেখেন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার এই ছবিটির প্রযোজক ছিল কলাম্বিয়া পিকচার্স এবং পিটার সেলার্স ও মার্লোন ব্রান্ডো ছবিটির প্রধান অভিনেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন কিন্তু চিত্রনাট্য লেখা শেষ করার পর সত্যজিৎ জানতে পারেন যে সেটির স্বত্ব তার নয় ও এর জন্য তিনি কোন সম্মানীও পাবেন না পরবর্তীকালে মার্লোন ব্র্যান্ডো প্রকল্পটি ত্যাগ করেন তাঁর স্থানে জেমস কোবার্নকে আনার চেষ্টা করা হয় , কিন্তু ততদিনে সত্যজিতের আশাভঙ্গ ঘটে এবং তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন ২৭ পরে ৭০ ও ৮০র দশকে কলাম্বিয়া বহুবার প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা করে ব্যর্থ হয় ১৯৮২ সালে যখন ইটি দ্য এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল মুক্তি পায় , তখন অনেকেই ছবিটির সাথে সত্যজিতের লেখা চিত্রনাট্যের মিল খুঁজে পান সত্যজিৎ ১৯৮০ সালে সাইট অ্যান্ড সাউন্ড ম্যগাজিনে লেখা একটি ফিচারে প্রকল্পটির ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলেন ও পরে সত্যজিতের জীবনী লেখক অ্যান্ড্রু রবিনসন এ ঘটনার ওপর আরও বিস্তারিত লেখেন ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত দি ইনার আইএ সত্যজিৎ বিশ্বাস করতেন যে তাঁর লেখা দি এলিয়েনএর চিত্রনাট্যটির মাইমোগ্রাফ কপি সারা যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে না পড়লে স্পিলবার্গের ছবিটি বানানো হয়ত সম্ভব হত না ২৮সত্যজিতের ছেলে সন্দ্বীপের অনুযোগ ছিল তিনি সবসময় বড়দের জন্য গম্ভীর মেজাজের ছবি বানান এর উত্তরে ও নতুনত্বের সন্ধানে সত্যজিৎ ১৯৬৮ সালে নির্মাণ করেন তাঁর সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি গুপী গাইন বাঘা বাইন এটি ছিল সত্যজিতের পিতামহ উপেন্দ্রকিশোরের লেখা ছোটদের জন্য একটি গল্পের ওপর ভিত্তি করে বানানো সঙ্গীতধর্মী রূপকথা গায়ক গুপী ও ঢোলবাদক বাঘা ভুতের রাজার তিন বর পেয়ে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ে ও দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে আসন্ন যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করে ছবিটির নির্মাণকাজ ছিল ব্যয়বহুল , এবং অর্থাভাবে সত্যজিৎ ছবিটি সাদাকালোয় ধারণ করেন যদিও তাঁর কাছে বলিউডের এক অভিনেতাকে ছবিতে নেয়ার বিনিময়ে অর্থের প্রস্তাব এসেছিল , তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন ২৯ এর পরে সত্যজিৎ তরুণ কবি ও লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা একটি উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে অরণ্যের দিনরাত্রি ছবিটি নির্মাণ করেন বলা হয় এই ছবিটির সঙ্গীতকাঠামো চারুলতার চেয়েও বেশি জটিল ছিল ছবিটিতে চার শহুরে তরুণ ছুটিতে বনে ঘুরতে যায় , এবং একজন বাদে সকলেই নারীদের সাথে বিভিন্ন ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে যা তাদের মধ্যবিত্ত চরিত্রের নানা দিক প্রকাশ করে রবিন উডের মতে ছবিটির একটিমাত্র দৃশ্য থেকেইএকটি ছোট গল্প লেখার রসদ পাওয়া সম্ভব ৩০ এ ছবিতে সত্যজিৎ মুম্বাইভিত্তিক অভিনেত্রী সিমি গারেওয়ালকে এক আদিবাসী মহিলা হিসেবে চরিত্রায়ণ করেন তাঁর মত শহুরে নারীকে সত্যজিৎ চরিত্রটির জন্য নির্বাচন করেছেন শুনে সিমি অবাক হয়েছিলেনঅরণ্যের দিনরাত্রিতে নির্মাণকুশলতা প্রদর্শনশেষে সত্যজিৎ মনোযোগ দেন তৎকালীন বাঙালি বাস্তবতার মর্মমূলে , যখন বামপন্থী নকশাল আন্দোলনের তীব্রতা সর্বত্র অনুভূত হচ্ছিল সত্যজিৎকে প্রায়ই বলা হত তিনি সমসাময়িক ভারতীয় শহুরে অভিজ্ঞতার ব্যাপারে উদাসীন এর জবাবে ১৯৭০এর দশকে তিনি কলকাতাকে কেন্দ্র করে তিনটি ছবি বানান যেগুলো কলকাতা ত্রয়ী নামেও পরিচিত প্রতিদ্বন্দ্বী ১৯৭০ , সীমাবদ্ধ ১৯৭১ , এবং জনঅরণ্য ১৯৭৫ চলচ্চিত্র তিনটি আলাদাভাবে পরিকল্পনা করা হলেও বিষয়বস্তুর মিলের কারণে এগুলোকে একটি দুর্বল ত্রয়ী হিসেবে বিবেচনা করা হয় প্রতিদ্বন্দ্বীর নায়ক এক আদর্শবাদী তরুণ স্নাতক যার মোহমুক্তি ঘটলেও ছবির শেষ পর্যন্ত সে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েনি জনারণ্যর নায়ক আরেক তরুণ যে জীবিকা নির্বাহের জন্য দুর্নীতির কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং সীমাবদ্ধর অর্থনৈতিকভাবে সফল প্রধান চরিত্রটি আরও লাভ করার জন্য সমস্ত আদর্শ বিসর্জন দেয় এগুলির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী ছবিতে সত্যজিৎ ভিন্ন ধরনের  বর্ণনাভঙ্গি ব্যবহার করেন , যেখানে নেগেটিভ , স্বপ্নদৃশ্য ও হঠাৎ ফ্ল্যাশব্যাকের সহায়তা নেয়া হয় এ ছাড়া ৭০এর দশকে সত্যজিৎ তাঁর নিজের লেখা জনপ্রিয় গোয়েন্দা কাহিনীর নায়ক ফেলুদার ওপর ভিত্তি করে সোনার কেল্লা ও জয় বাবা ফেলুনাথ ছবি দুটিও নির্মাণ করেন ৩১সত্যজিৎ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে একটি ছবি তৈরি করার কথা ভেবেছিলেন , কিন্তু পরে এ পরিকল্পনা ত্যাগ করেন এই মন্তব্য করে যে একজন চলচ্চিত্রকার হিসেবে তিনি শরণার্থীদের বেদনা ও জীবনঅভিযাত্রার প্রতিই বেশি আগ্রহী ছিলেন , তাদের নিয়ে রাজনীতির প্রতি নয় ৩২ ১৯৭৭ সালে সত্যজিৎ শতরঞ্জ কি খিলাড়ি নামের একটি উর্দু চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন ছবিটি মুন্সি প্রেমচাঁদএর একটি গল্প অবলম্বনে তৈরি করা হয় ১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিপ্লবের এক বছর আগে অযোধ্যা রাজ্যের লক্ষ্ণৌ ছিল গল্পটির পটভূমি ছবিটিতে ভারতে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের সূত্রপাতের ঘটনার বিবরণ দেয়া হয়েছে এটিই ছিল বাংলা ভাষার বাইরে অন্য ভাষায় বানানো সত্যজিতের প্রথম চলচ্চিত্র এটি আরও ছিল তাঁর সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও তারকাসমৃদ্ধ ছবি , যাতে সঞ্জীব কুমার , সাইদ জাফরি , আমজাদ খান , শাবানা আজমি , ভিক্টর ব্যনার্জি ও রিচার্ড অ্যাটেনব্রোর মত অভিনেতারা অংশ নেন পরবর্তীকালে সত্যজিৎ প্রেমচাঁদের গল্পের ওপর ভিত্তি করে হিন্দি ভাষায় একঘণ্টা দীর্ঘ সদগতি নামের একটি ছবি বানান ছবিটিতে ভারতে বিদ্যমান অস্পৃশ্যতার ক্রূর বাস্তবতাকে তুলে ধরা হয় ১৯৮০ সালে সত্যজিৎ গুপী গাইন বাঘা বাইন ছবির পরবর্তী পর্ব হীরক রাজার দেশে নির্মাণ করেন , যেটিতে তাঁর রাজনৈতিক মতামতের প্রভাব লক্ষ্য করা যায় ছবিটির চরিত্র হীরক রাজা ছিল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা ঘোষণাকালীন সরকারের প্রতিফলন ৩৩ বহুল প্রশংসাপ্রাপ্ত স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র পিকু নির্মাণের মধ্য দিয়ে সত্যজিতের কর্মজীবনের এই পর্বের সমাপ্তি ঘটেশেষ পর্যায় ১৯৮৩১৯৯২১৯৮৩ সালে ঘরে বাইরে ছবির কাজ করার সময় সত্যজিতের হার্ট অ্যাটাক ঘটে এবং এ ঘটনার ফলে জীবনের অবশিষ্ট নয় বছরে তাঁর কাজের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত সীমিত স্বাস্থ্যের অবনতির ফলে ছেলে সন্দ্বীপ রায়ের সহায়তায় সত্যজিৎ ১৯৮৪ সালে ঘরে বাইরে নির্মাণ সমাপ্ত করেন এরপর থেকে তাঁর ছেলেই তাঁর হয়ে ক্যামেরার কাজ করতেন অন্ধ জাতীয়তাবাদের ওপর লেখা রবীন্দ্রনাথের এই উপণ্যাসটি চলচ্চিত্রে রূপদানের ইচ্ছা সত্যজিতের অনেকদিন ধরেই ছিল এবং তিনি ৪০এর দশকে ছবিটির একটি চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন ৩৪ যদিও ছবিটিতে সত্যজিতের অসুস্থতাজনিত ভুলের ছাপ দেখা যায় , তা সত্ত্বেও ছবিটি কিছু সমালোচকের প্রশংসা কুড়ায় এবং এই ছবিতেই সত্যজিৎ প্রথমবারের মত একটি চুম্বনদৃশ্য যোগ করেন ১৯৮৭ সালে সত্যজিৎ তাঁর বাবা সুকুমার রায়ের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেনশারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে সত্যজিৎ তাঁর শেষ তিনটি ছবি অভ্যন্তরীণ মঞ্চে নির্মাণ করেন এগুলি তাঁর আগের ছবিগুলির চেয়ে আলাদা ও অনেক বেশী সংলাপনির্ভর ১৯৮৯ সালে নির্মিত গণশত্রু ছবিটিতে তাঁর পরিচালনা তুলনামূলকভাবে দুর্বল এবং এটিকে দীর্ঘদিনের অসুস্থতাশেষে ফিরে আসার পর সত্যজিতের চলচ্চিত্র নির্মাণের পুনর্প্রচেষ্টা হিসেবেই গণ্য করা হয় ৩৫ ১৯৯০ সালে নির্মিত শাখা প্রশাখা সে তুলনায় উন্নততর ছবি হিসেবে গণ্য করা হয় ৩৬ এ ছবিতে এক আজীবন সততার সাথে কাটানো বৃদ্ধ ব্যক্তি জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তাঁর তিন ছেলের দুর্নীতির কথা জানতে পারেন ছবির শেষ দৃশ্যে তিনি তাঁর মানসিকভাবে অসুস্থ কিন্তু দুর্নীতিমুক্ত চতুর্থ সন্তানের সান্নিধ্যে সান্ত্বনা খুঁজে পান সত্যজিতের শেষ ছবি আগন্তুক ছিল হালকা আবহের এ ছবিতে বহুদিনের হারিয়ে যাওয়া মামার পরিচয় দিয়ে একজন আগন্তুক এক পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন তাঁর এই সাক্ষাতের অভিজ্ঞতার যেখানে পরিবারের ছোট ছেলেটি আগন্তুকটিকে আগ্রহভরে স্বাগত জানায় , কিন্তু পরিবারের বড়রা তাঁকে অনীহা ও সন্দেহের চোখে দেখেন ভেতর দিয়ে সত্যজিৎ দর্শকের কাছে মানুষের পরিচয় , স্বভাবপ্রকৃতি ও সভ্যতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জাল বোনেন১৯৯২ সালে হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে অসুস্থ সত্যজিৎ হাসপাতালে ভর্তি হন , এবং সে অবস্থা থেকে তাঁর স্বাস্থ্য আর ভালো হয়নি মৃত্যুর কিছু সপ্তাহ আগে অত্যন্ত অসুস্থ ও শয্যাশায়ী অবস্থায় তিনি তাঁর জীবনের শেষ পুরস্কার একটি সম্মানসূচক অস্কার গ্রহণ করেন ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল সত্যজিৎ মৃত্যুবরণ করেনচলচ্চিত্র কুশলতাসত্যজিৎ চিত্রনাট্য রচনাকে পরিচালনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গণ্য করতেন এ কারণেই কর্মজীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি বাংলা ছাড়া অন্য কোন ভাষায় চলচ্চিত্র নির্মাণে আগ্রহী ছিলেন না তাঁর দুই বিদেশী ভাষায় নির্মিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য তিনি ইংরেজিতে লিখেছিলেন , এবং তারপর সেগুলো তাঁর তত্ত্বাবধানে অনুবাদকেরা হিন্দি ও উর্দুতে ভাষান্তরিত করেন সত্যজিৎ ও তাঁর শিল্প নির্দেশক বংশী চন্দ্রগুপ্ত মনে করতেন চলচ্চিত্রের চলচ্চিত্রের রঙ্গমঞ্চের অস্তিত্বই চিত্রনাট্যের ওপর নির্ভরশীল ৩৭ সত্যজিৎ সবসময় প্রথমে ইংরেজিতে চিত্রনাট্য লিখতেন যেন অবাঙালি বংশী চন্দ্রগুপ্ত তা পড়তে পারেন সত্যজিতের প্রথম দিকের চলচ্চিত্রগুলোর ক্যামেরার কাজ করতেন সুব্রত মিত্র , যিনি পরবর্তীকালে তিক্ততার মধ্য দিয়ে সত্যজিতের কর্মীদল থেকে বেরিয়ে যান কিছু সমালোচকের মতে সুব্রতের প্রস্থানের কারণে সত্যজিতের চলচ্চিত্রের চিত্রধারণের মান নেমে যায় ২৬ বাইরে সুব্রতের প্রশংসা করলেও চারুলতার সময় থেকেই ক্যামেরার কাজে সত্যজিৎ নিজের নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করতে থাকেন , এবং এর পরিণতিতে ১৯৬৬ সালের পর থেকে সুব্রত আর সত্যজিতের হয়ে কাজ করেননি সুব্রত মিত্রের পথপ্রদর্শক কাজের মধ্যে রয়েছে বাউন্স আলোকসজ্জা কৌশল , যেখানে কাপড়ে আলো প্রতিফলিত করে অভ্যন্তরীণ সেটেও বাইরের প্রাকৃতিক আলোর আভাস তৈরি করা যায় এছাড়া সত্যজিৎ তাঁর নিজের অনেক কারিগরি ও চলচ্চিত্রসংক্রান্ত উদ্ভাবনের পেছনে জঁলুক গদার ও ফ্রঁসোয়া ত্রুফোর মত ফরাসি নবতরঙ্গের পরিচালকদের কাজের কথা স্বীকার করেছেন ৩৮সত্যজিতের চলচ্চিত্র নিয়মিত সম্পাদনা করতেন দুলাল দত্ত , তবে বেশীর ভাগ সময় সত্যজিৎই দুলালকে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দিতেন আর্থিক অসচ্ছলতা এবং সত্যজিতের অনুপুঙ্খ পরিকল্পনা ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের কারণে তাঁর বেশীর ভাগ চলচ্চিত্রের সম্পাদনা প্রকৃতপক্ষে ক্যামেরাতে দৃশ্যধারণের সময়েই সম্পন্ন হয়ে যেত পথের পাঁচালী বাদে কর্মজীবনের শুরুতেই রবি শংকর , বেলায়েত খান ও আলি আকবর খানের মত প্রতিভাবান ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতজ্ঞদের সাথে সত্যজিতের কাজ করার সুযোগ হয়েছিল কিন্তু তাঁর এ অভিজ্ঞতা ছিল মূলত বেদনাদায়ক তিনি বুঝতে পারেন যে সঙ্গীতজ্ঞেরা তাঁর চলচ্চিত্রের চেয়ে তাঁদের নিজেদের সাঙ্গীতিক ধারার প্রতিই বেশী অনুগত সত্যজিৎ পাশ্চাত্য ধারার ধ্রুপদী সঙ্গীতের ব্যবহার পছন্দ করতেন , বিশেষত তাঁর শহুরে পটভূমিতে বানানো ছবিগুলোর জন্য ৩৯ এ জন্য পরবর্তীকালে তিন কন্যা ছবিটির সময় থেকে তিনি নিজেই নিজের চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত স্বরলিপি রচনা করতেন সত্যজিতের ছবিতে অভিনেতাদের কাজও সমানভাবে প্রশংসিত হয়েছে তাঁর ছবিতে চলচ্চিত্র তারকারা যেমন অভিনয় করেছেন , তেমনি কখনো চলচ্চিত্র দেখেননি এরকম মানুষও অভিনয় করেছেন যেমন অপরাজিত ছবিটিতে৪০ রবিন উডসহ অনেকেই সত্যজিতকে শিশু অভিনেতাদের জন্য সেরা পরিচালক হিসেবে আখ্যা দেন , এবং উদাহরণ হিসেবে পথের পাঁচালী ছবিতে অপু ও দুর্গা , পোস্টমাস্টার ছবিতে রতন এবং সোনার কেল্লা ছবিতে মুকুল চরিত্রগুলোর উল্লেখ করেন সত্যজিতের নির্দেশনার প্রকৃতি অভিনেতার প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করত উৎপল দত্তের মত অভিনেতাদের তেমন কোন নির্দেশনাই তিনি দেননি , অন্যদিকে অপু চরিত্রে সুবীর বন্দ্যোপাধ্যায়কে কিংবা অপর্ণা চরিত্রে শর্মিলা ঠাকুরকে তিনি অনেকটা পুতুলের মত ব্যবহার করেছেনসত্যজিতের চলচ্চিত্রগুলোর বিষয়বস্তু ছিল বহুমুখী এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৭৫ সালে বলেন যে সমালোচকেরা প্রায়ই তাঁর বিরুদ্ধে এক বিষয় থেকে আরেক বিষয়ে , এক ধরন থেকে অন্য ধরনে ঘাসফড়িঙের মতো লাফ দেয়ার প্রবণতা প্রদর্শনের অভিযোগ করেন ও তাঁর ছবিতে চেনাজানা কোন ধরন খুঁজে পান না যাতে তাঁর গায়ে কোন একটি বিশেষ তকমা এঁটে দেয়া যায় এ ব্যাপারে আত্মসমর্থন করে তিনি বলেন যে এই বহুমুখীতা তাঁর নিজের চরিত্রেরই প্রতিফলন , এবং তাঁর প্রতিটি ছবির পেছনে ঠাণ্ডা মাথায় নেয়া সিদ্ধান্ত কাজ করেছে ৪১সাহিত্যকর্মমূল নিবন্ধ সত্যজিৎ রায়ের সাহিত্যকর্মসত্যজিতের একটি ছোটগল্পের সংকলনের প্রচ্ছদসত্যজিৎ বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি চরিত্রের স্রষ্টা একটি হল প্রাতিজনিক গোয়েন্দা ফেলুদা , অন্যটি বিজ্ঞানী প্রফেসর শঙ্কু এছাড়া তিনি প্রচুর ছোটগল্প লিখেছেন যেগুলো বারটির সংকলনে প্রকাশ পেত এবং সংকলনগুলোর শিরোনামে বার শব্দটি বিভিন্নভাবে ব্যবহৃত হত যেমন একের পিঠে দুই , এক ডজন গপ্পো , ইত্যাদি ধাঁধা ও শব্দকৌতুক এর প্রতি তাঁর আগ্রহ এ গল্পগুলোতে প্রকাশ পায় অনেক সময় ফেলুদাকে ধাঁধাঁর সমাধান বের করে কোন কেসের রহস্য উন্মোচন করতে হত ফেলুদার বিভিন্ন গল্পে তাঁর সঙ্গী উপন্যাসলেখক জটায়ু লালমোহন গাঙ্গুলি , আর তার খুড়তুতো ভাই তপেশরঞ্জন মিত্র ওরফে তোপসে হচ্ছে গল্পের বর্ণনাকারী , যার ভূমিকা অনেকটা শার্লক হোমসের পার্শ্বচরিত্র ডক্টর ওয়াটসনের মত প্রফেসর শঙ্কুর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীগুলো ডায়েরী আকারে লেখা , যে ডায়েরী বিজ্ঞানীটির রহস্যময় অন্তর্ধানের পর খুঁজে পাওয়া যায় সত্যজিতের ছোটগল্পগুলোতে অনিশ্চিত উৎকণ্ঠা , ভয় ও অন্যান্য বিষয়ে সত্যজিতের আগ্রহের ছাপ পড়ে , যে ব্যাপারগুলো তিনি চলচ্চিত্রে এড়িয়ে চলতেন ৪২ সত্যজিতের অধিকাংশ রচনাই ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর বইগুলোর দ্বিতীয় প্রজন্মের পাঠকসমাজ গড়ে উঠেছেতাঁর লেখা অধিকাংশ চিত্রনাট্যও একশান সাহিত্যপত্রে বাংলায় প্রকাশিত হয়েছে সত্যজিৎ তাঁর ছেলেবেলার কাহিনী নিয়ে লেখেন যখন ছোট ছিলাম ১৯৮২ চলচ্চিত্রের ওপর লেখা তাঁর প্রবন্ধের সংলনগুলো হল আওয়ার ফিল্মস , দেয়ার ফিল্মস ১৯৭৬ , বিষয় চলচ্চিত্র ১৯৮২ , এবং একেই বলে শুটিং ১৯৭৯ ৯০এর দশকের মাঝামাঝি সত্যজিতের চলচ্চিত্র বিষয়ক নিবন্ধের একটি সঙ্কলন পশ্চিমে প্রকাশ পায় এই বইটির নামও   ,   বইটির প্রথম অংশে সত্যজিৎ ভারতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে আলোচনা করেন , এবং দ্বিতীয় অংশে হলিউড , কিছু পছন্দের চিত্রনির্মাতা চার্লি চ্যাপলিন , আকিরা কুরোসাওয়া ও ইতালীয় নব্যবাস্তবতাবাদের ওপর আলোচনা করেন বিষয় চলচ্চিত্র বইটিতে চলচ্চিত্রের নানা বিষয়ে সত্যজিতের ব্যক্তিগত দর্শন আলোচিত হয়েছে সম্প্রতি বইটির একটি ইংরেজি অনুবাদ    নামে প্রকাশ পেয়েছে এছাড়াও সত্যজিৎ তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম নামে একটি ননসেন্স ছড়ার বই লেখেন , যেখানে লুইস ক্যারলের জ্যাবারওয়কির একটি অনুবাদ রয়েছেসত্যজিৎ রে রোমান   ও রে বিজার   নামের দুইটি টাইপফেস নকশা করেন এর মধ্যে রায় রোমান ১৯৭০ সালে একটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জেতে চলচ্চিত্র জগতে পদার্পণের অনেক পরেও কলকাতার কিছু মহলে তিনি একজন প্রভাবশালী গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে পরিচিত ছিলেন সত্যজিত তাঁর নিজের লেখা সমস্ত বইয়ের প্রচ্ছদ ও ভেতরের ছবি আঁকতেন এছাড়া তাঁর চলচ্চিত্রের সব বিজ্ঞাপনগুলোও তিনিই তৈরি করতেনচলচ্চিত্রের তালিকামূল নিবন্ধ সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্রদর্শক ও সমালোচকের প্রতিক্রিয়াসত্যজিতের চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান ও পুনরাবৃত্ত উপাদান ছিল এর মানবতাবাদ তাঁর ছবিগুলো আপাতদৃষ্টিতে সরল , কিন্তু এই সরলতার গভীরে লুকিয়ে আছে জটিলতা তাঁর চলচ্চিত্রের বর্ণনাভঙ্গি ও চরিত্রায়ন নিখুঁত বলে অনেকবার প্রশংসিত হয়েছে অনেকেই তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন , এবং এর মধ্যে অন্যতম হল আকিরা কুরোসাওয়ার করা এই উক্তিটি সত্যজিতের চলচ্চিত্র না দেখা আর পৃথিবীতে বাস করে চন্দ্রসূর্য না দেখা একই কথা অন্যদিকে সত্যজিতের নিন্দুকেরা মনে করেন তাঁর ছবিগুলো অত্যন্ত ধীর গতির , যেন রাজকীয় শামুকের চলার মত ২২ তারা সত্যজিতের মানবতাবাদকে ভাবেন সরলমনস্কতার বহিঃপ্রকাশ , আর তাঁর কাজকে মনে করেন আধুনিকতাবিরোধী তারা আরও বলেন যে সত্যজিতের চলচ্চিত্রে তাঁর সমসাময়িক পরিচালকদের মত যেমন জঁল্যুক গদার নতুন অভিব্যক্তি কিংবা পরীক্ষানিরীক্ষা দেখতে পাওয়া যায় না স্ট্যানলি কফম্যান লিখেছেন যে সত্যজিতের কিছু সমালোচক মনে করেন যে সত্যজিৎ আগে থেকেই ধরে নিয়েছেন যে যেসব চলচ্চিত্র কেবল তাদের চরিত্রগুলোকে নিয়েই পড়ে থাকে , কিন্তু চরিত্রগুলোর জীবনে কোন নাটকীয় বিন্যাস আরোপ করে না , সেসব চলচ্চিত্র দর্শকেরা পছন্দ করবে ৪৩ সত্যজিৎ নিজেই বলেছেন যে তাঁর চলচ্চিত্রগুলোর ধীরগতির ব্যাপারে তাঁর কিছুই করার নেই , এবং কুরোসাওয়া সত্যজিতের পক্ষ নিয়ে বলেন যে সত্যজিতের ছবিগুলো মোটেই ধীরগতির নয় বরং এগুলোকে শান্তভাবে বহমান এক বিরাট নদীর সাথে তুলনা করা যায়সমালোচকেরা প্রায়ই সত্যজিৎকে চলচ্চিত্র ও অন্যান্য মাধ্যমের বিখ্যাত ব্যক্তিত্বদের সাথে তুলনা করেছেন , যেমন আন্তন চেখভ , জঁ রনোয়ার , ভিত্তোরিও দে সিকা , হাওয়ার্ড হক্স কিংবা ভোল্ফগাং আমাদেউস মোৎসার্ট শেক্সপিয়ারের সাথেও তাঁকে তুলনা করা হয়েছে ১৫৪৪ ভি এস নাইপল শতরঞ্জ কে খিলাড়ির একটি দৃশ্যকে শেক্সপিয়ারের নাটকের সাথে তুলনা করে বলেছেন            ৪৫ সত্যজিতের চলচ্চিত্রের নান্দনিকতা নিয়ে যারা সন্তুষ্ট ছিলেন না তারাও স্বীকার করেন যে একটি সম্পূর্ণ সংস্কৃতিকে তার বিভিন্ন সুক্ষ্ম দ্যোতনাসহ চলচ্চিত্রে তুলে ধরার ব্যাপারে তিনি ছিলেন একমেবাদ্বিতীয়ম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট পত্রিকায় সত্যজিতের ওপর লেখা শ্রদ্ধাঞ্জলিতে এই অনুভূতিই প্রকাশ পায় এভাবে    ৪৬ তবে সাধারণের মতে তাঁর হার্ট অ্যাটাকের পরে বানানো ছবিগুলো তাঁর পুরনো ছবিগুলোর মত জীবন্ত ছিল না১৯৮০র শুরুর দিকে ভারতীয় লোকসভা সদস্য ও প্রাক্তন অভিনেত্রী নার্গিস দত্ত তাঁর বিরুদ্ধে এই বলে অভিযোগ আনেন যে তিনি দারিদ্র্য রফতানি করছেন , এবং সত্যজিতের কাছে আধুনিক ভারতএর প্রতিনিধিত্ব করে এমন ছবি বানানোর দাবি করেন৪৭ অন্যদিকে ভারতজুড়ে সমাজতন্ত্রের প্রবক্তারা মনে করতেন সত্যজিৎ জাতির নিপীড়িত শ্রেণীর প্রতি প্রত্যয়ী ছিলেন না , বরং তিনি পথের পাঁচালী ও অশনি সংকেত ছবিতে বর্ণনাভঙ্গি ও নান্দনিকতার মাধ্যমে দারিদ্র্যকে মহৎ করে দেখিয়েছেন তাঁরা আরও অভিযোগ করে যে সত্যজিৎ তাঁর বুর্জোয়া দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে তাঁর ছবির সংঘাতগুলোর কোন সমাধান দেখাতে পারেন নি ৭০এর দশকের নকশাল আন্দোলনের সময় তাঁর ছেলে সন্দীপ এক পর্যায়ে শারীরিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন ৪৮ ৬০এর দশকে সত্যজিৎ ও মার্ক্স্বাদী চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন বাণিজ্যিক অভিনেতা উত্তম কুমারকে ছবিতে নেয়ার জন্য মৃণাল সত্যজিতের সমালোচনা করেন সত্যজিৎ জবাব দেন যে মৃণাল কেবল সহজ লক্ষ্যগুলোতেই তথা বাঙালি মধ্যবিত্ত শ্রেণী আঘাত হানতে জানেনকিংবদন্তির কথামৃত্যুর মাত্র কিছুদিন আগে অস্কার হাতে সত্যজিৎভারতে ও বিশ্বব্যাপী বাঙালি সম্প্রদায়ের কাছে সত্যজিৎ রায় একজন সাংস্কৃতিক প্রতিভূ তাঁর মৃত্যুর পর কলকাতার জীবনযাত্রা থেমে পড়ে হাজার হাজার লোক শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তাঁর বাড়িতে আসেন৪৯ বাংলা চলচ্চিত্র জগতে সত্যজিৎ গভীর প্রভাব ফেলেন সত্যজিতের চলচ্চিত্র কৌশল অপর্ণা সেন , ঋতুপর্ণ ঘোষ , গৌতম ঘোষ এবং বাংলাদেশের তারেক মাসুদ ও তানভীর মোকাম্মেলকে অনুপ্রাণিত করেছে বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত , মৃণাল সেন৫০ , ও আদুর গোপালকৃশনানএর মত চলচ্চিত্র নির্মাতারা ভারতীয় চলচ্চিত্রে সত্যজিতের আসামান্য অবদান স্বীকার করেছেন ভারতের বাইরে মার্টিন স্কোরসেজি ,৫১ জেমস আইভরি , আব্বাস কিয়ারোস্তামি ও এলিয়া কাজানএর মত চিত্রনির্মাতারা তাঁর কাজ দেখে প্রভাবিত হয়েছেন বলে ধারণা করে হয় ইরা সাক্সএর ২০০৫ সালে নির্মিত     ছিল চারুলতার একটি দুর্বলভাবে অনুসৃত পুনর্নির্মাণ , আর ১৯৯৫ সালের মাই ফ্যামিলি ছবিটির শেষ দৃশ্য অপুর সংসারএর শেষ দৃশ্যকে অনুসরণ করে তৈরি ইদানিংকার কিছু ছবি , যেমন স্যাক্রেড এভিল ,৫২ দীপা মেহতার এলিমেন্ট্স ত্রয়ী , এমনকি জঁল্যুক গদারএর চলচ্চিত্রেও৫৩ সত্যজিতের চলচ্চিত্রের প্রতি নির্দেশ খুঁজে পাওয়া যায়মার্কিন অ্যানিমেটেড টেলিভিশন সিরিজ দ্য সিম্পসন্সএর আপু নাহাসাপিমাপেটিলন চরিত্রটির নাম রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্বাচন করা হয় মাধবী মুখোপাধ্যায়ের সাথে সত্যজিতের ছবি ডোমিনিকার স্ট্যাম্পে স্থান পায়  কোন ভারতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বের জন্য এ জাতীয় ঘটনা এটাই প্রথম  বহু সাহিত্যকর্মে সত্যজিৎ কিংবা তাঁর কাজকে নির্দেশ করা হয়েছে সালমান রুশদির লেখা হারুন অ্যান্ড দ্য সি অফ স্টোরিজএ দুইটি মাছের নাম ছিল গুপী ও বাঘা সত্যজিতের গুপী গাইন ও বাঘা বাইন চরিত্র দুটির নামে বহু প্রতিষ্ঠান সত্যজিতকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করে এদের মধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় মাত্র দ্বিতীয় চলচ্চিত্রকার হিসেবে চ্যাপলিনের পর তাঁকে এই ডিগ্রী প্রদান করে ১৯৮৭ সালে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি তাঁকে লেজিওঁ দনর পুরস্কার প্রদান করেন তাঁর মৃত্যুর অল্প কিছু দিন আগে ভারত সরকার তাঁকে ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক পদক ভারতরত্ন প্রদান করেন ১৯৯৩ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া , সান্টা ক্রুজ সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড স্টাডি কালেকশন প্রতিষ্ঠা করে ১৯৯৫ সালে ভারত সরকার চলচ্চিত্র বিষয়ে গবেষণার জন্য সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন২০০৭ সালে ব্রিটিশ ব্রডক্যাস্টিং কর্পোরেশন বিবিসি ঘোষণা দেয় যে , ফেলুদা সিরিজের দুটি গল্প নিয়ে রেডিও অনুষ্ঠান নির্মাণ করা হবে৫৪ লন্ডন চলচ্চিত্র উৎসবের সময় থেকে সত্যজিৎ রায় পুরস্কার নামে একটি নিয়মিত পুরস্কার প্রদান করা হয় প্রথম সারির পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের পরিচালক যাদের চলচ্চিত্রের শিল্পগুণ , সহানুভূতি এবং মানবতার দিকটি সত্যজিতের মত তাদেরকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয় ওয়েস অ্যান্ডারসন দাবী করেছেন যে তার চলচ্চিত্রে সত্যজিতের বিশেষ প্রভাব রয়েছে তার সাম্প্রতিক ছবি দ্য দার্জিলিং লিমিটেড সত্যজিৎ রায়কে উৎসর্গ করেছেনপ্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননামূল নিবন্ধ সত্যজিৎ রায়ের পাওয়া পুরস্কারসত্যজিৎ রায় তাঁর জীবদ্দশায় প্রচুর পুরস্কার পেয়েছেন তিনিই দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব যাঁকে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সাম্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে প্রথম চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবে অক্সফোর্ডের ডিলিট পেয়েছিলেন চার্লি চ্যাপলিন ১৯৮৭ সালে ফ্রান্সের সরকার তাঁকে সেদেশের বিশেষ সম্মনসূচক পুরস্কার লেজিওঁ দনরে ভূষিত করে ১৯৮৫ সালে পান ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র পুরস্কার দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ১৯৯২ সালে মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বে একাডেমি অফ মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সাইন্সেস তাকে আজীবন সম্মাননাস্বরূপ একাডেমি সম্মানসূচক পুরস্কার প্রদান করে মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বেই ভারত সরকার তাঁকে প্রদান করেন দেশের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন সেই বছরেই মৃত্যুর পরে তাঁকে মরণোত্তর আকিরা কুরোসাওয়া পুরস্কার প্রদান করা হয় প্রয়াত পরিচালকের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন শর্মিলা ঠাকুরমোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী গুজরাটি ভাষায়    এই শব্দ সম্পর্কে উচ্চারণ সাহায্যতথ্যমোহান্দাস্ কারাম্চান্দ্ গান্ধী বা মহাত্মা গান্ধী ২রা অক্টোবর , ১৮৬৯  ৩০শে জানুয়ারি , ১৯৪৮ অন্যতম প্রধান ভারতীয় রাজনীতিবিদ , ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্রগামী ব্যক্তিদের একজন এবং প্রভাভশালী আধ্যাত্মিক নেতা তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা এর মাধ্যমে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে জনসাধারণের অবাধ্যতা ঘোষিত হয়েছিল এ আন্দোলন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল অহিংস মতবাদ বা দর্শনের উপর এবং এটি ছিল ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম চালিকা শক্তি , সারা বিশ্বে মানুষের স্বাধীনতা এবং অধিকার পাওয়ার আন্দোলনের অন্যতম অনুপ্রেরণাগান্ধী ভারতে এবং বিশ্ব জুড়ে মহাত্মা মহান আত্মা এবং বাপু বাবা নামে পরিচিত ভারত সরকারীভাবে তাঁর সম্মানার্থে তাকে ভারতের জাতির জনক হিসেবে ঘোষণা করেছে  ২রা অক্টোবর তাঁর জন্মদিন ভারতে গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় ২০০৭ সালের ১৫ই জুন জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ২রা অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস হিসেবে ঘোষণা করা জাতিসংঘের সকল সদস্য দেশ এ দিবস পালনে সম্মতি জ্ঞাপন করে১একজন শিক্ষিত ব্রিটিশ আইনজীবী হিসেবে , গান্ধী প্রথম তাঁর অহিংস শান্তিপূর্ণ নাগরিক আন্দোলনের মতাদর্শ প্রয়োগ করেন দক্ষিণ আফ্রিকায় নিপীড়িত ভারতীয় সম্প্রদায়ের নাগরিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ভারতে ফিরে আসার পরে কয়েকজন দুঃস্থ কৃষক এবং দিনমজুরকে সাথে নিয়ে বৈষম্যমূলক কর আদায় ব্যবস্থা এবং বহু বিস্তৃত বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে আসার পর গান্ধী সমগ্র ভারতব্যাপী দারিদ্র্য দূরীকরণ , নারী স্বাধীনতা , বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠা , বর্ণ বৈষম্য দূরীকরণ , জাতির অর্থনৈতিক সচ্ছলতা সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রচার শুরু করেন কিন্তু এর সবগুলোই ছিল স্বরাজ অর্থাৎ ভারতকে বিদেশী শাসন থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ১৯৩০ সালে গান্ধী ভারতীয়দের লবণ করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ৪০০ কিলোমিটার ২৪৮ মাইল দীর্ঘ ডান্ডি লবণ কুচকাওয়াজে নেতৃত্ব দেন , যা ১৯৪২ সালে ইংরেজ শাসকদের প্রতি সরাসরি ভারত ছাড়ো আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায় তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কারণে বেশ কয়েকবার দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ভারতে কারাবরণ করেনমহাত্মা গান্ধী সমস্ত পরিস্থিতিতেই অহিংস মতবাদ এবং সত্যের ব্যাপারে অটল থেকেছেন তিনি সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেটি ছিল স্বয়ংসম্পূর্ণ তার নিজের পরিধেয় কাপড় ছিল ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ধুতি এবং শাল যা তিনি নিজেই চরকায় বুনতেন তিনি সাধারণ নিরামিষ খাবার খেতেন শেষ জীবনে ফলমূ্লই বেশি খেতেন আত্মশুদ্ধি এবং প্রতিবাদের কারণে দীর্ঘ সময়ের জন্য উপবাস থাকতেনপরিচ্ছেদসমূহ    ১ প্রাথমিক জীবন    ২ দক্ষিণ আফ্রিকার গণঅধিকার আন্দোলন ১৮৯৩১৯১৪    ৩ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন    ৪ চম্পারন এবং খেদা    ৫ অসহযোগ    ৬ স্বরাজ ও লবণ সত্যাগ্রহ    ৭ হত্যাকাণ্ড    ৮ গান্ধীর মূলনীতি        ৮১ সত্য        ৮২ অহিংসা        ৮৩ নিরামিষভোজন        ৮৪ ব্রহ্মচর্য        ৮৫ বিশ্বাস        ৮৬ সরলত্ব        ৮৭ পরিধানের বস্ত্র    ৯ লেখালেখি        ৯১ গান্ধী বিষয়ক বই    ১০ অনুসারী ও প্রভাব    ১১ অবদান    ১২ সমালোচনা    ১৩ আরও দেখুন    ১৪ তথ্যসূত্র    ১৫ বহিঃসংযোগপ্রাথমিক জীবনমোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ১৮৬৯ সালে পোরবন্দরের হিন্দু মোধ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তার পিতা করমচাঁদ গান্ধী ছিলেন পোরবন্দরের দেওয়ান প্রধান মন্ত্রী মা পুতলিবা করমচাঁদের চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন পুতলিবা প্রনামী বৈষ্ণব গোষ্ঠীর ছিলেন করমচাঁদের প্রথম দুই স্ত্রীর প্রত্যেকেই একটি করে কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন অজানা কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছিল এরকম শোনা যায় যে সন্তান জন্ম দেবার সময়ে তারা মারা যান ধার্মিক মায়ের সাথে এবং গুজরাটের জৈন প্রভাবিত পরিবেশে থেকে গান্ধী ছোটবেলা থেকেই জীবের প্রতি অহিংসা , নিরামিষ ভোজন , আত্মশুদ্ধির জন্য উপবাসে থাকা , বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও সম্প্রদায়ের পারস্পরিক সহিষ্ণুতা ইত্যাদি বিষয় শিখতে শুরু করেন তিনি জন্মেছিলেন হিন্দু বৈশ্য গোত্রে যা ছিল ব্যবসায়ী গোত্রগান্ধী এবং তাঁর স্ত্রী কস্তুরবা ১৯০২১৮৮৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মহাত্মা গান্ধী তার বাবা মায়ের পছন্দে কস্তুরবা মাখাঞ্জীকে কাস্তুবাই নামেও পরিচিত ছিলেন বিয়ে করেন তাদের চার পুত্র সন্তান জন্মায় যাদের নাম হরিলাল গান্ধী , জন্ম ১৮৮৮ মনিলাল গান্ধী , জন্ম ১৮৯২ রামদাস গান্ধী জন্ম ১৮৯৭ এবং দেবদাস গান্ধী জন্ম ১৯০০ সালে মহাত্মা গান্ধী তাঁর ছোটবেলায় পোরবন্দর ও রাজকোটের ছাত্রজীবনে মাঝারি মানের ছাত্র ছিলেন কোন রকমে গুজরাটের ভবনগরের সামালদাস কলেজ থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি কলেজেও সুখী ছিলেন না কারণ তার পরিবারের ইচ্ছা ছিল তিনি ব্যারিস্টার হন১৮ বছর বয়সে ১৮৮৮ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে যান রাজকীয় রাজধানী লন্ডনে তার জীবন যাপন ছিল ভারতে থাকতে তার মায়ের কাছে করা শপথ প্রভাবিত জৈন সন্ন্যাসি বেচার্জীর সামনে তিনি তার মায়ের কাছে শপথ করেছিলেন যে তিনি মাংস , মদ এবং উচ্ছৃঙ্খলতা ত্যাগ করার হিন্দু নৈতিক উপদেশ পালন করবেন যদিও তিনি ইংরেজ আদব কায়দা পরীক্ষামূলকভাবে গ্রহণ করেছিলেন যেমন নাচের শিক্ষা , কিন্তু তিনি তার বাড়িওয়ালীর দেওয়া ভেড়ার মাংস এবং বাঁধাকপি খেতেন না তিনি লন্ডনের গুটি কয়েক নিরামিষভোজী খাবারের দোকানের একটিতে নিয়মিত যেতেন শুধু তার মায়ের কথায় সাধারণ নিরামিষভোজী জীবন যাপন না করে তিনি এ বিষয়ে পড়াশোনা করে একান্ত আগ্রহী হয়ে নিরামিষভোজন গ্রহণ করেন নিরামিষভোজী সংঘে যোগ দেন এবং কার্যকরী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন , এ সংস্থার একটি স্থানীয় শাখাও প্রচলন করেন তার এই অভিজ্ঞতা পরবর্তী জীবনে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অনেক ভাবে কাজে লাগে নিরামিষভোজী অনেক সদস্যই আবার থিওসোফিক্যাল সোসাইটি  এর সদস্য ছিলেন , যা ১৮৭৫ সালে সার্বজনীন ভাতৃত্বের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছিল এবং এতে ধর্ম শিক্ষায় বৌদ্ধ এবং হিন্দু ব্রাহ্মণ্য সাহিত্য পড়ানো হত তারা গান্ধীকে ভগবত গীতা পড়তে উৎসাহিত করেছিলেন আগে ধর্ম বিষয়ে তেমন কোন আগ্রহ না থকলেও , গান্ধী হিন্দু , খ্রিস্টান , বৌদ্ধ , ইসলামসহ অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে এবং বিভিন্ন রীতি সম্পর্কে পড়াশোনা করেনদক্ষিণ আফ্রিকার গণঅধিকার আন্দোলন ১৮৯৩১৯১৪১৮৯৫ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধীদক্ষিণ আফ্রিকা গান্ধীর জীবনকে নাটকীয়ভাবে পরবর্তন করে দেয় এখানে তিনি ভারতীয় ও কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি সাধারণভাবে প্রচলিত বৈষম্যের শিকার হন একদিন ডারবানের আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট তার পাগড়ি সরিয়ে ফেলতে বলেন গান্ধী তা অগ্রাহ্য করেন এবং আদালত কক্ষ থেকে ক্ষোভে বেরিয়ে পড়েন তাকে পিটার ম্যারিজবার্গের একটি ট্রেনের প্রথম শ্রেণীর কামড়া থেকে তৃতীয় শ্রেণীর কামড়ায় যেতে বাধ্য করা হয় , প্রথম শ্রেণীর বৈধ টিকিট থাকা স্বত্ত্বেও স্টেজকোচে ভ্রমণের সময় একজন চালক তাকে প্রহার করে কারণ তিনি এক ইউরোপীয় যাত্রীকে জায়গা করে দেয়ার জন্য ফুট বোর্ডে চড়তে রাজি হননি যাত্রাপথে তাকে আরও কষ্ট করতে হয় এবং অনেক হোটেল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয় এই ঘটনাগুলোকে তার পরবর্তী সামাজিক কার্যকলাপের মোড় ঘুরিয়ে দেয়ার পেছনে মুখ্য ভূমিকা রাখে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ , কুসংস্কার এবং অবিচার লক্ষ করে গান্ধী তার জনগণের মর্যাদা এবং অবস্থান নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠেনদক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের ভোটাধিকার ছিল না এই অধিকার আদায়ের বিল উত্থাপনের জন্য তিনি আরও কিছুদিন দেশটিতে থেকে যান বিলের উদ্দেশ্য সিদ্ধি না হলেও এই আন্দোলন সেদেশের ভারতীয়দেরকে অধিকার সচেতন করে তুলেছিল ১৮৯৪ সালে গান্ধী নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন এই সংগঠনের মাধ্যমে সেখানকার ভারতীয়দেরকে রাজনৈতিকভাবে সংঘবদ্ধ করেন ১৮৯৭ সালের জানুয়ারিতে ভারতে এক সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ফিরে আসার পর এক শ্বেতাঙ্গ মব তাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা করে গান্ধী এই মব সদস্যদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করেননি কারণ তার মতে , কারও ব্যক্তিগত ভুলের জন্য পুরো দলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়াকে তিনি সমর্থন করেন না১৯০৬ সালে ট্রান্সভাল সরকার উপনিবেশের ভারতীয়দের নিবন্ধনে বাধ্য করানোর জন্য একটি আইন পাশ করে ১১ই সেপ্টেম্বর জোহানেসবার্গে সংঘটিত এক গণ প্রতিরোধে গান্ধী সবাইকে এই আইন বর্জন করতে বলেন তিনি বলেন , আইন না মানার কারণে তাদের উপর যে অত্যাচার করা হবে দরকার হলে তা মেনে নেবেন , কিন্তু আইন মানবেন না এই পরিকল্পনা কাজে দেয় , এবং ৭ বছর ব্যাপী এক আন্দোলনের সূচনা ঘটে এ সময় আইন অম্যান্য করা , নিজেদের নিবন্ধন কার্ড পুড়িয়ে ফেলা সহ বিভিন্ন কারণে অনেক ভারতীয়কে বন্দী করা হয় অনেকে আহত বা নিহত হয় সরকার তার কাজে অনেকটাই সফল হয় কিন্তু শান্তিকামী ভারতীয়দের উপর এহেন নিগীপনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার সাধারণ মানুষের মধ্য থেকেই প্রতিবাদ শুরু হয় অগত্যা , দক্ষিণ আফ্রিকার জেনারেল ইয়ান ক্রিশ্চিয়ান স্মুট গান্ধীর সাথে সমঝোতা করতে বাধ্য হন এর মাধ্যমেই গান্ধীর আদর্শ প্রতিষ্ঠা পায় , সত্যাগ্রাহ তার আসল রূপ পেতে শুরু করেভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনতিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভায় বক্তৃতা করেন , তবে ভারতীয় ইস্যু রাজনীতি এবং ভারতীয় জনগণের সাথে পরিচিত হন গোপালকৃষ্ণ গোখলের মাধ্যমে , যিনি ছিলেন তৎকালীন একজন সম্মানিত কংগ্রেস নেতাচম্পারন এবং খেদা১৯১৮ সালে গান্ধী , খেদা ও চম্পারন সত্যাগ্রহের সময়গান্ধীর প্রথম অর্জন আসে ১৯১৮ সালের চম্পারন বিক্ষোভ এবং খেদা সত্যাগ্রহের মাধ্যমে যদিও পরবর্তীতে খাদ্যশস্যের বদলে ইণ্ডিগো এবং অন্যান্য অর্থকরী ফসল তাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়ে জমিদারের মিলিশিয়াদের মাধ্যমে অত্যাচারিত হয়েও তারা নামেমাত্র ক্ষতিপুরণ পায় যা তাদের প্রখর দারিদ্রের দিকে ঠেলে দেয় গ্রামগুলোকে অতিরিক্ত নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর করে রাখা হয় এবং মদ্যপান , অস্পৃশ্যতা এবং পর্দা প্রথা ছিল ব্যাপক মারাত্মক দুর্ভিক্ষের মাঝে ব্রিটিশ একটি শোষণমূলক কর চালু এবং তা বাড়াবার চেষ্টা করে এতে পরিস্থিতি প্রচণ্ড অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে খেদা এবং গুজরাটেও সমস্যার একইরকম অবস্থা ছিল গান্ধী সেখানে একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং তার বহুদিনের সমর্থক ও স্থানীয় সেচ্ছাসেবকদের জড়ো করেন তিনি একটি পূর্ণাঙ্গ জরিপ চালিয়ে গ্রামের মৃত্যুর হার এবং গ্রামবাসীদের ভয়াবহ দূর্ভোগের উপাত্ত সংগ্রহ করেন এবং কষ্টকর অবস্থার সাধারণ পরিস্থিতিও যুক্ত করেন গ্রামবাসীদের কাছে বিশ্বস্ত হবার পর , তিনি গ্রামকে পরিষ্কার করার পাশাপাশি স্কুল ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন এবং গ্রামের নেতৃস্থানীয় লোকদের সামাজিক নির্যাতন এবং কুসংস্কার মুক্ত হবার আহ্বান জানানকিন্তু তার মূল প্রভাব পরিলক্ষিত হয় যখন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং প্রদেশ ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হয় জেলের বাইরে হাজার হাজার লোক জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এছাড়াও পুলিশ স্টেশন ও কোর্টে এসে তারা গান্ধীর মুক্তি দাবি করতে থাকে যা কোর্টকে নিরবে মেনে নিতে হয় গান্ধী জমিদারদের বিরুদ্ধে সুসংগঠিত বিক্ষোভ এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দান করেন এবং জমিদাররা ব্রিটিশ সরকারের দেখানো পথে কৃষকদের আরও বেশি ক্ষতিপুরণ এবং চাষাবাদের বিষয়ে তাদের আরো নিয়ন্ত্রণ প্রদানে রাজি হয় তারা রেভিনিউ এর হার বৃদ্ধি বর্জন এবং দুর্ভিক্ষ শেষ হবার আগ পর্যন্ত তা সংগ্রহ করা স্থগিত করে এই বিক্ষোভ চলাকালেই জনগণ গান্ধীকে বাপু পিতা এবং মহাত্মা মহৎ হৃদয় উপাধি দান করে খেদায় ব্রিটিশদের সাথে সমঝোতার সময় কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব করেন সর্দার প্যাটেল তিনি রেভিনিউ সংগ্রহ বন্ধ এবং সকল বন্দীদের মুক্তি দান করেন এর ফলে , গান্ধীর সুনাম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েঅসহযোগঅন্যায়ের বিরুদ্ধে গান্ধীর অস্ত্র ছিল অসহযোগ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ  পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড , যা সাধারণ মানুষের উপরে ব্রিটিশ সরকার দ্বারা সংগঠিত হয়েছিল তা জনসাধারণ ক্ষুব্ধ করে তোলে এবং মারামারির মাত্রা বৃদ্ধি পায় গান্ধী ব্রিটিশ রাজের কার্যাবলী এরং ভারতীয়দের প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ উভয়েরই নিন্দা করেন তিনি একটি লিখিত বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিটিশ নাগরিকদের সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং বিশৃঙ্খলার সমালোচনা করেন তাঁর এই পদক্ষেপ প্রাথমিক পর্যায়ে দলের ভিতরে অসন্তোষের জন্ম দিলেও গান্ধীর একটি আবেগীয় বক্তৃতার পর , যেখানে তিনি তিনি মূলনীতিগুলোর বর্ণনা দিয়ে বলেন সবরকম বিশৃঙ্খলাই অমঙ্গলজনক এবং সমর্থনযোগ্য নয় , তা গৃহীত হয়২ এই হত্যাকাণ্ড এবং জন বিক্ষোভের গান্ধী পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্ত্বশাসন এবং সকল সরকারী প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ লাভের দিকে মনোনিবেশ করেন যা শেষ পর্যন্ত স্বরাজ বা সম্পুর্ণ ব্যক্তিগত , আদর্শগত , রাজনৈতিক স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নেয়সবরমতী আশ্রম , গুজরাটে গান্ধীর বাড়ী১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাঝে মহাত্মা গান্ধী ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নির্বাহী দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তাঁর নেতৃত্বে কংগ্রেস স্বরাজের লক্ষ্যকে সামনে রেখে নতুন সংবিধান গ্রহণ করেন টোকেন ফি দিতে রাজি হওয়া যে কোন ব্যক্তির জন্য দলের সদস্যপদ উন্মুক্ত করে দেয়া হয় বিভিন্ন শ্রেণীর কমিটি গঠন করা হয় নিয়মানবর্তিতা উন্নতির জন্য পার্টিকে একটি অভিজাত প্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় জনগণের আকর্ষণে রূপান্তর করা হয় গান্ধী তার অহিংস নীতির পরিবর্ধন করেন স্বদেশী পলিসি যোগ করে স্বদেশী পলিসি মতে সকল বিদেশী পণ্য বিশেষত ব্রিটিশ পণ্য বর্জন করা হয় এর পথ ধরে তিনি সকল ভারতীয়কে ব্রিটিশ পোশাকের বদলে খাদি পরার আহ্বান জানান৩ তিনি সকল ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা , ধনী ও গরিব মানুষকে দৈনিক খাদীর চাকা ঘুরানোর মাধ্যমে স্বাধীনতার আন্দোলনকে সমর্থন করতে বলেন এটি এমন একটি কৌশল ছিল যা নিয়মানুবর্তিতা ও আত্মত্যাগের অনুশীলনের মাধ্যমে অনিচ্ছা ও উচ্চাকাঙ্খা দূরীকরণের পাশাপাশি আন্দোলনে মহিলাদের যুক্ত করে , এ সময়ে মহিলাদের করা এ সকল কাজকে অসম্মানজনক বলে মনে করা হত বাড়তি হিসেবে ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের মাধ্যমে , গান্ধী জনগণকে ব্রিটিশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অফিস আদালত বর্জনের সরকারী চাকরি র্থেকে ইস্তফা এবং ব্রিটিশ উপাধি বর্জনের ডাক দেনঅসহযোগ ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও সাফল্য লাভ করে উত্তেজনা বৃদ্ধিকারী এ আন্দোলনকে সমাজের সকল স্তরের লোক অংশগ্রহণ করে আন্দোলনটি শীর্ষে আরোহন করামাত্র অপ্রত্যাশিত ভাবে এ আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে উত্তর প্রদেশের চৌরি চৌরায় এরক তীব্র সংঘর্ষের ফল হিসেবে আন্দোলনটিতে সহিংসতার দিকে মোড় নিতে দেখে এবং এর ফলে সকল কর্মকাণ্ডের ব্যর্থতার আশংকায় গান্ধী গণ অহযোগ আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন৪ গান্ধী গ্রেপ্তার হন ১৯২২ সালের ১০ মার্চ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে তাকে ছয় বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয ১৯২২ সালের ২৮ মার্চ শুরু হওয়া শাস্তির কেবল দুই বছরের মত ভোগ করতে হয় তাকে ১৯২৪ সালের ফ্রেব্রুয়ারিতে এপেনডিসাইটিসের অপারেশনের পর তাকে মুক্তি দেয়া হয গান্ধী একতাবদ্ধ ব্যক্তিত্যের অভাবে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ভিতরে ফাটল ধরে যা দলটিকে দুটি ভাগে ভাগ করে দেয় একটি অংশের নেতৃত্ব দেন চিত্তরঞ্জন দাস এবং মতিলাল নেহরু তারা আইনসভার পার্টির অংশগ্রহণ সমর্থন করেন চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের নেতৃত্বের অপর অংশ এত পদক্ষেপের বিরোধীতা করে এছাড়াও হিন্দু ও মুসলিম দের অহিংস আন্দোলন চলাকালীন সৌহাদ্র্যের ও ভাঙ্গন ধরে গান্ধী এত বিরোধ মিটিয় তুলতে সেতুবন্ধের কাজ করার চেষ্টা করেন এবং এজন্য ১৯২৪ সালের শরৎকালে তিন সপ্তাহের অনশন করেন তাঁর এই প্রচেষ্টার খুব বেশি সফলতা আসেনি৫স্বরাজ ও লবণ সত্যাগ্রহগান্ধী লবণ মার্চের শেষে ৫ এপ্রিল ১৯৩০ তারিখে ড্যাণ্ডিতেগান্ধী ১৯২০ এর দশকের বেশির ভাগ সময় নীরব থাকেন , এ সময় তিনি স্বরাজ পার্টি এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের মাঝে বাধা দুর করতে চেষ্টা করেন অস্পৃশ্যতা , মদ্যপান , অবজ্ঞা এবং দারিদ্রতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন ১৯২৮ সালে তিনি আবার সামনে এগিয়ে আসেন এর আগের বছর ব্রিটিশ সরকার স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে একটি নতুন সংবিধান সংশোধনী কমিশন গঠন করেন যাতে একজনও ভারতীয় ছিল না ফলে ভারতীয় রাজনৈতিক দলগুলো কমিশনকে বর্জন করেগান্ধী কলকাতা কংগ্রেসে ১৯২৮ সালের ডিসেম্বরে ব্রিটিশ সরকারের প্রতি ভারতকে ডোমিনিয়নের মর্যাদা দেবার দাবি জানান , অন্যথায় নতুন অহিংস নীতির পাশাপাশি পূর্ণ স্বাধীনতান লক্ষ্যের হুমকি দেন গান্ধী এর মাধ্যমে তরুণ নেতা সুভাষ চন্দ্র বসু এবং জওহরলাল নেহরুর দর্শন সঞ্চালন করেন যারা অবিলম্বে স্বাধীনতার পক্ষপাতী ছিলেন এই সিদ্ধান্তে তিনি দুবছরের বদলে একবছর অপেক্ষা করারও প্রতিফলন ঘটান৬ ব্রিটিশ রাজ এর প্রত্যুত্তর দেয়নি ১৯২৯ সালে সালের ৩১ ডিসেম্বর ভারতীয় পতাকার উন্মোচন হয় লাহোরে ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি লাহোর মিলিত হয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দিনটিকে ভাতীয় স্বাধীনতা দিবস হিসেবে উৎযাপন করে অন্যান্য প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান ও এই দিনটিকে উৎযাপন করে ঘোষণামত গান্ধী লবণের উপর কর আরোপের বিরুদ্ধে নতুন সত্যাগ্রহ অভিযান শুরু করেন ১৯৩০ সালের মার্চে এই উদ্দেশ্যে তিনি ডাণ্ডির উদ্দেশ্যে লবণ হাঁটা আয়োজন করেন ও ১২ই মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৪০০ কিলোমিটার হেঁটে এলাহাবাদ থেকে ডাণ্ডিতে পৌছান নিজের হাতে লবণ তৈরির জন্যহাজার হাজার ভারতীয় তাঁর সাথে হেঁটে সাগরের তীরের পৌছান এটি ছিল ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তার আন্যতম সফল প্রয়াস ব্রিটিশরা এর বদলা নিতে ৬০ ,০০০ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সরকার গান্ধীর সাথে সমঝোতা করতে লর্ড এডওয়ার্ড আরউইনকে প্রতিনিধি নিয়োগ করে গান্ধীআর উইন প্যাক্টস হয় ১৯৪১ সালের মার্চ মাসে সরকার সকল গণ অসহযোগ আন্দোলন বন্ধের বিনিময় সকল রাজবন্দীদের মুক্তি দিতে রাজি হয় এছাড়াও গান্ধীকে গোল টেবিল বৈঠকের জন্য লণ্ডনে আমন্ত্রণ জাননো হয সেখানে তিনি একাই কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করেন আলোচনা ভারতীয় যুবরাজ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর অনুষ্ঠিত হয় গান্ধী ও অন্যান্য জাতীয়তাবাদীদের নিরাশ করে লর্ড আরউইনের স্থলাভিষিক্ত লর্ড উইলিংডন জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করেন গান্ধী পুনরায় গ্রেপ্তার হন এবং সরকার তার প্রভাব কাটিয়ে উঠতে তাকে সম্পূর্ণরূপে তাঁর অনুসারীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে পদ্ধতিটি অবশ্য সফল হয়নি ১৯৩২ সালে দলিত নেতা বি আর আম্বেদকারের প্রচেষ্টার ভিত্তিতে সরকারী নতুন সংবিধানের আওতায় অস্পৃম্শ্যদের জন্য আলাদা ইলেকটোরেট আয়োজন করে এর প্রতিবাদে গান্ধী ১৯৩২ সালের সেপ্টেম্বরে ৬ দিনের অনশন পালন করের এবং এতে সরকার বাধ্য হয়ে দলিত ক্রিকেটার ও পরবর্তীতে রাজনৈতিক নেতা পালওয়াঙ্কার বালুর মধ্যস্থ্যতায় আরও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা প্রদান করে এরপরই গান্ধী দলিত যাদের তিনি হরিজন বা ঈশ্বরের সন্তান নাম দিয়েছিলেন , সেই অস্পৃশ্যদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এক নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা করেন ১৯৩৩ সালের ৮ মে তিনি হরিজন আন্দোলনকে এগিয়ে নেবার লক্ষ্যে ২১ দিনের জন্য আত্মশুদ্ধি অনশন করেন৭১৯৩৪ সালের গ্রীষ্মে তাকে হত্যার জন্য তিনটি ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়কংগ্রেস পার্টি ফেডারেশন স্কিমের ক্ষমতা মেনে নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে রাজি হলে গান্ধী পার্টির থেকে নিজের সদস্যপদ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন গান্ধী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা না করলেও রাজের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা করা কোন দলের নেতা হয়ে থাকবেন এমন গুজব এড়ানোর চেষ্টা করেনহত্যাকাণ্ডমূল নিবন্ধ মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডরাজঘাট আগা খান প্রাসাদে গান্ধীর দেহভস্ম পুনে , ভারত১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি গান্ধীকে গুলি করে হত্যা করা হয় সে সময় তিনি নতুন দিল্লীর বিরলা ভবন বিরলা হাউস মাঝে রাত্রিকালীন পথসভা করছিলেন তার হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ছিলেন একজন হিন্দু মৌলবাদী যার সাথে চরমপন্থী হিন্দু মহাসভার যোগাযোগ ছিল হিন্দু মহাসভা পাকিস্তানীদের অর্থ সাহায্য দেবার প্রস্তাব করে ভারতকে দূর্বল করার জন্য গান্ধীকে দোষারোপ করে৮ গোডসে এবং সহায়তাকারী নারায়ণ আপতেকে পরবর্তীতে আইনের আওতায় এনে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ১৯৪৯ সালের ১৪ নভেম্বর তাদের ফাঁসি দেয়া হয় নতুন দিল্লীর রাজঘাটের স্মুতিসৌধে আছে হে রাম যাকে অনুবাদ করে বলা যায় ও ঈশ্বর এত দুটি শব্দ দুটিকে গান্ধীর শেষ কথা বলে বিশ্বাস করা হয় , অবশ্য এই উক্তির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে৯ জওহরলাল নেহরু রেডিওতে জাতীর উদ্দশ্যে ভাষণে বলেন বন্ধু ও সহযোদ্ধারা আমাদের জীবন থেকে আলো হারিয়ে গেছে , এবং সেখানে শুধুই অন্ধকার এবং আমি ঠিক জানি না আপনাদের কি বলব কেমন করে বলব আমাদের প্রেমময় নেতা যাকে আমরা বাপু বলে থাকি , আমাদের জাতীর পিতা আর নেই হয়ত এভাবে বলায় আমার ভূল হচ্ছে তবে আমরা আর তাকে দেখতে পাব না যাকে আমরা বহুদিন ধরে দেখেছি , আমরা আর উপদেশ কিংবা স্বান্ত্বনার জন্য তার কাছে ছুটে যাব না , এবং এটি এক ভয়াবহ আঘাত , শুধু আমার জন্যই নয় , এই দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য১০গান্ধীর ইচ্ছানুযায়ী , তার দেহভস্ম বিম্বের বেশ কয়েকটি প্রধান নদী যেমন নীলনদ , ভোলগা , টেমস প্রভৃতিতে ডুবানো হয় সামান্য অংশ ডঃ ভি এম নোলের পুণের একজন সাংবাদিক ও প্রকাশক পক্ষ থেকে পরমহংস যোগানন্দকে পৌছে দেয়া হয় এরপর তার দেহভস্ম সেলফ রিয়ালাইজেশন ফেলোশিপ লেক স্রাইনের মহাত্মা গান্ধী বিশ্ব শান্তি সৌধে একটি হাজার বছরের পুরনো চৈনিক পাথরের পাত্রে সংরক্ষণ করা হয়গান্ধীর মূলনীতিসত্যগান্ধী তার জীবনকে সত্য অনুসন্ধানের বৃহৎ উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে , এবং নিজের উপর নিরীক্ষা চালিয়ে তা অর্জন করেছিলেন তিনি তাঁর আত্মজীবনীর নাম দিয়েছিলেন দি স্টোরি অফ মাই এক্সপেরিমেণ্টস উইথ ট্রুথ যার অর্থ সত্যকে নিয়ে আমার নিরীক্ষার গল্প গান্ধী বলেন তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ছিল নিজের অন্ধকার ভয় ও নিরাপত্তাহীনতাকে কাটিয়ে ওঠা গান্ধী তাঁর বিশ্বাসকে প্রথম সংক্ষিপ্ত করে বলেন , ঈশ্বর হল সত্য পরবর্তীতে তিনি তাঁর মত বদলে বলেন , সত্য হল ঈশ্বর এর অর্থ সত্যই হল ঈশ্বরের ক্ষেত্রে গান্ধীর দর্শনঅহিংসাঅহিংসার ধারনার বহিঃপ্রকাশ হিন্দু ধর্মীয় চিন্তাধারা এবং নিদর্শনের হিসেবে হিন্দু , বৌদ্ধ , জৈন , ইহুদি এবং খ্রিষ্টান বর্ণণায় পাওয়া যায় গান্ধী তার জীবনীতে বলেন যখন আমি হতাশ হই  , আমি স্মরণ করি সমগ্র ইতিহাসেই সত্য ও ভালবাসার জয় হয়েছে  দুঃশাসক ও হত্যাকারীদের কখনো অপরাজেয় মনে হলেও শেষ সবসময়ই তাদের পতন ঘটে মনে রাখবেন সর্বদাইনিরামিষভোজনশিশু থাকতে গান্ধী পরীক্ষামূলকভাবে মাংস খান এটি হয়ত তার বংশগত কৌতুহল ও তার বন্ধু শেখ মেহতাবের কারণে হয়েছে নিরামিষভোজন এর ধারণা হিন্দু ও জৈন ধর্মে গভীরভাবে বিদ্যমান এবং তার স্থানীয় রাজ্য গুজরাটএ , বেশির ভাগ হিন্দুই ছিলেন নিরামিষভোজী গান্ধী পরিবারও এর ব্যতিক্রম ছিল না লণ্ডনে পড়তে যাবার আগে গান্ধী তার মা পুতলিবাই এবং চাচা বেচারজির কাছে প্রতিগ্ঞা করেন যে , তিনি মাংস খাওয়া , মদ্যপান এবং নারীসঙ্গ থেকে বিরত থাকবেন তিনি এই প্রতিগ্ঞা পালন করেছিলেন এবং এর মাধ্যমে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি একটি দর্শন লাভ করেছিলেন গান্ধী পরবর্তী জীবনে একজন পূর্ণ নিরামিষভোজী হয়ে ওঠেন তিনি নিরামিষভোজনের উপর দি মোরাল বেসিস অফ ভেজিটেরিয়ানিজম বইটির পাশাপাশি এ বিষয়ের উপর বেশ কিছু নিবন্ধ লেখেন এই লেখাগুলো কিছু কিছু ছাপা হয় লণ্ডনের নিরামিষভোজী সংগঠন লণ্ডন ভেজিটেরিয়ান সোসাইটির প্রকাশনা দি ভেজিটেরিয়ান এ গান্ধী এ সময় অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব্যের সঙ্গলাভ করেন এবং লণ্ডন ভেজিটেরিয়ান সোসাইটির চেয়ারম্যান ড জোসেফ ওল্ডফিল্ড এর বন্ধু হয়ে ওঠেনহেনরি স্টিফেনস সল্টের লেখা ও কাজের পাঠক ও সমঝদার হয়ে ওঠা গান্ধী নিরামিষ খাওয়ার পক্ষে আন্দোলনকারীদের সাথেও মাঝে মাঝে যোগ দেন লণ্ডন থেকে ফেরার পর গান্ধী নিরামিষ খাবার ব্যাপারে মানুষকে উৎসাহিত করেন গান্ধীর মতে , নিরামিষ শুধু শরীরের চাহিদাই মেটাবে না , এটি মাংসের প্রয়োজন মিটানোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যও পুরণ করবে , যা সব্জী ও ফলের চেয়ে মূল্যবান এছাড়াও সে সময় অনেক ভারতীয়ই নিম্ন আয়ের হওয়ার নিরামিষভোজন আন্দোলন কেবল আদর্শগত আন্দোলন না থেকে বাস্তব রুপও নিয়েছে তিনি অনেক সময় ধরে খাওয়ার বিরোধীতা করেছেন , অনশন করাকে রাজনৈতিক প্রতিবাদ হিসেবে ব্যবহার করেছেন তিনি তার দাবি আদায়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত না খাওয়ার প্রতিগ্ঞা করতেন তার জীবনীতে লেখা আছে , নিরামিষভোজনই ছিল ব্রহ্মচর্চায় তার গভীর মনযোগের সূচনা মুখের উপর নিয়ন্ত্রণ না আনতে পারলে তার ব্রহ্মচার্য্য ব্যর্থ হতে পারতব্রহ্মচর্যগান্ধীর ষোল বছর বয়সে তার বাবা ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন গান্ধী তার বাবার অসুস্থতার পুরো সময় তার সাথে থাকেন একরাতে গান্ধীর চাচা এসে তাকে বিশ্রাম নেবার সুযোগ করে দেন তিনি তার বেডরুমে ফিরে যান এবং কামনার বশবর্তী হয়ে তার স্ত্রীর সাথে প্রণয়ে লিপ্ত হন এর সামান্য পরেই একজন কর্মচারি এসে তার পিতার মৃত্যুসংবাদ জানায় তিনি এ ঘটনাটিকে দ্বিগুণ লজ্জা হিসেবে আখ্যায়িত করেন এই ঘটনাটি গান্ধীকে ৩৬ বছর বয়সে বিবাহিত থাকা অবস্থায় একজন ব্রহ্মচারী হতে বাধ্য করে১১ এই সিদ্ধান্তের পেছনে ব্রহ্মচর্যের দর্শন তাকে ব্যাপকভাবে প্ররোচিত করে , যা আদর্শগত ও বাস্তবগত পবিত্রতার চর্চা করে গান্ধী ব্রহ্মচর্যকে ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভ এবং আত্মোপলব্ধির পন্থা হিসেবে দেখতেন গান্ধী তার আত্মজীবনীতে তার শৈশবের স্ত্রী কাস্তুর্বার সম্পর্কে তার কামলালসা এবং হিংসার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার কথা বলেন গান্ধী আত্মনিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আদর্শ হবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেন যেন তিনি ভোগ করার বদলে ভালোবাসতে শেখেন গান্ধীর কাছে ব্রহ্মচর্যের অর্থ , চিন্তা , বাক্য ও কর্মের নিয়ন্ত্রণ১২বিশ্বাসগান্ধী হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং তার সারা জীবন ধরে হিন্দু ধর্মের চর্চা করেন হিন্দু ধর্ম থেকেই তিনি তাঁর অধিকাংশ আদর্শ গ্রহণ করেন একজন সাধারণ হিন্দু হিসেবে তিনি সকল ধর্মকে সমানভাবে বিবেচনা করতেন এবং তাঁকে এই ধারণা থেকে বিচ্যুত করার সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন তিনি ব্রহ্মবাদে আগ্রহী ছিলেন এবং সব বড় ধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করেছেন হিন্দুবাদ সম্পর্কে তিনি নিচের উক্তিটি করেন হিন্দুবাদ আমাকে পরিপূর্ণভাবে তৃপ্ত করে , আমার সম্পুর্ণ স্বত্ত্বাকে পরিপূর্ণ করে যখন সংশয় আমাকে আঘাত করে , যখন হতাশা আমার মুখের দিকে কড়া চোখে তাকায় , এবং যখন দিগন্তে আমি একবিন্দু আলোও দেখতে না পাই , তখন আমি ভগবত গীতার দিকে ফিরে তাকাই , এবং নিজেকে শান্ত করার একটি পংক্তি খুঁজে নিই এবং আমি অনতিবিলম্বে অত্যাধিক কষ্টের মাঝেও হেসে উঠি আমি ভগবত গীতার শিক্ষার কাছে কৃতজ্ঞ নয়া দিল্লীতে অবস্থিত মহাত্মা গান্ধীর বাসভবন গান্ধী স্মৃতিগান্ধী গুজরাটি ভাষায় ভগবত গীতার উপর ধারাভাষ্য লেখেন গুজরাটি পাণ্ডুলিপিটি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেন মহাদেব দাসী তিনি একটি অতিরিক্ত সূচনা এবং ধারাভাষ্য যোগ করেন এটি গান্ধীর একটি ভূমিকাসহ প্রকাশিত হয় ১৯৪৬ সালে১৩১৪ গান্ধী বিশ্বাস করতেন , প্রতিটি ধর্মের মূলে আছে সত্য ও প্রেম করুণা , অহিংসা এবং সোনালী শাসন তিনি একজন ক্লান্তিহীন সমাজ সংস্কারক ছিলেন এবং সব ধর্মের ভণ্ডামী , অপকর্ম ও অন্ধবিশ্বাসের বিপক্ষে ছিলেন ধর্ম সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন যদি আমি খ্রিস্টান ধর্মকে নিখুঁত এবং শ্রেষ্ঠতম ধর্ম হিসেবে মেনে নিতে না পারি , তবে হিন্দু ধর্মকেও সেভাবে মেনে নিতে পারি না হিন্দুধর্মের ত্রুটিগুলি আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে যদি অস্পৃশ্যতা হিন্দু ধর্মের অংশ হয় তবে , এটি একটি পচা অংশ বা আঁচিল বেদবাক্যগুলোকে ঈশ্বরের অনুপ্রাণিত উক্তি বলার কারণ কি যদি এগুলো অনুপ্রাণিত হয় তবে বাইবেল বা কোরান কেন নয় খ্রিস্টান বন্ধুরা যেভাবে আমাকে ধর্মান্তরিত করতে প্রবল চেষ্টা করেছেন তেমনি মুসলিম বন্ধুরাও করেছেন আবদুল্লাহ শেঠ ইসলাম চর্চা করার জন্য আমাকে প্ররোচিত করে চলেছেন এবং এর সৌন্দর্য সম্পর্কে সবসময়ই তার কিছু বলার থাকেযখনি আমরা নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলি , আমরা ধার্মিক হওয়া থেকে ক্ষান্ত হই নৈতিকতা হারিয়ে ধার্মিক হওয়া বলতে কিছু নেই উদাহরণস্বরুপ , মানুষ মিথ্যাবাদী , নির্মম এবং আত্মসংযমহীন হয়ে দাবি করতে পারে না যে ঈশ্বর তার সাথে আছেনপরবর্তী জীবনে তাকে যখন জিজ্ঞেস করা হয় তিনি হিন্দু কি না তিনি বলেন , হ্যাঁ , আমি তাই এ ছাড়াও আমি একজন খ্রিস্টান , একজন মুসলিম , একজন বৌদ্ধ এবং একজন ইহুদি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও গান্ধীর ভিতরে পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকা স্বত্ত্বেও তাঁরা একাধিকবার নিজেদের মধ্যে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন এই বিতর্কগুলি সে সময়কার জনপ্রিয়তম দুই ভারতীয়ের ভিতরে দার্শনিক মতভেদকে প্রমাণ করে ১৫ জানুয়ারি , ১৯৩৪ সালে বিহারে একটি ভূমিকম্প আঘাত করে এবং এটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের কারণ হয় গান্ধী বলেন , এটি হবার কারণ হল উঁচুশ্রেণীর হিন্দুদের অস্পৃশ্যদের তাদের প্রাসাদে ঢুকতে না দেবার পাপের ফল রবীন্দ্রনাথ গান্ধীর এই মন্তব্যের ব্যাপক বিরোধীতা করে বলেন , ভূমিকম্প কেবল প্রাকৃতিক কারণেই সংঘটিত হতে পারে , অস্পৃশ্যতার চর্চা যতই বেমানান হোক না কেনসরলত্বগান্ধী প্রবলভাবে বিশ্বাস করতেন যে , সামাজিক কাজে নিয়োজিত একজন ব্যক্তি অবশ্যই সাধারণ জীবন যাপন করবে যেটা তার মতে তাকে ব্রহ্মচর্যের পথে নিয়ে যাবে  তাঁর সরলত্বের সূচনা ঘটে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাপিত পশ্চিমি জীবনাচরণ ত্যাগ করার মাধ্যমে তিনি এটিকে শুন্যে নেমে যাওয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেন যার মধ্যে ছিল অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে ফেলা , সাদামাটা জীবনযাপন গ্রহণ করা এবং নিজের কাপড় নিজে ধোয়া১৫ একবার তিনি নাটালদের দেয়া উপহার ফিরিয়ে দেন১৬পরিধানের বস্ত্র১৯৩১ সালে গান্ধী গেছেন লন্ডনে , ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দিতে , তা দেখে চার্চিল আশঙ্কাগ্রস্ত হয়ে বলেছিলেন তাঁর বমি আসছে , গান্ধীর অর্ধনগ্ন ফকিরের পোশাক দেখে নয় , ওই রকমের পোশাকধারী একজন আইনঅমান্য আন্দোলন চালাচ্ছে আবার সেই সঙ্গে সমান মর্যাদায় ভারত সম্রাটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছেন১৭ গান্ধীর জামাকাপড়ের হ্রস্বতা দেখে তার অনুরাগী অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন যিনি ওই সময়েই গান্ধীকে দেখতে গিয়েছিলেন , এবং দেখে যাঁর মনে হয়েছিল , শীতের দেশে গান্ধী ওই পোশাকে এসে নিজেকে এমনভাবে প্রত্যক্ষ করে নাতুললেও পারতেন ৷১৮ পরিধেয় নিয়ে গান্ধী নিজে অবশ্য মোটেই বিব্রতবোধ করেন নি , ঊষ্ণ আবহাওয়া ও দরিদ্র ভারতীয়দের পোশাক ওই রকমেরই মামুলি হওয়া দরকার বলে তিনি ভাবতেন ৷১৯ ঐ বেশেই তিনি গোলটেবিল বৈঠকের সদস্যদের জন্য বাকিংহাম প্যালেসে সম্রাট পঞ্চম জর্জের দেওয়া রাজকীয় অভ্যর্থনায় যোগ দিয়েছেন , এবং নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সম্রাটের সঙ্গে কৌতূকপূর্ণ বাক্য বিনিময় করেছেন ৷ পরবর্তীতে গান্ধীর বেশভূষার স্বল্পতার কথা উল্লেখ করায় , গান্ধী জবাব দিয়েছিলেন , তাতে কোনো অসুবিধা হয় নি , কেননা সম্রাটের নিজের গায়ে যে পোশাক ছিল তা আমাদের দুজনের জন্য পর্যাপ্ত ৷লেখালেখিগান্ধী ছিলেন বহুমূখী লেখক , সম্পাদক দশক ধরে তিনি সম্পাদনা করেছেন গুজরাটী , হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকা হরিজন কেবল ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত তাঁর সম্পাদিত পত্রিকার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালীন ইন্ডিয়ান অপিনিয়ন ও দেশে ফেরার পর ইয়ং ইন্ডিয়া তাছাড়া তার হাতেই সম্পাদিত হতো গুজরাটী ভাষার মাসিকপত্র নবজীবন যা পরে হিন্দি ভাষায়ও প্রকাশিত হতো২০ গান্ধী পত্রপত্রিকায় প্রচুর চিঠি লিখতেন প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন পত্রিকায় তার চিঠি প্রকাশিত হতোগান্ধীর বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে তার আত্মজীবনী , সত্যের সঙ্গে আমার অভিজ্ঞতার গল্প        , দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রাম নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় সত্যাগ্রহ     , স্বাধীকার বিষয়ে মেনিফেস্টো হিন্দি স্বরাজ       ও গুজরাটী ভাষায় জন রাসকিনএর     ২১ শেষোক্তটি গান্ধীর অর্থনৈতিক কর্মসূচী হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে এছাড়া নিরামিষভোজন , আহার ও স্বাস্থ্য , ধর্ম , সমাজ সংসখবর ইত্যাদি বিষয়েও তিনি প্রচুর লেখালেখি করেছেন গান্ধী মূলত লিখতেন গুজরাটী ভাষায় তবে , তাঁর বইএর হিন্দি ও ইংরেজি অনুবাদ তিনি দেথে দিতেন১৯৬০ এরএর দশকে ভারত সরকার গান্ধীর রচনাবলী       প্রকাশ করে প্রায় শতাধিক খন্ডে প্রকাশিত এই রচনাবলীতে প্রায় ৫০ ,০০০ পাতা আছে ২০০০ সালে এর একটি পুনমার্জিত সংস্করণ প্রকাশিত হলে বিতর্কের সূত্রপাত হয় গান্ধীর অনুসারীরা অভিযোগ করে যে , রাজনেতিক উদ্দ্যেশে সেখানে পরিবর্তন করা হয়েছে ২২গান্ধী বিষয়ক বইবেশ কয়েকজন জীবনীকার গান্ধীর জীবনী রচনার কাজ করেছেন এর মধ্যে দুইটি রচনা প্রনিধানযোগ্য ডি জি তেন্ডুলকরের আট খণ্ডের       ও পিয়ারীলাল ও সুশীলা নায়ারের দশখণ্ডের   বলা হয়ে থাকে আমেরিকান সেনাবাহিনীর জি বি সিংহ ২০ বছর ২৩ ধরে গান্ধীর মূল বক্তৃতা ও রচনা সংগ্রহ করেছেন তার গবেষণা গ্রন্থ       এর জন্যঅনুসারী ও প্রভাবঅনেক রাজনৈতিক নেতা ও আন্দোলনকে গান্ধী প্রভাবিত করেছেন আমেরিকার নাগরিক অধিকার আন্দোলনএর অন্যতম নেতা মার্টিন লুথার কিং ও জেসম লওসন গান্ধীর অহিংস নীতির আলোকে নিজেদের কর্মপন্থা ঠিক করতেন ২৪ দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা নেলসন মেন্ডেলাও গান্ধীর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছন২৫ এই তালিকায় আরো আছেন খান আবদুল গাফফার খান ২৬  , স্টিফ বিকো ও অং সান সু চী ২৭ গান্ধীর জীবন ও শিক্ষা অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে এদের অনেকে পরবর্তী সময়ে গান্ধীকে তাদের শিক্ষাগুরু হিসাবে বর্ণনা করেছেন আবার অনেকে সারাজীবন গান্ধীর আদর্শ প্রচার করেছেন ইউরোপে রোমেইন রোল্যান্ড ১৯২৪ সালে প্রথম তার মহাত্মা গান্ধী গ্রন্থে তাঁকে ইউরোপে তুলে ধরেন ১৯৩১ সালে পদার্থবিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আইনস্টাইন গান্ধীর সঙ্গে পত্রালাপ করেন গান্ধীর কাছে লেখা এক চিঠিতে আইনস্টাইন গান্ধীকে আগামী প্রজন্মের জন্য আদর্শ         হিসাবে বর্ণনা করেন ২৮এছাড়া ব্রিটিশ গায়ক জন লেনন অহিংসা নিয়ে তার অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে গান্ধীকে উল্লেখ করতেন ২৯ ২০০৭ সালে এক সম্মেলনে আমেরিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট তার ওপর গান্ধীর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন ৩০অবদানগান্ধীর জন্মদিন অক্টোবর ২ ভারতের জাতীয় ছুটি , গান্ধী জয়ন্তী হিসাবে পালিত হয় ২০০৭ সালের ১৫ জুন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে গান্ধীর জন্মদিনকে বিশ্ব অহিংস দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে৩১ মহাত্মা গান্ধী বহুত্ববাদী ভারতীয় সমাজে সৌভ্রাতৃত্বপূর্ন সহাবস্থান আদর্শের বিশিষ্ট প্রবক্তাসমালোচনাদক্ষিণ আফ্রিকায় লেখা গান্ধীর কিছু নিবন্ধ বিতর্কিত পূণর্মুদ্রিত দি কালেকটেড ওয়ার্কস অফ মহাত্মা গান্ধী ভলিউম ৮ , পৃষ্ঠা১২০ এ গান্ধী ইণ্ডিয়ান ওপিনিয়ন প্রবন্ধে ১৯০৮ সালের দক্ষিণ আফ্রিকার সময় সম্পর্কে বলেন , অনেক স্থানীয় কয়েদী পশুত্ব থেকে কেবল একধাপ উপরে এবং প্রায়ই নিজেদের ভিতরে বিবাদ ও হানাহানি করত একই সংকলনের ভলিউম ২ , পৃষ্ঠা৭৪তে , গান্ধীর ২৬ সেপ্টেম্বর১৮৯৬ সালে দেয়া একটি ভাষণের উল্লেখ করা হয় যেখানে তিনি কাফির বলেন , যাদের পেশা শিকার করা এবং একমাত্র লক্ষ্য একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক গবাদি পশু জমিয়ে বউ ক্রয় করা কাফির শব্দটিকে বর্তমানে আক্রমণাত্মক শব্দ হিসেবে বলা হয় এমন সব উক্তির জন্য গান্ধীর বিরুদ্ধে বর্ণবাদের কিছু অভিযোগ উঠেছে৩২আবুল পাকির জয়নুলআবেদিন আব্দুল কালাম তামিল      শুনুন  ১৫ অক্টোবর , ১৯৩১  ২৭ জুলাই , ২০১৫ ছিলেন ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের একাদশ রাষ্ট্রপতি ২০০২২০০৭ কালাম তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন একজন বিজ্ঞানী হিসেবে পরে তিনি ঘটনাচক্রে রাজনীতিবিদে পরিণত হন কালামের জন্ম অধুনা ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রামেশ্বরমে তিনি পদার্থবিদ্যা ও বিমান প্রযুক্তিবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন এরপর চল্লিশ বছর তিনি প্রধানত রক্ষা অনুসন্ধান ও বিকাশ সংগঠন ডিআরডিও ও ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থায় ইসরো বিজ্ঞানী ও বিজ্ঞান প্রশাসক হিসেবে কাজ করেন ভারতের অসামরিক মহাকাশ কর্মসূচি ও সামরিক সুসংহত নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচির সঙ্গে তিনি অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত ছিলেন১ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযানবাহী রকেট উন্নয়নের কাজে তাঁর অবদানের জন্য তাঁকে ভারতের ক্ষেপনাস্ত্র মানব বা মিশাইল ম্যান অফ ইন্ডিয়া বলা হয়২ ১৯৯৮ সালে পোখরানদুই পরমাণু বোমা পরীক্ষায় তিনি প্রধান সাংগঠনিক , প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেন এটি ছিল ১৯৭৪ সালে স্মাইলিং বুদ্ধ নামে পরিচিত প্রথম পরমাণু বোমা পরীক্ষার পর দ্বিতীয় পরমাণু বোমা পরীক্ষা৩২০০২ সালে কালাম তৎকালীন শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি ও বিরোধী দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সমর্থনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন পাঁচ বছর এই পদে আসীন থাকার পর তিনি শিক্ষাবিদ , লেখক ও জনসেবকের সাধারণ জীবন বেছে নেন ভারতের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ভারতরত্ন সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছিলেন কালামপরিচ্ছেদসমূহ    ১ প্রথম জীবন ও শিক্ষা    ২ মৃত্যু    ৩ পাদটীকা    ৪ তথ্যসূত্র    ৫ আরও দেখুনপ্রথম জীবন ও শিক্ষাআবুল পাকির জয়নুলআবেদিন আব্দুল কালাম ১৯৩১ সালের ১৫ অক্টোবর ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সির অধুনা ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রামেশ্বরমের এক তামিল মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তাঁর পিতা জয়নুলআবেদিন ছিলেন একজন নৌকামালিক এবং মাতা অশিয়াম্মা ছিলেন গৃহবধূ৪৫৬৭ তাঁর পিতা রামেশ্বরম ও অধুনাবিলুপ্ত ধনুষ্কোডির মধ্যে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নৌকায় পারাপার করাতেন৮৯ কালামের পরিবার ছিল অত্যন্ত গরিব অল্প বয়স থেকেই পরিবারের ভরনপোষণের জন্য তাঁকে কাজ করা শুরু করতে হয়১০ বিদ্যালয়শিক্ষা সমাপ্ত করার পর পিতাকে সাহায্য করার জন্য তাঁকে সংবাদপত্রে লেখালিখি শুরু করু করতে হয়১০১১ বিদ্যালয়ে তিনি ছিলেন সাধারণ মানের ছাত্র কিন্তু তিনি ছিলেন বুদ্ধিদীপ্ত ও কঠোর পরিশ্রমী ছাত্র তাঁর শিক্ষাগ্রহণের তীব্র বাসনা ছিল ঘণ্টার পর ঘণ্টা তিনি পড়াশোনা করতেন ও অঙ্ক কষতেন১১ রামনাথপুরম স্কোয়ার্টজ ম্যাট্রিকুলেশন স্কুল থেকে শিক্ষা সম্পূর্ণ করার পর কালাম তিরুচিরাপল্লির সেন্ট জোসেফস কলেজে ভর্তি হন ১৯৫৪ সালে সেই কলেজ থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন১২ পাঠক্রমের শেষের দিকে তিনি পদার্থবিদ্যা সম্পর্কে উৎসাহ হারিয়েছিলেন পরবর্তীকালে চার বছর ওই বিষয় অধ্যয়ন করে নষ্ট করার জন্য তিনি আক্ষেপ করতেন ১৯৫৫ সালে তিনি মাদ্রাজে অধুনা চেন্নাই চলে আসেন এখানকার মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে তিনি বিমান প্রযুক্তি শিক্ষা করেন৭ একটি সিনিয়র ক্লাস প্রোজেক্টে কাজ করার সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডিন তাঁর কাজে অগ্রগতি না দেখে অসন্তুষ্ট হন তিনি ভয় দেখান তিন দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে তাঁর বৃত্তি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে কালাম তিন দিনেই কাজ শেষ করেন তা দেখে ডিন খুশি হন পরে তিনি কালামকে লিখেছিলেন , আমি তোমাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলাম তোমাকে এমন সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে বলেছিলাম যা করা খুব শক্ত১৩ তিনি অল্পের জন্য যোদ্ধা পাইলট হওয়ার সুযোগ হারান উক্ত পরীক্ষায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর আট জন কর্মীর দরকার ছিল তিনি পরীক্ষায় নবম হয়েছিলেন১৪মৃত্যু২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে জুলাই মেঘালয়ের শিলং শহরে অবস্থিত ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট নামক প্রতিষ্ঠানে বসবাসযোগ্য পৃথিবী বিষয়ে বক্তব্য রাখার সময় ভারতীয় প্রমাণ সময় সন্ধ্যে ৬৩০ নাগাদ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন তাঁকে বেথানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় , যেখানে সন্ধ্যে ভারতীয় প্রমাণ সময় ৭৪৫ নাগাদ তাঁর মৃত্যু ঘটে১৫১৬১৭১৮১৯কালামের মৃতদেহ ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে শিলং থেকে গুয়াহাটি নিয়ে যাওয়া হয় সেখান থেকে একটি সি১৩০ হারকিউলিস বিমানে নতুন দিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয় ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় , ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী , দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তিন বাহিনীর প্রধান কালামের মরদেহে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন২০ এরপর জাতিয় পতাকায় ঢেকে কালামের দেহ ১০ , রাজাজি মার্গে তাঁর দিল্লির বাসস্থানে নিয়ে যাওয়া হলে , প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং , কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী , রাহুল গান্ধী , উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব সহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন২১ভারত সরকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি কালামের মৃত্যুতে তাঁর সম্মানে সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ঘোষণা করেন২২ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তব্যে বলেন যে , কালামের মৃত্যু দেশের বিজ্ঞান জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি , কারণ তিনি ভারতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন ও পথ দেখিয়েছিলেন ১ চতুর্দশ দলাই লামা কালামের মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন ও প্রার্থনা করে বলেন যে , কালাম শুধুমাত্র একজন বৈজ্ঞানিক , শিক্ষাবিদ বা রাষ্ট্রনেতা ছিলেন না , তিনি ছিলেন একজন নিপাট ভদ্রলোক , সরল ও বিনয়ী ২ ভূটান সরকার দেশের পতাকা অর্ধনমিত রাখার ও ১০০০টি বাতি প্রজ্জ্বলনের নির্দেশ দেয় এবং ভূটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে কালামকে ভারতীয় জনগণের রাষ্ট্রপতি বলে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেন ৩ ইন্দোনেশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সুসিলো বমবাং ইয়ুধোয়োনো , মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক ও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়েন লুং কালামের প্রতি সম্মান জানান২৬রামমোহন রায় , অথবা রাজা রাম মোহন রায় লেখা হয় রাজা রামমোহন রায় মে ২২ , ১৭৭২  সেপ্টেম্বর ২৭ , ১৮৩৩ প্রথম ভারতীয় ধর্মীয়সামাজিক পুনর্গঠন আন্দোলন ব্রাহ্মসমাজের প্রতিষ্ঠাতা এবং বাঙালি দার্শনিক তৎকালীন রাজনীতি , জনপ্রশাসন , ধর্মীয় এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি উল্লেখযোগ্য প্রভাব রাখতে পেরেছিলেন তিনি সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়েছেন , সতীদাহ প্রথা বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার জন্য তখন হিন্দু বিধবা নারীদের স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে বা আত্মহুতি দিতে বাধ্য করা হতরামমোহন রায় কলকাতায় আগস্ট ২০ , ১৮২৮ সালে ইংল্যান্ড যাত্রার আগে দ্বারকানাথ ঠাকুরের সহিত ব্রাহ্মসমাজ স্থাপন করেন পরবর্তীকালে এই ব্রাহ্মসমাজ এক সামাজিক ও ধর্মীয় আন্দোলন এবং বাংলার পূনর্জাগরণের পুরোধা হিসাবে কাজ করেপরিচ্ছেদসমূহ    ১ শৈশব ও শিক্ষা    ২ কর্মজীবন    ৩ সতীদাহ ও রামমোহন রায়    ৪ ব্রাক্ষসমাজ ও রামমোহন রায়    ৫ বিলেত যাত্রা    ৬ সংস্কার        ৬১ ধর্মীয় সংস্কার    ৭ শেষ জীবন    ৮ আরও দেখুন    ৯ তথ্যসূত্র    ১০ বহিঃসংযোগ    ১১ আরও দেখুনশৈশব ও শিক্ষামে ২২ ,১৭৭২ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে রামমোহন রায় জন্মগ্রহণ করেন এক সম্ভ্রান্ত কুলীন বন্দোপাধ্যায় ব্রাক্ষ্মণবংশে তাঁর বংশে অদ্ভুত বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায় প্রপিতামহ কৃষ্ণকান্ত ফারুখশিয়ারের আমলে বাংলার সুবেদারের আমিনের কার্য করতেন সেই সূত্রেই বোধ করি এদের রায় পদবীর ব্যবহার কৃষ্ণকান্তের কনিষ্ঠ পুত্র ব্রজবিনোদ রামমোহনের পিতামহ পিতা রামকান্ত রামকান্তের তিন বিবাহ মধ্যমা পত্নী তারিণীর এক কন্যা ও দুই পুত্রজগমোহন ও রামমোহন এঁদের বংশ ছিল বৈষ্ণব , কিন্তু রামমোহনের মাতা ছিলেন ঘোর তান্ত্রিক ঘরের কন্যা রামকান্ত পৈত্রিক এজমালি ভদ্রাসন ছেড়ে পার্শ্ববর্তী লাঙ্গুলপাড়া গ্রামে স্বপরিবারে উঠে যান তার পিতা রামকান্ত রায় ছিলেন বৈষ্ণবী এবং মাতা তারিণী দেবী ছিলেন শাক্ত পনেরোষোলো বছর বয়সে তিনি গৃহত্যাগ করে নানাস্থানে ঘোরেন কাশীতে ও পাটনায় কিছুকাল ছিলেন এবং নেপালে গিয়েছিলেন এর আগে তাঁর সঙ্গে তন্ত্রশাস্ত্রবেত্তা সুপণ্ডিত নন্দকুমার বিদ্যালঙ্কারের পরে হরিহরানন্দ তীর্থস্বামী কুলাবধূত নামে পরিচিত যোগাযোগ হয় রামমোহনের সংস্কৃতে বুৎপত্তি , তাঁর বেদান্তে অনুরাগ নন্দকুমারের সহযোগিতায় হয়েছিল ব্রক্ষ্মউপাসনায় প্রতিষ্ঠায় হরিহরানন্দই তাঁর দক্ষিণহস্ত ছিলেন বারাণসী থেকে প্রথাগত সংস্কৃত শিক্ষার পর তিনি পাটনা থেকে আরবী ও পারসী ভাষা শেখেন পরে তিনি ইংরেজী , গ্রীক ও হিব্রু ভাষাও শেখেনকর্মজীবনতরুণ বয়সে তিনি কলকাতায় মহাজনের কাজ করতেন ১৭৯৬ সালে রামমোহন অর্থোপার্জন শুরু করেন ১৮০৩ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারী ছিলেন কলকাতায় প্রায়ই আসতেন এবং কোম্পানির নবাগত অসামরিক কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাঁদের নানা বিষয়ে সাহায্য করেন এই সুযোগে ভালো করে ইংরেজি শিখে নেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাজে সিভিলিয়ান কর্মচারীদের মধ্যে জন ডিগবীর সঙ্গে তাঁর সর্বাধিক ঘনিষ্ঠতা হয় কোম্পানির কাজে ডিগবীর অধীনে তিনি দেওয়ানরূপে রংপুরে কাজ করেন ১৮০৩ থেকে ১৮১৪ সাল পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে তিনি দুবার ভূটান সীমান্তে যান কোম্পানির হয়ে দৌত্যকার্যে ডিগবীর সাহচর্যে তাঁর সমস্ত নূতন চিন্তা এই সময়ের মধ্যেই পরিপক্কতা লাভ করে ১৮১৫ খ্রীষ্টাব্দ থেকে রামমোহন কলকাতার স্থায়ী বাসিন্দা হন , এখন থেকেই প্রকাশ্যে তাঁর সংস্কারপ্রচেষ্টার শুরু তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ ফারসী ভাষায় লেখা ভূমিকা অংশ আরবীতে তুহফাতুল মুবাহ্ হিন্দীন বইটিতে একেশ্বরবাদের সমর্থন আছে এরপর একেশ্বরবাদ বা ব্রাহ্মবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য বেদান্তসূত্র ও তার সমর্থক উপনিষদগুলি বাংলার অনুবাদ করে প্রচার করতে থাকেন ১৮১৫ থেকে ১৮১৯ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে প্রকাশিত হয়ল বেদান্তগ্রন্থ , বেদান্তসার , কেনোপনিষদ , ঈশোপনিষদ , কঠোপনিষদ , মাণ্ডূক্যোপনিষদ ও মুণ্ডকোপনিষদ রক্ষণশীল ব্যক্তিরা ক্রুদ্ধ হয়ে তাঁর লেখার প্রতিবাদ দেখাতে লাগলেন এই সব প্রতিবাদ কটূক্তিপূর্ণ এবং বিদ্বেষ ভাবাপন্ন রামমোহনও প্রতিবাদের প্রতিবাদ করলেন যুক্তি দিয়ে ও ভদ্রভাষায় প্রতিবাদকর্তারা অবিলম্বে থেমে গিয়েছিলেন প্রতিবাদকর্তাদের মধ্যে প্রথম ও প্রধান ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার , এঁর গ্রন্থের নাম বেদান্তচন্দ্রিকা বেদান্তচন্দ্রিকার প্রতিবাদে রামমোহন ভট্টাচার্যের সহিত বিচার লিখে প্রতিবাদীদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বেদান্ত গ্রন্থ প্রকাশের সঙ্গে তিনি ব্রক্ষনিষ্ঠ একেশ্বর উপাসনার পথ দেখালেন আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করে এই আত্মীয় সভাকেই পরে তিনি ব্রাহ্মসমাজ নাম ও রূপ দেন সাহেবদের বাংলা শেখানোর জন্য তিনি বাংলা ও ইংরেজিতে ব্যাকরণ রচনা করেন ১সতীদাহ ও রামমোহন রায়বেদান্তউপনিষদগুলি বের করবার সময়ই তিনি সতীদাহ অশাস্ত্রীয় এবং নীতিবিগর্হিত প্রমাণ করে পুস্তিকা লিখলেন প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ প্রতিবাদে পুস্তিকা বের হল বিধায়ক নিষেধকের সম্বাদ তার প্রতিবাদে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুস্তিকা বের হয় এই বছরেই ডিসেম্বর মাসে আইন করে সহমরণরীতি নিষিদ্ধ করা হয় তবুও গোঁড়ারা চেষ্টা করতে লাগল যাতে পার্লামেন্টে বিষয়টি পুণর্বিবেচিত হয় এই চেষ্টায় বাধা দেবার জন্য রামমোহন বিলেত যেতে প্রস্তুত হলেনব্রাক্ষসমাজ ও রামমোহন রায়বেদান্তচন্দ্রিকার প্রতিবাদে রামমোহন ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিচার লিখে প্রতিবাদীদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছিলেন বেদান্ত গ্রন্থ প্রকাশের সঙ্গে তিনি ব্রহ্মনিষ্ঠ একেশ্বর উপাসনার পথ দেখান আত্মীয় সভা প্রতিষ্ঠা করে এই আত্মীয় সভাকেই পরে তিনি ব্রাক্ষসমাজ নামে নতুন রূপ দেনবিলেত যাত্রা১৮৩০ খ্রীষ্টাব্দের ১৯ নভেম্বর তিনি কলকাতা থেকে বিলেত যাত্রা করেন দিল্লীর বাদশাহ তাঁকে রাজা উপাধি দিয়ে ভার দেন বিলেতে গিয়ে রাজদরবারে বাদশাহের ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ করার ১৮৩১ খ্রীষ্টাব্দের ৮ এপ্রিল রামমোহন লিভারপুলে পৌঁছলেন সেখানে সম্ভ্রান্ত ও বিদ্বৎসমাজে তাঁর প্রচুর সমাদর হয়েছিল ১৮৩২ খ্রীষ্টাব্দের শেষের দিকে কিছুদিনের জন্য তিনি ফ্রান্সেও গিয়েছিলেনসংস্কারধর্মীয় সংস্কার    রামমোহন রায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন এই বিশ্বাস থেকে তিনি ব্রাহ্মসমাজ ও ব্রাহ্মধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন    রামমোহন রায় সকল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান মানতেন না ও তা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেন তিনি মনে করতেন সকল ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান কুসংস্কার ছাড়া কিছু নয়    রামমোহন রায় বেদের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করে তাঁর বক্তব্য প্রমাণ করেনশেষ জীবনরামমোহন রায় ১৮৩১ সালে মুঘল সাম্রাজ্যের দূত হিসেবে যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করেন , তিনি ফ্রান্সও পরিদর্শন করেছিলেন ১৮৩৩ সালে মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হয়ে ব্রিস্টলের কাছে স্টেপল্টনে মৃত্যুবরণ করেন ব্রিস্টলে আর্নস ভ্যাল সমাধিস্থলে তাঁকে কবর দেওয়া হয় ১৯৯৭ সালে মধ্য ব্রিস্টলে তাঁর একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়সুভাষচন্দ্র বসু এই শব্দ সম্পর্কে উচ্চারণ সাহায্যতথ্য জন্ম ২৩ জানুয়ারি , ১৮৯৭  তথাকথিত মৃত্যু ১৮ অগস্ট , ১৯৪৫ যদিও এই মত বিতর্কিত ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক কিংবদন্তি নেতা তিনি নেতাজি নামে সমধিক পরিচিতসুভাষচন্দ্র পরপর দুইবার ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন কিন্তু মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে আদর্শগত সংঘাত এবং কংগ্রেসের বৈদেশিক ও আভ্যন্তরিণ নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা১ করার জন্য তাঁকে পদত্যাগ করতে হয় সুভাষচন্দ্র মনে করতেন গান্ধীজির অহিংসার নীতি ভারতের স্বাধীনতা আনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয় এই কারণে তিনি সশস্ত্র বিদ্রোহের পক্ষপাতী ছিলেন সুভাষচন্দ্র ফরওয়ার্ড ব্লক নামক একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করে২ ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতের পূর্ণ ও সত্বর স্বাধীনতার দাবি জানাতে থাকেন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাঁকে এগারো বার কারারুদ্ধ করেছিল তাঁর বিখ্যাত উক্তি তোমরা আমাকে রক্ত দাও , আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেবোদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘোষিত হওয়ার পরেও তাঁর মতাদর্শের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি বরং এই যুদ্ধকে ব্রিটিশদের দুর্বলতার সুবিধা আদায়ের একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন যুদ্ধের সূচনালগ্নে তিনি লুকিয়ে ভারত ত্যাগ করে সোভিয়েত ইউনিয়ন , জার্মানি ও জাপান ভ্রমণ করে ভারতে ব্রিটিশদের আক্রমণ করার জন্য সহযোগিতা লাভের উদ্দেশ্যে জাপানিদের সহযোগিতায় তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ পুনর্গঠন করেন এবং পরে তার নেতৃত্ব দান করেন এই বাহিনী সৈনিকেরা ছিলেন মূলত ভারতীয় যুদ্ধবন্দী এবং ব্রিটিশ মালয় , সিঙ্গাপুর সহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলে কর্মরত মজুর জাপানের আর্থিক , রাজনৈতিক , কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তায় তিনি নির্বাসিত আজাদ হিন্দ সরকার প্রতিষ্ঠা করেন এবং আজাদ হিন্দ ফৌজের নেতৃত্বদান করে ব্রিটিশ মিত্রবাহিনীর বিরুদ্ধে ইম্ফল ও ব্রহ্মদেশে যুদ্ধ পরিচালনা করেনব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নাৎসি ও অন্যান্য যুদ্ধবাদী শক্তিগুলির সঙ্গে মিত্রতা স্থাপনের জন্য কোনো কোনো ঐতিহাসিক ও রাজনীতিবিদ সুভাষচন্দ্রের সমালোচনা করেছেন এমনকি কেউ কেউ তাঁকে নাৎসি মতাদর্শের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন বলে অভিযুক্ত করেছেন তবে ভারতে অন্যান্যরা তাঁর ইস্তাহারকে রিয়েলপোলিটিক নৈতিক বা আদর্শভিত্তিক রাজনীতির বদলে ব্যবহারিক রাজনীতিএর নিদর্শন বলে উল্লেখ করে তাঁর পথপ্রদর্শক সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবাদর্শের প্রতি সহানুভূতি পোষণ করেছেনউল্লেখ্য , কংগ্রেস কমিটি যেখানে ভারতের অধিরাজ্য মর্যাদা বা ডোমিনিয়ন স্ট্যাটাসের পক্ষে মত প্রদান করে , সেখানে সুভাষচন্দ্রই প্রথম ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার পক্ষে মত দেন জওহরলাল নেহরু সহ অন্যান্য যুবনেতারা তাঁকে সমর্থন করেন শেষপর্যন্ত জাতীয় কংগ্রেসের ঐতিহাসিক লাহোর অধিবেশনে কংগ্রস পূর্ণ স্বরাজ মতবাদ গ্রহণে বাধ্য হয় ভগৎ সিংহের ফাঁসি ও তাঁর জীবন রক্ষায় কংগ্রেস নেতাদের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ৩ সুভাষচন্দ্র গান্ধীআরউইন চুক্তি বিরোধী একটি আন্দোলন৪ শুরু করেন তাঁকে কারারুদ্ধ করে ভারত থেকে নির্বাসিত করা হয় নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তিনি ভারতে ফিরে এলে আবার তাঁকে কারারুদ্ধ করা হয়মনে করা হয় ১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইওয়ানে একটি বিমান দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয় তবে তাঁর এই তথাকথিত দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর বিরুদ্ধ প্রমাণও বিদ্যমানপরিচ্ছেদসমূহ    ১ প্রথম জীবন    ২ কর্মজীবন ও রাজনীতিতে প্রবেশ    ৩ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ    ৪ ভারত থেকে পলায়ন    ৫ ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী    ৬ রাজনৈতিক চিন্তাধারা    ৭ বিখ্যাত উক্তি    ৮ অন্তর্ধান ও তথাকথিত মৃত্যু    ৯ সম্মাননা    ১০ আরো দেখুন    ১১ পাদটীকা    ১২ অতিরিক্ত গ্রন্থপঞ্জি    ১৩ বহিঃসংযোগপ্রথম জীবন১৮৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি , বর্তমান ওড়িশা রাজ্যের কটক শহরে ওড়িয়া বাজার জন্মগ্রহণ করেন সুভাষচন্দ্র বসু তিনি ছিলেন কটকপ্রবাসী বিশিষ্ট বাঙালি আইনজীবী জানকীনাথ বসু ও প্রভাবতী দেবীর চোদ্দো সন্তানের মধ্যে নবম ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত সুভাষচন্দ্র একটি কটকের ইংরেজি স্কুলে পড়াশোনা করেন বর্তমানে এই স্কুলটির নাম স্টিওয়ার্ট স্কুল এরপর তাঁকে ভর্তি করা হয় কটকের রর্যাভেনশ কলেজিয়েট স্কুলে সুভাষচন্দ্র ছিলেন মেধাবী ছাত্র ১৯১১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলকাতা থেকে প্রথম স্থান অধিকার করেন তিনি ১৯১৮ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শনে সাম্মানিক সহ বিএ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হনএরপর সুভাষচন্দ্র কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজউইলিয়াম হলে উচ্চশিক্ষার্থে ভর্তি হন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ভাল নম্বর পেয়ে তিনি প্রায় নিয়োগপত্র পেয়ে যান কিন্তু বিপ্লবসচেতন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সেই নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করেন এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন , কোনো সরকারের সমাপ্তি ঘোষণা করার সর্বশ্রেষ্ঠ পন্থা হল তা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া এই সময় অমৃতসর হত্যাকাণ্ড ও ১৯১৯ সালের দমনমূলক রাওলাট আইন ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের বিক্ষুদ্ধ করে তুলেছিল ভারতে ফিরে সুভাষচন্দ্র স্বরাজ নামক সংবাদপত্রে লেখালিখি শুরু করেন এবং বঙ্গীয় প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির প্রচার দায়িত্বে নিযুক্ত হন তাঁর রাজনৈতিক গুরু ছিলেন বাংলায় উগ্র জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ৫ ১৯২৪ সালে দেশবন্ধু যখন কলকাতা পৌরসংস্থার মেয়র নির্বাচিত হন , তখন সুভাষচন্দ্র তাঁর অধীনে কর্মরত ছিলেন ১৯২৫ সালে অন্যান্য জাতীয়তাবাদীদের সঙ্গে তাঁকেও বন্দী করা হয় এবং মান্দালয়ে নির্বাসিত করা হয় এখানে তিনি যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়েছিলেন৬সুভাষচন্দ্র ছিলেন একজন ধর্মপ্রাণ হিন্দু তিনি ধ্যানে অনেক সময় অতিবাহিত করতেন৬ স্বামী বিবেকানন্দের ভাবাদর্শ তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেছিল৭ ছাত্রাবস্থা থেকে তিনি তাঁর দেশপ্রেমিক সত্ত্বার জন্য পরিচিত ছিলেনকর্মজীবন ও রাজনীতিতে প্রবেশবোস ১৯৩৯ এর সর্ব ভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সভা টনি মিত্র ছবি শ্লীলতাপ্রায় বিশ বছরের মধ্যে সুভাষ চন্দ্র মোট ১১ বার গ্রেফতার হয়েছিলেন তাকে ভারত ও রেঙ্গুনের বিভিন্ন জায়গায় রাখা হয়েছিল ১৯৩০ সালে তাকে ইউরোপে নির্বাসিত করা হয় ১৯৩৪ সালে তিনি তাঁর প্রথম প্রেম এমিলি সেচঙ্কল এর সাথে পরিচিত হন ভিয়েনাতে ১৯৩৭ সালে তারা ব্যাড গ্যাস্টিনে বিয়ে করেনতাঁর পিতার মৃত্যুর পর ব্রিটিশ সরকার তাকে শুধু মাত্র ধর্মীয় আচারঅনুষ্ঠান পালনের উদ্দ্যেশ কিচ্ছুক্ষণের জন্য কলকাতা আসার অনুমতি দেয়১৯৩৮ সালে তিনি গান্ধির বিরোধীতার মুখে ভারতীয় কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ১৯৩৯ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের জন্য ত্রিপুরা সেসনে কংগ্রেসের প্রসিডেন্ট নির্বাচিত হন এ নির্বাচনে গান্ধি পট্টভি সিতারামায়াকে সমর্থন দেন নির্বাচনের ফলাফল শোনার পর গান্ধি বলেন পট্টভির হার আমার হার কিন্তু জয়যুক্ত হলেও তিনি সুষ্ঠু ভাবে কার্য সম্পাদন করতে পারছেলেন না গান্ধীর অনুগামীরা তার কাজে বাধা সৃষ্টি করছেলেন গোবিন্দ বল্লভ পন্থ এইসময় একটি প্রস্তাব পেশ করেন যে , কার্যনির্বাহক পরিষদকে পুনর্গঠন করা হোক এভাবে সুভাষ চন্দ্র বসু এ নির্বাচনে জয় লাভ করলেও গান্ধির বিরোধীতার ফল স্বরুপ তাকে বলা হয় পদত্যাগ পত্র পেশ করতে নইলে কার্যনির্বাহি কমিটির সকল সদস্য পদত্যাগ করবে এ কারণে তিনি নিজেই কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেণ এবং অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করেন ১৯৩৮ সালে তিনি জাতীয় পরিকল্পনা পরিষদের প্রস্তাবনা দেনদ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধসুভাষ চন্দ্র বসু প্রস্তাব করলেন , কবে ব্রিটিশরা ভারতীয়দের স্বাধীনিতার অনুমোদন দেবে তার জন্য বসে না থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে সুবিধা নেওয়া উচিত তিনি বিশ্বাস করতেন ভারতবর্ষের স্বাধীনতা নির্ভর করে অন্য দেশের রাজনৈতিক , সামরিক ও কুটনৈতিক সমর্থনের উপর তাই তিনি ভারতের জন্য একটি সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার উদ্দ্যেগ গ্রহণ করেণভারত থেকে পলায়নভারতবর্ষের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ গ্রহণের ব্যাপারে সুভাষ বসু নাখোশ ছিলেন তিনি সে সময় গৃহ বন্দি ছিলেন তিনি বুঝতে পারলেন ব্রিটিশরা তাঁকে যুদ্ধের আগে ছাড়বে না তাই তিনি দুইটি মামলার বাকি থাকতেই আফগানিস্তান ও সোভিয়েত ইউনিয়ন হয়ে জার্মানী পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেন কিন্তু আফগানিস্তানের পশতু ভাষা না জানা থাকায় তিনি ফরওয়ার্ড ব্লকের উত্তরপশ্চিম সিমান্ত প্রদেশের নেতা মিয়া আকবর শাহকে তার সাথে নেন যেহেতু তিনি পশতু ভাষা জানতেন না তাই তাঁর ভয় ছিল , আফগানিস্তানবাসীরা তাকে ব্রিটিশ চর ভাবতে পারে তাই মিয়া আকবর শাহের পরামর্শে তিনি অধিবাসীদের কাছে নিজেকে একজন কালা ও বোবা বলে পরিচিত করেণ সেখান থেকে সুভাষ বসু মস্কো গমন করেন একজন ইতালির কাউন্ট অরল্যান্ডো মাজ্জোট্টা নামক এক নাগরিকের পরিচয়ে মস্কো থেকে রোম হয়ে তিনি জার্মানী পৌছেন তিনি বার্লিনে মুক্ত ভারতীয় কেন্দ্র    গড়ে তোলেন ভারতের স্বাধীনতার জন্য তিনি জার্মান চ্যান্সেলর এডলফ হিটলারের সাহায্য প্রার্থনা করেণ কিন্তু ভারতের স্বাধীনতার ব্যাপারে হিটলারের উদাসিনতা তার মনোবল ভেঙ্গে দেয় ফলে ১৯৪৩ সালে সুভাষ বসু জার্মান ত্যাগ করেণ একটি জার্মান সাবমেরিন তাকে সমুদ্রের তলদেশে একটি জাপানি সাবমেরিনে পৌছিয়ে দেয় , সেখান থেকে তিনি জাপান পৌছেনভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী    মূলত গড়ে উঠেছিল জাতীয়তাবাদী নেতা রাসবিহারী বসুর হাতে , ১৯৪৩ সালে রাসবিহারি বসু এই সেনাবাহিনীর দ্বায়িত্ব সুভাষ চন্দ্র বসুকে হস্তান্তর করেণ  একটি আলাদা নারী বাহিনী রানি লক্ষ্মীবাঈ কমব্যাট সহ এতে প্রায় ৮৫ ,০০০ হাজার সৈন্য ছিল এই বাহি্নীর কর্তৃত্ব ছিল প্রাদেশিক সরকারের হাতে , যার নাম দেওয়া হয় মুক্ত ভারতের প্রাদেশিক সরকার আরজি হুকুমাতইআজাদ হিন্দ এই সরকারের নিজস্ব মুদ্রা , আদালত ও আইন ছিল অক্ষ শক্তির ৯ টি দেশ এই সরকারকে স্বীকৃতি দান করে আইএনএর সৈন্যরা জাপানিজদের আরাকান ও মেইক্টিলার যুদ্ধে সাহায্য করেসুভাষ চন্দ্র বসু আশা করেছিলেন , ব্রিটিশদের উপর আইএনএর হামলার খবর শুনে বিপুল সংখ্যাক সৈন্য ভারতীয় সেনাবাহিনী থেকে হতাশ হয়ে আইএনএতে যোগ দেবে কিন্তু এই ব্যাপারটি তেমন ব্যাপকভাবে ঘটল না বিপরীতদিকে , যুদ্ধে পরিস্থিতির অবনতির সাথে সাথে জাপান তার সৈন্যদের আইএনএ থেকে সরিয়ে নিতে থাকে একই সময় জাপান থেকে অর্থের সরবরাহ কমে যায় অবশেষে , জাপানের আত্মস্বমর্পন এর সাথে সাথে আইএনএ ও আত্মসমর্পন করেরাজনৈতিক চিন্তাধারাসুভাষ চন্দ্র বসু ও মহাত্মা গান্ধিসুভাষ চন্দ্র বসু ও মোহাম্মদ আলী জিন্নাহবিখ্যাত উক্তিসুভাষ চন্দ্র বসুর সবচেয়ে বিখ্যাত উক্তি হল , তোমরা আমাকে রক্ত দাও , আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব হিন্দিতে , তুম মুঝে খুন দো , ম্যায় তুমহে আজাদি দুঙা ৪ জুলাই ১৯৪৪ সালে বার্মাতে এক র্যালিতে তিনি এই উক্তি করেণ তার আর একটি বিখ্যাত উক্তি হল ভারতের জয় জয় হিন্দ , যা কিনা পরবর্তিতে ভারত সরকার গ্রহণ করে নেয়অন্তর্ধান ও তথাকথিত মৃত্যুমূল নিবন্ধ নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর মৃত্যু রহস্যএকটি মতে নেতাজী সোভিয়েত রাশিয়ার কাছে বন্দী অবস্থায় , সাইবেরিয়াতে মৃত্যুবরণ করেনআর একটি মতে , বর্তমানে রেনকোজি মন্দিরে রাখা নেতাজির চিতাভষ্ম পরীক্ষা করে জানা গেছে ঐ চিতা ভস্ম নেতাজির নয় আসলে ভারতবর্ষে নেতাজির তুমুল জনপ্রিয়তায় ঈর্স্বানিত হয়ে একদল উঁচুতলার ভারতীয় নেতা এবং ইংরেজ সরকার মিলিত ভাবে ষড়যন্ত্র করে নেতাজীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়তাই ভারতীয় সরকার কখনো নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের প্রকৃত মৃত্যুর কারণ জনসমক্ষে আনেন নি অনেকের মতে ফোইজাবাদের ভগবান জি ওরফে গুনমানি বাবা হলেন নেতাজি কিন্তু এ ব্যাপারটি আজও স্পষ্ট নই আরেকটি মতে নেতাজী নাকি আজও জীবিতসম্মাননারবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুভাষচন্দ্রকে দেশনায়ক৮ আখ্যা দিয়ে তাসের দেশ নৃত্যনাট্যটি তাঁকে উৎসর্গ করেন উৎসর্গপত্রে লেখেন স্বদেশের চিত্তে নূতন প্রাণ সঞ্চার করবার পূণ্যব্রত তুমি গ্রহণ করেছ , সেই কথা স্মরণ করে তোমার নামে তাসের দেশ নাটিকা উৎসর্গ করলুম৯ আজাদ হিন্দ ফৌজের অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলেও , সুভাষচন্দ্রের শৌর্য ও আপোষহীন রণনীতি তাঁকে ভারতব্যাপী জনপ্রিয়তা দান করে নেতাজির জন্মদিন বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে একটি রাষ্ট্রীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় স্বাধীনতার পর কলকাতার একাধিক রাস্তা তাঁর নামে নামাঙ্কিত করা হয় বর্তমানে কলকাতার একমাত্র ইন্ডোর স্টেডিয়াম নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম তাঁর নামে নামাঙ্কিত নেতাজির জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে দমদম বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তিত করে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রাখা হয় তাঁর নামে কলকাতায় স্থাপিত হয় নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও নেতাজি সুভাষ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং দিল্লিতে স্থাপিত হয় নেতাজি সুভাষ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি কলকাতা মেট্রোর দুটি স্টেশন বর্তমানে নেতাজির নামাঙ্কিত নেতাজি ভবন পূর্বনাম ভবানীপুর ও নেতাজি পূর্বনাম কুঁদঘাটকাজী নজরুল ইসলাম উচ্চারণ    , মে ২৫ , ১৮৯৯আগস্ট ২৯ , ১৯৭৬ জ্যৈষ্ঠ ১১ , ১৩০৬ভাদ্র ১২ , ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় অগ্রণী বাঙালি কবি , উপন্যাসিক , নাট্যকার , সঙ্গীতজ্ঞ ও দার্শনিক যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত তিনি বাংলা সাহিত্য , সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখযোগ্য১ বাঙালী মণীষার এক তুঙ্গীয় নিদর্শন নজরুল তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক , দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ  দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত তাঁর কবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবি নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে তাঁর কবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের ওপর মানুষের অত্যাচার এবং সামাজিক অনাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ বিংশ শতাব্দীর বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামের মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম একাধারে কবি , সাহিত্যিক , সংগীতজ্ঞ , সাংবাদিক , সম্পাদক , রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাই ছিলেন সোচ্চার তাঁর কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে অগ্নিবীণা হাতে তাঁর প্রবেশ , ধূমকেতুর মতো তাঁর প্রকাশ যেমন লেখাতে বিদ্রোহী , তেমনই জীবনে  কাজেই বিদ্রোহী কবি , তাঁর জন্ম ও মৃত্যু বার্ষিকী বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উভয় বাংলাতে প্রতি বৎসর উদযাপিত হয়ে থাকেনজরুল এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তার প্রাথমিক শিক্ষা ছিল ধর্মীয় স্থানীয় এক মসজিদে সম্মানিত মুয়াযযিন হিসেবে কাজও করেছিলেন কৈশোরে বিভিন্ন থিয়েটার দলের সাথে কাজ করতে যেয়ে তিনি কবিতা , নাটক এবং সাহিত্য সম্বন্ধে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন এসময় তিনি কলকাতাতেই থাকতেন এসময় তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অবতীর্ণ হন প্রকাশ করেন বিদ্রোহী এবং ভাঙার গানের মত কবিতা ধূমকেতুর মত সাময়িকী জেলে বন্দী হলে পর লিখেন রাজবন্দীর জবানবন্দী , এই সব সাহিত্যকর্মে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ছিল সুস্পষ্ট ধার্মিক মুসলিম সমাজ এবং অবহেলিত ভারতীয় জনগণের সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক ছিল তার সাহিত্যকর্মে প্রাধান্য পেয়েছে ভালবাসা , মুক্তি এবং বিদ্রোহ ধর্মীয় লিঙ্গভেদের বিরুদ্ধেও তিনি লিখেছেন ছোট গল্প , উপন্যাস , নাটক লিখলেও তিনি মূলত কবি হিসেবেই বেশি পরিচিত বাংলা কাব্যে তিনি এক নতুন ধারার জন্ম দেন এটি হল ইসলামী সঙ্গীত তথা গজল , এর পাশাপাশি তিনি অনেক উৎকৃষ্ট শ্যামাসংগীত ও হিন্দু ভক্তিগীতিও রচনা করেন নজরুল প্রায় ৩০০০ গান রচনা এবং অধিকাংশে সুরারোপ করেছেন যেগুলো এখন নজরুল সঙ্গীত বা নজরুল গীতি নামে পরিচিত এবং বিশেষ জনপ্রিয় মধ্যবয়সে তিনি পিক্স ডিজিজে২ আক্রান্ত হন এর ফলে আমৃত্যু তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয় একই সাথে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে ১৯৭২ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকা আসেন এসময় তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তা প্রদান করা হয় এখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেনপরিচ্ছেদসমূহ    ১ জীবনী        ১১ জন্ম ও প্রাথমিক জীবন        ১২ সৈনিক জীবন        ১৩ সাংবাদিক জীবন ও বিয়ে        ১৪ বিদ্রোহী নজরুল        ১৫ অসুস্থতা        ১৬ বাংলাদেশে আগমন ও প্রয়াণ    ২ সাহিত্যকর্ম        ২১ কবিতা        ২২ সঙ্গীত        ২৩ গদ্য রচনা , গল্প ও উপন্যাস    ৩ রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দর্শন    ৪ সম্মান        ৪১ বাংলাদেশ        ৪২ ভারত    ৫ তথ্যসূত্র    ৬ আরো দেখুন    ৭ বহিঃসংযোগজীবনীজন্ম ও প্রাথমিক জীবন১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দের ২৪মে জ্যৈষ্ঠ ১১ , ১৩০৬ বঙ্গাব্দ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম১ চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসোল মহকুমার জামুরিয়া ব্লকে অবস্থিত পিতামহ কাজী আমিন উল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদের দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা খাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি তার বাবা ফকির আহমদ ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মাযারের খাদেম নজরুলের তিন ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ কাজী আলী হোসেন এবং দুই বোনের মধ্যে সবার বড় কাজী সাহেবজান ও কনিষ্ঠ উম্মে কুলসুম কাজী নজরুল ইসলামের ডাক নাম ছিল দুখু মিয়া নজরুল গ্রামের স্থানীয় মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ করেন মক্তবে মসজিদ পরিচালিত মুসলিমদের ধর্মীয় স্কুল কুরআন , ইসলাম ধর্ম , দর্শন এবং ইসলামী ধর্মতত্ত্ব অধ্যয়ন শুরু করেন ১৯০৮ সালে তার পিতার মৃত্যু হয় , তখন তার বয়স মাত্র নয় বছর পিতার মৃত্যুর পর পারিবারিক অভাবঅনটনের কারণে তার শিক্ষাজীবন বাঁধাগ্রস্থ হয় এবং মাত্র দশ বছর বয়সে তিনি জীবিকা অর্জ্জনের জন্য কাজে নামতে হয় তাকে৩ এসময় নজরুল মক্তব থেকে নিম্ন মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মক্তবেই শিক্ষকতা শুরু করেন একই সাথে হাজী পালোয়ানের কবরের সেবক এবং মসজিদের মুয়াযযিন আযান দাতা হিসেবে কাজ শুরু করেন এইসব কাজের মাধ্যমে তিনি অল্প বয়সেই ইসলামের মৌলিক আচারঅনুষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত হবার সুযোগ পান যা পরবর্তীকালে তার সাহিত্যকর্মে বিপুলভাবে প্রভাবিত ফেলে১ তিনিই বাংলা সাহিত্যে ইসলামী চেতনার চর্চা শুরু করেছেন বলা যায়১মক্তব , মসজিদ ও মাজারের কাজে নজরুল বেশি দিন ছিলেন না বাল্য বয়সেই লোকশিল্পের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা , গান ও নৃত্যের মিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমান নাট্যদল৪ দলে যোগ দেন তার চাচা কাজী বজলে করিম চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো দলের বিশিষ্ট ওস্তাদ ছিলেন এবং আরবি , ফার্সি ও উর্দূ ভাষায় তার দখল ছিল এছাড়া বজলে করিম মিশ্র ভাষায় গান রচনা করতেন ধারণা করা হয় , বজলে করিমের প্রভাবেই নজরুল লেটো দলে যোগ দিয়েছিলেন এছাড়া ঐ অঞ্চলের জনপ্রিয় লেটো কবি শেখ চকোর গোদা কবি এবং কবিয়া বাসুদেবের লেটো ও কবিগানের আসরে নজরুল নিয়মিত অংশ নিতেন লেটো দলেই সাহিত্য চর্চা শুরু হয় এই দলের সাথে তিনি বিভিন্ন স্থানে যেতেন , তাদের সাথে অভিনয় শিখতেন এবং তাদের নাটকের জন্য গান ও কবিতা লিখতেন নিজ কর্ম এবং অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বাংলা এবং সংস্কৃত সাহিত্য অধ্যয়ন শুরু করেন একইসাথে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অর্থাৎ পুরাণসমূহ অধ্যয়ন করতে থাকেন সেই অল্প বয়সেই তার নাট্যদলের জন্য বেশকিছু লোকসঙ্গীত রচনা করেন এর মধ্যে রয়েছে চাষার সঙ , শকুনীবধ , রাজা যুধিষ্ঠিরের সঙ , দাতা কর্ণ , আকবর বাদশাহ , কবি কালিদাস , বিদ্যাভূতুম , রাজপুত্রের গান , বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ এবং মেঘনাদ বধ১ একদিকে মসজিদ , মাজার ও মক্তব জীবন , অপর দিকে লেটো দলের বিচিত্র অভিজ্ঞতা নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের অনেক উপাদান সরবরাহ করেছে নজরুল কালীদেবিকে নিয়ে প্রচুর শ্যামা সঙ্গিত ও রচনা করেন , নজরুল তার শেষ ভাষনে উল্লেখ্য করেন   কেউ বলেন আমার বানী যবন কেউ বলেন কাফের আমি বলি ও দুটোর কোনটাই না আমি শুধু হিন্দু মুসলিম কে এক জায়গায় ধরে নিয়ে হ্যান্ডশেক করানোর চেষ্টা করেছি , গালাগালি কে গলাগলি তে পরিণত করার চেষ্টা করেছি ১৯১০ সালে নজরুল লেটো দল ছেড়ে ছাত্র জীবনে ফিরে আসেন লেটো দলে তার প্রতিভায় সকলেই যে মুগ্ধ হয়েছিল তার প্রমাণ নজরুল লেটো ছেড়ে আসার পর তাকে নিয়ে অন্য শিষ্যদের রচিত গান আমরা এই অধীন , হয়েছি ওস্তাদহীন  ভাবি তাই নিশিদিন , বিষাদ মনে  নামেতে নজরুল ইসলাম , কি দিব গুণের প্রমাণ , এই নতুন ছাত্রজীবনে তার প্রথম স্কুল ছিল রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুল , এরপর ভর্তি হন মাথরুন উচ্চ ইংরেজি স্কুলে যা পরবর্তীতে নবীনচন্দ্র ইনস্টিটিউশন নামে পরিচিতি লাভ করে মাথরুন স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ছিলেন কুমুদরঞ্জন মল্লিক যিনি সেকালের বিখ্যাত কবি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তার সান্নিধ্য নজরুলের অনুপ্রেরণার একটি উৎস কুমুদরঞ্জন স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে নজরুল সম্বন্ধে লিখেছেন , ছোট সুন্দর ছনমনে ছেলেটি , আমি ক্লাশ পরিদর্শন করিতে গেলে সে আগেই প্রণাম করিত আমি হাসিয়া তাহাকে আদর করিতাম সে বড় লাজুক ছিল যাহোক , আর্থিক সমস্যা তাকে বেশী দিন এখানে পড়াশোনা করতে দেয়নি ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর তাকে আবার কাজে ফিরে যেতে হয় প্রথমে যোগ দেন বাসুদেবের কবিদলে এর পর একজন খ্রিস্টান রেলওয়ে গার্ডের খানসামা এবং সবশেষে আসানসোলের চারুটির দোকানে রুটি বানানোর কাজ নেন এভাবে বেশ কষ্টের মাঝেই তার বাল্য জীবন অতিবাহিত হতে থাকে এই দোকানে কাজ করার সময় আসানসোলের দারোগা রফিজউল্লাহর সাথে তার পরিচয় হয় দোকানে একা একা বসে নজরুল যেসব কবিতা ও ছড়া রচনা করতেন তা দেখে রফিজউল্লাহ তার প্রতিভার পরিচয় পান তিনিই নজরুলকে ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশালের দরিরামপুর স্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে ভর্তি করে দেন ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি আবার রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুলে ফিরে যান এবং সেখানে অষ্টম শ্রেণী থেকে পড়াশোনা শুরু করেন ১৯১৭ সাল পর্যন্ত এখানেই পড়াশোনা করেন ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে মাধ্যমিকের প্রিটেস্ট পরীক্ষার না দিয়ে তিনি সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন এই স্কুলে অধ্যয়নকালে নজরুল এখানকার চারজন শিক্ষক দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন এরা হলেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের সতীশচন্দ্র কাঞ্জিলাল , বিপ্লবী চেতনা বিশিষ্ট নিবারণচন্দ্র ঘটক , ফার্সি সাহিত্যের হাফিজ নুরুন্নবী এবং সাহিত্য চর্চার নগেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়১সৈনিক জীবনসেনাবাহিনীতে নজরুল১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে নজরুল সেনাবাহিনীতে যোগ দেন প্রথমে কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামে এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষণের জন্য সীমান্ত প্রদেশের নওশেরায় যান প্রশিক্ষণ শেষে করাচি সেনানিবাসে সৈনিক জীবন কাটাতে শুরু করেন তিনি সেনাবাহিনীতে ছিলেন ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগ থেকে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের মার্চএপ্রিল পর্যন্ত , অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর এই সময়ের মধ্যে তিনি ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্টের সাধারণ সৈনিক কর্পোরাল থেকে কোয়ার্টার মাস্টার হাবিলদার পর্যন্ত হয়েছিলেন উক্ত রেজিমেন্টের পাঞ্জাবী মৌলবির কাছে তিনি ফার্সি ভাষা শিখেন এছাড়া সহসৈনিকদের সাথে দেশীবিদেশী বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র সহযোগে সঙ্গীতের চর্চা অব্যাহত রাখেন , আর গদ্যপদ্যের চর্চাও চলতে থাকে একই সাথে করাচি সেনানিবাসে বসে নজরুল যে রচনাগুলো সম্পন্ন করেন তার মধ্যে রয়েছে , বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী প্রথম গদ্য রচনা , মুক্তি প্রথম প্রকাশিত কবিতা গল্প হেনা , ব্যথার দান , মেহের নেগার , ঘুমের ঘোরে , কবিতা সমাধি ইত্যাদি এই করাচি সেনানিবাসে থাকা সত্ত্বেও তিনি কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকার গ্রাহক ছিলেন এর মধ্যে রয়েছে প্রবাসী , ভারতবর্ষ , ভারতী , মানসী , মর্ম্মবাণী , সবুজপত্র , সওগাত এবং বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা এই সময় তার কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এবং ফার্সি কবি হাফিজের কিছু বই ছিল এ সূত্রে বলা যায় নজরুলের সাহিত্য চর্চার হাতেখড়ি এই করাচি সেনানিবাসেই সৈনিক থাকা অবস্থায় তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেন এ সময় নজরুলের বাহিনীর ইরাক যাবার কথা ছিল কিন্তু যুদ্ধ থেমে যাওয়ায় আর যাননি ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে যুদ্ধ শেষ হলে ৪৯ বেঙ্গল রেজিমেন্ট ভেঙে দেয়া হয় এর পর তিনি সৈনিক জীবন ত্যাগ করে কলকাতায় ফিরে আসেনসাংবাদিক জীবন ও বিয়েযুদ্ধ শেষে কলকাতায় এসে নজরুল ৩২ নং কলেজ স্ট্রিটে বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে বসবাস শুরু করেন তার সাথে থাকতেন এই সমিতির অন্যতম কর্মকর্তা মুজফ্ফর আহমদ এখান থেকেই তার সাহিত্যসাংবাদিকতা জীবনের মূল কাজগুলো শুরু হয় প্রথম দিকেই মোসলেম ভারত , বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা , উপাসনা প্রভৃতি পত্রিকায় তার কিছু লেখা প্রকাশিত হয় এর মধ্যে রয়েছে উপন্যাস বাঁধন হারা এবং কবিতা বোধন , শাতইলআরব , বাদল প্রাতের শরাব , আগমনী , খেয়াপারের তরণী , কোরবানি , মোহরর্ম , ফাতেহাইদোয়াজ্দম্ , এই লেখাগুলো সাহিত্য ক্ষেত্রে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এর প্রেক্ষিতে কবি ও সমালোচক মোহিতলাল মজুমদার মোসলেম ভারত পত্রিকায় তার খেয়াপারের তরণী এবং বাদল প্রাতের শরাব কবিতা দুটির প্রশংসা করে একটি সমালোচনা প্রবন্ধ লিখেন এ থেকেই দেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও সমালোচকদের সাথে নজরুলের ঘনিষ্ঠ পরিচয় শুরু হয় বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে কাজী মোতাহার হোসেন , মোজাম্মেল হক , কাজী আবদুল ওদুদ , মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ , আফজালুল হক প্রমুখের সাথে পরিচয় হয় তৎকালীন কলকাতার দুটি জনপ্রিয় সাহিত্যিক আসর গজেনদার আড্ডা এবং ভারতীয় আড্ডায় অংশগ্রহণের সুবাদে পরিচিত হন অতুলপ্রসাদ সেন , অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর , সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত , প্রেমাঙ্কুর আতর্থী , শিশির ভাদুড়ী , শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , নির্মেলন্দু লাহিড়ী , ধুর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় , হেমেন্দ্রকুমার রায় , দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর , চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় , ওস্তাদ করমতুল্লা খাঁ প্রমুখের সাথে ১৯২১ সালের অক্টোবর মাসে তিনি শান্তিনিকেতনে যেয়ে রবীন্দ্রনাথের সাথে সাক্ষাৎ করেন তখন থেকে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু পর্যন্ত তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় ছিল কাজী মোতাহার হোসেনের সাথে নজরুলের বিশেষ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেতরুণ নজরুল১৯২০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই ১২ তারিখে নবযুগ নামক একটি সান্ধ্য দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত হওয়া শুরু করে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন শেরেবাংলা একে ফজলুল হক এই পত্রিকার মাধ্যমেই নজরুল নিয়মিত সাংবাদিকতা শুরু করেন ঐ বছরই এই পত্রিকায় মুহাজিরীন হত্যার জন্য দায়ী কে শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেন যার জন্য পত্রিকার জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং নজরুলের উপর পুলিশের নজরদারী শুরু হয় যাই হোক সাংবাদিকতার মাধ্যমে তিনি তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান একইসাথে মুজফ্ফর আহমদের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক সভাসমিতিতে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতি বিষয়ে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলেন বিভিন্ন ছোটখাটো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কবিতা ও সঙ্গীতের চর্চাও চলছিল একাধারে তখনও তিনি নিজে গান লিখে সুর দিতে শুরু করেননি তবে ব্রাহ্মসমাজের সঙ্গীতজ্ঞ মোহিনী সেনগুপ্তা তার কয়েকটি কবিতায় সুর দিয়ে স্বরলিপিসহ পত্রিকায় প্রকাশ করছিলেন এর মধ্যে রয়েছে হয়তো তোমার পাব দেখা , ওরে এ কোন স্নেহসুরধুনী সওগাত পত্রিকার ১৩২৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ সংখ্যায় তার প্রথম গান প্রকাশিত হয় গানটি ছিল বাজাও প্রভু বাজাও ঘন ১৯২১ সালের এপ্রিলজুন মাসের দিকে নজরুল মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে গ্রন্থ প্রকাশক আলী আকবর খানের সাথে পরিচিত হন তার সাথেই তিনি প্রথম কুমিল্লার বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে আসেন আর এখানেই পরিচিত হন প্রমীলা দেবীর সাথে যার সাথে তার প্রথমে পরিণয় ও পরে বিয়ে হয়েছিলতবে এর আগে নজরুলের বিয়ে ঠিক হয় আলী আকবর খানের ভগ্নী নার্গিস আসার খানমের সাথে বিয়ের আখত সম্পন্ন হবার পরে কাবিনের নজরুলের ঘর জামাই থাকার শর্ত নিয়ে বিরোধ বাধে নজরুল ঘর জামাই থাকতে অস্বীকার করেন এবং বাসর সম্পন্ন হবার আগেই নার্গিসকে রেখে কুমিল্লা শহরে বিরজাসুন্দরী দেবীর বাড়িতে চলে যান তখন নজরুল খুব অসুস্থ ছিলেন এবং প্রমিলা দেবী নজরুলের পরিচর্যা করেন এক পর্যায়ে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন৫নজরুল সাম্যবাদের একজন অগ্রদূত ছিলেন তিনি মুসলিম হয়েও চার সন্তানের নাম হিন্দু এবং মুসলিম উভয় নামেই নামকরন করেন যেমনঃ কৃষ্ণ মুহাম্মদ , অরিন্দম খালেদ বুলবুল , কাজী সব্যসাচী এবং কাজী অনিরুদ্ধ৬বিদ্রোহী নজরুলতখন দেশজুড়ে অসহযোগ আন্দোলন বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করে নজরুল কুমিল্লা থেকে কিছুদিনের জন্য দৌলতপুরে আলী আকবর খানের বাড়িতে থেকে আবার কুমিল্লা ফিরে যান ১৯ জুনে এখানে যতদিন ছিলেন ততদিনে তিনি পরিণত হন একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মীতে তাঁর মূল কাজ ছিল শোভাযাত্রা ও সভায় যোগ দিয়ে গান গাওয়া তখনকার সময়ে তার রচিত ও সুরারোপিত গানগুলির মধ্যে রয়েছে এ কোন পাগল পথিক ছুটে এলো বন্দিনী মার আঙ্গিনায় , আজি রক্তনিশি ভোরে একি এ শুনি ওরে মুক্তিকোলাহল বন্দীশৃঙ্খলে প্রভৃতি এখানে ১৭ দিন থেকে তিনি স্থান পরিবর্তন করেছিলেন ১৯২১ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে আবার কুমিল্লায় ফিরে যান ২১ নভেম্বর ছিল সমগ্র ভারতব্যাপী হরতাল এ উপলক্ষে নজরুল আবার পথে নেমে আসেন অসহযোগ মিছিলের সাথে শহর প্রদক্ষিণ করেন আর গান করেন , ভিক্ষা দাও ভিক্ষা দাও ফিরে চাও ওগো পুরবাসী নজরুলের এ সময়কার কবিতা , গান ও প্রবন্ধের মধ্যে বিদ্রোহের ভাব প্রকাশিত হয়েছে এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে বিদ্রোহী নামক কবিতাটি বিদ্রোহী কবিতাটি ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয় এবং সারা ভারতের সাহিত্য সমাজে খ্যাতিলাভ করে এই কবিতায় নজরুল নিজেকে বর্ণনা করেনঃ আমি বঞ্চিত ব্যথা পথবাসী চির গৃহহারা যত পথিকের ,আমি অবমানিতের মরম বেদনা , বিষ জ্বালা , চির লাঞ্ছিত বুকে গতি ফেরআমি অভিমানী চির ক্ষুব্ধ হিয়ার কাতরতা , ব্যথা সুনিবিড় ,চিত চুম্বনচোরকম্পন আমি থরথরথর প্রথম প্রকাশ কুমারীর আমি গোপন প্রিয়ার চকিত চাহনি , ছল করে দেখা অনুখন ,আমি চপল মেয়ের ভালবাসা তার কাকন চুড়ির কনকন মহা বিদ্রোহী রণক্লান্তআমি সেই দিন হব শান্তযবে উৎপীড়িতের ক্রন্দনরোল আকাশেবাতাসে ধ্বনিবে না ,অত্যাচারীর খড়ুগ কৃপাণ ভীম রণ , ভূমে রণিবে নাবিদ্রোহী রণক্লান্তআমি সেই দিন হব শান্তআমি চির বিদ্রোহী বীর বিশ্ব ছাড়ায়ে উঠিয়াছি একা চির উন্নত শির ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ই আগস্ট নজরুল ধূমকেতু পত্রিকা প্রকাশ করে এটি সপ্তাহে দুবার প্রকাশিত হতো ১৯২০এর দশকে অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন এক সময় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এর পরপর স্বরাজ গঠনে যে সশস্ত্র বিপ্লববাদের আবির্ভাব ঘটে তাতে ধূমকেতু পত্রিকার বিশেষ অবদান ছিল এই পত্রিকাকে আশীর্বাদ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন , কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু , আয় চলে আয়রে ধূমকেতুআঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু , দুর্দিনের এই দুর্গশিরে উড়িয়ে দে তোর বিজয় কেতনপত্রিকার প্রথম পাতার শীর্ষে এই বাণী লিখা থাকতো পত্রিকার ২৬ সেপ্টেম্বর , ১৯২২ সংখ্যায় নজরুলের কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হয় এই রাজনৈতিক কবিতা প্রকাশিত হওয়ায় ৮ নভেম্বর পত্রিকার উক্ত সংখ্যাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় একই বছরের ২৩ নভেম্বর তার যুগবাণী প্রবন্ধগ্রন্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং একই দিনে তাকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয় গ্রেফতারের পর তাকে কুমিল্লা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয় ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের ৭ জানুয়ারি নজরুল বিচারাধীন বন্দী হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে এক জবানবন্দী প্রদান করেন চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে এই জবানবন্দী দিয়েছিলেন তার এই জবানবন্দী বাংলা সাহিত্যে রাজবন্দীর জবানবন্দী নামে বিশেষ সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করেছে এই জবানবন্দীতে নজরুল বলেছেন আমার উপর অভিযোগ , আমি রাজবিদ্রোহী তাই আমি আজ রাজকারাগারে বন্দি এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত আমি কবি ,আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য , অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত কবির কণ্ঠে ভগবান সাড়া দেন , আমার বাণী সত্যের প্রকাশিকা ভগবানের বাণী সেবাণী রাজবিচারে রাজদ্রোহী হতে পারে , কিন্তু ন্যায়বিচারে সে বাণী ন্যায়দ্রোহী নয় , সত্যাদ্রোহী নয় সত্যের প্রকাশ নিরুদ্ধ হবে না আমার হাতের ধূমকেতু এবার ভগবানের হাতের অগ্নিমশাল হয়ে অন্যায় অত্যাচার দগ্ধ করবে১৬ জানুয়ারি বিচারের পর নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় নজরুলকে আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয় এখানে যখন বন্দী জীবন কাটাচ্ছিলেন তখন ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি ২২ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তার বসন্ত গীতিনাট্য গ্রন্থটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন এতে নজরুল বিশেষ উল্লসিত হন এই আনন্দে জেলে বসে আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে কবিতাটি রচনা করেনঅসুস্থতা১৯৪০ সালে ৪২ বছর বয়সী নজরুলনবযুগে সাংবাদিকতার পাশাপাশি নজরুল বেতারে কাজ করছিলেন এমন সময়ই অর্থাৎ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এতে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন তার অসুস্থতা সম্বন্ধে সুষ্পষ্টরুপে জানা যায় ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে এরপর তাকে মূলত হোমিওপ্যাথি এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা করানো হয় কিন্তু এতে তার অবস্থার তেমন কোন উন্নতি হয়নি সেই সময় তাকে ইউরোপে পাঠানো সম্ভব হলে নিউরো সার্জারি করা হত কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তা সম্ভব হয়ে উঠেনি ১৯৪২ সালের শেষের দিকে তিনি মানসিক ভারসাম্যও হারিয়ে ফেলেন এরপর নজরুল পরিবার ভারতে নিভৃত সময় কাটাতে থাকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তারা নিভৃতে ছিলেন ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে কবি ও কবিপত্নীকে রাঁচির এক মানসিক হাসপাতালে পাঠানো হয় এই উদ্যোগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল নজরুলের আরোগ্যের জন্য গঠিত একটি সংগঠন যার নাম ছিল নজরুল চিকিৎসা কমিটি , এছাড়া তৎকালীন ভারতের বিখ্যাত রাজনীতিবিদ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি সহযোগিতা করেছিলেন কবি চার মাস রাঁচিতে ছিলেনএরপর ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে নজরুল ও প্রমীলা দেবীকে চিকিৎসার জন্য লন্ডন পাঠানো হয় মে ১০ তারিখে লন্ডনের উদ্দেশ্যে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশন ছাড়েন লন্ডন পৌঁছানোর পর বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার রোগ নির্ণয়ের চেষ্টা করেন এদের মধ্যে ছিলেন রাসেল ব্রেইন , উইলিয়াম সেজিয়েন্ট এবং ম্যাককিস্ক তারা তিনবার নজরুলের সাথে দেখা করেন প্রতিটি সেশনের সময় তারা ২৫০ পাউন্ড করে পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন রাসেল ব্রেইনের মতে নজরুলের রোগটি ছিল দুরারোগ্য বলতে গেলে আরোগ্য করা ছিল ছিল অসম্ভব একটি গ্রুপ নির্ণয় করেছিল যে নজরুল ইনভল্যুশনাল সাইকোসিস রোগে ভুগছেন এছাড়া কলকাতায় বসবাসরত ভারতীয় চিকিৎসকরাও আলাদা একটি গ্রুপ তৈরি করেছিলেন উভয় গ্রুপই এই ব্যাপারে একমত হয়েছিল যে , রোগের প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসা ছিল খুবই অপ্রতুল ও অপর্যাপ্ত লন্ডনে অবস্থিত লন্ডন ক্লিনিকে কবির এয়ার এনসেফালোগ্রাফি নামক এক্সরে করানো হয় এতে দেখা যায় তার মস্তিষ্কের ফ্রন্টাল লোব সংকুচিত হয়ে গেছে ড ম্যাককিস্কের মত বেশ কয়েকজন চিকিৎসক একটি পদ্ধতি প্রয়োগকে যথোপযুক্ত মনে করেন যার নাম ছিল ম্যাককিস্ক অপারেশন অবশ্য ড ব্রেইন এর বিরোধিতা করেছিলেনএই সময় নজরুলের মেডিকেল রিপোর্ট ভিয়েনার বিখ্যাত চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো হয় এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও পাঠানে হয়েছিল জার্মানির বন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোসার্জন অধ্যাপক রোঁয়েন্টগেন ম্যাককিস্ক অপারেশনের বিরোধিতা করেন ভিয়েনার চিকিৎসকরাও এই অপারেশনের ব্যাপারে আপত্তি জানান তারা সবাই এক্ষেত্রে অন্য আরেকটি পরীক্ষার কথা বলেন যাতে মস্তিষ্কের রক্তবাহগুলির মধ্যে এক্সরেতে দৃশ্যমান রং ভরে রক্তবাহগুলির ছবি তোলা হয় সেরিব্রাল অ্যানজিওগ্রাফি কবির শুভাকাঙ্খীদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক তাকে ভিয়েনার চিকিৎসক ডঃ হ্যান্স হফের অধীনে ভর্তি করানো হয় এই চিকিৎসক নোবেল বিজয়ী চিকিৎসক জুলিয়াস ওয়েগনারজাউরেগের অন্যতম ছাত্র ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর কবিকে পরীক্ষা করানো হয় এর ফলাফল থেকে ড হফ বলেন যে , কবি নিশ্চিতভাবে পিক্স ডিজিজ নামক একটি নিউরন ঘটিত সমস্যায় ভুগছেন এই রোগে আক্রান্তদের মস্তিষের ফ্রন্টাল ও পার্শ্বীয় লোব সংকুচিত হয়ে যায় তিনি আরও বলেন বর্তমান অবস্থা থেকে কবিকে আরোগ্য করে তোলা অসম্ভব ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ২৭ ডিসেম্বর তারিখে কলকাতার দৈনিক যুগান্তর পত্রিকা ভিয়েনায় নজরুল নামে একটি প্রবন্ধ ছাপায় যার লেখক ছিলেন ডঃ অশোক বাগচি তিনি উচ্চ শিক্ষার জন্য ভিয়েনায় অবস্থান করছিলেন এবং নজরুলের চিকিৎসা সম্বন্ধে প্রত্যক্ষ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন যাহোক , ব্রিটিশ চিকিৎসকরা নজরুলের চিকিৎসার জন্য বড় অংকের ফি চেয়েছিল যেখানে ইউরোপের অন্য অংশের কোন চিকিৎসকই ফি নেননি অচিরেই নজরুল ইউরোপ থেকে দেশে ফিরে আসেন এর পরপরই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায় ভিয়েনা যান এবং ড হ্যান্স হফের কাছে বিস্তারিত শোনেন নজরুলের সাথে যারা ইউরোপ গিয়েছিলেন তারা সবাই ১৯৫৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর রোম থেকে দেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন৭বাংলাদেশে আগমন ও প্রয়াণঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে অন্তিম শয়নে কবি নজরুল ইসলাম১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালিদের বিজয় লাভের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে তারিখে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয় বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন কবির বাকি জীবন বাংলাদেশেই কাটে বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের ৯ ডিসেম্বর তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধিতে ভূষিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমাবর্তনে তাকে এই উপাধি প্রদান করা হয় ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারিতে তাকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয় একুশে পদক বাংলাদেশের সবচেয়ে সম্মানসূচক পদক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকেএরপর যথেষ্ট চিকিৎসা সত্ত্বেও নজরুলের স্বাস্থ্যের বিশেষ কোন উন্নতি হয়নি ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে কবির সবচেয়ে ছোট ছেলে এবং বিখ্যাত গিটার বাদক কাজী অনিরুদ্ধ মৃত্যুবরণ করে ১৯৭৬ সালে নজরুলের স্বাস্থ্যেরও অবনতি হতে শুরু করে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দের ২৯ আগস্ট তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন নজরুল তার একটি গানে লিখেছেন , মসজিদেরই কাছে আমায় কবর দিয়ো ভাই  যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই কবির এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনা করে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তাঁর সমাধি রচিত হয়তাঁর জানাজার নামাযে ১০ হাজারের মত মানুষ অংশ নেয় জানাজা নামায আদায়ের পর রাষ্ট্রপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম , মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান , রিয়াল এডমিরাল এম এইচ খান , এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ , মেজর জেনারেল দস্তগীর জাতীয় পতাকা মন্ডিত নজরুলের মরদেহ বহন করে সোহরাওয়ার্দী ময়দান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গনে নিয়ে যান৮ বাংলাদেশে তাঁর মৃত্যু উপলক্ষ্যে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালিত হয় আর ভারতের আইনসভায় কবির সম্মানে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়সাহিত্যকর্মমূল নিবন্ধ নজরুল রচনা তালিকাবাংলা ভাষার উইকিসংকলনে এই নিবন্ধ বা অনুচ্ছেদ সম্পর্কিত মৌলিক রচনা রয়েছে লেখককাজী নজরুল ইসলামকবিতামূল নিবন্ধ নজরুলের কবিতা১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে কুমিল্লা থেকে কলকাতা ফেরার পথে নজরুল দুটি বৈপ্লবিক সাহিত্যকর্মের জন্ম দেন এই দুটি হচ্ছে বিদ্রোহী কবিতা ও ভাঙ্গার গান সঙ্গীত এগুলো বাংলা কবিতা ও গানের ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছিল বিদ্রোহী কবিতার জন্য নজরুল সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন একই সময় রচিত আরেকটি বিখ্যাত কবিতা হচ্ছে কামাল পাশা এতে ভারতীয় মুসলিমদের খিলাফত আন্দোলনের অসারতা সম্বন্ধে নজরুলে দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমকালীন আন্তর্জাতিক ইতিহাসচেতনার পরিচয় পাওয়া যায় ১৯২২ সালে তার বিখ্যাত কবিতাসংকলন অগ্নিবীণা প্রকাশিত হয় এই কাব্যগ্রন্থ বাংলা কবিতায় একটি নতুনত্ব সৃষ্টিতে সমর্থ হয় , এর মাধ্যমেই বাংলা কাব্যের জগতে পালাবদল ঘটে প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে গিয়েছিল পরপর এর কয়েকটি নতুন সংস্করণ প্রকাশিত হয় এই কাব্যগ্রন্থের সবচেয়ে সাড়া জাগানো কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রলয়োল্লাস , আগমনী , খেয়াপারের তরণী , শাতইল্আরব , বিদ্রোহী , কামাল পাশা ইত্যাদি এগুলো বাংলা কবিতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল তাঁর শিশুতোষ কবিতা বাংলা কবিতায় এনেছে নান্দনিকতা খুকী ও কাঠবিড়ালি  , লিচুচোর  , খাঁদুদাদু ইত্যাদি তারই প্রমান কবি তার মানুষ কবিতায় বলেছিলেন পূজিছে গ্রন্থ ভন্ডের দল মূর্খরা সব শোন মানুষ এনেছে গ্রন্থ , গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনতিনি কালী দেবিকে নিয়ে অনেক শ্যামা সঙ্গিত রচনা করেন , ইসলামী গজলও রচনা করেন সঙ্গীতমূল নিবন্ধ নজরুলগীতিনজরুলের গানের সংখ্যা চার হাজারের অধিক নজরুলের গান নজরুল সঙ্গীত নামে পরিচিতগদ্য রচনা , গল্প ও উপন্যাসনজরুলের প্রথম গদ্য রচনা ছিল বাউণ্ডুলের আত্মকাহিনী ১৯১৯ সালের মে মাসে এটি সওগাত পত্রিকায় প্রকাশিত হয় সৈনিক থাকা অবস্থায় করাচি সেনানিবাসে বসে এটি রচনা করেছিলেন এখান থেকেই মূলত তার সাহিত্যিক জীবনের সূত্রপাত ঘটেছিল এখানে বসেই বেশ কয়েকটি গল্প লিখেছেন এর মধ্যে রয়েছে হেনা , ব্যাথার দান , মেহের নেগার , ঘুমের ঘোরে ১৯২২ সালে নজরুলের একটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয় যার নাম ব্যথার দান এছাড়া একই বছর প্রবন্ধসংকলন যুগবাণী প্রকাশিত হয়রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় দর্শনসৈনিক জীবন ত্যাগ করে নজরুল বঙ্গীয় মুসলিম সাহিত্য সমিতির অফিসে মুজফ্ফর আহমদের সাথে বাস করছিলেন মুজফ্ফর আহমদ ছিলেন এদেশে সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত এখান থেকেই তাই নজরুলের রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ শুরু হয় মুজফ্ফর আহমদের সাথে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক সভাসমিতি ও বক্তৃতায় অংশ নিতেন এ সময় থেকেই সমাজতান্ত্রিক আদর্শের সাথে পরিচিত হন ১৯১৭ সালে রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব তাকে নানাভাবে প্রভাবিত করে তার লাঙ্গল ও গণবাণী পত্রিকায় তিনি প্রকাশ করেন সাম্যবাদী ও সর্বহারা কবিতাগুচ্ছ এরই সাথে প্রকাশ করেছিলেন কমিউনিস্ট ইন্টারন্যাশনালএর অনুবাদ জাগ অনশন বন্দী ওঠ রে যত তার পত্রিকায় প্রকাশিত হয় রেড ফ্ল্যাগএর অবলম্বনে রচিত রক্তপতাকার গানতখন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন এবং মাওলানা মোহাম্মদ আলী ও শওকত আলীর নেতৃত্বে খিলাফত আন্দোলন অসহযোগ আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল শান্তিপূর্ণ উপায়ে ভারতবর্ষ থেকে ইংরেজদের বিতারণ আর খিলাফত আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল তুরস্কে মধ্যযুগীয় সামন্ত শাসন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা , কারণ এই সমন্বিত সুলতানী শাসন ব্যবস্থার প্রধান তথা তুরস্কের সুলতানকে প্রায় সকল মুসলমানরা মুসলিম বিশ্বের খলীফা জ্ঞান করতো নজরুল এই দুটি আন্দোলনের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন না তিনি সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে স্বাধীনতা তথা স্বরাজ অর্জনে বিশ্বাস করতেন যা মহাত্মা গান্ধীর দর্শনের বিপরীত ছিল আবার মোস্তফা কামাল পাশার নেতৃত্বে তুরস্কের সালতানাত উচ্ছেদের মাধ্যমে নতুন তুরস্ক গড়ে তোলার আন্দোলনের প্রতি নজরুলের সমর্থন ছিল তারপরও তিনি অসহযোগ ও খিলাফত আন্দোলন যোগ দিয়েছিলেন এর কারণ , এই সংগ্রাম দুটি ভারতীয় হিন্দু মুসলমানদের সম্মিলিত সম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিলতবে সব দিক বিচারে নজরুল তার রাষ্ট্রীয় ধ্যান ধারণায় সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত হয়েছিলেন কামাল পাশার দ্বারা নজরুল ভেবেছিলেন তুরস্কের মুসলমানরা তাদের দেশে যা করতে পেরেছে ভারতীয় উপমহাদেশে কেন তা সম্ভব হবেনা গোড়ামী , রক্ষণশীলতা , ধর্মান্ধতা , কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নজরুলের অবস্থান ছিল কঠোর আর তার এই অবস্থানের পিছনে সবচেয়ে বড় প্রভাব ছিল কামাল পাশার সে হিসেবে তার জীবনের নায়ক ছিলেন কামাল পাশা নজরুলও তার বিদ্রোহী জীবনে অনুরুপ ভূমিকা পালনের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন উল্লেখ্য ১৯২১ সনের সেপ্টেম্বর মাসে মুজফ্ফর আহমদ ও নজরুল তালতলা লেনের যে বাসায় ছিলেন সে বাড়িতেই ভারতের প্রথম সমাজতান্ত্রিক দল গঠিত হয়েছিল ১৯১৭ সনের রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের মাধ্যমেও নজরুল প্রভাবিত হয়েছিলেন কিন্তু তিনি নিজে কখনই এই দলের সদস্য হননি , যদিও কমরেড মুজফ্ফর তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন আজীবন১৯২০ এর দশকের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে তিনি অংশ গ্রহণের চেষ্টা করেন প্রথমে কংগ্রেসে সমর্থন লাভের জন্য তিনি কলকাতা যান কিন্তু কংগ্রেসের কাছ থেকে তেমন সাড়া না পেয়ে তিনি একাই নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন নির্বাচনে তিনি তেমন সাফল্য পাননি এরপর সাহিত্যের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক চিন্তার বহিপ্রকাশ অব্যাহত থাকলেও রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ কমে যায় ৯সম্মানবাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন বা বিএফডিসির মধ্যে স্মারক ভাস্কর্যকাজী নজরুল ইসলামের সম্মানে উৎসর্গিত কলকাতা মেট্রোর কবি নজরুল গড়িয়া বাজার মেট্রো স্টেশনবাংলাদেশকাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয় তাঁর রচিত চল্ চল্ চল্ , ঊর্ধগগনে বাজে মাদল বাংলাদেশের রণসংগীত হিসাবে গৃহীত নজরুলের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী প্রতি বছর বিশেষভাবে উদযাপিত হয় নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলায় ২০০৫ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় নামক সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় কবির স্মৃতিতে নজরুল একাডেমী , বুলবুল ললিতকলা একাডেমী ও শিশু সংগঠন বাংলাদেশ নজরুল সেনা স্থাপিত হয় এছাড়া সরকারীভাবে স্থাপিত হয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান নজরুল ইন্সটিটিউট ঢাকা শহরের একটি প্রধান সড়কের নাম রাখা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউভারতভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের চুরুলিয়ায় নজরুল অ্যাকাডেমি নামে একটি বেসরকারি নজরুলচর্চা কেন্দ্র আছে চুরুলিয়ার কাছে আসানসোল মহানগরে ২০১২ সালে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে১০১১ আসানসোলের কাছেই দুর্গাপুর মহানগরের লাগোয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটির নাম রাখা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর১২ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় অবস্থিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাজধানী কলকাতার যোগাযোগরক্ষাকারী প্রধান সড়কটির নাম রাখা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলাম সরণি কলকাতা মেট্রোর গড়িয়া বাজার মেট্রো স্টেশনটির নাম রাখা হয়েছে কবি নজরুল মেট্রো স্টেশন    নিবন্ধটি হ্যারি পটার সিরিজের উপর হ্যারি পটার চরিত্রের জন্য দেখুন হ্যারি পটার চরিত্র অন্যান্য ব্যবহারের জন্য দেখুন হ্যারি পটার দ্ব্যর্থতা নিরসনহ্যারি পটার ইংরেজিতে  ব্রিটিশ লেখিকা জে কে রাউলিং রচিত সাত খন্ডের কাল্পনিক উপন্যাসের একটি সিরিজ এই সিরিজের উপন্যাসগুলিতে জাদুকরদের পৃথিবীর কথা বলা হয়েছে এবং কাহিনী আবর্তিত হয়েছে হ্যারি পটার নামের এক কিশোর যাদুকরকে ঘিরে , যে তার প্রিয় বন্ধু রন উইজলি ও হারমায়োনি গ্রেঞ্জারকে সাথে নিয়ে নানা অ্যাডভেঞ্চারে অংশ নেয় কাহিনীর বেশিরভাগ ঘটনা ঘটেছে হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্র্যাফট এন্ড উইজার্ডরিতে মূল চরিত্র হ্যারি পটারের বড় হওয়ার পথে যেসব ঘটনা ঘটে , তার শিক্ষাজীবন , সম্পর্ক ও অ্যাডভেঞ্চার নিয়েই কাহিনী রচিত হয়েছে আবার বইটিতে মানুষের বন্ধুত্ব , উচ্চাশা , ইচ্ছা , গর্ব , সাহস , ভালবাসা , মৃত্যু প্রভৃতিকে যাদুর দেশের জটিল ইতিহাস , বৈচিত্রপূর্ণ অধিবাসী , অনন্য সংস্কৃতি , ও সমাজের দৃষ্টিকোণ বর্ননা করা হয়েছে কাহিনী মূলত কালোযাদুকর লর্ড ভলডেমর্ট , যে জাদু সাম্রাজ্যে প্রতিপত্তি লাভের উদ্দেশ্যে হ্যারির বাবামাকে হত্যা করেছিল ও তার চিরশত্রু হ্যারি পটারকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে১৯৯৭ সালে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন আমেরিকাতে হ্যারি পটার অ্যান্ড সরসারার্স স্টোন নামে প্রকাশিত নামে এই সিরিজের প্রথম বই প্রকাশিত হয় প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এই সিরিজের বইগুলি রচনার শৈল্পিক উৎকর্ষের জন্য সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে এবং সারাবিশ্বের পাঠকমহলে তুমুল জনপ্রিয়তা ও ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করেছে১ বইয়ের রাজ্যের পাশাপাশি সিনেমা ও ভিডিও গেমসের দুনিয়ায়ও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ২০০৭ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সাতটি বইয়ের প্রথম ছয়টি বই সারা পৃথিবীতে ৩২৫ মিলিয়ন কপিরও বেশী বিক্রী হয়েছে২ এবং ৬৪টিরও অধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে৩ শুধুমাত্র বাইবেল এবং বুক অব মরমন মরমনদের ধর্মগ্রন্থ ছাড়া আর কোন বইয়ের এই রেকর্ড নেই৪ এই সিরিজের সপ্তম ও সর্বশেষ বই , হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস , প্রকাশিত হয়েছে ২০০৭ সালের ২১ জুলাই৫ প্রকাশকেরা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বইটির রেকর্ডভঙ্গকারী ১২ মিলিয়ন কপি বিক্রির ঘোষনা দিয়েছেন৬এই বইয়ের সাফল্য রাউলিংকে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী উপার্জন করা লেখকের তালিকায় শীর্ষস্থান দিয়েছে৭ বইগুলোর ইংরেজি সংস্করন প্রকাশ করে ব্লুমসবারি যুক্তরাজ্যে , স্কলাস্টিক প্রেস যুক্তরাষ্ট্রে , অ্যালেন ও আনউইন অস্ট্রেলিয়ায় ও রেইনকোস্ট বুকস কানাডায়এখন পর্যন্ত প্রথম ছয়টি বইয়ের কাহিনী নিয়ে ছয়টি সফল চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে সর্বশেষ বই হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস এর কাহিনী অবলম্বনে দুই পর্ব বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে এর প্রথম পর্বটি মুক্তি পেয়েছে ১৯শে নভেম্বর ২০১০ এবং দ্বিতীয় পর্বটি মুক্তি পাবে ১৫ই জুলাই ২০১১৮৯পরিচ্ছেদসমূহ    ১ উৎপত্তি ও প্রকাশনার ইতিহাস    ২ কাহিনী        ২১ কাহিনীর সংক্ষিপ্তসার        ২২ মহাবিশ্ব        ২৩ কাহিনীর গঠন ও ধরন        ২৪ যাদুবিশ্বের বিভিন্ন উপাদান        ২৫ মূলভাব        ২৬ কালানুক্রম        ২৭ প্রধান চরিত্র    ৩ সমালোচনা ও প্রশংসা        ৩১ সাহিত্যিক সমালোচনা        ৩২ নারীবাদী সমালোচনা        ৩৩ রক্ষনশীলসামজিক মূল্যবোধের সমালোচনা    ৪ বিতর্ক    ৫ পুরস্কার ও সম্মাননা    ৬ বাণিজ্যিক সফলতা    ৭ অনুবাদ    ৮ সাংস্কৃতিক প্রভাব    ৯ ভবিষ্যত        ৯১ থিম পার্ক    ১০ সিরিজ        ১০১ সহপাঠ্য        ১০২ অন্যান্য মাধ্যম            ১০২১ চলচ্চিত্র            ১০২২ গেমস    ১১ আরো দেখুন    ১২ তথ্যসূত্র    ১৩ বহিঃ সংযোগ        ১৩১ প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েব সাইট        ১৩২ অন্যান্য আকর্ষণীয় সংযোগসমূহউৎপত্তি ও প্রকাশনার ইতিহাসচিত্র     হ্যারি পটার সিরিজের প্রথম বই হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন ব্রিটিশ সংস্করন১৯৯০ সালে জে কে রাউলিং ম্যানচেস্টার থেকে যাত্রী বোঝাই ট্রেনে করে লন্ডন আসার পথে হ্যারি পটার বইয়ের ধারনা তার মাথায় ঢুকে তিনি এ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তার ওয়েবসাইটে বলেনঃ১০ প্রায় ৬ বছর বয়স থেকে আমি নিরবচ্ছিন্ন ভাবে লিখছিকিন্তু কোন আইডিয়া সম্পর্কে আমি পূর্বে এত উত্তেজিত ছিলাম না আমি প্রচন্ড হতাশ ছিলাম তখন কারন , আমার কাছে তখন কোন ভাল কলম ছিল না , এবং অন্যের কাছ থেকে কলম চাইতে আমার লজ্জা লাগছিলো আমি এখন মনে করি , তা একদিক দিয়ে ভালই হয়েছে , কারণ তখন আমি তখন কেবল বসে বসে চিন্তা করেছি , চার ঘণ্টার ট্রেন বিলম্বিত জন্য , এবং সবকিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ননা আমার মগজে জমা হচ্ছিল , এবং এই চর্মসার , কালো চুলের , চশমাপরা ছেলে যে জানত না যে সে একজন যাদুকর আমার কাছে ক্রমেই আরো বাস্তব মনে হতে থাকে আমি মনে করি যে আমাকে যদি একটু ধীরে কল্পনা করতে হত যাতে আমি তার কিছু অংশ কাগজে লিখতে পারি তাহলে আমি হয়তো সেই কল্পনার কিছু অংশ বাদ দিয়ে দিতাম যদিও কখনও আমি অবাক হই , আমি যা ভ্রমণের সময় কল্পনা করেছিলাম তার কতটুকু আমি লেখার সময় ভুলে গেছি সেই সন্ধ্যায় , লেখিকা তার প্রথম উপন্যাস লেখাপূর্ব পরিকল্পনায় হাত দেন , হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন , একটি আধাপরিপূর্ণ পরিকল্পনা যাতে ছিল সাত বইয়ের কাহিনীর ঘটনা , বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও আত্মজীবনীমূলক তথ্যাবলী ,ও যাদুর দেশ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য১১ শেষ পর্যন্ত রাউলিং পর্তুগালে চলে যান , যেখনে তিনি তার প্রথম স্বামীকে ১৯৯২ সালে বিয়ে করেন , এবং ১৯৯৩ সালে তার প্রথম সন্তান জেসিকা জন্মগ্রহণ করে এসময় তিনি ফিলোসফার্স স্টোন লেখা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিবাহ বিচ্ছেদের পর রাউলিং তার মেয়েকে নিয়ে ব্রিটেনে ফিরে আসেন ও এডিনবার্গে তার বোনের কাছাকাছি বসবাস শুরু করেন এসময় তিনি লেখা চালিয়ে যাচ্ছিলেন একটি কফি হাউজে সপ্তাহে তার আয় ছিল মাত্র ৯০ যার মধ্যে ৭০ ছিল সমাজ কল্যান থেকে এবং তিনি তার মেয়ের জন্য কোন নার্সারীর ব্যবস্থা করতে পারেননি , তার ঘুমন্ত শিশু মেয়েটি তার লেখার সর্বক্ষনের সঙ্গী ছিল রাউলিং পরিশ্রম করে তার লেখা শেষ করেন যা তিনি কখনও শেষ করতে পারবেন না বলে ভয় করেছিলেন১৯৯৬ সালে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন শেষ হয় এবং পান্ডুলিপি এজেন্টের কাছে দেয়া হয় এজেন্ট পান্ডুলিপিটি আমাকে হতাশ করে ফোল্ডার ছাড়া ফেরত দেয় , যা কিনতে আমার ৪০০ লাগে , এবং বলে যে ৮০ ,০০০ শব্দের লেখা বইটি ছোটদের বই হিসেবে বেশি দীর্ঘ দ্বিতীয় যে এজেন্ট , ক্রিস্টোফার লিটল , এর মাধ্যমে তিনি চেষ্ঠা করেন , তিনি রাউলিং কে সাথে সাথে লিখে জানান পান্ডুলিপি তার পছন্দ হয়েছে এবং তিনি তাকে সাহায্য করবেন এজেন্ট পান্ডুলিপিটি ব্লুমসবারিতে পাঠান১২ব্লুমসবারিতে , সে সময়কার ছোট একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান , ফিলোসফারস স্টোন চেয়ারম্যান নিগেল নিউটন এর হাতে পড়ে তিনি বইটি নিয়ে বেশি উৎসাহী ছিলেন না মি নিউটন পান্ডুলিপিটি বাসায় নিয়ে যান কিন্তু এটি পড়েননি বরং তার আট বছর বয়সী মেয়ে এলিস কে এটি পড়তে দেন১৩ পান্ডুলিপিটি পড়ে এলিস নিউটন আনন্দে আত্মহারা হয়ে পিতাকে বই প্রকাশ করতে তাগাদা দেয় অন্য আট প্রকাশক বইটি প্রকাশে অসম্মতি জানানোর পর ব্লুমসবারি রাউলিংকে অগ্রিম ২ ,৫০০ এর প্রস্তাব দেয়যদিও রাউলিং এর মতে হ্যারি পটার লেখার সময় কোন নির্দিষ্ট বয়সের পাঠকের কথা তার মাথায় ছিল না , প্রকাশকেরা প্রথমে বইটিকে ১১ বছর বয়সী পাঠকের উপযোগী হিসেবে ধরে নেন বইটি প্রকাশের কালে অন্যান্য লেখিকাদের মত জোয়ানে রাউলিং কে প্রকাশকরা আরো লিঙ্গনিরপেক্ষ কোন ছদ্মনাম ব্যাবহার করতে বলেন যাতে এই বয়সী ছেলেরা আকৃষ্ট হয় কারণ ছেলেরা সাধারণত নারী লেখকদের বই কিনতে আগ্রহী হয় না তিনি তার জে কে রাউলিং নামটি নির্বাচন করেন জোয়ান ক্যাথলীন রাউলিং ক্যাথলিন তার দাদীনানীর নামপ্রথম হ্যারি পটার বইটি যুক্তরাজ্যে প্রকাশ করে ব্লুমসবারি ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ করে স্কলাস্টিক প্রেস ১৯৯৮ সালের সেপ্টেম্বরে আমেরিকার বইটির জন্য রাউলিং ছয় অঙ্কের ডলার লাভ করেন  যা একটি শিশুতোষ বইয়ের জন্য অনেক বেশি কোন কোন পাঠক ফিলোসফার বুঝতে সমস্যায় পড়বে বা এর সাথে যাদুকে মিলাতে ব্যর্থ হবে মনে করে স্কলাস্টিক আমেরিকার সংস্করনে বইয়ের নাম পরিবর্তন করে হ্যারি পটার এন্ড সরসারার্স স্টোন রাখেএই সিরিজটি অনেক প্রকাশনা পুরস্কার ও প্রশংসা পেয়েছে এগুলোর মধ্যে , প্রথম তিনটি বই , হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন , হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অফ সিক্রেটস এবং হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অফ আজকাবান , ১৯৯৭ , ১৯৯৮ , ১৯৯৯ সালে নেসলে স্মার্টিস বুক প্রাইজ পেয়েছে ৯১১ বছর বয়সীদের শ্রেণীতে ১৪২০০০ সালের মধ্যেই এই সিরিজটি আংশিকভাবে প্রকাশকদের ব্যাবসার নীতির কারনে ও বহুলাংশে পাঠকদের বিশেষ করে তরুণ ছেলে পাঠকদের কারনে হাইপ্রোফাইল হিসেবে পরিগণিত হয় ২০০০ সালের মধ্যে ভিডিও গেমস ও ইন্টারনেটের কারনে বইয়ের আকর্ষন অন্য দিকে চলে যায় রাউলিং এর প্রকাশকগন দ্রুত এই সিরিজের তিনটি বই প্রকাশ করে পাঠদের মন জয় করেন এবং তাদের কে হ্যারি পটারের একান্ত ভক্ত করে তুলেন ফলে সিরিজটির উত্তেজনা বিন্দুমাত্র না কমে ছড়িয়ে পড়ে১৫ মাতামাতির চরম মুহুর্তে বিপুল মিডিয়া কভারেজের মাধ্যমে ২০০০ সালে হ্যারি পটারের চতুর্থ বইহ্যারি পটার এন্ড দি গবলেট অফ ফায়ার প্রকাশিত হয়২০০১ সালে দুটি ছোট বই প্রকাশিত হয়  নিউট স্ক্যাম্যান্ডার এর ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস এন্ড হোয়ার টু ফাইন্ড দেম ও কেনিলওয়র্থি হুইস্প এর কুইদিচ থ্রু দি এজেস এই বইদুটির আয় ব্রিটিশ দাতব্য সংস্থা কমিক রিলিফ এ জমা হয় সিরিজের পরবর্তী দুইটি বই , হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অফ দ্য ফিনিক্স এবং হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফব্লাড প্রিন্স , প্রকাশের ফলে মাতামাতি আরো বেড়ে যায় জনগন হ্যারি পটার বই পেতে এতই ব্যাকুল হয়ে পড়ে যে প্রকাশের আগেই অনেকে বই চুরি করতে চেষ্টা করেপ্রায় একযুগের মত সময়ে সিরিজটি সব বয়সী অসংখ্য ভক্ত পেয়েছে , যার ফলে প্রতি বইয়ের দুটি সংস্করন বের করা হচ্ছে  যার গল্প একই কিন্তু প্রচ্ছদ আলাদা , একটি শিশুদের উদ্দেশ্যে আরেকটি বয়স্ক পাঠকদের উদ্দেশ্যে এর অনেক অনুবাদের কারনে সারা বিশ্বে এটি জনপ্রিয় অর্ডার অফ দ্য ফিনিক্স বইটি প্রথম ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত কোন বই যা ফ্রান্সের বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে১৬ ২০০৫ সালে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফব্লাড প্রিন্স প্রকাশের পর ২৪ ঘন্টায় বইটির ৯ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়েছে এবং এর জনপ্রিয়তা কমার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি১৭কাহিনীকাহিনীর সংক্ষিপ্তসারকাহিনী শুরু হয়েছে জনসাধারণের কাছ থেকে গোপনে থাকা জাদু বিশ্বকে নিয়ে কাহিনী অনুসারে বিগত অনেক বছর ধরে জাদু বিশ্ব কালো জাদুকর লর্ড ভোলডেমর্টের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছে একরাতে ভোলডেমর্ট গোপনে থাকা পটার পরিবারের সন্ধান পায় এবং লিলি ও জেমস পটারকে হত্যা করে তবে যখন সে আভাডা কেদাভ্রা বা মৃত্যু অভিশাপ দিয়ে হ্যারি পটারকে হত্যা করার চেষ্টা করে তখন অভিশাপটি হ্যারির কাছ থেকে প্রতিফলিত হয়ে তার দিকে ছুটে আসে ফলে ভোলডেমর্ট ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং সে জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী একটি স্থানে আটকে যায় সে আত্মার মত কিছুতে পরিনত হয় হ্যারির কোন ক্ষতি হয় না , শুধু তার কপালে একটা বজ্রপাতের মত কাটা দাগ থেকে যায় ভোলডেমর্টের কাছ থেকে হ্যারির এ রহস্যময়ভাবে বেচে যাওয়ার ঘটনা জাদু সমাজে ছড়িয়ে পড়ে এবং হ্যারি যে ছেলেটি বেচে ছিল     নামে পরিচিত হয়পরবর্তী রাতে হ্যাগ্রিড নামে এক জাদুকর হ্যারিকে তার খালার বাসায় পৌছে দেয় , যেটি পরবর্তীতে তার বাসস্থান হবে অনাথ হ্যারি নিষ্ঠুর , মাগল জাদুকর নয় এমন আত্মীয় ডার্সলিদের কাছে মানুষ হয় হ্যারির জাদুশক্তি থেকে রক্ষা পেতে ডার্সলিরা হ্যারির কাছ থেকে তার জাদুকর পিতা মাতার কথা লুকিয়ে রাখে , এবং তার সাথে যে জাদু বিশ্বের সম্পর্ক রয়েছে তাও গোপন রাখে একারনে হ্যারির মধ্যে কোন অসাধারণ কোন জাদু গুণ দেখলে তারা হ্যারিকে শাস্তি দেয়পরবর্তীতে হ্যারির এগারতম জন্মদিনে , হ্যারি প্রথম জাদু বিশ্বের কথা জানতে পারে , যখন সে হগওয়ার্টস স্কুল অব উইচক্র্যাফট এন্ড উইজার্ডরি থেকে ভর্তির চিঠি পায় অবশ্য হ্যারি সেই চিঠি পড়তে পারেনি কারণ খালু ভার্নন তার কাছ থেকে চিঠি কেড়ে নিয়েছিলেন এগারতম জন্মদিনে হগওয়ার্টসের পক্ষ থেকে হ্যাগ্রিড হ্যারিকে নিতে আসেন তখনই হ্যারি জানতে পারে সে একজন জাদুকর এবং হগওয়ার্টস স্কুলে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে হ্যারি স্কুলে যোগদান করে এবং জাদু বিদ্যা আয়ত্ত্ব করে প্রতিটি বইয়ে হ্যারির স্কুল জীবনের এক বছরের বর্ণনা থাকে এর বেশিরভাগ অংশেই হ্যারি হগওয়ার্টসে থাকাকালীন বিভিন্ন অ্যাডভেঞ্চার , জাদু বিদ্যা শেখা , বন্ধুদের সাথে আচরন , ভোলডেমর্টের সাথে যুদ্ধ , মানসিক অবস্থা প্রভৃতির বর্ণনা থাকেপ্রতিটি উপন্যাসের কাহিনী জানতে সংশ্লিষ্ট বইটি দেখুনমহাবিশ্বচলচ্চিত্রে দেখানো হগওয়ার্টস স্কুলআমাদের দেখা পৃথিবী থেকে হ্যারির জাদুর পৃথিবী আলাদা এবং গোপনে রাখা হয়েছে তবুও দুই পৃথিবীর মধ্যে একটি নিবিঢ় যোগসূত্র রয়েছে অন্যান্য কল্পকাহিনী যেমন দ্য লর্ড অব দ্য রিংস এ যাদুর পৃথিবী থাকে রহস্যময় অতীতে , কিন্তু হ্যারি পটার সিরিজের যাদুর পৃথিবী বর্তমান পৃথিবীর সাথেই সহাবস্থান করে এই যাদু বিশ্বের প্রায় সকল যাদুময় প্রাণী ও জিনিসের সাথে আমাদের পৃথিবীর সাধারণ যাদুহীন প্রাণী ও জিনিসের মিল লক্ষ করা যায় যাদুর এই পৃথিবীর অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যা আমাদের বিভিন্ন পরিচিত শহরে অবস্থিত , যেমন লন্ডন , যাকে আমরা আমাদের পৃথিবীতে চিনি এই পৃথিবীতে রয়েছে অনেক ছড়ানো ছিটানো লুকায়িত রাস্তা যার প্রবেশপথ আমাদের পরিচিত পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রাচীন মদ্যশালা , নির্জন প্রাসাদ , পরিত্যাক্ত জনপদ প্রভৃতির মাঝে গোপনে ও সযত্নে লুকিয়ে রাখা হয়েছে সাধারণ যাদুবিদ্যাহীন জনগণ মাগল নামে পরিচিত এসব খুঁজে পায় না যাদুবিদ্যা সম্পর্কিত ক্ষমতা জন্মগতভাবেই পাওয়া যায় , যে কারনে যাদু শিখে যে কোন ব্যক্তিই যাদুকর হতে পারে না তবে যাদুকর পিতামাতার যাদুর গুণাবলীহীন সন্তান স্কুইব নামে পরিচিত এবং যাদুশক্তিহীন পিতামাতার ঘরে যাদুকরের জন্ম মাডব্লাড নামে পরিচিত হতে পারে জন্মগত যাদুকরদের যাদুবিদ্যা শিক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ লাভের জন্য যাদু শিক্ষার বিদ্যালয়ে যেতে হয় জন্মগতভাবে যাদুকর হোক বা না হোক জাদু বিশ্বের মানুষজনের বেশিরভাগই মাগল বিশ্ব সম্পর্কে অজ্ঞ এবং একারনে তাদের চেহারা , পোশাক পরিচ্ছদ , আচারআচরন , ব্যবহৃত জিনিসপত্র মাগল সমাজে উদ্ভট দেখায় তা সত্ত্বেও যাদুবিশ্ব ও এর বিভিন্ন আকর্ষণীয় বিষয় সিরিজে সুন্দর করে বর্ণনা করা হয়েছে এই বইয়ের একটি মূল ভাব হচ্ছে যাদুবিশ্বকে আমাদের চেনা বিশ্বের মাধ্যমে দেখা বইয়ে দেখা যায় যাদু বিশ্বে অনেক সমস্যা রয়েছে , আমরা আমাদের সমাজে প্রতিনিয়ত যার মুখোমুখি হচ্ছিকাহিনীর গঠন ও ধরনএই সিরিজের উপন্যাসগুলো প্রায় কল্পসাহিত্য ধরনের , কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষাবিষয়ক উপন্যাসের সাথে এর মিল পাওয়া যায় বিশেষ করে যেখানে হগওয়ার্টসের কথা বলা হয়েছে , যেটি একটি ব্রিটিশ স্কুল এবং যার পাঠ্যক্রমে জাদুর বিভিন্ন ব্যবহার অন্তুর্ভুক্ত রয়েছে এই অর্থে থমাস হিউগসের টম ব্রাউনস স্কুল ডেজ উপন্যাসের সাথে এর মিল পাওয়া যায়১৮ বইটিতে স্টিফেন কিং এর ভাষায় রহস্যময় গল্প ,১৯ এবং প্রতিটি বই শার্লক হোমস সিরিজের মত রচনার ঢং লক্ষ্য করা যায় বইটির বর্ণনাতে বিভিন্ন ঘটনার সূত্র লুক্কায়িত থাকে এবং উপন্যাসের চরিত্রেরা বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ব্যক্তিকে সন্দেহভাজনের তালিকায় রাখে এবং কাহিনীর শেষের দিকে ঘটনার মোড় একদম ঘুরে যায় বইটি তৃতীয় পুরুষের ভাষায় লেখা তবে কিছু কিছু যায়গায় এর ব্যতিক্রম রয়েছে যেমন গবলেট অব ফায়ার , ফিলোসফার্স স্টোন ও হাফ ব্লাড প্রিন্স এর শুরুর দিকের কিছু অধ্যায় ঘটনার গোপনীয়তাগুলো পাঠক তখনি জানতে পারেন যখন হ্যারি তা জানতে পারে প্রধান চরিত্র হারমায়োনি ও রন সহ অন্যান্য চরিত্রের চিন্তা চেতনা হ্যারির কাছে প্রকাশের আগে পর্যন্ত পাঠকের কাছে গোপন থাকেবইটি কিছু নির্দিষ্ট গৎবাধা নিয়ম মেনে চলে সপ্তম বই ড্যাথলি হ্যালোজ ছাড়া প্রতিটি বইয়ের সময়সীমা থাকে একবছর এবং প্রতিটি বইয়ের শুরুতে হ্যারি মাগল দুনিয়ায় তার খালাখালু ডার্সলি পরিবারের সাথে থাকে পরে হ্যারি জাদুর দুনিয়া ডায়াগন এলি , ওয়েজলিদের বাসা কিংবা বারো নাম্বার , গ্রিমল্ড প্লেস এলাকায় যায় এরপর বিদ্যালয়ের রেলগাড়িতে করে সে হগওয়ার্টসে ফিরে আসে হগওয়ার্টসে আসার পর কাহিনী পরিপক্কতা লাভ করে এবং অন্যান্য চরিত্র বর্ণনায় আসে প্রতি বইতেই দেখা যায় বিদ্যালয়ে পাঠের সময় কঠিন রচনা , কষ্টসাধ্য জাদু , অসহনশীল শিক্ষকের সাথে হ্যারির মানসিক যুদ্ধ ঘটনা শেষ হয় যখন হ্যারির হাতে ভোলডেমর্ট পরাস্ত হয় এবং অ্যালবাস ডাম্বলডোর হ্যারিকে কাহিনীর বিভিন্ন তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেনযাদুবিশ্বের বিভিন্ন উপাদানরক্তের বিশুদ্ধতা সাধারণ যাদুকরেরা মাগলদের নিচুস্তরের মানুষ হিসেবে সন্দেহের চোখে দেখে , এবং কিছু যাদুকরের জন্য এ আচরণ চরম গোঁড়ামিতে পরিনত হয়েছে এই ধরনের চরিত্রের লোকেরা নিজেদের পূর্বপুরুষের রক্তের বিশুদ্ধতা নিয়ে গরিমা প্রকাশ করে এবং নিজেদেরকে উঁচুতলার মানুষ বা পিওর ব্লাড হিসেবে গণ্য করে , তাদের পরের স্থানে থাকে হাফব্লাড যাদুকর যাদের পিতামাতার একজন যাদুকর অন্যজন মাগল এবং সর্বনিন্মে থাকে মাগলবর্ণ যাদের পূর্বপুরুষে কেউ যাদুকর ছিলনা বিশুদ্ধ রক্তের সমর্থক যাদুকরেরা মনে করে যাদু বিশ্বের সকল ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণ কেবল তাদের হাতেই থাকবে এবং মাগল পিতামাতার যাদুকরেরা আসল যাদুকর নয় কেউ কেউ আবার চরম গোড়ামির কারনে মনে করে তাদেরকে যাদুবিদ্যা শিখতে দেয়াই উচিত নয় অধিকাংশ বিশুদ্ধ রক্তের সমর্থক শ্রেণীর যাদুকরেরা নিজারাই বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী , কিন্তু কালযাদুর ভয়ঙ্করতম যাদুকর ভোলডেমর্ট নিজে একজন হাফব্লাড হয়েও বিশুদ্ধ রক্ত তত্ত্বের সমর্থক তবে যাদু বিশ্বের অনেক কম পরিবারই বিশুদ্ধ রক্তের অধিকারী , কেননা বংশ রক্ষার খাতিরে এদের অনেকেউ এমন কাউকে বিয়ে করেছে যাদের পূর্বপুরুষের অন্তত একজন অবিশুদ্ধ রক্তের যাদুকর ছিলেন এমন একটি বিশুদ্ধ রক্তের পরিবারের বিলুপ্তি ঘটেছে হ্যারি পটার সিরিজের পঞ্চম বইয়ে , যেখানে ব্ল্যাক পরিবারের সর্বশেষ উত্তরাধিকার সিরিয়াস ব্ল্যাক মারা যানপেঁচা জাদুবিশ্বের সবচেয়ে সাধারণ প্রতীকের একটি হচ্ছে পেঁচা প্রথম উপন্যাস থেকেই এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন বইয়ে এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে আমাদের বিশ্বে যেমন কবুতর দিয়ে চিঠিপত্র বিলি করা হত , সেরকম জাদুবিশ্বে পেঁচার মাধ্যমে চিঠিসহ বিভিন্ন জিনিস পরিবহন করা হয় এদেরকে পোষা প্রাণী হিসেবেও ব্যবহার করা হয় হ্যারির একটি তুষারসাদা পেঁচা আছে যার নাম হেডউইগহগওয়ার্টস হাউজ বিভিন্ন আবাসিক বিদ্যালয়ের মত হগওয়ার্টসও চারটি হাউজে বিভক্ত , যেগুলোর নাম তাদের প্রতিষ্ঠাতার নামে নামকরণ করা হয়েছে বিদ্যালয়ে একটি বাছাই টুপি রয়েছে যেটি শিক্ষার্থীর বিভিন্ন গুণাবলী বিচার করে বিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষেই তাদেরকে বিভিন্ন হাউজে ভাগ করে হাউজগুলো হচ্ছে গ্রিফিন্ডর , গড্রিক গ্রিফিন্ডর এর নামে , যেটি সাহসীদের মূল্যায়ন করে র্যাভেনক্ল , রোয়েনা র্যাভেনক্ল এর নামে , যেটি বুদ্ধিমত্তাকে প্রাধান্য দেয় হাফলপাফ , হেলগা হাফলপাফ এর নামে যেটি নিস্কলুসতা ও বিশ্বাসকে প্রাধান্য দেয় এবং স্লিদারিন , সালাজার স্লিদারিন এর নামে , যেটি উচ্চাকাংখা ও রক্তের বিশুদ্ধতাকে প্রাধান্য দেয় বিদ্যালয়ে পড়তে আসার পর হ্যারি তার সবচেয়ে কাছের দুই বন্ধু রন ও হারমায়োনির সাথে গ্রিফিন্ডর হাউজের সদস্য মনোনীত হয়কুইডিচ জাদুবিশ্বের জনপ্রিয়তম খেলা কুইডিচ ঝাড়ুর ওপর চড়ে বাতাসে উড়ে এ খেলা খেলা হয়ে থাকে কুইডিচের খেলার ধরন পোলো ও ফুটবলের সাথে কিছুটা মেলে হ্যারি খুব ভাল একজন কুইডিচ খেলোয়াড় যে গ্রিফিন্ডরের হয়ে বেশ কয়েকটি খেলায় জয় ছিনিয়ে এনেছে হ্যারি এ খেলায় সিকার হিসেবে খেলে যার প্রধান কাজ হচ্ছে সোনালী স্নিচ ধরা লি জর্ডান স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার আগে সমস্ত কুইডিচ খেলার ধারাবিবরণীর দায়িত্ব তার ওপরেই ছিল সিরিজের বইগুলোর মধ্যে কেবলমাত্র সপ্তম বইয়ে কুইডিচ অনুপস্থিত২০মূলভাবরাউলিং এর মতে হ্যারি পটার সিরিজের একটি প্রধান থিম হচ্ছে মৃত্যু তিনি বলেন২১ আমার বই অনেকাংশেই মৃত্যু সম্পর্কিত এগুলো শুরু হয়েছে হ্যারির পিতামাতার মৃত্যু দিয়ে মৃত্যুকে জয় করে যেকোন মূল্যে অমরত্ব পাওয়াই ভোলডেমর্ট উদ্দেশ্যে , যেটি যেকোন যাদুকরেরই লক্ষ্য আমি তাই বুঝতে পারি ভোলডেমর্ট কেন মৃত্যুকে জয় করতে চায় আমরা সকলেই মৃত্যুভয়ে ভীত সিরিজে ভালর সাথে মন্দ , ভালবাসার সাথে মৃত্যুর বিরোধ দেখানো হয়েছে ভোলডেমর্ট সর্বদা মৃত্যুকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে এবং একারনে সম্ভাব্য সকল উপায় গ্রহণ করেছে এসবের মধ্যে রয়েছে ফিলোসফার্স স্টোন চুরির চেষ্টা , উইনিকর্নের রক্ত পান , তার আত্মাকে সাতটি হরক্রাক্সে বন্দী করে রাখা ইত্যাদি এর বিপরীতে রয়েছে ভোলডেমর্টের হাত থেকে সন্তান হ্যারি পটারকে রক্ষা করতে লিলি পটারের আত্মত্যাগের ঘটনা শেষপর্যন্ত তার ভালবাসাই হ্যারিকে ভোলডেমর্টের মৃত্যু অভিশাপ আভাদা কেদাভ্রা থেকে বাঁচিয়েছে , যার মর্ম ভোলডেমর্ট কখনো বুঝতে পারেনি ভোলডেমর্ট শব্দটি নিজেই মৃত্যুর সাথে সম্পর্কিত ফরাসি ও ক্যাটালান ভাষায় , ভোল অর্থ আকাশে ওড়া , ডে অর্থ থেকে , এবং মোর্ট অর্থ মৃত্যু , তাই ভোলডেমর্ট এর পুরো অর্থ দাঁড়ায় মৃত্যু থেকে উড়ে পালানো ল্যাটিনেও মোর্ট অর্থ মৃত্যুঅহংকার ও ভেদাভেদ ব্যাপারগুলোও কাহিনীতে আলোচিত হয়েছে হ্যারি পড়াশোনার করতে করতে জানতে পারে জাদু বিশ্বে অনেক যাদুকর আছেন যারা মাগলদের সহ্য করতে পারে না কারণ মাগলদের জাদুকরের মত কোন জাদুশক্তি থাকে না এছাড়া জাদু বিশ্বে ভেদাবেদ রয়েছে , যেমন মাগলবর্ন , হাফব্লাড ও পিউরব্লাড ইত্যাদি জাদু বিশ্বের গরিমা বৃদ্ধির সাথে সাথে দিন দিন এই ভেদাভেদ প্রকট হচ্ছে , ফলে জাদুসমাজে শ্রেণীকরন হয়েছে এই শ্রেনীকরনে সর্বোচ্চ স্তরে ধরা হয়ে থাকে পিউরব্লাড বিশুদ্ধ পূর্বপুরুষ , পরবর্তীতে হাফব্লাড এবং সর্বনিন্ম শ্রেণী হচ্ছে মাগলবর্ন বা মাডব্লাড মানুষে মানুষে এই ভেদাভেদ ছাড়াও আধামানুষ আধাপ্রাণী হাফব্রিড প্রভৃতির প্রতিও সাধারণ জাদুকরদের সন্দেহ ও ঘৃণা বিদ্যমান পুরো বইয়ের সিরিজে বিভিন্ন প্রাণী ও উপাদানের বর্ননা দেয়া হয়েছে এদের মধ্যে ফিনিক্স , গবলিন , হাউজএলফ , দানব , ওয়ারউলফ ও সেনট্যার রয়েছে হারমায়োনি গ্রেঞ্জার স্পিউ  নামে একটি প্রতিষ্ঠানও প্রতিষ্ঠা করে যেটি হাউজ এলফের জন্য কাজ করেছিল বইয়ে এর মাধ্যমে জীবের প্রতি ভালবাসার ধ্বনি প্রচারিত হয়েছেআরেকটি প্রধান ভাবধারা হচ্ছে বাছাই করা চেম্বার অফ সিক্রেটস এ ডাম্বলডোর এ বিষয়ে একটি উক্তি করেছেন এটা আমাদের পছন্দ , হ্যারি , যেটি আমরা যা প্রকৃতপক্ষে তাই দেখায় , যা আমাদের সক্ষমতার অনেক বাইরে২২ এই বিষয়ে তিনি গবলেট অফ ফায়ার গল্পে আবার মন্তব্য করেন যখন কর্নেলিয়াস ফাজকে তিনি বলেন , একজন যেভাবে জন্ম নিয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সে কিভাবে বেড়ে উঠেছে২৩সিরিজের বিভিন্ন চরিত্রের মধ্যেও গুণটি লক্ষ্য করা গেছে , ডাম্বলডোর যার নাম দিয়েছেন যা সঠিক ও যা সহজ এদের মধ্যে একটিকে বেছে নেয়া এই গুনটিই হ্যারির জীবনকে ভোলডেমর্টের জীবন থেকে ব্যতিক্রমী করেছে ভোলডেমর্ট ও হ্যারি উভয়েই অনাথ হিসেবে বড় হয়েছে , এবং তাদের মধ্যে অনেক গুণাবলির মিল রয়েছে ভোলডেমর্টের বিভিন্ন দক্ষতার একটি হল পার্সেলটাং  বা সাপের সাথে কথা বলার ক্ষমতা , যেটা হ্যারি পেয়েছে এছাড়া হ্যারির মধ্যে ভোলডেমর্টের ইচ্ছাশক্তির প্রকাশ ও নিয়ম ভাঙ্গার প্রবণতা দেখা যায় ২২ এছাড়া হ্যারি বন্ধুত্ব , দয়াশীলতা , ভালবাসা প্রভৃতি গুনাবলি হ্যারির চরিত্রকে ফুটিয়ে তুলেছেযদিও রাউলিং এর মতে ভালবাসা , আত্মম্ভরিতা , এবং সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রভৃতি ভাব মূল কাহিনীর গভীরে ছড়িয়ে আছে , তবে লেখিকা একই সাথে এগুলোর প্রকাশ করেননি এগুলো ধীরে ধীরে হ্যারি ও অন্যান্য চরিত্রে প্রকাশ পেয়েছে যা বাস্তবতার সাথে অধিকতর মানানসই২৪ এসব থিমের মধ্যে বন্ধুত্ব ও আনুগত্য সবচেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে , যা প্রধানত হ্যারি , রন ও হারমায়োনিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে কাহিনীর চরিত্রদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে এদের সম্পর্ক আরো পরিপক্ক হয়েছে , এবং হগওয়ার্টসের বিভিন্ন ঘটনার অভিজ্ঞতায় সবসময় এদের আনুগত্য পরীক্ষিত হয়েছে২৫হ্যারি পটার বইতে চরিত্রের নামকরনে লেখিকার যত্ন লক্ষ্য করার মত প্রথম পাতা থেকেই এর প্রকাশ দেখা যায় ভোলডেমর্ট থেকে শুরু করে গ্রপ  , হ্যাগ্রিডের দৈত্য ভাই , মৃত্যু অভিশাপ আভাডা কেডাভ্রা , সব নামেরই কোন না কোন অর্থ রয়েছে রাউলিং সাধারণত একাধিক অর্থ আছে এমন নাম ব্যবহার করেছেনকালানুক্রমহ্যারি পটার বইতে কাহিনীর সেরকম কোন সঠিক বছর দেয়া হয় নি তবে কিছু সূত্র ও অতীতের ঘটনা থেকে বইটির বিভিন্ন ঘটনার বছর পাওয়া যায় যেমন হ্যারির জন্মসাল ১৯৮০ এবং প্রথম বইটি ১৯৯১ সালের ঘটনা নিয়ে লেখা হয়েছে হ্যারি পটার লেক্সিকন নামে একটি কালানুক্রম প্রস্তাব করা হয়েছে এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স কর্তৃক প্রকাশিত বিভিন্ন ডিভিডিতে তা নিশ্চিত করা হয়েছে রাউলিং দাতব্য কাজে অর্থ সংগ্রহের জন্য নিলামের জন্য নিজে ব্ল্যাক পরিবার তালিকা তৈরি করেছেনপ্রধান চরিত্র        মূল নিবন্ধ হ্যারি পটার বইয়ে উল্লিখিত চরিত্র    হ্যারি পটার জেমস ও লিলি পটারের একমাত্র সন্তান , যাদের সাথে তার চেহারা ও আচরনের অনেক সুনির্দিষ্ট মিল পাওয়া যায় যেমন জেমসের অপরিপাটী কালো চুল ও লিলির সবুজ চোখ পরে জানা যায় যে , সে তার একগুয়ে আচরণ তার মার কাছ থেকে পেয়েছে তার জন্মদিন ৩১ জুলাই , ১৯৮০ তার বয়স যখন এক বছর তখন যাদু বিশ্বের ভয়ঙ্করতম যাদুকর লর্ড ভলডেমর্ট তাদের বাড়ী আক্রমণ করে , তার মাবাবাকে মেরে ফেলে , কিন্তু তাকে মারতে ব্যর্থ হয় এই ঘটনার ফলে যাদু বিশ্বে হ্যারি পরিচিতি অর্জন করে কিন্তু এই আক্রমণের ফলে হ্যারির কপালে বিদ্যুৎ চমকের মত একটা স্পষ্ট কাটা দাগ স্কার ,  থেকে যায় হ্যারির উপর লর্ড ভোলডেমর্টের প্রয়োগ করা মৃত্যু অভিশাপ আভাডা কেডাভ্রা হ্যারির কাছ থেকে বাধা পেয়ে প্রতিফলিত হওয়ার কারনে ভোলডেমর্ট তার দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় হগওয়ার্টসে , হ্যারি নিজেকে মেধাবী যাদুকর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ডিফেন্স এগেইনস্ট দ্য ডার্ক আর্টস কালো যাদু থেকে প্রতিরক্ষা ও কুইডিচ খেলায় সে সুনাম অর্জন করে তার হাউজ গ্রিফিন্ডর ও সাধারণ ভাবে বিদ্যালয়ের একজন সক্ষম নেতা হিসেবে সে নিজেকে মেলে ধরে তার শত চেষ্টাতেও সে তার খ্যাতিকে দমন করতে পারেনি এবং এই কারনে সে অনেক সময় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে তাকে নিয়ে গণমাধ্যমে দ্য ডেইলি প্রফেট পত্রিকা আলোচনা , গুজব , ঠাট্টা স্কার নিয়ে তাকে কিছু সংখ্যক অধ্যাপক ও ছাত্রের চক্ষুশুলে পরিনত করেছে বাইরের শত চাপ সত্ত্বেও সে সব সময় সাহসী ও মহান থেকেছে , যদিও কখনও কখনও তার এসব গুনাবলি বিপদ ডেকে এনেছে হারমায়োনি গ্রেঞ্জার এর নাম দিয়েছে সেভিংপিপল থিং তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু রন উইজলি ও হারমায়োনি গ্রেঞ্জার , এবং তার শত্রু হচ্ছে লর্ড ভলডেমর্ট , সেভেরাস স্নেপ ও ড্রাকো ম্যালফয়    রন উইজলি হ্যারি পটারের সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং দরিদ্র , দয়ালু উইজলি পরিবারের সাত সন্তানের মধ্যে ষষ্ঠ উইজলি পরিবার ব্লাড ট্রেইটর এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হগওয়ার্টস স্কুলে প্রথম বর্ষে ভর্তির সময় হগওয়ার্টস এক্সপ্রেস ট্রেনে হ্যারির সাথে রনের বন্ধুত্ব হয় সর্বদা হ্যারির ছায়ায় থাকার কারনে একসময় রনের সাথে হ্যারির দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি এবং তারা পুনরায় বন্ধুত্ব স্থাপন করেছে রন হ্যারির সকল অ্যাডভেঞ্চারের সহযোগী রন চরিত্রটি হ্যারির একটি অপূর্ণতা প্রকাশ করেছে , সেটি হলো পরিবারের সমর্থন রনের সাথে বন্ধুত্ব করার আগে হ্যারি কখনোই পরিবার কি তা বোঝেনি    হারমায়োনি গ্রেঞ্জার হারমায়োনি , হ্যারি ও রনের কাছের বন্ধু এবং হগওয়ার্টস স্কুলে হ্যারির বর্ষের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্রী তার উচ্চ বুদ্ধিমত্তা ও বাস্তবজ্ঞান বিভিন্ন বিপদাপদ থেকে হ্যারি ও রনকে অনেকবার বাঁচিয়েছে তবে মাঝে মাঝে তার নেত্রীসুলভ আচরণ হ্যারি ও রনের বিরক্তি উদ্রেক করে থাকে হ্যারি পটারের চতুর্থ বই হ্যারি পটার এন্ড দ্য গবলেট অব ফায়ারে রন ও হারমায়োনির মাঝে ঝগড়া হয়েছিল আবার ষষ্ঠ বই হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফব্লাড প্রিন্সে তাদের মধ্যে ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে হারমায়োনির পিতামাতা উভয়েই মাগল ও পেশায় দাঁতের ডাক্তার মাগল পিতামাতা থাকার কারনে তাকে সহপাঠী ড্রেকো ম্যালফয় ও অধ্যাপক সেভেরাস স্নেইপের বিভিন্ন মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে অনেকে হারমায়োনির মাঝে লেখিকা জে কে রাউলিং এর ছায়া দেখতে পেয়েছেনসমালোচনা ও প্রশংসাসাহিত্যিক সমালোচনাহ্যারি পটারের সফলতার নিদর্শন , হ্যারি পটার সিরিজের সাতটি বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে রয়াল মেইল ডাকটিকেট প্রকাশ করেছে২৬হ্যারি পটার প্রকাশের শুরুতে বইটি সর্বসাধারণের কাছে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিল , যা এই সিরিজের বিশাল পাঠকসমাজ তৈরিতে সাহায্য করেছে হ্যারি পটার এন্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন প্রকাশের পর ইংল্যান্ডের প্রধান সংবাদপত্রগুলি বইটির প্রভুত প্রশংসা করেছে এসব সংবাদপত্রের মধ্যে রয়েছে মেইল অন সানডে যারা রাউলিংকে রোয়াল্ড ডাল এর পর কল্পনাতীত অভিষেক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সানডে টাইমস প্রায় একই কথা বলেছে ডালের সাথে তুলনা এক্ষেত্রে সঠিক হয়েছে , দ্য গার্ডিয়ান একে নতুন উদ্ভাবনী চিন্তার সমৃদ্ধশালী উপন্যাস এবং দ্য স্কটসম্যান একটি চিরন্তন সহিত্যের সৃষ্টি বলে আখ্যায়িত করেছে২৭ ২০০৩ সালে প্রকাশিত হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স অবশ্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত লেখক ও একাডেমি থেকে বিরুপ সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছে এ এস বাট নিউ ইয়র্ক টাইমসে একটি সম্পাদকীয় লেখেন যাতে তিনি বলেন রাউলিং বিশ্ব শিশু সাহিত্যের বিভিন্ন ধারা , কার্টুন , ডেইলি সোপ , টিভি অনুষ্ঠান ও তারকাদের গুজব প্রভৃতির কাল্পনিক চরিত্রকে চতুরতার সাহায্যে পরিবর্ধিত করে তার কাল্পনিক জগৎ গড়ে তুলেছেন বাট সিরিজটির বিশ্লেষণ করে আরো বলেন বড়দের কাছে এটির জনপ্রিয়তার কারণ বড়রা তাদের ফেলে আসা অতীতের ইচ্ছা ও আশাগুলোর অপূর্ণতার সান্তনা পান ছোটদের কাছে জনপ্রিয়তার কারণ পালানো ও ক্ষমতা পাওয়ার কল্পনা করা এবং গল্পগুলো মজার , সহজে পড়া যায় ও যথেষ্ঠ ভয়ঙ্কর এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি পড়াশুনা করে এবং সেগুলোর জনপ্রিয়তা ও সাহিত্য মূল্য বিবেচনা বিচার করে লেখা একটি বই২৮ লেখক ফে ওয়েল্ডন এই সিরিজ সম্পর্কে একই ধারনা পোষন করেন তার মতে এটি এমন না যেটি কোন কবি আশা করেন , তবে এটি কবিতা নয় , এটি সহজপাঠ্য , বিক্রয়যোগ্য , সাধারণের জন্য গদ্য২৯ সাহিত্য সমালোচক হ্যারল্ড ব্লুমও হ্যারি পটারের সাহিত্য মূল্য সম্পর্কে নেতিবাচক সমালোচনা করেছেন তিনি প্রচলিত ধারনার সাথে একমত না হয়ে বলে , হ্যারি পটার পড়ে কেউ কিপলিং এর জাস্ট সো স্টোরিস অথবা তার জাঙ্গল বুক পড়বে তা তিনি মনে করেননা তিনি আরো বলেন হ্যারি পটারের বই পাঠকদের থার্বারের দ্য থার্টিন ক্লকস অথবা কেনেথ গ্রাহামের উইন্ড ইন দ্য উইলোস অথবা লুইস ক্যারলের এলিস পড়ায় আগ্রহী করবে না৩০ এর চার্লস টেইলর বাটের সমালোচনা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন তিনি মনে করেন বাটের সাথে একটা ক্ষেত্রে একমত যে বইটির ভাষা উঠতি বয়সীদের উপযোগী , যেকারনে শিল্পগুনের জটিল বিচার বিশ্লেষনার দিকে না গিয়েই তারা বইটি উপভোগ করতে পেরেছে তবে বাটের দাবি তিনি প্রত্যাখ্যান করেন , যাতে বাট বলেছিলেন সিরিজটির সাহিত্য গুনের চরম অভাব রয়েছে এবং এটি মানুষের হারানো শৈশবের নতুন বিশ্বাস পাঠকদের মাঝে জাগাতে পেরেছে বলেই ব্যবসায়িক সাফল্য পেয়েছে টেইলর বইটিতে কালো ভাবের দিকে জোর দিয়েছেন , যাতে সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুর হত্যার এবং এর ফলে সৃষ্ট মানসিক ক্ষত ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতা দেখানো হয়েছে টেইলর বলেছেন ফিলোসফার্স স্টোন বইটি ছয়টি বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে কমভীতিকর যা শৈশবের উপর পুনঃ আস্থা আনতে পারেনি এবং বাটের দাবিনুযায়ী যেটি ছিল বইটির সাফল্যের মূল কারন টেইলরের মতে রাউলিং এর সাফল্যের মূল কারণ তিনি খুব ভালো করে কাহিনী বর্ননা করতে সিদ্ধহস্ত৩১স্টিফেন কিং টেইলরের সাথে একমত প্রকাশ করে বলেছেন সিরিজটি কেবল সুদূর কল্পনাশক্তি সম্পন্ন মস্তিস্ক থেকেই লেখা সম্ভব , এবং তিনি রাউলিং এর হাস্যরসকে অনন্য আখ্যা দিয়েছেন তিনি বলেছেন যদিও কাহিনীটি বেশ ভাল , কিন্তু ছয়টি বইয়ের সব কয়টিতেই খালাখালুর বাসায় হ্যারির ব্যথিত দিন কাটানো দেখতে দেখতে তিনি পরিশ্রান্ত হয়েছেন১৯ কিং ঠাট্টা করে বলেন রাউলিং এমন কারো দেখা মনে হয় পাননি যাকে তিনি অপছন্দ করেন তিনি অবশ্য অনুমান করেছেন যে হ্যারি পটার লাইব্রেরীর তাকে শ্রেষ্ঠ বইগুলোর পাশেই থাকবে , এবং হ্যারি , তার প্রিয় চরিত্র এলিস , হাক ফিন , ফ্রোডো ব্যাগিনস , ডরোথি গেইল প্রভৃতির যায়গা দখল করবে তিনি আরো বলেন এই সিরিজ কেবল একযুগের জন্য নয় এটি যুগযুগ ধরে জনপ্রিয় কথা সাহিত্যে পরিনত হবে৩২টেলিগ্রাফ হ্যারি পটার সিরিজের সর্বসাম্প্রতিক বইটি ও পুরো সিরিজটির সমালোচনা প্রকাশ করে বলেছে রাউলিং এর জনপ্রিয়তা সম্পূর্ণ তার নিজের তৈরী , প্রকাশনা বিশ্বের কোন প্রচারনার ফল নয়৩৩ তাকে অন্যান্য জনপ্রিয় লেখক যেমন , ড্যান ব্রাউন , জিওফ্রে আর্চার প্রমুখের চেয়ে কুশলী লেখিকা বলা হয়নারীবাদী সমালোচনাকিছু নারিবাদী লেখকও হ্যারি পটার সিরিজের সমালোচনা করেছেন এর মধ্যে ক্রিস্টিন শোফার অগ্রগামী , যিনি উপন্যাসগুলোকে পুরুষপ্রধান ও অন্ধ দেশপ্রেমে পরিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন শোফারের মতে সিরিজটি এমন এক বিশ উপস্থাপন করেছে যাতে গতানুগতিক পুরুষ সমাজই সবকিছু করে এবং ধরেই নেয়া হয়েছে তারাই বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে শোফার বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে হ্যারির সাহসের সাথে হারমায়োনির অনুভুতিপ্রবণ মানসিকতার তুলনা এবং হ্যারি ও রনের সম্মতির জন্য তার প্রয়োজনীতা কথা উল্লেখ করেছেন এছাড়া নারী অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল ও চাপগ্রস্থ অবস্থায় তার মত দুর্বলের সাথে দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ডাম্বলডোরের তুলনা করেছেন তিনি হ্যারি পটারে শক্ত নারী চরিত্রের অভাবের কথা উল্লেখ করেছেন৩৪রক্ষনশীলসামজিক মূল্যবোধের সমালোচনাসমালোচক অ্যান্থনি হোল্ডেন দ্য অবজারভার পত্রিকায় ১৯৯৯ হুইটব্রেড পুরস্কার এর জন্য মনোনয়নের সময় হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান বইটি মূল্যায়নের অভিজ্ঞতা বর্ননা করেছেন বইটি সম্পর্কে তার সামগ্রিক ধারনা নেতিবাচক তার মতে পটার সিরিজ খুবই রক্ষনশীল , গৌণ , নস্টালজিয়ায় আক্রান্ত বিগত ব্রিটেনের গুণগান গেয়েছে তিনি আরো বলেন অন্যান্য বিচারকেরাও তার সাথে এই ব্যাপারে একমত৩৫যদিও বিভিন্ন রক্ষণশীল গোষ্ঠী যেমন জন বার্চ সোসাইটি , তার বইতে উদারপন্থীসমাজপন্থী মনোভাবের সমালোচনা করেছেন তারা মনে করেন হ্যারি পটার বইয়ের কিছু যায়গায় আধুনিক মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিপক্ষে কথা বলা হয়েছে , বিশেষত হ্যারি পটারের সাথে ডার্সলি পরিবারের ঘটনায়৩৬এছাড়া সমাজে রাউলিং এর সংস্কারপন্থী মনোভাব ও বইয়ের চরিত্রের সহজে মৃত্যু ঘটানোকে জেসিকা মিটফোর্ড বামপন্থী ধারার চিন্তার প্রকাশ হিসেবে দেখেছেন৩৭ রাউলিং মিটফোর্ডকে বলেছেন , যিনি আমেরিকার কমিউনিস্ট দলের সদস্য রেড স্কেয়ার , ১৪ বছর বয়স থেকেই মিটফোর্ড রাউলিং এর নায়িকা হিসেবে রয়েছেন৩৮উদারপন্থী লেখক মাই হার্সের মতে বইয়ের চরিত্রগুলো বড়দের বিরুদ্ধাচরণ করে , নিয়ম ভাঙ্গে , প্রতিকূল পরিবেশে বিপক্ষ কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে সাহস দেখায় এইটিই রক্ষণশীলদের সবচেয়ে ভয়ের কারন , যারা বিশ্বকে তাদের গড়া মূল্যবোধে আবদ্ধ দেখে অভ্যস্ত৩৯বিতর্কজেকে রাউলিং এর হ্যারি পটার সিরিজ অনেক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বইটি নিয়ে অনেক আইনী লড়াই হয়েছে , যার অনেকাংশের উৎপত্তি হয়েছে আমেরিকান ধর্মীয় সংস্থা থেকে যারা দাবি করে আসছে বইটি শিশুদের মাঝে ডাকিনীবিদ্যার প্রসার ঘটাচ্ছে , এবং আরও কিছু ঘটনা ঘটেছে কপিরাইট ও ট্রেডমার্ক আইনের লঙ্ঘনের ফলে বইয়ের তুমুল জনপ্রিয়তা ও উচ্চ বাজারমূল্যের কারনে রাউলিং , তার প্রকাশক , তার বইয়ের চলচ্চিত্র প্রযোজক ওয়ার্নার ব্রোসকে কপিরাইট নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়েছে , বইয়ের প্রকাশনা নিয়ন্ত্রন করতে হয়েছে , ওয়েবসাইটের ডোমেইন নিয়ে লড়াই করতে হয়েছে এছাড়া লেখিকা ন্যান্সি স্টোফার রাউলিং তার নিজের রচনার শব্দ ও চরিত্র চুরি করেছেন বলায় তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হয়েছে এই আইনি লড়াইয়ে রাউলিং জিতেছেন এবং ন্যান্সি স্টোফারকে ৫০ ,০০০ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছেপুরস্কার ও সম্মাননাজেকে রাউলিং এবং হ্যারি পটার সিরিজ ফিলোসফার্স স্টোন প্রকাশের পর থেকে অনেক পুরস্কার পেয়েছে এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে চারটি হুইটেকার প্লাটিনাম বুক এওয়ার্ডস সবগুলো ২০০১ সালে , তিনটি নেসলে স্মার্টিস বুক প্রাইজ ১৯৯৭১৯৯৯ , দুটি স্কটিশ আর্টস কাউন্সিল বুক এওয়ার্ডস ১৯৯৯ ও ২০০১ , উদ্বোধনী হুইটব্রেড বর্ষসেরা শিশুতোষ গ্রন্থ পুরস্কার , ১৯৯৯ , ডব্লিউ এইচ স্মিথ বর্ষসেরা বই ২০০৬ ২০০০ সালে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান শ্রেষ্ঠ উপন্যাস বিভাগে হিউগো পুরস্কারের জন্য মনীত হয় কিন্তু পায়নি তবে ২০০১ সালে হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার বইটি উক্ত পুরস্কার ছিনিয়ে নেয় অন্যান্য সম্মাননার মধ্যে রয়েছে কার্নেগি মেডেলের জন্য ১৯৯৭ সালে মনোনয়ন , ১৯৯৮ সালে গার্ডিয়ান চিলড্রেনস এওয়ার্ড পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় স্থান , বিভিন্ন স্থানে স্মরনীয় বইয়ের তালিকায় স্থান , আমেরিকান লাইব্রেরী এসোসিয়েশন , নিউ ইয়র্ক টাইমস , শিকাগো পাবলিক লাইব্রেরী ও পাবলিশার্স উইকলি প্রভৃতিতে সম্পাদকের পছন্ধ এবং প্রস্তাবিত শ্রেষ্ঠ বই তালিকায় অবস্থান৪০বাণিজ্যিক সফলতাহ্যারি পটার সিরিজের জনপ্রিয়তার কারনে রাউলিং , তার প্রকাশক এবং হ্যারি পটার লাইসেন্সধারীরা আর্থিক দিক দিয়ে প্রচুর লাভবান হয়েছেন সিরিজের বইগুলো সারাবিশ্বে ৩২৫ মিলিয়নের অধিক কপি বিক্রি হয়েছে এবং বইয়ের কাহিনী অবলম্বনে ওয়ার্নার ব্রস কর্তৃক নির্মিত সাতটি চলচ্চিত্রও বানিজ্যিক সফলতা পেয়েছে হ্যারি পটারের কাহিনী নিয়ে নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন আয়ের দিক দিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিল অন্যান্য তিনটি চলচ্চিত্রও শীর্ষ ২০ নম্বর অবস্থানের ভেতর ছিল৪১ চলচ্চিত্রগুলো থেকে পাঁচটি ভিডিও গেম নির্মিত হয়েছে এবং সবমিলিয়ে ৪০০ এর অধিক হ্যারি পটার সংক্রান্ত পণ্য একটি আইপড সহ বাজারে এসেছে জুলাই ২০০৫ পর্যন্ত এগুলো থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার এবং রাউলিং বিলিয়নিয়ারে পরিনত হয়েছেন যা তাকে যুক্তরাজ্যের রানীর থেকে বিত্তবানে পরিনত করেছে৪২৪৩২০০৭ সালের ১২ এপ্রিল বার্নেস এন্ড নোবেল ঘোষনা করে ডেথলি হ্যালোস আগের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে তাদের সাইটে ৫০০ ,০০০ কপির অর্ডার পাওয়ার মাধ্যমে৪৪অনুবাদহ্যারি পটার বইয়ের বাংলা অনুবাদসমূহের প্রচ্ছদসারা বিশ্বে জনপ্রিয় এই সিরিজটি ৬৩ টিরও অধিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে প্রথম অনুবাদ হয়েছে আমেরিকান ইংরেজিতে কারণ ব্রিটিশ ইংরেজির কিছু শব্দ আমেরিকার শিশুদের জন্য প্রযোজ্য ছিলনা বা আমেরিকায় ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হত এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন ভাষা যেমন বাংলা , ইউক্রেনীয় , হিন্দি , ওয়েলশ এবং ভিয়েতনামী ভাষায় এটি অনূদিত হয়েছে প্রথম খন্ডটি লাতিন এবং প্রাচীন গ্রীক ভাষায়ও অনূদিত হয়েছে৪৫ গ্রিক ভাষায় অনূদিত রচনাটি তৃতীয় শতকে হেলিডোরাস অব এমেসা বইয়ের পর সর্ববৃহৎ অনূদিত বই৪৬বাংলাদেশে অঙ্কুর প্রকাশনী এককভাবে বইগুলোর বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেবহু আকাঙ্খিত ও জনপ্রিয় বইটির প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য অনুবাদ সহজসাধ্য নয় , এজন্য যত্ন ও ধৈর্য প্রয়োজন পঞ্চম বইটির রুশ অনুবাদ করেছেন ভিক্টর গোলিশেভ যিনি পূর্বে উইলিয়াম ফকনার এবং জর্জ অরওয়েলের মত লেখকের অনুবাদ করেছেন৪৭ তুর্কীতে সিরিজের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম বইয়ের অনুবাদ করেছেন সেভিন ওকায় , যিনি তুরস্কের একজন জনপ্রিয় সাহিত্য সমালোচক এবং সাংস্কৃতিক ভাষ্যকার৪৮ প্রয়োজন অনুসারে এসব অনুবাদ পাঠকের কাছে পৌছাতে ইংরেজি বইয়ের চেয়ে বেশী সময় নেয় , যার কারনে অইংরেজি ভাষী দেশেও ইংরেজি সংস্করন ভালই বিক্রি হয় সারা বিশ্বে বইটির এতই জনপ্রিয়তা যে সিরিজটির পঞ্চম বইয়ের ইংরেজি সংস্করন ফ্রান্সে বিক্রির তালিকায় শীর্ষে ছিল যা কোন ইংরেজি বইয়ের জন্য প্রথম ঘটনা১৬ কোন কোন দেশে মূল অনুবাদের আগেই চোরাই অনুবাদ বাজারে চলে আসে ,৪৯ এবং কোন কোন স্থানে , যেমন শ্রীলঙ্কায় চোরাই করা সংস্করনই একমাত্র স্থানীয় অনুবাদ৫০সাংস্কৃতিক প্রভাবফিলোসফার্স স্টোন প্রকাশিত হওয়ার পরে সমাজে বিভিন্ন চল চালু হয়েছে ২০০৫ সালে , অক্সফোর্ডের জন রেডক্লিফ হাসপাতালের ডাক্তারেরা একটি বিবরনী প্রকাশ করেন , যাতে জুন ২১ , ২০০৩ এবং জুলাই ১৬ , ২০০৫ তারিখের সপ্তাহান্তের শনিবারে , যেসময় সর্বশেষ দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে আসা রোগীদের উপর গবেষণা চালানো হয় এতে দেখা যায় কেবল ৩৬ জন শিশুর দুর্ঘটনার জন্য জরুরী চিকিৎসার দরকার হয়েছিল , অন্যসময় যেখানে গড়ে ৬৭ জনের জন্য চিকিৎসা দেয়া হত৫১ এছাড়া শিশুদের মাঝে পড়ালেখার ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রমাণও পাওয়া গেছে স্কলাস্টিকের পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায় ৫১৭ বছর বয়সী হ্যারি পটার পাঠকের মতে এই বইটি পড়ার আগে তারা কখনো আনন্দ লাভের জন্য বই পড়ত না , যা তারা এখন পড়ে এই গবেষণা থেকে আরও পাওয়া যায় ৬৫ শিশু এবং ৭৬ অভিভাবকের মতে সিরিজটি পড়া শুরু করার পর বিদ্যালয়ে তাদের ফলাফল ও মানের উন্নতি হয়েছে৫২ডেলাওয়ারের একটি বইয়ের দোকানে মধ্যরাতে প্রকাশিত বইয়ের জন্য অপেক্ষমাণ পাঠকেরাসিরিজটি প্রকাশিত হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ভক্তগোষ্ঠীর উদ্ভব হয়েছে এরা সিরিজটি নিয়ে এতই উৎসাহী যে , ২০০০ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বইয়ের দোকানে হ্যারি পটার এন্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার বইটির প্রকাশনার পাশাপাশি উৎসবও অনুষ্ঠিত হয়েছে এই অনুষ্ঠানে থাকে জনসমাগম , গেমস , চেহারায় চিত্রাংকন , ও বিভিন্ন বিষয়াদি হ্যারি পটার এন্ড দ্য হাফ ব্লাড প্রিন্স বইটির প্রথম সংস্করন ছাপানো হয়েছিল ১০৮ মিলিয়ন কপি , যার মধ্যে ৯ মিলিয়নই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল১৭৫৩ এসব সমর্থকের মধ্যে কিছুসংখ্যক রয়েছেন যারা সিরিজটির অন্ধভক্ত বা সুপারফ্যান ইন্টারনেটের ব্লগ , পডকাস্ট এবং বিভিন্ন ফ্যানসাইট প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা বিষয়টিকে আরো উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে এরা মাঝে মাঝে পটার সম্বন্ধীয় বিষয়ে মেলার আয়োজনও করে থাকেহ্যারি পটার সিরিজের মাধ্যমে উইজার্ড রক আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছে , যেখানে বিভিন্ন সঙ্গীত দল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যারা হ্যারি পটারের নাম , চিত্র এবং গানের কথায় পটার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়াদি ব্যবহার করেছে উদাহরন হচ্ছে হ্যারি এন্ড দ্য পটারস এবং দ্য ক্রুসিয়েটাস কার্স প্রভৃতি ব্যান্ডদলহ্যারি পটারের মাধ্যমে প্রকাশনা বিশ্বেও পরিবর্তন এসেছে , যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হচ্ছে নিউ ইয়র্ক টাইমস বেস্ট সেলার লিস্ট এর পুনর্গঠন ২০০০ সালে গবলেট অব ফায়ার প্রকাশিত হবার পর এটিতে পরিবর্তন আনা হয় , যখন প্রকাশকের অভিযোগ করেন যে তালিকার অধিকাংশ স্থানই হ্যারি পটার ও অন্যানু শিশুতোষ বই দখল করে রেখেছে দ্য টাইমস পরে শিশুতোষ বইয়ের জন্য আরেকটি বেস্ট সেলার তালিকা প্রণয়ণ করে৫৪হ্যারি পটার বইয়ের মাধ্যমে মাগল শব্দটির ব্যপক প্রসার হয়েছে এবং অনেকেই যাদের কোন বিষয় দক্ষতা কম রয়েছে তাদের সম্পর্কে মাগল শব্দটি ব্যবহার করেছেন ২০০৩ সালে মাগল শব্দটি অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে যোগ করা হয়েছে৫৫দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস ইংরেজি ভাষায়      ইংরেজ ভাষাবিজ্ঞানী জে আর আর টলকিন রচিত একটি মহাকাব্যিক হাই ফ্যান্টাসি উপন্যাস টলকিনের পূর্ববর্তী , অপেক্ষাকৃত কম জটিল ছোটোদের ফ্যান্টাসি উপন্যাস দ্য হবিটএর ১৯৩৭ পরিপূরক উপন্যাস সিকোয়েল রূপে এই গল্পের সূত্রপাত হলেও , ধীরে ধীরে এটি একটি বৃহত্তর রচনার আকারে বিকশিত হয়ে ওঠে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে , মুখ্যত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ধাপে ধাপে এই উপন্যাসটি রচনা করা হয়১ টলকিন প্রথমে একটি খণ্ডে উপন্যাসটি সমাপ্ত করতে চাইলেও , এটি প্রথমে তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয় যুদ্ধোত্তর বাজারে কাগজের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ১৯৫৪৫৫ সালের আগে উপন্যাসটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি পরবর্তীকালে একাধিকবার এই উপন্যাস পুনর্মুদ্রিত হয় এবং একাধিক ভাষায় অনূদিত হয়২ এই কারণে এই উপন্যাসকে বিংশ শতাব্দীর সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী রচনা বলে মনে করা হয়উপন্যাসের শিরোনাম কাহিনির প্রধান খলনায়ক ডার্ক লর্ড কালো জাদুকর সাউরনের পরিচায়ক তিনি এক পূর্ববর্তী যুগে একটি ওয়ান রিং এক অঙ্গুরীয় সৃষ্টি করেন অন্যান্য রিংস অফ পাওয়ার শক্তি অঙ্গুরীয়গুলির উপর আধিপত্য কায়েম করার ইচ্ছায় এই ওয়ান রিংই ছিল মিডলআর্থ মধ্যপৃথিবী দখলের অভিযানে তাঁর চরম অস্ত্র কাহিনির সূত্রপাত শায়ার নামে পরিচিত হবিটদের দেশে এই শায়ার খানিকটা ইংল্যান্ডের গ্রামাঞ্চলের মতো পরে মিডলআর্থের বিভিন্ন অঞ্চল পরিভ্রমণকারী এই কাহিনির মূল চরিত্রগুলি , বিশেষত হবিট চরিত্রগুলির , চোখ দিয়ে কাহিনি বর্ণনা করা হয়েছে এই চরিত্রগুলি হল ফ্রোডো ব্যাগিনস , স্যামওয়াইজ গ্যামজি স্যাম , মেরিয়াডক ব্র্যান্ডিবাক মেরি ও পেরেগ্রিন টুক পিপিন মিডলআর্থ নামক এই কাল্পনিক পৃথিবীর বাসিন্দারা হল মানুষ ও অন্যান্য মনুষ্যপ্রতিম জাতি হবিট , এলফ , ডুয়ার্ফ ও অর্ক এছাড়াও রয়েছে বেশ কিছু বাস্তব ও কাল্পনিক জীবের উল্লেখ যেমন , এন্ট , ওয়ার্গ , বালরগ , ট্রল ইত্যাদি এছাড়াও রয়েছে মানুষের চেয়েও উচ্চ প্রজাতির ফেরেস্তা সদৃশ ভালার ও মায়ার যাদেরকে মানুষরা যথাক্রমে ঈশ্বর ও জাদুকর হিসেবে জানে তবে এই কাল্পনিক পৃথিবীতে স্রষ্টা বা ঈশ্বর একজন , যাকে এরু ইলুভাটার নামে ডাকা হয়টলকিনের অন্যান্য রচনার সঙ্গে সঙ্গে লর্ড অফ দ্য রিংসও উৎস ও বিষয়বস্তুর বিস্তারিত বিশ্লেষণের বিষয় এটি একটি প্রধান রচনা হলেও ১৯১৭ সাল থেকে চলে আসা টলকিনের একটি বিশাল কর্মকাণ্ডের শেষ পর্যায় এই কর্মকাণ্ডের নাম টলকিন রেখেছিলেন মিথোপোয়িয়া৩ লর্ড অফ দ্য রিংসএর কাহিনি এবং এর পূর্ববর্তী উপন্যাসটির উপর প্রভাব বিস্তার করেছে ভাষাবিজ্ঞান , পুরাণকথা , ধর্ম ও শিল্পায়ণের প্রভাবের প্রতি লেখকের বিতৃষ্ণা এছাড়াও পূর্বতন ফ্যান্টাসি সাহিত্য ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে টলকিনের অভিজ্ঞতার প্রভাবও এই উপন্যাসে দেখা যায়৪ আধুনিক ফ্যান্টাসি সাহিত্যেও টলকিনের প্রভাব অপরিসীম এই প্রভাবের গুরুত্ব এতটাই যে টলকিনিয়ান ও টলকিনেস্ক শব্দদুটির প্রয়োগ অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে অনুমোদিত হয়েছে৫লর্ড অফ দ্য রিংসএর দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তার কারণে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে এই রচনার উল্লেখ করা হতে থাকে টলকিনের রচনার ভক্তেরা একাধিক ক্লাব স্থাপন করেন৬ টলকিন ও তাঁর রচনা সম্পর্কিত একাধিক গ্রন্থও প্রকাশিত হয় লর্ড অফ দ্য রিংস অনুপ্রাণিত করে চিত্রকলা , সংগীত , চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন , ভিডিওগেম ও পরবর্তী সাহিত্যধারাকে লর্ড অফ দ্য রিংস নাট্যায়িত হয় বেতার , মঞ্চ ও চলচ্চিত্রেপরিচ্ছেদসমূহ    ১ সারাংশ        ১১ দ্য ফেলোশিপ অফ দ্য রিং        ১২ দ্য টু টাওয়ার্স        ১৩ দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিং        ১৪ পরিশিষ্ট    ২ ধারণা ও সৃষ্টি        ২১ পটভূমি    ৩ প্রধান চরিত্রসমূহ    ৪ চলচ্চিত্রায়ন    ৫ বাংলা অনুবাদ    ৬ পাদটীকা    ৭ আরও পড়ুন    ৮ বহিঃসংযোগসারাংশলর্ড অফ দ্য রিংস উপন্যাসটি প্রকৃতপক্ষে তিন খণ্ডে প্রকাশিত হয় এই তিনটি খণ্ডের শিরোণাম হল দ্য ফেলোশিপ অফ দ্য রিংস , দ্য টু টাওয়ার্স ও দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিংদ্য ফেলোশিপ অফ দ্য রিংমূল নিবন্ধ দ্য ফেলোশিপ অফ দ্য রিংমর্ডরে ডার্ক লর্ড সাউরন একটি শাসনকারী শক্তি অঙ্গুরীয় তৈরি করেন ইসিলডুর যুদ্ধে সেটি কেটে নেন এবং নিজের কাছে রেখে দেন পরে তিনি অর্কদের হাতে নিহত হলে আঙটিটি মহানদীতে গ্রেট রিভার তলিয়ে যায় গলাম মাছ ধরতে গিয়ে সেই আঙটিটি খুঁজে পায় আঙটিটির জন্য সে একটি খুন পর্যন্ত করে হারিয়ে ফেলার আগে দীর্ঘকাল সে সেই আঙটিটি রেখে দেয় নিজের কাছে তারপর আঙটিটি খুঁজে পান বিলবো ব্যাগিনস আঙটিটির উৎস সম্পর্কে অবহিত না হয়েই বিলবোর থেকে এটি উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করে ফ্রোডো ব্যাগিনস অন্যদিকে আঙটিটি খুঁজতে খুঁজতে গলাম মর্ডরে প্রবেশ করে কিন্তু সাউরনের ভৃত্যেরা তাকে ধরে ফেলে এবং জিজ্ঞাসাবাদ করে রিংরেইদরা বেরিয়ে পড়ে আঙটিটির সন্ধানেআঙটিটির ইতিহাস খানিকটা জেনে গ্যানডালফ ফ্রোডোকে উপদেশ দেন আঙটিটি নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে ফ্রোডো তার অনুগত মালী স্যামওয়াইজ স্যাম গ্যামজি ও দুই তুতোভাই মেরি ও পিপিনকে সাহায্যার্থে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে তাদের বিপজ্জনক পথে তারা নানাবিধ বাধার সম্মুখীন হয় রিংরেইদরা তাদের তাড়া করতে থাকে অবশেষে তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেন একাধিক চরিত্র তাঁদের মধ্যে প্রধান ছিলেন ইসিলডুরের বংশধর তথা গনডোরের প্রকৃত রাজা ছদ্মবেশী অ্যারাগর্ন ওয়েদারটপে রিংরেইদরা ফ্রোডোকে আহত করে কিন্তু তার সঙ্গীরা রিভেনডেলের প্রভু এলরন্ডের সাহায্যে ফোর্ড অফ ব্রুইনেনএ তাদের পরাজিত করেএলরন্ডের পরিচর্যায় ফ্রোডো সেরে ওঠে দ্য কাউন্সিল অফ এলরন্ড সাউরন ও তার আঙটি সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে জানা যায় সারুমানের দুর্নীতিগ্রস্থতার কথাও কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেয় , মরডোরে আঙটিটি নিয়ে গিয়ে ধ্বংস করাই একমাত্র উপায় ফ্রোডো স্বেচ্ছায় আঙটিটি নিয়ে যেতে চায় তাঁকে সঙ্গে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত হয় ফেলোশিপ অফ দ্য রিংফ্রোডো ও তার সঙ্গীরা মোরিয়ার খনি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যেতে বাধ্য হয় সেখানে একদল অর্ক তাদের আক্রমণ করে একটি বালরগের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে গ্যানডালফ গভীর গর্তে পড়ে যান অন্যরা পালিয়ে গিয়ে লথলরেনে আশ্রয় নেয় লেডি গ্যালাড্রিয়েল তাদের নৌকা ও অন্যান্য উপহার দেন এরপর মহানদী অ্যানডুইন ধরে তারা এসে উপস্থিত হয় অ্যামোন হেনএ সেখানে গনডোরের বর্তমান শাসকের উত্তরাধিকার বরোমির ফ্রোডোর থেকে আঙটিটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে ফেলোশিপ ভেঙে যায় ফ্রোডো কেবলমাত্র স্যামকে সঙ্গে নিয়ে মর্ডরের পথে যাত্রা করেদ্য টু টাওয়ার্সমূল নিবন্ধ দ্য টু টাওয়ার্সবরোমিরকে হত্যা করে সারুমানের অর্করা মেরি ও পিপিনকে অপহরণ করে অ্যারাগর্ন ও অন্যান্যরা অর্কদের পিছু ধাওয়া করে গ্যানডালফ দ্য হোয়াইটবেশী গ্যানডালফের সাক্ষাৎলাভ করেন অর্করা রোহিরিম কর্তৃক নিহত হলে মেরি ও পিপিন ফ্যানগর্ন অরণ্যে পালিয়ে গিয়ে এন্ট নামক বৃক্ষাকার জীবের সঙ্গে বন্ধুত্বস্থাপন করে গ্যানডালফ অন্যান্যদের সঙ্গে যাত্রা করে রোহিরিমের রাজা থিয়োডেনকে সারুমানের সম্পর্কে অবহিত করেন হেমস ডিপে তাঁরা সারুমানের বাহিনীর মুখোমুখি হন এরপর হর্নবার্গের যুদ্ধে সারুমানের বাহিনী পরাস্ত হয়মেরি ও পিপিন এন্টদের চালিত করে আইসেনগার্ডের অবশিষ্ট বাহিনীকেও ধ্বংস করে দেয় গ্যানডালফ , থিয়োডেন ও অন্যান্যরা আইসেনগার্ড অভিমুখে যাত্রা করেন সারুমান নিজের দোষ স্বীকারে অস্বীকার করলে গ্যানডালফ তাঁর পদ ও অধিকাংশ ক্ষমতা কেড়ে নেন যে প্যালানটির বা দর্শনপ্রস্তরের মাধ্যমে সাউরন সারুমানের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন , পিপিন সেই পাথরটি দেখে সাউরন হবিটদের উপস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন গ্যানডালফ পিপিনকে গনডোরে নিয়ে আসেনফ্রোডো আর স্যাম গলামকে বন্দী করে গলাম তাদের মর্ডরের অভ্যন্তরে নিয়ে যেতে রাজি হয় তারা এক দীর্ঘ পথ যাত্রা করে মাঝে সামান্য সময়ের জন্য তাদের সাহায্য করে বরোমিরের ভাই ফারামির ফ্রোডোর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে গলাম তাদের মিনাস মর্গালের উপরের একটি পাহাড়ি গুহায় শিলব নামে একটি বিরাট মাকড়সার কাছে নিয়ে যায় শিলবের কামড়ে ফ্রোডো অচৈতন্য হয়ে পড়ে স্যাম স্টিং ও গ্যালাড্রিয়েলের উপহার এরেনডিলের তারাভরা একটি শিশির মাধ্যমে শিলবকে দূর করে দেয় স্যাম আঙটিটি নিয়ে নেয় ফ্রোডোকে অর্করা সিরিথ আঙ্গলে নিয়ে যায়সাউরন গনডোর আক্রমণের উদ্দেশ্যে সামরিক অভিযান শুরু করেন সর্বশ্রেষ্ঠ রিংরেইদ উইচকিং অফ অ্যাংমারের নেতৃত্বে একটি বিরাট বাহিনী গনডোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেদ্য রিটার্ন অফ দ্য কিংমূল নিবন্ধ দ্য রিটার্ন অফ দ্য কিংপরিকল্পিত আক্রমণ সম্পর্কে সতর্ক করতে পিপিনকে নিয়ে গ্যানডালফ উপস্থিত হন গনডোরের মিনাস টিরিথে মেরি রোহানের সেনাবাহিনীতে যোগ দেয় অ্যারাগর্ন প্রেতবাহিনীতে আনডেড আর্মি স্বপক্ষে আনার জন্য অন্যান্যদের নিয়ে মৃতের সরণিতে পাথস অফ দ্য ডেড যাত্রা করে গ্যানডালফ , অ্যারাগর্ন ও ফেলোশিপের অন্যান্যরা সাউরনের বাহিনীর বিরুদ্ধে পেলেনর মাঠের যুদ্ধে যোগ দেন গনডোরের তৎকালীন শাসক ডেনেথর তাঁর দুই পুত্রকেই মৃত মনে করে আশাহত হয়ে আত্মহত্যা করেন যথাসময়ে এসে উপস্থিত হয় রোহানের অশ্বারোহী বাহিনী ও অ্যারাগর্নের প্রেতবাহিনীও ফলে সাউরনের বাহিনীর বৃহত্তর অংশই পরাজিত হয় অ্যাংমারের উইচকিং থিয়োডেনের ভাতুষ্পুত্রী এওইন ও মেরি কর্তৃক নিহত হনমর্ডরের অভ্যন্তরে সাউরন এক বিরাট সেনাবাহিনীকে সংগঠিত করে তোলেন প্রধান চরিত্রগুলি শেষ যুদ্ধ ব্ল্যাক গেটের যুদ্ধের পথে যাত্রা করে গনডোর ও রোহানের সম্মিলিত বাহিনী এই আশা নিয়ে সাউরনের বাহিনীর বিরুদ্ধে মরিয়া যুদ্ধ শুরু করে যে এই যুদ্ধ ফ্রোডোকে আঙটিটি ধ্বংস করার জন্য যথেষ্ট সুযোগ করে দেবেস্যাম ফ্রোডোকে বন্দীদশা থেকে মুক্ত করে তারা মর্ডরের উপত্যকার মধ্য দিয়ে মাউন্ট ডুমএ ধ্বংস পর্বত পৌঁছায় ক্র্যাকস অফ দ্য ডুমে এসে আঙটিটি ফ্রোডোকে বশীভূত করে সে নিজের জন্য আঙটিটি দাবি করে গলাম আঙটিটির জন্য ফ্রোডোর সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করে দেয় সে ফ্রোডোর আঙুল শুদ্ধ আঙটিটি কেটে নেয় কিন্তু দুর্ঘটনাবশত পড়ে যায় আগুনে আঙটিটি ধ্বংস হয়ে যায় সাউরন পৃথিবী থেকে বিতাড়িত হন তাঁর বাহিনী শক্তিহীন হয়ে পড়ে রিংরেইদরা ধ্বংস হয়ে যায় যুদ্ধ শেষ হয়গনডোরের রাজসিংহাসনে অভিষেক হয় অ্যারাগর্নের তিনি এলরন্ডের কন্যা আরউইনকে বিবাহ করেন সারুমান অরথ্যাংকে তাঁর বন্দীদশা থেকে পালিয়ে গিয়ে শায়ারকে দাসত্বপাশে আবদ্ধ করেন ফিরতি পথে হবিটেরা তাঁকে পরাজিত করে স্যাম গ্যালাড্রিয়েলের উপহারগুলি কাজে লাগিয়ে শায়ারকে পুনর্গঠিত করে তার সৌন্দর্যায়ন ঘটায় তবে ফ্রোডো দেহে ও মনে আহত হয়েই থেকে যায় শান্তির খোঁজে সে বিলবো ও গ্যানডালফের সঙ্গে সমুদ্রযাত্রা করে মৃত্যুহীন ভূমির আনডাইং ল্যান্ড উদ্দেশ্যে অন্য তিন হবিট ঘরে ফিরে আসেপরিশিষ্টমূল কাহিনির সঙ্গে প্রদত্ত ছয়টি পরিশিষ্টে প্রচুর বাড়তি তথ্য উপাদান পাওয়া যায়৭ এই তথ্য উপাদান কাহিনিকে আরো সম্প্রসারিত করে এর মধ্যে রয়েছে ঘটনার একটি কালপঞ্জি , বংশলতিকা , ক্যালেন্ডার , ব্যক্তিবর্গ ও টলকিনের আবিষ্কৃত ভাষার পরিচয়ধারণা ও সৃষ্টিপটভূমি১৯৩৭ সালে প্রকাশিত টলকিনের পূর্ববর্তী উপন্যাস দ্য হবিটএর পরিপূরক উপন্যাস বা সিকোয়েল হিসেবে জে আর আর টলকিন লর্ড অফ দ্য রিংসএর রচনা শুরু করেন৮ দ্য হবিট উপন্যাসের ব্যবসায়িক সাফল্যের পর প্রকাশক জর্জ অ্যালেন অ্যান্ড আনউইন উক্ত উপন্যাসের একটি পরিপূরক উপন্যাস রচনা করার অনুরোধ রাখেন লেখকের কাছে টলকিন তাদের সতর্কিত করে রাখেন যে তিনি অত্যন্ত ধীরে লিখবেন এবং তাঁর রচনা হবে এযাবৎ লিখিত যাবতীয় রচনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ অ্যালেন অ্যান্ড আনউইন সিলমারিলিওন ও রোভর্যান্ডমএর সমসাময়িক খসড়াটি বাতিল করে ফার্মার গিলস অ্যান্ড হ্যামকে গ্রহণ করে তারা ভেবেছিল হবিট সংক্রান্ত আরও গল্প জনপ্রিয়তা লাভ করবে৯ তাই পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে টলকিন একটি গল্পে হাত দেন , যেটি পরে দ্য লর্ড অফ দ্য রিংস নামে পরিচিত হয় বারো বছর পর ১৯৪৯ সালে উপন্যাস রচনার কাজ সমাপ্ত হয় তবে ১৯৫৫ সালের আগে এর সম্পূর্ণাংশ প্রকাশিত হয়নি যখন হয় তখন টলকিনের বয়স তেষট্টিহারমায়োনি জিন গ্রেঞ্জার ইংরেজিতে    ব্রিটিশ লেখিকা জে কে রাউলিং রচিত হ্যারি পটার উপন্যাসসিরিজের এক কাল্পনিক চরিত্র সিরিজের প্রথম উপন্যাস হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোন থেকে পরবর্তী প্রতিটি উপন্যাসে তার উপস্থিতি রয়েছে সিরিজে সে হ্যারি পটার ও রন উইজলির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তার চরিত্রে বিচক্ষণতা ও বুদ্ধির সমন্বয় ঘটেছে রাউলিং বলেছেন যে , তিনি হারমায়োনির মধ্যে তার নিজের ছোটবেলার চরিত্রকে প্রকাশ করেছেন১পরিচ্ছেদসমূহ    ১ চারিত্রিক বিকাশ    ২ উপস্থিতি        ২১ প্রথম ও দ্বিতীয় উপন্যাস        ২২ তৃতীয় ও চতুর্থ উপন্যাস        ২৩ পঞ্চম ও ষষ্ঠ উপন্যাস        ২৪ সর্বশেষ উপন্যাস            ২৪১ এপিলগ    ৩ চলচ্চিত্রে রূপায়ন    ৪ তথ্যসূত্র    ৫ বহিঃসংযোগচারিত্রিক বিকাশহারমাইনি একজন মাগলবর্ন গ্রিফিন্ডর ছাত্রী এবং হ্যারি পটার ও রন উইজলির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু তার বাবা মা উভয়েই মাগল ডেন্টিস্ট রাউলিং এর মতে , সে অত্যন্ত বুদ্ধিমতী , বিচক্ষণ ও বাস্তববাদী এবং তার সময়ের সবচাইতে সেরা ছাত্রী২ তার বাবা মা তাকে নিয়ে কিছুটা বিস্মিত হলেও জাদুকর হওয়ায় একইসাথে তারা গর্বিতও৩ যদিও রাউলিং লুনা লাভগুড চরিত্রটিকে অ্যান্টি হারমায়োনি অর্থাৎ হারমায়োনির বিপরীত হিসেবে উল্লেখ করেছেন কারণ তারা দুইজন সম্পূর্ণ আলাদা ধারণা , আদর্শ ও মতামতে বিশ্বাসী৪ , হগওয়ার্টসে তার প্রধান শত্রু হচ্ছে প্যানসি পার্কিনসন একজন স্লিদারিন পার্কিনসন চরিত্রটি রাউলিং তার স্কুলের উত্যক্তকারী মেয়েদের অবলম্বনে সৃষ্টি করেছেন৫রাউলিং বলেছেন যে , হারমায়োনি চরিত্রটির সাথে তার নিজের অনেক বৈশিষ্ট্যের মিল রয়েছে আমি হারমায়োনিকে আমার নিজের মত করে সৃষ্টি করতে চাই নি , কিন্তু সে হয়েছে আমি ছোট বেলায় যেমন ছিলাম , সে অনেকটাই তার অতিরঞ্জন২ তিনি বলেন , ছোটকালে তিনি ছোট সবজান্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন৬ এছাড়াও তিনি বলেছেন যে , তার মত হারমায়োনির মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা ও হেরে যাওয়ার ভয় প্রবলভাবে বিদ্যমান২ রাউলিং এর মতে , অ্যালবাস ডাম্বলডোর এর পরে হারমায়োনিই সিরিজের একটি পরিপূর্ণ চরিত্র কারণ জাদুবিশ্ব সম্পর্কে তার অগাধ জ্ঞান এ বিষয়ে তাকে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করেছে৭ রাউলিং আরো বলেছেন যে , তার নারীবাদী দর্শন হারমায়োনির মাধ্যমে রক্ষিত হয়েছে তিনি হারমায়োনিকে সবচেয়ে বুদ্ধিমতি এবং একটি শক্তিশালী নারী চরিত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন৮হারমায়োনির নামটি উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের দ্য উইন্টার্স টেইল থেকে নেওয়া৯ রাউলিং চেয়েছিলেন একটি অপ্রচলিত নাম ব্যবহার করতে যাতে বেশি সংখ্যক মেয়েকে এই নাম নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে না হয় রাউলিং প্রথমে হারমায়োনির শেষ নাম দিতে চেয়েছিলেন পাকল৬ কিন্তু পরবর্তীতে উপযুক্ত মনে না হওয়ায় এটি পরিবর্তন করে গ্রেঞ্জার নামটি ব্যবহার করেন ২০০৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে রাউলিং বলেন যে , হারমায়োনি তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান১০উপস্থিতিপ্রথম ও দ্বিতীয় উপন্যাসহারমাইনি প্রথম উপন্যাস হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ফিলোসফার্স স্টোনে হগওয়ার্টস এক্সপ্রেসে সর্বপ্রথম উপস্থিত হয় প্রথমদিকে হ্যারি ও রন তাকে উদ্ধত ও অহংকারী হিসেবে দেখলেও পরবর্তীতে তাদের ধারণা পরিবর্তন হয় বিশেষ করে যখন হ্যারি ও রন তাকে ট্রল এর হাত থেকে উদ্ধার করে তখন থেকেই তাদের বন্ধুত্বের সূচনা হয় হারমাইনির কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার জোরে তারা পরশপাথরটি উদ্ধার করতে যাওয়ার সময় একটি ধাঁধা সমাধান করতে সক্ষম হয় এবং হারমাইনি ব্লু বেল স্পেলের মাধ্যমে আলো তৈরি করে শয়তানের ফাঁদটিকে ডেভিলস স্নেয়ার পরাজিত করে১১ তবে চলচ্চিত্রে দেখানো হয়েছে যে এক্ষেত্রে হারমাইনি লুমোস সালেম স্পেল ব্যবহার করেদ্বিতীয় উপন্যাস হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অফ সিক্রেটসে হারমাইনি কালো জাদুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বিষয়ের নতুন শিক্ষক গিল্ডরয় লকহার্ট এর উপর আকৃষ্ট হতে থাকে১২ একদিন গ্রিফিন্ডর ও স্লিদারিন কুইডিচ টিমের প্রস্তুতি ম্যাচের সময় ড্রেকো ম্যালফয় প্রথমবারের মত হারমাইনিকে মাডব্লাড বলে সম্বোধন করে মাডব্লাড মাগল বংশজাত জাদুকরদের জন্য চরম অপমানজনক একটি গালি চেম্বার অফ সিক্রেটস সম্বন্ধে ম্যালফয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য হারমাইনি পলিজুস পোশান তৈরি করে কিন্তু ভুলক্রমে হারমাইনি নিজের পোশনে মিলিসেন্ট বুলস্ট্রোডের চুলের পরিবর্তে তার বিড়ালের চুল ব্যবহার করে ফলে সে কিছু সময়ের জন্য বিড়ালে পরিণত হয় পরবর্তীতে লাইব্রেরিতে চেম্বার অফ সিক্রেটসের রহস্য সম্বন্ধে খোঁজাখুজি করার সময় , বাসিলিস্ক দানবটি হারমাইনিকে পাথরে পরিণত করে যদিও তার রেখে যাওয়া তথ্য হ্যারি ও রনকে চেম্বারের রহস্য সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে হ্যারি বাসিলিস্কটিকে হত্যা করার পর হারমাইনি সুস্থ হয়ে ওঠে১৩তৃতীয় ও চতুর্থ উপন্যাসতৃতীয় উপন্যাস হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অফ আজকাবানে হারমাইনি ক্রুকশ্যাঙ্কস নামে একটি বিড়াল পায়১৪ এই বছরের প্রথম দিকে , প্রফেসর ম্যাকগোনাগল তাকে একটি টাইমটার্নার দেয় , যা ব্যবহারের মাধ্যমে সে একই সময়ে বিভিন্ন ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয় এ সময় রনের ইঁদুর স্ক্যাবার্স হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যায় , এজন্য রন ক্রুকশ্যাঙ্কসকে দায়ী করে ফলে , হারমাইনির সাথে রনের বিরোধ গড়ে উঠে এছাড়া ফায়ারবোল্ট ঝাড়ু নিয়ে হ্যারির সাথেও তার মনোমালিন্য হয় কালো জাদুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্লাসের শিক্ষক রেমাস লুপিনের অনুপস্থিতিতে সেভেরাস স্নেইপ তার ক্লাস নেয় এবং হারমাইনিকে অসহ্য রকমের সবজান্তা হিসেবে অভিহিত করে অন্যায়ভাবে গ্রিফিন্ডরের পয়েন্ট কাটে স্নেইপের দেয়া হোমওয়ার্ক করার সময় সকল ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একমাত্র হারমাইনিই বুঝতে পারে যে , লুপিন একজন ওয়্যারউলফ বা নেকড়ে মানুষ পরবর্তীতে হারমাইনি ও হ্যারি রনকে হোমপিং উইলো থেকে উদ্ধার করে আনতে যায় এবং সিরিয়াস ব্ল্যাকের প্রকৃত সত্য কাহিনী জানতে পারে১৫ শেষদিকে হ্যারি ও হারমাইনি তার টাইমটার্নারটির মাধ্যমে সিরিয়াস ও বাকবিককে উদ্ধার করে১৫চতুর্থ উপন্যাস হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অফ ফায়ারে হাউজ এলফদের ভাগ্য পরিবর্তন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে হারমাইনি  সোসাইটি ফর দ্য প্রমোশন অফ এলফিশ ওয়েলফেয়ার নামে একটি সংগঠন গঠন করে সে বুলগেরিয়ান কুইডিচ তারকা ভিক্টর ক্রামের সাথে ইউল বলে অংশ নেয়১৬ এ বইয়ে হারমাইনির নামের সঠিক উচ্চারণ প্রকাশিত হয় যখন সে ক্রামকে তার নামের উচ্চারণ হারমায়ওনি শেখায়৬ পরবর্তীতে সে রনের সাথে উত্তপ্ত বিতর্কে লিপ্ত হয় কারণ ক্রামের সাথে হারমাইনির বন্ধুত্বকে রন শত্রুর সাথে বন্ধুত্ব হিসেবে চিহ্নিত করে পুরো ট্রাইউইজার্ড টুর্নামেন্টে হারমাইনি হ্যারিকে সমর্থন করে টার্মের শেষ দিকে , সে ভন্ড ও বিতর্কিত সাংবাদিক এবং বেআইনী অ্যানিম্যাজাস রিটা স্কিটার , যে হ্যারি , হারমাইনি ও হ্যাগ্রিডের নামে নানা রকম মিথ্যাচার ও অসত্য তথ্য সম্বলিত সংবাদ প্রকাশ করে , তাকে গোবরে পোকা অবস্থায় হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং একটি জারে বন্দী করে ফেলে১৭পঞ্চম ও ষষ্ঠ উপন্যাসএমা ওয়াটসন রূপায়িত হারমাইনি গ্রেঞ্জারপঞ্চম উপন্যাস হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অফ দ্য ফিনিক্সে হারমাইনি রনের সাথে গ্রিফিন্ডর হাউজের প্রিফেক্ট নির্বাচিত হয় এবং লুনা লাভগুডের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে তবে তাদের বন্ধুত্ব অপ্রত্যাশিত বিরোধের মাধ্যমে শুরু হয় পরবর্তীতে হারমাইনি লুনার সাহায্য নিয়ে রিটা স্কিটারকে ভলডেমর্টের ফিরে আসা বিষয়ে হ্যারির সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য ব্ল্যাকমেল করে সিরিজের একটি টার্নিং পয়েন্ট হল , যখন হারমাইনি হ্যারিকে ছাত্রছাত্রীদেরকে প্রতিরোধমূলক জাদু শিক্ষা ও অনুশীলনের জন্য একটি গোপন ছাত্রসংগঠন গঠনের প্রস্তাব দেয় হারমাইনির প্রস্তাবিত এ ছাত্রসংগঠন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ডাম্বলডোরস আর্মি নামধারণ করে বইয়ের শেষ দিকে হারমাইনি হ্যারি , রন , নেভিল , জিনি ও লুনার সাথে ডিপার্টমেন্ট অফ মিস্টেরিসের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং ডেথ ইটার অ্যান্টোনিন ডলোহভের হাতে মারাত্মকভাবে আহত হয় কিন্তু পরবর্তীতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে১৮ষষ্ঠ উপন্যাস হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফব্লাড প্রিন্স এ , পোশন বিষয়ের নতুন শিক্ষক হোরেস স্লাগহর্ন হারমাইনিকে তার স্লাগ ক্লাবে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানান১৯ হারমাইনি গ্রিফিন্ডর কুইডিচ টিমের কিপার নির্বাচনের সময় করম্যাক ম্যাকলেগেনকে গোপনে জাদু করে রনকে গ্রিফিন্ডর কুইডিচ টিমে তার স্থান ধরে রাখতে সাহায্য করে এদিকে রনের প্রতি হারমাইনির অনুভূতি ক্রমেই বাড়তে থাকে সে রনের সাথে স্লাগহর্নের পার্টিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু রন ক্রামের সাথে হারমাইনির পূর্বসম্পর্ক থাকায় ঈর্ষাবশত ল্যাভেন্ডারের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে হারমাইনিও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ম্যাকলেগেনের সাথে পার্টিতে যায় , কিন্তু তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং সে পার্টির মাঝপথে ম্যাকলেগেনকে ছেড়ে চলে আসে২০ অবশেষে রন ও হারমাইনির এ তিক্ত সম্পর্কের অবসান হয় যখন রন দূর্ঘটনাবশত বিষাক্ত মিড পান করে মৃত্যুর প্রায় কাছাকাছি চলে যায় ডাম্বলডোরের মৃত্যুর পর , রন ও হারমাইনি উভয়েই সবসময় হ্যারির সাথে থাকার অঙ্গীকার করে২১ এ বইয়ের একটি অন্যতম সাবপ্লট হল , পোশন ক্লাসে হ্যারি ও হারমাইনির মধ্যে কিছুটা তিক্ত সম্পর্ক গড়ে ওঠে কারণ , হ্যারি হাফব্লাড প্রিন্সের বইয়ের সাহায্য নিয়ে পোশন ক্লাসে হারমাইনির চেয়েও বেশি সফল হতে থাকেসর্বশেষ উপন্যাসসপ্তম ও সর্বশেষ উপন্যাস হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোসে হারমাইনি হ্যারির ভলডেমর্টের অবশিষ্ট হরক্রাক্সগুলো খুঁজে বের করার কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এ কাজে যাওয়ার আগে সে তার বাবা মায়ের উপর মেমোরি চার্ম প্রয়োগ করে যায় যাতে তারা মনে করে যে , তারা হলেন ওয়েন্ডেল ও মনিকা উইলকিন্স এরপর সে তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ায় রেখে আসে , যাতে ডেথ ইটাররা তাদেরকে খুঁজে না পায় সে ডাম্বলডোরের কাছ থেকে দ্য টেলস অফ বিডল দ্য বার্ড বইয়ের একটি কপি লাভ করে যার মাধ্যমে সে ডেথলি হ্যালোসের বেশ কিছু সিক্রেট জানতে পারে গড্রিকস হলোতে হারমাইনির জাদুমন্ত্র ভলডেমর্ট এবং তার সাপ নাগিনির হাত থেকে তাকে ও হ্যারিকে রক্ষা করে , তবে এ সময় একই জাদুমন্ত্রের আঘাতে হ্যারির জাদুদন্ডটি ভেঙ্গে যায় যখন স্ন্যাচাররা হারমাইনি , রন ও হ্যারিকে ধরে ফেলে , তখন সে স্টিংগিং চার্ম ব্যবহার করে হ্যারির চেহারা বদলে দেয় , যাতে তারা হ্যারিকে চিনতে না পারে ম্যালফয় ম্যানরে বেল্লাট্রিক্স লেস্ট্র্যাঞ্জ গ্রিফিন্ডরের তলোয়ারটি সম্পর্কে হারমাইনির স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তার উপর ক্রুসিয়াটাস কার্স প্রয়োগের মাধ্যমে নির্যাতন করে এ সময় ডব্বি হারমাইনি ও অন্যান্যদের ম্যালফয় ম্যানর থেকে উদ্ধার করেহ্যারি , রন ও হারমাইনি যখন গ্রিংগটস ব্যাঙ্ক থেকে হাফলপাফের কাপটি উদ্ধার করতে যায় , তখন হারমাইনি পলিজুস পোশনের মাধ্যমে বেল্লাট্রিক্সের রূপধারণ করে সে রন ও হ্যারির সাথে হগওয়ার্টসের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এ সময় সে হাফলপাফের কাপ হরক্রাক্সটি বাসিলিস্কের বিশাক্ত দাঁত দিয়ে ধ্বংস করে যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে হারমাইনি ও রন প্রথমবারের মত নিজেদের ভালবাসা প্রকাশ করে২২ যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে হারমাইনি জিনি ও লুনার সাথে বেল্লাট্রিক্সের বিরুদ্ধে লড়াই করে২৩এপিলগভলডেমর্টের পরাজয়ের উনিশ বছর পরে দেখা যায় , হারমাইনি রনকে বিয়ে করেছে এবং তাদের রোজ ও হুগো নামে দুই ছেলেমেয়ে আছে২৪ যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সে হগওয়ার্টসে তার সপ্তম বর্ষে ফিরে আসে এরপর , সে জাদু মন্ত্রণালয়ে জাদু ক্ষমতাসম্পন্ন প্রানিদের নিয়ন্ত্রণ বিভাগে কাজ শুরু করে এবং হাউজএলফদের অবস্থার উন্নয়ন ঘটায় পরবর্তীতে সে জাদুর আইন প্রনয়ন বিভাগে যোগ দেয় এবং বিশুদ্ধ রক্তের প্রাধান্য বিশিষ্ট আইনের অনেক পরিবর্তন ঘটায়২৫ রাউলিং বলেছেন যে , হারমাইনি অস্ট্রেলিয়ায় তার বাবা মাকে খুঁজে পায় এবং তাদের উপর স্থাপন করা মেমোরি চার্ম অপসারণ করে২৬চলচ্চিত্রে রূপায়নব্রিটিশ অভিনেত্রী এমা ওয়াটসন সিরিজের প্রত্যেকটি চলচ্চিত্রে হারমায়োনির চরিত্রে অভিনয় করেছে চলচ্চিত্র ছাড়াও অর্ডার অফ দ্য ফিনিক্স ও হাফব্লাড প্রিন্স ভিডিও গেমগুলোতে হারমায়োনির জন্য ওয়াটসনের শারীরিক অবয়ব ব্যবহার করা হয়েছে রাউলিং ব্যক্তিগতভাবে ওয়াটসনকে হারমায়োনি চরিত্রটির জন্য পছন্দ করেন ওয়াটসন হাফব্লাড প্রিন্স চলচ্চিত্রে ফিরে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে সে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে কারণ তার কাছে মনে হয়েছে যে , দর্শকরা হারমায়োনি চরিত্রে তার পরিবর্তে অন্য কাউকে মেনে নিতে পারবে নাউত্তম কুমার ইংরেজি   জন্ম সেপ্টেম্বর ৩ , ১৯২৬  জুলাই ২৪ , ১৯৮০ প্রকৃত নাম অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় একজন ভারতীয়বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা , চিত্রপ্রযোজক এবং পরিচালক বাংলা চলচ্চিত্র জগতে তাঁকে মহানায়ক আখ্যা দেওয়া হয়েছে১ চলচ্চিত্রে অভিনয় ছাড়াও তিনি সফলভাবে মঞ্চেও অভিনয় করেছিলেন পরিচ্ছেদসমূহ    ১ প্রাথমিক জীবন    ২ কর্মজীবন        ২১ চলচ্চিত্র অভিনয়        ২২ অন্যান্য ভূমিকায় উত্তম    ৩ বাক্তিগত জীবন    ৪ পুরস্কার এবং সম্মাননা    ৫ আরও দেখুন    ৬ তথ্যসূত্র    ৭ বহিঃসংযোগপ্রাথমিক জীবনউত্তম কুমারের আসল নাম অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায় তিনি কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন কলকাতার সাউথ সাবার্বান স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং পরে গোয়েঙ্কা কলেজে ভর্তি হন কলকাতার পোর্টে চাকরি নিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে পারেননি১ সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসে চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠা পেতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে তাকেকর্মজীবনচলচ্চিত্র অভিনয়উত্তম কুমারের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ছিল দৃষ্টিদান এই ছবির পরিচালক ছিলেন নিতীন বসু এর আগে উত্তম কুমার মায়াডোর নামে একটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন কিন্তু সেটি মুক্তিলাভ করেনি১ বসু পরিবার চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম দৃষ্টি আকর্ষন করেন এরপর সাড়ে চুয়াত্তর মুক্তি পাবার পরে তিনি চলচ্চিত্র জগতে স্থায়ী আসন লাভ করেন সাড়ে চুয়াত্তর ছবিতে তিনি প্রথম অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের বিপরীতে অভিনয় করেন এই ছবির মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল উত্তমসুচিত্রা জুটির সূত্রপাত হয়উত্তমকুমার এবং সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্রে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে অনেকগুলি ব্যবসায়িকভাবে সফল এবং একই সাথে প্রশংসিত চলচ্চিত্রে মুখ্য ভূমিকায় একসাথে অভিনয় করেছিলেন এগুলির মধ্যে প্রধান হল  হারানো সুর , পথে হল দেরী , সপ্তপদী , চাওয়া পাওয়া , বিপাশা , জীবন তৃষ্ণা এবং সাগরিকাউত্তম কুমার বহু সফল বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন তাঁর অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে ছোটিসি মুলাকাত , অমানুষ এবং আনন্দ আশ্রম অন্যতম তিনি সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন প্রথমটি নায়ক এবং দ্বিতীয়টি চিড়িয়াখানা চিড়িয়াখানা চলচ্চিত্রে তিনি শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় সৃষ্ট বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ব্যোমকেশ বক্সীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন রোমান্টিক ছবির ফাঁকে দুএকটা ভিন্ন সাদের ছবিতেও অভিনয় করছেন তিনি এর মধ্যে একদিন সত্যজিৎ রায়ের কাছ থেকে ডাক পেলেন উত্তম নায়ক ছবিতে অভিনয়ের জন্যপাড়ার অভিনেতা থেকে অরিন্দমের নায়ক হওয়ার গল্প নিয়ে ছবিতে উত্তম অভিনয় করতে গিয়ে খুঁজে পেয়েছিলেন নিজেকে তবে উত্তম কুমার নিজেকে সুঅভিনেতা হিসেবে প্রমাণ করেন এ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ছবিতে স্বভাবসুলভ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে কারণ এই ছবিতে উত্তম কুমার তার পরিচিত ইমেজ থেকে সরে আসার চেষ্টা করেছিলেন এতে তিনি সফলও হয়েছিলেন উত্তমের সেই ভুবন ভোলানো হাসি , প্রেমিকসুলভ আচারআচরণ বা ব্যবহারের বাইরেও যে থাকতে পারে অভিনয় এবং অভিনয়ের নানা ধরন , মূলত সেটাই তিনি দেখিয়ে দিয়েছিলেন১৯৬৭ সালে এ্যান্টনি ফিরিঙ্গি ও চিড়িয়াখানা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন তখন এই পুরস্কারের নাম ছিল ভরত অবশ্য এর আগে ১৯৫৭ সালে অজয় কর পরিচালিত হারানো সুর ছবিতে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছিলেন সমগ্র ভারতজুড়ে সেই বছর হারানো সুর পেয়েছিল রাষ্ট্রপতির সার্টিফিকেট অফ মেরিট ইংরেজি উপন্যাস রানডম হারভেস্ট অবলম্বনে ছবিটি নির্মাণ করা হয় প্রযোজক ছিলেন উত্তম কুমার নিজেই কমেডি চরিত্রেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী দেয়া নেয়া ছবিতে হৃদয়হরণ চরিত্রে অভিনয় করে সেই প্রতিভার বিরল স্বাক্ষরও রেখে গেছেন এক গানপাগল ধনীপুত্র অভিজিৎ চৌধুরীর বাবা কমল মিত্রের সঙ্গে রাগারাগি করে বন্ধু তরুণ কুমারের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন বাবা গান পছন্দ করেন না , কিন্তু অভিজিৎ চৌধুরীর লক্ষ্য ছিল অনেক বড় শিল্পী হওয়া নায়িকা তনুজার মামা পাহাড়ি স্যানালের বাড়িতে হৃদয়হরণ নামে ড্রাইভারের কাজ নেয় সাবলীল অভিনয় দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন হৃদয়হরণ চরিত্রটি ছবিটির একটি আকর্ষণীয় সংলাপ ছিল টাকাই জীবনের সবকিছু নয় এছাড়াও , অত্যন্ত চমকপ্রদ একটি গানও রয়েছে  জীবন খাতার প্রতি পাতায় , যতোই করো হিসাবনিকাশ , পূর্ণ হবে না ২উত্তম কুমার অভিনীত , পরিচালিত , প্রযোজিত এবং সুরারোপিত চলচ্চিত্রের তালিকার জন্য দেখুন উত্তম কুমারের চলচ্চিত্রের তালিকা অন্যান্য ভূমিকায় উত্তমরোমান্টিক নায়ক ছাড়াও অন্যান্য চরিত্রেও তিনি ছিলেন অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব মঞ্চের প্রতি ছিল তার অগাধ ভালবাসা যার প্রমাণ হিসেবে পাওয়া যায় ১৯৫৫ সালে যখন তিনি বাংলা ছবির সুপার হিরো শত ব্যস্ততার মাঝেও মঞ্চের ডাকে সাড়া দিয়ে শ্যামলী নাটকে অভিনয় করেছেন উত্তম কুমার বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি কয়েকটি হিন্দি ছবিতেও অভিনয় করেছেন তার অভিনীত হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে ছোটিসি মুলাকাত ১৯৬৭ , দেশপ্রেমী ১৯৮২ ও মেরা করম মেরা ধরম ১৯৮৭ অন্যতম উত্তম কুমার পরিচালক হিসেবেও সফল কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী ১৯৮১ , বনপলাশীর পদাবলী ১৯৭৩ ও শুধু একটি বছর ১৯৬৬ ছবির সাফল্য তাই প্রমাণ করেসঙ্গীতের প্রতিও ছিল তার অসীম ভালবাসা হেমন্ত মুখোপাধ্যায়  , মান্না দে এবং শ্যামল মিত্রের গানেই সবচেয়ে বেশি ঠোঁট মিলিয়েছেন উত্তম ছবির গান রেকর্ডিংয়ের সময় শিল্পীর পাশে বসে তার অনুভূতি উপলব্ধি করার চেষ্টা করতেন তিনি  এর ফলে গানের সাথে পর্দায় ঠোঁট মেলানো তাঁর পক্ষে খুবই সহজ হতো  সঙ্গীতপ্রেমী উত্তম কাল তুমি আলেয়া ছবির সবগুলো গানের সুরারোপ করেন ছবিটি ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায় অভিনেতা , প্রযোজক এবং পরিচালক  সব মাধ্যমেই তিনি ছিলেন সফলবাক্তিগত জীবনতিন সন্তানের মধ্যে উত্তম কুমার ছিলেন সবার বড় তার পিতার নাম সাতকড়ি চট্টোপাধ্যায় এবং মায়ের নাম চপলা দেবী তার ছোট ভাই তরুণ কুমার একজন শক্তিশালী অভিনেতা ছিলেন তারা একত্রে বেশ কিছু জনপ্রিয় চলচিত্রে অভিনয় করেছেন যেমনঃ মায়ামৃগ , ধন্যি মেয়ে , সপ্তপদী চলচ্চিত্র , সোনার হরিণ , জীবনমৃত্যু , মন নিয়ে , শেষ অঙ্ক , দেয়ানেয়া , সন্ন্যাসী রাজা , অগ্নীশ্বর ইত্যাদি উত্তম কুমার গৌরী দেবী কে বিয়ে করেন ,তাদের একমাত্র সন্তান গৌতম চট্টোপাধ্যায় মাত্র ৫৩ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান গৌরব চট্টোপাধ্যায়  ,উত্তম কুমারের একমাত্র নাতি , বর্তমানে টালিগঞ্জের জনপ্রিয় ব্যস্ত অভিনেতা ১৯৬৩ সালে উত্তম কুমার তার পরিবার ছেড়ে চলে যান দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি তৎকালীন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে বসবাস করেন ,তার মৃত্যুর আগ পর্যন্তদিয়েগো আর্মান্দো মারাদোনা উচ্চারিত   , জন্ম ৩০ অক্টোবর ১৯৬০ একজন আর্জেন্টিনীয় ফুটবল কোচ সেইসাথে একজন ম্যানেজার এবং প্রাক্তন খেলোয়াড় অনেক বিশেষজ্ঞ , ফুটবল সমালোচক , প্রাক্তন ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং ফুটবল সমর্থক তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গন্য করেন৫৬৭৮৯১০১১১২১৩১৪১৫ তিনি ফিফার বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ে পেলের সাথে যৌথভাবে ছিলেন১৬১৭মারাদোনাই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুইবার স্থানান্তর ফি এর ক্ষেত্র বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন প্রথমবার বার্সেলোনায় স্থানান্তরের সময় ৫ মিলিয়ন ইউরো এবং দ্বিতীয়বার নাপোলিতে স্থানান্তরের সময় ৬৯ মিলিয়ন ইউরো নিজের পেশাদার ক্যারিয়ারে মারাদোনা আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স , বোকা জুনিয়র্স , বার্সেলোনা , নাপোলি , সেভিয়া এবং নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেছেন ক্লাব পর্যায়ে তিনি তার নাপোলিতে কাটানো সময়ের জন্য বিখ্যাত , যেখানে তিনি অসংখ্য সম্মাননা জিতেন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি ৯১ খেলায় ৩৪ গোল করেনতিনি চারটি ফিফা বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেন যার মধ্যে ছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপ , যেখানে তিনি আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং দলকে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বর্ণ গোলক জিতেন তিনি প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ২১ গোলে জয় লাভ করে আর্জেন্টিনার পক্ষে উভয় গোলই করেন মারাদোনা দুইটি গোলই ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে দুইটি ভিন্ন কারণে প্রথম গোলটি ছিল হ্যান্ডবল যা হ্যান্ড অফ গড নামে খ্যাত দ্বিতীয় গোলটি মারাদোনা প্রায় ৬০ মিটার দূর থেকে ড্রিবলিং করে পাঁচজন ইংরেজ ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে করেন ২০০২ সালে ফিফাডটকম এর ভোটাররা গোলটিকে শতাব্দীর সেরা গোল হিসাবে নির্বাচিত করে১৮মারাদোনাকে ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং সংবাদ হিসেবে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের অন্যতম মনে করা হয় ১৯৯১ সালে ইতালিতে ড্রাগ টেস্টে কোকেইনের জন্য ধরা পড়ায় ১৫ মাসের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হন তিনি ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইফিড্রিন টেস্টে ইতিবাচক ফলাফলের জন্য তাকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয় ২০০৫ সালে তিনি তার কোকেইন নেশা ত্যাগ করেন তার কড়া রীতি মাঝেমাঝে সাংবাদিক এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের সাথে তার মতভেদের সৃষ্টি করে ম্যানেজার হিসেবে খুব কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও ২০০৮ সালের নভেম্বরে তাকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয় ২০১০ বিশ্বকাপের পর চুক্তি শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আঠারো মাস এই দায়িত্বে ছিলেনপরিচ্ছেদসমূহ    ১ প্রারম্ভিক জীবন    ২ ক্লাব ক্যারিয়ার        ২১ আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স এবং বোকা জুনিয়র্স        ২২ বার্সেলোনা        ২৩ নাপোলি        ২৪ সেভিয়া , নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ এবং বোকা জুনিয়র্স    ৩ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার        ৩১ ১৯৮২ বিশ্বকাপ        ৩২ ১৯৮৬ বিশ্বকাপ        ৩৩ ১৯৯০ বিশ্বকাপ        ৩৪ ১৯৯৪ বিশ্বকাপ    ৪ খেলার ধরণ    ৫ অবসর এবং সম্মাননা    ৬ কোচিং ক্যারিয়ার        ৬১ ক্লাব        ৬২ আন্তর্জাতিক    ৭ ব্যক্তিগত জীবন        ৭১ পরিবার        ৭২ মাদক কেলেঙ্কারি এবং স্বাস্থ সংক্রান্ত বিষয়াবলি        ৭৩ রাজনৈতিক দর্শন        ৭৪ অর্থনৈতিক সমস্যা    ৮ ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান        ৮১ ক্লাব        ৮২ আন্তর্জাতিক    ৯ পরিসংখ্যান        ৯১ ম্যানেজার    ১০ সম্মাননা        ১০১ খেলোয়াড়        ১০২ ক্লাব        ১০৩ জাতীয় দল        ১০৪ ম্যানেজার        ১০৫ ক্লাব        ১০৬ একক    ১১ আরও দেখুন    ১২ তথ্যসূত্র    ১৩ বহিঃসংযোগ        ১৩১ চিত্রসমূহপ্রারম্ভিক জীবনদিয়েগো মারাদোনা ১৯৬০ সালের ৩০ অক্টোবর বুয়েনোস আইরেস প্রদেশের লানুস শহরের পলিক্লিনিকো এভিতা হাসপাতালে একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন তবে তিনি বেড়ে ওঠেন ভিয়া ফিওরিতোতে , যা বুয়েনোস আইরেসের দক্ষিণ প্রান্তের একটি শান্তিটাউন১৯ তিন কন্যা সন্তানের পর তিনিই ছিলেন বাবামার প্রথম পুত্র সন্তান তার ছোট দুই ভাই ররেছে হুগো এল তুর্কো এবং রাউল লালো , যাদের উভয়েই পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়মারাদোনা হলেন চিতরো দিয়েগো মারাদোনা এবং দোনা তোতা দালমা সালভাদর ফ্রাঙ্কোর পঞ্চম সন্তান১০ বছর বয়সে , যখন তিনি এস্ত্রেয়া রোজার হয়ে খেলছিলেন তখন তাকে খুঁজে বের করেন একজন স্কাউট তিনি দ্য লিটল অনিঅনের আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের যুব দল একজন মূল খেলোয়াড়ে পরিণত হন ১২ বছর বয়সে বলবয় হিসেবে , প্রথম বিভাগের খেলার অর্ধ বিরতির সময় বল দিয়ে জাদুকরী কারুকার্য দেখিয়ে তিনি দর্শকদের সন্তুষ্ট করতেন২০ক্লাব ক্যারিয়ারআর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স এবং বোকা জুনিয়র্স১৯৭৬ সালের ২০ অক্টোবর , নিজের ষোলতম জন্মদিনের দশ দিন আগে আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে মারাদোনার অভিষেক হয়২১ সেখানে তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছিলেন এবং ১৬৭ খেলায় ১১৫টি গোল করেন এরপর তিনি ১ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে বোকা জুনিয়র্সে পাড়ি জমান ১৯৮১ মৌসুমের মাঝামাঝি সময় বোকায় যোগ দিয়ে ১৯৮২ সালে তিনি প্রথম লীগ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেনবার্সেলোনা১৯৮২ বিশ্বকাপের পর ৫ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে বার্সেলোনায় যোগ দেন মারাদোনা২১ ১৯৮৩ সালে , কোচ সিজার লুইস মেনত্তির অধীনে বার্সেলোনা এবং মারাদোনা রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে কোপা দেল রে এবং অ্যাথলেতিক বিলবাওকে হারিয়ে স্পেনীয় সুপার কাপ জিতে তবে , বার্সায় মারাদোনা কিছুটা খারাপ সময় কাটিয়েছেন২২ প্রথমে তাকে হেপাটাইটিসের সাথে লড়তে হয় এরপর তাকে পড়তে হয় গোড়ালির ইনজুরিতে২১ অবশ্য , চিকিত্সা শেষে দ্রুতই মাঠে ফিরে আসেন মারাদোনাবার্সেলোনায় মারাদোনা ৫৮ খেলায় ৩৮টি গোল করেন২৩ বার্সেলোনায় থাকাকালে মারাদোনা ক্লাব পরিচালকদের সাথে ঘনঘন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন , বিশেষ করে ক্লাব প্রেসিডেন্ট ইয়োসেপ লুইস নুনেজের সাথে ১৯৮৪ সালে , আরেকটি রেকর্ড স্থানান্তর ফিতে ৬৯ মিলিয়ন ইউরো সিরি এ ক্লাব নাপোলিতে যোগ দেন তিনি২৪নাপোলিচিত্র ১৯৮৫ সালে নাপোলির হয়ে খেলছেন মারাদোনানাপোলিতে মারাদোনা তার পেশাদার ক্যারিয়ারের শিখরে পৌছান তিনি খুব দ্রুত ক্লাবের সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন এবং সেই সময়টিই ছিল নাপোলির ইতিহাসের সফলতম যুগ মারাদোনার অধীনে নাপোলি ১৯৮৬৮৭ ও ১৯৮৯৯০ মৌসুমে সিরি এ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে এবং ১৯৮৯৮৮ ও ১৯৮৮৮৯ মৌসুমে তারা রানারআপ হয় এছাড়া মারাদোনার সময়ে নাপোলি একবার কোপা ইতালিয়া জিতে ১৯৮৭ এবং একবার রানারআপ ১৯৮৯ হয় এবং ১৯৯০ সালে ইতালীয় সুপার কাপ জিতে ১৯৮৭৮৮ মৌসুমের সিরি এতে মারাদোনা সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেনইতালিতে থাকাকালে মারাদোনার ব্যক্তিগত সমস্যা বৃদ্ধি পায় তার কোকেইন নেশা বহাল থাকে অনুশীলনে অনুপস্থিত থাকায় ক্লাবের পক্ষ হতে তাকে ৭০ ,০০০ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়২৫ ইতালিতে মারাদোনাকে পুত্র সন্তান সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হতে হয়পরবর্তীতে , মারাদোনা এবং নাপোলিতে থাকাকালে তার অর্জনসমূহের প্রতি সম্মান জানিয়ে নাপোলির ১০ নম্বর জার্সিটি দাপ্তরিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়২৬সেভিয়া , নিওয়েলস ওল্ড বয়েজ এবং বোকা জুনিয়র্সড্রাগ টেস্টে ধরা পড়ে ১৫ মাসের নিষেধাজ্ঞা থেকে ফিরে ১৯৯২ সালে মারাদোনা নাপোলি ছেড়ে দেন স্পেনীয় ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ এবং ফরাসি ক্লাব অলিম্পিকে মার্শেই তার প্রতি আগ্রহী হলেও তিনি স্পেনীয় ক্লাব সেভিয়াতে যোগ দেন সেখানে তিনি এক বছর ছিলেন২৭ ১৯৯৩ সালে তিনি লিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেন এবং ১৯৯৫ সালে তিনি বোকা জুনিয়র্সে ফিরে আসেন এবং সেখানে দুই বছর খেলেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কিছু পূর্বে মারাদোনা টটেনহাম হটস্পারের হয়েও মাঠে নামেন ইন্টারন্যাজিওনালের বিপক্ষে খেলায় টটেনহাম ২১ গোলে জয় লাভ করে তিনি গ্লেন হোডেলের সাথে খেলেন , যিনি মারাদোনার জন্য তার ১০ নম্বর জার্সিটি ছেড়ে দিয়েছিলেনআন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারআর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে মারাদোনা টানা চারটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহন করেন এর মধ্যে ১৯৮৬এ আর্জেন্টিনা বিজয়ী হয় এবং ১৯৯০এ হয় রানারআপ১৯৭৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি , ১৬ বছর বয়সে হাঙ্গেরির বিপক্ষে মারাদোনার অভিষেক হয় ১৯৭৯ সালে ১৮ বছর বয়সে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে ফিফা বিশ্ব যুব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহন করেন প্রতিযোগিতার ফাইনালে সোভিয়েত ইউনিয়নকে ৩১ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা ১৯৭৯ সালের ২ জুন , স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সিনিয়র দলের হয়ে প্রথম গোল করেন মারাদোনা২৮ তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি ফিফা অনুর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ ১৯৭৯ ও ফিফা বিশ্বকাপ ১৯৮৬ উভয় প্রতিযোগিতায় গোল্ডেন বল জিতেছেন১৯৮২ বিশ্বকাপমারাদোনার ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতা ছিল ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী খেলায় ক্যাম্প ন্যুতে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয় বেলজিয়ামের কাতালান দর্শকরা তাদের ক্লাব বার্সেলোনায় নতুন যোগ দেওয়া মারাদোনার চমক দেখার জন্য আগ্রহী ছিলেন , কিন্তু তিনি আশানুরূপ নৈপূন্য প্রদর্শনে ব্যর্থ হন২৯ আর্জেন্টিনা বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয় গ্রুপ পর্বের অপর দুই খেলায় হাঙ্গেরি এবং এল স্যালভাদরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা জয় লাভ করে এবং দ্বিতীয় পর্বে পৌছায় কিন্তু , দ্বিতীয় পর্বে ইতালি এবং ব্রাজিলের বিপক্ষে পরাজিত হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের প্রতিযোগিতায় আর্জেন্টিনার সবকয়টি খেলায় পুরো সময় মাঠে ছিলেন মারাদোনা হাঙ্গেরির বিপক্ষে তিনি দুইটি গোল করেন , তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলা শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে ফাউল করার দায়ে তাকে লাল কার্ড দেখানো হয়৩০১৯৮৬ বিশ্বকাপ১৯৮৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মারাদোনা প্রতিযোগিতার ফাইনালে পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা প্রতিযোগিতার পুরোটা জুড়েই ছিল মারাদোনার আধিপত্য তিনি আর্জেন্টিনার প্রত্যেকটি খেলায় পুরোটা সময়ই মাঠে ছিলেন পুরো প্রতিযোগিতায় তিনি পাঁচটি গোল করেন এবং সতীর্থদের দিয়ে করান আরও পাঁচটি প্রতিযোগিতায় তিনি প্রথম গোল করেন ইতালির বিপক্ষে , গ্রুপ পর্বে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় খেলায়৩১ কোয়ার্টারফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজেকে কিংবদন্তী হিসেবে প্রমাণ করেন তিনিআর্জেন্টিনা এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ফকল্যান্ড যুদ্ধের কারণে খেলায় উত্তেজনার কমতি ছিলনা প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্যভাবে দ্বিতীয়ার্ধে , খেলার ৫১তম মিনিটে মারাদোনা একটি গোল করেন রিপ্লেতে দেখা যায় গোলটি করার সময় তিনি হাত দিয়ে বলে আঘাত করেছেন পরবর্তীতে এই গোলের নাম দেওয়া হয় দ্য হ্যান্ড অফ গড ২০০৫ সালের ২২ আগস্ট একটি টেলিভিশন শোতে মারাদোনা শিকার করেন যে তিনি গোলটি ইচ্ছাকৃতভাবেই হাত দিয়ে করেছিলেন , তার মাথা বল স্পর্শ করেনি এবং সে মূহুর্তে তিনি জানতেন গোলটি অবৈধ ইংরেজ খেলোয়াড়রা প্রতিবাদ করলেও রেফারি গোলের বাঁশি বাজান৩২ ,      ,      ,            ,        ,                  ব্রায়ন বাটলার বিবিসি রেডিও৩৩এর চার মিনিট পরেই মারাদোনা দ্বিতীয় গোল করেন , যেটিকে ফিফা পরবর্তীতে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত করে মাঠে নিজেদের অর্ধে তিনি বল গ্রহন করেন , ইংল্যান্ডের গোলপোস্টের দিকে ঘুরে দাড়ান এবং মাঠের অর্ধেকেরও বেশি অংশ দৌড়িয়ে , পাঁচ জন ইংরেজ ডিফেন্ডার পিটার বেয়ার্ড্স্লি , স্টিভ হজ , পিটার রেইড , টেরি বাচার ও টেরি ফেনউইক এবং গোলরক্ষক পিটার শিলটনকে কাটিয়ে গোল করেন ২০০২ সালে , ফিফা অনলাইনে ভোটের আয়োজন করলে এই গোলটি শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে নির্বাচিত হয়৩৪সেমিফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও তিনি জোড়া গোল করেন ফাইনালে , প্রতিপক্ষ পশ্চিম জার্মানি তাকে ডাবলমার্কিং করে রাখে তা সত্ত্বেও , তারই বাড়িয়ে দেওয়া পাসে আর্জেন্টিনার পক্ষে জয়সূচক গোল করেন হোর্হে বুরুচাগা ইস্তাদিও অ্যাজতেকার ১১৫ ,০০০ দর্শকের সামনে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ৩২ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে আর্জেন্টিনাপ্রতিযোগিতায় আর্জেন্টিনার ১৪টি গোলের ১০টিতেই মারাদোনার অবদান ছিল , গোলপোস্টে আর্জেন্টিনার পুরো দলের নেয়া মোট শটের অর্ধেকেরও বেশি ছিল তার তৈরি করা৩৫৩৬ পুরো প্রতিযোগিতা জুড়ে ছিল তার দাপট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের আতঙ্কের কারণ ছিলেন তিনি প্রতিযোগিতায় দূর্দান্ত নৈপূন্য প্রদর্শনের মাধ্যমে ফুটবল কিংবদন্তীদের খাতায় নিজের নাম লিখিয়ে নেন মারাদোনা৩৬প্রতিযোগিতা শেষে বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মারাদোনাকে গোল্ডেন বল পুরস্কার দেওয়া হয় তাকে একক প্রচেষ্টায় বিশ্বকাপ জয়ী হিসেবে ব্যাপকভাবে গন্য করা হয়৩৬৩৭৩৮৩৯তার প্রতি সম্মান জানিয়ে স্তাদিও অ্যাজতেকা কর্তৃপক্ষ স্টেডিয়ামটির সামনে মারাদোনার গোল অফ দ্য সেঞ্চুরীর একটি প্রতিমূর্তি নির্মাণ করেছে প্রতিমূর্তিটি স্টেডিয়ামের প্রবেশ পথের সামনে স্থাপিত৪০১৯৯০ বিশ্বকাপ১৯৯০ বিশ্বকাপে পুনরায় আর্জেন্টিনার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন মারাদোনা কিন্তু , গোড়ালির ইনজুরির কারণে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের মত নৈপূন্য তিনি দেখাতে পারেননি প্রথম পর্বে গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থেকেও কোনরকমে দ্বিতীয় পর্বের টিকিট পায় আর্জেন্টিনা ১৬ দলের পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে ক্লদিও ক্যানিজিয়ার একমাত্র গোলে জয় পায় তারা , গোলটি মারাদোনারই বানিয়ে দেওয়া ছিল কোয়ার্টারফাইনালে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয় ইয়োগোস্লাভিয়ার খেলাটি ১২০ মিনিট পর্যন্ত ০০ সমতায় শেষ হলে পেনাল্টি পর্যন্ত গড়ায় গোলরক্ষকের ডান পাশে নেওয়া মারাদোনার দূর্বল শটটি গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দেন তবুও আর্জেন্টিনা ৩২ ব্যবধানে পেনাল্টিতে জয় লাভ করে সেমিফাইনালে , ইতালির বিপক্ষে ১২০ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ছিল ১১ , ফলে এবারও খেলা গড়ায় পেনাল্টিতে এবারও মারাদোনা একই ধরণের শট নেন তবে এবার বলটি ঠিকটি গোলপোস্টের জালে জড়ায় ফাইনালে এবারও আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয় পশ্চিম জার্মানির খেলায় রুডি ফোলারকে ফাউল করার কারণে দেওয়া বিতর্কিত পেনাল্টিতে আনড্রেয়াস ব্রেহমার করা একমাত্র গোলে জয় পায় পশ্চিম জার্মানি১৯৯৪ বিশ্বকাপ১৯৯৪ বিশ্বকাপে মারাদোনা শুধুমাত্র দুইটি খেলায় মাঠে নামেন এর মধ্যে গ্রীসের বিপক্ষে তিনি একটি গোল করেন ড্রাগ টেস্টে এফিড্রিন ডোপিংএর কারণে তাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করা হয় নিজের আত্মজীবনীতে মারাদোনা ঐ টেস্ট সম্পর্কে বলেন যে তার ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক তাকে এনার্জি ড্রিংক রিপ ফুয়েল দেওয়ার কারণে তিনি ড্রাগ টেস্টে ধরা পড়েছেন তার দাবি ছিল , পানীয়টির যুক্তরাষ্ট্রীয় সংস্করণ আর্জেন্টিনীয় সংস্করণের মত নয় , যার মধ্যে ঐ রাসায়নিক দ্রব্যটি ছিল এবং তার প্রশিক্ষক অনিচ্ছাকৃতভাবে তা ব্যবহার করে ফিফা তাকে ১৯৯৪ বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করে এবং আর্জেন্টিনাও দ্বিতীয় পর্ব থেকেই বিদায় নেয় মারাদোনা আলাদাভাবে এও দাবী করেন যে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের পূর্বে ওজন কমানোর জন্য ঐ রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারে ফিফার সাথে তার একটি চুক্তি হয়েছিল৪১১৯৯৪ বিশ্বকাপের পর মারাদোনার ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে পুরো ক্যারিয়ারে তিনি ৯১ খেলায় ৩৪টি গোল করেনখেলার ধরণমারাদোনার দৈহিক গঠন মাঝারি ধরণের এবং তিনি দৈহিক চাপ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখেন তার ছোটছোট পা তাকে দ্রুত দৌড়াতে সহায়তা করে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি তার দৈহিক শক্তির পরিচয় দেন মারাদোনা ছিলেন একজন কৌশলী খেলোয়াড় সীমিত জায়গার মধ্যে তিনি নিজেকে কার্যকরীভাবে নিয়ন্ত্রন করতে পারতেন খাটো হওয়া সত্ত্বেও , দৈহিক দিক থেকে তিনি ছিলেন শক্তিশালী তিনি একজন ডিফেন্ডারের সাথে লম্বা সময় ধরে বল নিজের নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারতেন , যতক্ষণ না তিনি দ্রুত শট নেওয়ার মত জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন বা কোনো সতীর্থ আক্রমনাত্মক দৌড় শুরু করছেন , যাতে তিনি তাকে বল পাস করতে পারেনমারাদোনার জাদুকরি কিছু রণকৌশলের মধ্যে অন্যতম হল ডান উইঙ্গে পূর্ণ গতিতে ড্রিবলিং , প্রতিপক্ষের গোল লাইনে পৌছানো এবং সতীর্থদের সঠিক পাস প্রদান তার আরেকটি জাদুকরি নৈপূন্য ছিল র্যাবোনা , যা হল পায়ের পিছনের অংশ ব্যবহার করে এক ধরণের রিভার্সক্রস পাস শট এছাড়া মারাদোনা ছিলেন একজন বিপজ্জনক ফ্রি কিক গ্রহনকারীমারাদোনা ছিলেন একজন বাম পায়ের খেলোয়াড় এমনকি বলের সাথে ডান পা ভাল অবস্থানে থাকলেও তিনি বাম পা ব্যবহার করতেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে তার করা প্রথম গোলটি এর প্রমাণ বহন করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি করার সময় তিনি একবারের জন্যেও তার ডান পা ব্যবহার করেন নি , যদিও তিনি মাঠের ডান পাশ দিয়ে আক্রমন করেন ১৯৯০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে মারাদোনা ক্যানিজিয়ার যে গোলে সহায়তা করেন তা ডান পায়ে করেছিলেন , কারণ ব্রাজিলীয় ডিফেন্ডাররা তাকে এমন অবস্থায় রেখেছিলেন যে তিনি বাম পা ব্যবহার করতে পারেন নিঅবসর এবং সম্মাননাএফসি বার্সেলোনা জাদুঘরে রাখা মারাদোনার শার্টসংবাদ কর্মীদের জ্বালাতনের শিকার হয়ে মারাদোনা একবার তাদের উপর চড়াও হয়েছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে সংবাদ কর্মীরা তার গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করেছেন তার সম্পর্কে তার প্রাক্তন সতীর্থ হোর্হে ভ্যালদানোর করা একটি উক্তি তার প্রতি অনেকের অনুভূতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়    সে এমন একজন যাকে অনেকেই অনুকরণ করতে চায় , একটি বিতর্কিত চরিত্র , পছন্দকৃত , ঘৃণিত , যিনি সামাজিক উত্থান সৃষ্টি করেন , বিশেষ করে আর্জেন্টিনায় ভূল তার ব্যক্তিগত জীবনের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় মাঠের ভেতরে মারাদোনার কোনো মিত্র নেই , কিন্তু সে তার জীবনকে তামাশায় পরিণত করেছে এবং সে বর্তমানে এক ধরণের ব্যক্তিগত অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে রয়েছে যা অনুসৃত হওয়া উচিত নয় ৪২১৯৯৯ সালে আর্জেন্টিনার কনেক্স ফাউন্ডেশন তাকে হীরক কনেক্স পুরস্কার প্রদান করে যা আর্জেন্টিনার অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক পুরস্কার তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয় খেলাধুলায় আগের দশকে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হওয়ার কারণে২০০০ সালে , মারাদোনা তার আত্মজীবনী     আমি দিয়েগো প্রকাশ করেন যা তার নিজ দেশে তাতক্ষণিক জনপ্রিয়তা পায়৪৩২০০০ সালে , ফিফা মারাদোনাকে শতাব্দির সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করে যা নির্বাচিত হয় তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও অফিসিয়াল ম্যাগাজিনে ভোট এবং বিচারকের মাধ্যমে অনলাইন ভোটে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয় মারাদোনা তিনি পান ৫৩৬ ভোট , যেখানে পেলে পেয়েছিলেন ১৮৫৩ ভোট তাসত্ত্বেও , অনুষ্ঠানের কিছুদিন আগে , ফিফা অপ্রত্যাশিতভাবে সাংবাদিকদের নিয়ে ফুটবল ফ্যামিলি নামে একটি কমিটি গঠন করে , যা শতাব্দির সেরা খেলোয়াড় হিসেবে পেলেকে নির্বাচিত করে পরবর্তীতে ফিফা দুই জনকেই পুরস্কার প্রদান করে এছাড়া মারাদোনা আইএফএফএইচএসএর ভোটেও পঞ্চম স্থান অর্জন করে৪৪২০০১ সালে , আর্জেন্টিনীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন ফিফা কর্তৃপক্ষের কাছে ১০ নম্বর জার্সিটি বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন জানায় অবশ্য , ফিফা এই আবেদন গ্রহন করেনি , তবুও আর্জেন্টিনীয় কর্মকর্তারা নিশ্চয়তা দেন যে ফিফা তাদেরকে এমনটি করার সংকেত দিয়েছে৪৫২০০২ সালে সমর্থকদের ভোটে ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মারাদোনার করা দ্বিতীয় গোলটি ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সেরা গোল নির্বাচিত হয় এছাড়া তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা দলেও জায়গা পান ২০১০ সালের ২২ মার্চ , লন্ডন ভিত্তিক সংবাদপত্র দ্য টাইমস তাকে বিশ্বকাপের সেরা দশ জন খেলোয়াড়ের তালিকায় প্রথম স্থান প্রদান করে৪৬ ২০০৩ সালের ২৬ ডিসেম্বর , আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স মারাদোনার প্রতি সম্মান জানিয়ে তার নামে তাদের স্টেডিয়ামের নামকরণ করে২০০৩ সালে , মারাদোনা লিবিয়ান ফুটবলার আলসাদি গাদ্দাফির কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন , যিনি কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফির তৃতীয় সন্তান এবং সে সময় ইতালীয় ক্লাব পেরুগিয়া ক্ল্যাসিওর হয়ে খেলতেন৪৭২০০৫ সালের ২২ জুন , ঘোষণা করা হয় যে মারাদোনা খেলাধুনা বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে বোকা জুনিয়র্সে ফিরে আসছেন ২০০৫ সালের ১ আগস্ট থেকে তার চুক্তির মেয়াদ শুরু হয়৪৮ কাজে যোগদানের পর তার পরামর্শগুলোর অন্যতম ছিল আল্ফিও বাসিলকে দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া , যা খুব কার্যকর হিসেবে ধরা দেয় মারাদোনা দলের খেলোয়াড়দের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন বোকা জুনিয়র্স ২০০৫ আপের্তুরা , ২০০৬ ক্লাউসুরা , ২০০৫ কোপা সাউদামেরিকানা , ২০০৫ রিকোপা সাউদামেরিকানা জিতেওজন হারানোর পর , ২০০৬ সালে সকার এইড প্রীতি ফুটবল খেলায় মারাদোনা২০০৫ সালের ১৫ আগস্ট , আর্জেন্টিনীয় টেলিভিশনের টকশো     নম্বর ১০ এর রাত এর উপস্থাপক হিসেবে মারাদোনার অভিষেক হয় উদ্বোধনী রাতে তার প্রধান অতিথি ছিলেন পেলে অনুষ্ঠানে তারা বন্ধুত্বপূর্ণ আলাপ করেন , যেখানে অতীত অনৈক্যতার কোনো চিহ্ন ছিল না এই অনুষ্ঠানের অধিকাংশ অতিথি ছিলেন ফুটবল জগতের যাদের মধ্যে জিনেদিন জিদান , রোনালদো এবং এর্নান ক্রেসপো উল্লেখযোগ্য এছাড়া ফিদেল কাস্ত্রো এবং মাইক টাইসনের মত ব্যক্তিও এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট , ঘোষণা করা হয় যে মারাদোনা বোকা জুনিয়র্সে তার পদ ছেড়ে দিচ্ছেন তার সাথে এএফএএর মতানৈক্য সৃষ্টি হয় , কারণ এএফএ বাসিলকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নির্বাচিত করেপুরস্কার বিজয়ী সার্বিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা এমির কুস্তুরিকা মারাদোনার জীবনের উপর ভিত্তি করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন তিনা চলচ্চিত্রটির নামকরণ করেন মারাদোনার নামে২০০৬ সালের মে মাসে , মারাদোনা যুক্তরাজ্যের সকার এইডে অংশগ্রহন করেন৪৯২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে , মারাদোনা তার বিখ্যাত নীলসাদা ১০ নম্বর জার্সিতে আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন এটি ছিল তিন দিনের ইনডোর বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতাকোচিং ক্যারিয়ারক্লাবমারাদোনা তার প্রাক্তন আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের মিডফিল্ড সতীর্থ কার্লোস ফ্রেনের পাশাপাশি কোচ হিসেবে কাজ করার প্রয়াস চালান তারা তেক্সতিল মান্দিইউ ১৯৯৪ এবং রেসিং ক্লাবের ১৯৯৫ হয়ে দায়িত্ব পালন করেন , কিন্তু খুব কমই সফলতা পান ২০১১ সালের মে মাসে , তিনি দুবাইয়ের ক্লাব আল ওয়াসলের কোচ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন সফলতা না পাওয়ায় ২০১২ সালের ১০ জুলাই তাকে বরখাস্ত করা হয়৫০৫১৫২৫৩আন্তর্জাতিক২০০৯ সালে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে মারাদোনা২০০৮ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ আল্ফিও বাসিল পদত্যাগ করলে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য তাত্ক্ষণিকভাবে মারাদোনা নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন কিছু সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা যায় , এই পদের জন্য তার প্রধান প্রতিদ্বন্দি ছিলেন দিয়েগো সাইমন , কার্লোস বিয়াঞ্চি , মুগুয়েল অ্যাঞ্জেল রুসো এবং সার্হিও বাতিস্তা২০০৮ সালের ২৯ অক্টোবর , এএফএ চেয়ারম্যান হুলিও গ্রন্দোনা নিশ্চিত করেন যে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর থেকে মারাদোনা জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করবেন ২০০৮ সালের ১৯ নভেম্বর , স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার খেলায় মারাদোনা প্রথমবারের মত দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন খেলায় আর্জেন্টিনা ১০ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে৫৪জাতীয় দলের কোচ হিসেবে প্রথম তিনটি খেলায় জয় লাভের পর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের বলিভিয়ার বিপক্ষে খেলায় আর্জেন্টিনা ৬১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয় এটি ছিল দলের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে পরাজয় ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আর দুইটি খেলা অবশিষ্ট ছিল সে সময় আর্জেন্টিনার অবস্থান ছিল পঞ্চম ফলে , বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অংশগ্রহন নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দেয় কিন্তু শেষ দুই খেলায় জয়ের ফলে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে অংশগ্রহন নিশ্চিত হয়৫৫৫৬আর্জেন্টিনার বাছাইপর্বে যোগ্যতা অর্জনের পর , খেলা পরবর্তী সংবাদ সম্মলনে মারাদোনা সংবাদ কর্মীদের প্রতি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেন৫৭ এর ফলে ফিফা তাকে ফুটবল সম্পর্কিত সকল কার্যকলাপ থেকে দুই মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে , যার মেয়াদ শেষ হয় ২০১০ সালের ১৫ জানুয়ারি এবং তাকে ২৫ ,০০০ সুইজ ফ্রাঙ্ক জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে এমনটি না করার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়৫৮ ১৫ ডিসেম্বর চেক রিপাবলিকের বিপক্ষে প্রীতি খেলাটি তার নিষিদ্ধের কারণে বাতিল করা হয় নিষিদ্ধ হওয়ার সময়টুকুতে আর্জেন্টিনা একটি মাত্র খেলায় অংশগ্রহন করে , কাতালোনিয়ার বিপক্ষে ক্যাম্প ন্যুতে আর্জেন্টিনা ২৪ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়২০১০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা জয় দিয়ে শুরু করে গ্রুপ পর্বের প্রথম খেলায় তারা নাইজেরিয়াকে ১০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে এরপর তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে ৪১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে , খেলায় গঞ্জালো হিগুয়েইন হ্যাট্রিক করেন৫৯৬০ গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় আর্জেন্টিনা গ্রীসের বিপক্ষে ২০ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে এবং দ্বিতীয় পর্বে উত্তির্ণ হয়ে মেক্সিকোকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পায়৬১ মেক্সিকোকে ৩১ গোলের ব্যবধানে হারানোর পর কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির মুখোমুখি হয় তারা কিন্তু খেলায় ৪০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে তারা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে৬২ প্রতিযোগিতায় আর্জেন্টিনা পঞ্চম স্থান অর্জন করেজার্মানির বিপক্ষে পরাজয়ের পর মারাদোনা আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে বলেন , আমি আগামীকালই দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারি৬৩ ২০১০ সালের ১৫ জুলাই , আর্জেন্টিনীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন থেকে বলা হয় যে মারাদোনাকে চার বছরের জন্য নতুন করে চুক্তি করার প্রস্তাব দেওয়া হবে যার মেয়াদ থাকবে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ পর্যন্ত৬৪ অবশ্য ২৭ জুলাই এএফএ ঘোষণা করে যে এর পরিচালনা পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে তার চুক্তি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে৬৫ ২৯ জুলাই , মারাদোনা দাবী করেন , এএফএ প্রেসিডেন্ট হুলিও গ্রন্দোনা এবং জাতীয় দলের পরিচালক কার্লোস বিলার্দো তাকে মিথ্যা বলেছেন এবং তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন এবং কার্যকরীভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করেছেন তিনি বলেন , তারা চাইছিলেন আমি যেন থেকে যাই , কিন্তু আমার কর্মীদের সাত জনকে তারা রাখবেন না , যদি তিনি আমাকে একথা বলেন , তবে এর অর্থ হল তিনি চাননা যেন আমি কাজ চালিয়ে যাই৬৬ব্যক্তিগত জীবনপরিবারমারাদোনার বাবার নাম দিয়েগো মারাদোনা সিনিয়র এবং মার নাম দালমা সালভাদর ফ্রাঙ্কো তার বাবা একজন আমেরিকান৬৭৬৮ এবং মা ক্রোয়েশিয়ান৬৯ ১৯৮৪ সালের ৭ নভেম্বর , বুয়েনোস আইরেসে ফিয়ান্সি ক্লদিয়া ভিয়াফানিয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মারাদোনা তাদের দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে দালমা নেরেয়া জন্ম ২ এপ্রিল ১৯৮৭ এবং হিয়ানিয়া দিনোরাহ জন্ম ১৬ মে ১৯৮৯ , যিনি ২০০৯ সালে মারাদোনার প্রথম দৌহিত্র বেনজামিন আগুয়েরো জন্ম দেন৭০ নিজের আত্মজীবনীতে মারাদোনা লিখেছিলেন যে তিনি ক্লদিয়ার কাছে সর্বদা বিশ্বস্ত ছিলেন না যদিও তিনি তাকে তার জীবনের ভালোবাসা হিসেবেই উল্লেখ করেছেনমারাদোনা এবং ভিয়াফানিয়ের বিচ্ছেদ হয় ২০০৪ সালে তাদের কন্যা দালমা পরবর্তীতে বলেছিলেন যে এটিই ছিল সকলের জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান , কেননা তার বাবামা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন তাদেরকে অনেক অনুষ্ঠানে একসাথে দেখা গেছে , যার মধ্যে ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলাগুলো অন্যতমবিবাহবিচ্ছেদ অগ্রসর হওয়ার সময় , স্বীকার করেন যে তিনি দিয়েগো সিনাগ্রার বাবা জন্ম ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৮৬ দিয়েগো জুনিয়র ২০০৩ সালের মে মাসে প্রথম মারাদোনার সাথে সাক্ষাত করেন৭১ দিয়েগো সিনাগ্রাও একজন ফুটবলার যিনি বর্তমানে ইতালিতে খেলছেন৭২বিচ্ছেদের পর , ক্লদিয়া একজন থিয়েটার প্রযোজক হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠা করেন এবং দালমা চেষ্টা করতে থাকেন অভিনেত্রী হিসেবে ক্যারিয়ার গঠনের তিনি লস অ্যাঞ্জেলেসের অ্যাক্টরস স্টুডিওতে উপস্থিত হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন৭৩৭৪তার কনিষ্ঠ কন্যা হিয়ানিয়া বিয়ে করেন ম্যানচেস্টার সিটি স্ট্রাইকার সার্জিও অ্যাগুয়েরোকে তাদের একটি পুত্র সন্তান আছে যার নাম বেনজামিন জন্ম ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৯মারাদোনার মা , দালমা ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর মারা যান সে সময় মারাদোনা দুবাইয়ে ছিলেন এবং তাকে দেখার জন্য সময়মত আর্জেন্টিনা পৌছার চেষ্টাও করেন , কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যায় মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮১ বছর মারাদোনার পুত্র দিয়েগো ফেরন্যান্দো তার প্রাক্তন সঙ্গিনী ভেরনিকা ওজেদার গর্ভে জন্মগ্রহন করে মাদক কেলেঙ্কারি এবং স্বাস্থ সংক্রান্ত বিষয়াবলিওজন বৃদ্ধি পাওয়ার পর মারাদোনা , মার্চ ২০০৫১৯৮০এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত মারাদোনা কোকেইনের প্রতি আসক্ত ছিলেন তিনি ১৯৮৩ সালে বার্সেলোনায় থাকার সময় থেকে মাদক ব্যবহার শুরু করেন৭৫ নাপোলিতে খেলার সময় তিনি নিয়মিত মাদক ব্যবহার করতে শুরু করেন যা তার ফুটবল দক্ষতায় হস্তক্ষেপ করতে শুরু করে৭৬ দিনের পর দিন তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে ২০০০ সালের ৪ জানুয়ারি , উরুগুয়ের পুন্তা দেল এস্তেএ ছুটি কাটানোর সময় তাকে দ্রুত একটি স্থানীয় ক্লিনিকের জরুরি কক্ষে নেয়া হয় একটি সংবাদ সম্মেলনে চিকিত্সকগন বিবৃত করেন যে তার হৃৎপিন্ডের পেশীতে ক্ষতি ধরা পড়েছে পরবর্তীতে জানা যায় যে তার রক্তে কোকেইন পাওয়া গেছে এবং মারাদোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে এই ঘটনার পর তিনি মাদক পুনর্বাসন পরিকল্পনা অনুসরণের জন্য আর্জেন্টিনা ছেড়ে কিউবাতে চলে যান২০০৪ সালের ১৮ এপ্রিল , চিকিত্সকগন প্রতিবেদন প্রকাশ করেন যে অতিরিক্ত কোকেইন সেবনের কারণে মারাদোনা মায়োকার্ডিয়াল ইনফ্রাকশনের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন বুয়েনোস আইরেসের একটি হাসপাতালে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তার অসংখ্য ভক্ত ক্লিনিকের চারপাশে ভিড় করে ২৩ এপ্রিল তার শ্বাসযন্ত্র খুলে দেওয়া হয় , তবুও ২৯ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয় তিনি কিউবায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন , তবে তার পরিবার এর বিরোধিতা করে , তার আইনি অবিভাবকত্ব পরীক্ষা করার জন্য একটি বিচার বিভাগীয় পিটিশন দায়ের করা হয়মারাদোনার ওজন বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবণতা ছিল তার খেলুড়ে ক্যারিয়ারের শেষ থেকে গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি করার আগে পর্যন্ত তিনি বৃদ্ধিমূলক স্থূলতায় ভুগছিলেন ২০০৫ সালের ৬ মার্চ কলম্বিয়ায় তার অস্ত্রোপচার করা হয় তার সার্জন বলেন যে মারাদোনাকে এক ধরণের তরল ডায়েট অনুসরণ করে চলতে হবে , তার স্বাভাবিক ওজন ফিরে পাওয়ার জন্য ৭৭ যখন মারাদোনা জনসমক্ষে আসতে শুরু করেন , তখন তাকে আগের চেয়ে পাতলা গড়নে দেখা যায়৭৮২০০৭ সালের ২৯ মার্চ , মারাদোনা পুনরায় বুয়েনোস আইরেসে একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে হেপাটাইটিস এবং অ্যালকোহোলের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে চিকিত্সা করা হয় তাকে ১১ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে মুক্তি দেওয়া হয় , কিন্তু এর দুই দিন পরই আবার ভর্তি হন এর পরবর্তী কিছু দিনে তার স্বাস্থ সম্পর্কে কিছু গুজব ছড়িয়ে পড়ে , এমনকি একই মাসে তিনবার তার মৃত্যুর গুজব ছড়ায়৭৯অ্যালকোহোল সম্পর্কিত সমস্যার কারণে একটি মানসিক ক্লিনিকে স্থানান্তরের পর তাকে ৭ মে মুক্তি দেওয়া হয়৮০২০০৭ সালের ৮ মে , আর্জেন্টিনীয় টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে মারাদোনা উপস্থিত হন এবং বলেন যে তিনি বিগত আড়াই বছর যাবত্ মাদক ব্যবহার ছেড়ে দিয়েছেন৮১রাজনৈতিক দর্শন২০০৭ সালে মারাদোনা আর্জেন্টিনার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নেস্তর কির্শনারকে একটি সাক্ষরকৃত শার্ট উপস্থাপন করেনশুধুমাত্র সাম্প্রতিক সময়ে , মারাদোনা বামপন্থী মতাদর্শের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন এর আগে তিনি আর্জেন্টিনার নব্যউদারনীতিবাদী প্রেসিডেন্ট কার্লোস মেনেমএর সমর্থন করতেন , বিশেষ করে তার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অর্থনীতিবিদ দমিনগো কাভায়ো কিউবায় চিকিত্সাধীন অবস্থায় থাকাকালে সেখানকার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে মারাদোনার বাম পায়ে কাস্ত্রোর প্রতিকৃতি ট্যাটু আছে এবং ডান হাতে আছে স্বদেশী চে গুয়েভারা ট্যাটুকৃত প্রতিকৃতি৮২ মারাদোনা নিজের আত্মজীবনী এল দিয়েগো উত্সর্গ করেছেন কয়েকজন মানুষের প্রতি , যাদের মধ্য ফিদেল কাস্ত্রো অন্যতম বইটিতে তিনি লিখেছেন , ফিদেল কাস্ত্রোর প্রতি , এবং তার মাধ্যমে কিউবার সকল মানুষের প্রতি৮৩মারাদোনা ভেনিজুয়েলার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজেরও সমর্থক ছিলেন ২০০৫ সালে , চাভেজের সাথে সাক্ষাত করার নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে তিনি ভেনিজুয়েলা ভ্রমন করেন সাক্ষাতের পর মারাদোনা বলেন যে তিনি এসেছেন একজন মহান ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করতে , কিন্তু তার পরিবর্তে তিনি সাক্ষাত করলেন এমন একজন ব্যক্তির সাথে যিনি মহানের চেয়েও বেশিআমি চ্যাভেজে বিশ্বাসী , আমি চ্যাভিস্তা ফিদেল যা করে , চ্যাভেজ যা করে , আমার কাছে সেগুলোই ঠিক৮৪২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার মার দেল প্লাটায় সামিট অফ দ্য আমেরিকাসএ তিনি আর্জেন্টিনায় জর্জ ডব্লিউ বুশের উপস্থিতির বিরোধিতা করেন তিনি একটি টিশার্ট পরেছিলেনা যাতে লেখা ছিল   এখানে  এর  এর স্থানে ছিল একটি স্বস্তিকা এবং তিনি বুশকে আবজর্না হিসেবেও উল্লেখ করেন৮৫৮৬২০০৭ সালের আগস্টে , চ্যাভেজের একটি সাপ্তাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি বলেন , আমি সবকিছুকেই ঘৃণা করি যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে আমি ঘৃণা করি আমার সর্বশক্তি দিয়ে ৮৭২০০৭ সালের ডিসেম্বরে , মারাদোনা ইরানের জনগনকে সমর্থন জানানোর জন্য একটি সাক্ষরকৃত শার্ট উপস্থাপন করেন এটি ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জাদুঘরে প্রদর্শিত হবে৮৮অর্থনৈতিক সমস্যা২০০৯ সালের মার্চে ইতালীয় কর্মকর্তাগন ঘোষণা করেন যে মারাদোনার ইতালীয় সরকারের কাছে করের ৩৭ মিলিয়ন ইউরো ঋণ রয়েছে এর মধ্যে ২৩৫ মিলিয়ন ইউরো তারা মূল ঋণের উপর জমা সুদ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যে তিনি শুধুমাত্র ৪২ ,০০০ ইউরো শোধ করেছেন , দুইটি বিলাসবহুল ঘড়ি এবং একটি মাকড়ি সেটের জন্যপশ্চিমবঙ্গ হল পূর্ব ভারতের একটি রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ৯ কোটি ১০ লক্ষ৩ এটি ভারতের ৪র্থ সর্বাধিক জনবহুল রাজ্য এবং বিশ্বের বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অঙ্গরাজ্য৩ পশ্চিমবঙ্গের আয়তন ৩৪ ,২৬৭ মা২ ৮৮ ,৭৫০ কিমি২ এই রাজ্যের উত্তরে ভারতের সিক্কিম রাজ্য , উত্তরপূর্বে ভুটান রাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল , উত্তরপশ্চিমে নেপাল রাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চল পূর্ব দিকে ভারতের অসম রাজ্য এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের রংপুর , রাজশাহী ও খুলনা বিভাগ পশ্চিমে ভারতের বিহার , ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা রাজ্য এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতাউত্তরের হিমালয় পর্বতশ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি অঞ্চলকে বাদ দিলে এ রাজ্যের অধিকাংশ এলাকাই গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত পশ্চিমবঙ্গ , বাংলাদেশ , ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য এবং অসমের বরাক উপত্যকা বাঙালি জাতি অধ্যুষিত বঙ্গ অঞ্চলের অন্তর্গতপ্রাচীন বঙ্গদেশ একাধিক প্রধান জনপদে রাজ্য বিভক্ত ছিল অধুনা পশ্চিমবঙ্গ নামে পরিচিত অঞ্চলটি প্রাচীনকালে বঙ্গ , রাঢ় , পুণ্ড্র ও সুহ্ম জনপদের অন্তর্গত ছিল পরবর্তীকালে এই অঞ্চল মৌর্য সাম্রাজ্য খ্রিস্টপূর্ব ২য় শতাব্দী ও গুপ্ত সাম্রাজ্য খ্রিস্টীয় ৪র্থ শতাব্দী  এই দুই বৃহদায়তন সাম্রাজ্য এবং অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রায়তন আঞ্চলিক পাল সাম্রাজ্য খ্রিস্টীয় ৮ম১১শ শতাব্দী এবং সেন সাম্রাজ্যের খ্রিস্টীয় ১১শ১২শ শতাব্দী অন্তর্ভুক্ত হয় খ্রিস্টীয় ১৩শ শতাব্দী থেকে ১৮শ শতাব্দী পর্যন্ত এই অঞ্চল শাসিত হয় বাংলা সালতানাত , হিন্দু রাজন্যবর্গ ও বারো ভুঁইয়া নামে পরিচিত জমিদারবর্গের দ্বারা এরপর বাংলা তথা ভারতে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা ঘটে ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা সহ ভারতের বিস্তীর্ণ অংশের শাসন কর্তৃত্ব নিজের হাতে তুলে নেয় এরপর ১৯১১ সাল পর্যন্ত কলকাতা ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ছিল ব্রিটিশ শাসনের ফলশ্রুতিতে ভারতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পাশ্চাত্য শিক্ষা ও বিজ্ঞানচেতনার প্রসার ঘটলে কলকাতাকে কেন্দ্র করে হিন্দু বাঙালি সমাজে এক ধর্ম ও সমাজ সংস্কার আন্দোলনের শুরু হয় বাংলার ইতিহাসে এই আন্দোলন বাংলার নবজাগরণ নামে পরিচিত ২০শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গ ভূখণ্ড ছিল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্র ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের সময় ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা বিভাজিত হয় হিন্দুপ্রধান পশ্চিমবঙ্গ ভারতের একটি রাজ্যে পরিণত হয় অন্যদিকে মুসলমানপ্রধান পূর্ববঙ্গ নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হয় বিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ্বে পশ্চিমবঙ্গে বামপন্থী মতবাদ ও আন্দোলন প্রসার লাভ করে৪৫৬৭৮ ১৯৭৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ শাসন করে কমিউনিস্ট বামফ্রন্ট সরকার ২০১১ সালের নির্বাচনে বামফ্রন্টকে পরাজিত করে দক্ষিণপন্থী দল তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গঠন করেছেকৃষিপ্রধান রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ ভারতের নিট আভ্যন্তরিণ উৎপাদনের ষষ্ঠ বৃহত্তম অবদানকারী৯ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনৈতিক সক্রিয়তার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত এছাড়া সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এই রাজ্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য রাজ্য রাজধানী কলকাতাকে ভারতের সাংস্কৃতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিজস্ব লোকসংস্কৃতি ছাড়াও এই রাজ্যের একটি সমৃদ্ধ মূলধারার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে সাহিতে নোবেলপুরস্কার জয়ী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে বহু সংখ্যক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের কর্মস্থল এই ছিল রাজ্য ভারতের অন্যান্য রাজ্যে ক্রিকেট সর্বাধিক জনপ্রিয় খেলা হলেও , পশ্চিমবঙ্গে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দেয় ফুটবলের জনপ্রিয়তা১০১১১২ পশ্চিমবঙ্গে দুটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রয়েছেদার্জিলিং হিমালয়ান রেল ও সুন্দরবন জাতীয় উদ্যানপরিচ্ছেদসমূহ    ১ নামকরণ    ২ ইতিহাস        ২১ প্রাচীন যুগ        ২২ আদিমধ্য ও মধ্যযুগ        ২৩ ব্রিটিশ শাসন        ২৪ স্বাধীনোত্তর যুগ    ৩ ভূগোল ও জলবায়ু    ৪ জীবজগৎ    ৫ সরকার ব্যবস্থা ও রাজনীতি    ৬ প্রশাসনিক বিভাগ    ৭ অর্থনীতি    ৮ পরিবহন ব্যবস্থা    ৯ জনপরিসংখ্যান    ১০ সংস্কৃতি        ১০১ সাহিত্য        ১০২ সংগীত ও নৃত্যকলা        ১০৩ চলচ্চিত্র        ১০৪ শিল্পকলা        ১০৫ উৎসব ও মেলা    ১১ শিক্ষা    ১২ গণমাধ্যম    ১৩ খেলাধূলা    ১৪ আরও দেখুন    ১৫ উৎসপঞ্জি    ১৬ বহিঃসংযোগনামকরণবঙ্গ বা বাংলা নামের সঠিক উৎসটি অজ্ঞাত এই নামের উৎস সম্পর্কে একাধিক মতবাদ প্রচলিত একটি মতে এটি খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ অব্দে এই অঞ্চলে বসবাসকারী দ্রাবিড় উপজাতির ভাষা থেকে এসেছে১৩ সংস্কৃত সাহিত্যে বঙ্গ নামটি অনেক জায়গাতেই পাওয়া যায় কিন্তু এই অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ কিছুই জানা যায় না১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ বাংলা প্রদেশের ভারতের অঙ্গরাজ্যে পরিণত হলে এই রাজ্যের নামকরণ পশ্চিমবঙ্গ করা হয়েছিল ইংরেজিতে অবশ্য   ওয়েস্ট বেঙ্গল নামটিই সরকারিভাবে প্রচলিত ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের ইংরেজি নামটি পালটে  রাখার প্রস্তাব দেয়১৪ইতিহাসমূল নিবন্ধগুলি বাংলার ইতিহাস এবং পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসপ্রাচীন যুগবৃহত্তর বঙ্গদেশে সভ্যতার সূচনা ঘটে আজ থেকে ৪ ,০০০ বছর আগে১৫১৬ এই সময় দ্রাবিড় , তিব্বতিবর্মি ও অস্ত্রোএশীয় জাতিগোষ্ঠী এই অঞ্চলে এসে বসতি স্থাপন করেছিল বঙ্গ বা বাংলা শব্দের প্রকৃত উৎস অজ্ঞাত তবে মনে করা হয় , ১০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ যে দ্রাবিড়ভাষী বং জাতিগোষ্ঠী এই অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেছিল , তারই নামানুসারে এই অঞ্চলের নামকরণ হয় বঙ্গ১৭ গ্রিক সূত্র থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১০০ অব্দ নাগাদ গঙ্গারিডাই নামক একটি অঞ্চলের অস্তিত্বের কথা জানা যায় সম্ভবত এটি বৈদেশিক সাহিত্যে বাংলার প্রাচীনতম উল্লেখগুলির অন্যতম মনে করা হয় , এই গঙ্গারিডাই শব্দটি গঙ্গাহৃদ অর্থাৎ , গঙ্গা যে অঞ্চলের হৃদয়ে প্রবাহিত শব্দের অপভ্রংশ১৮ খ্রিষ্টপূর্ব সপ্তম শতাব্দীতে বাংলা ও বিহার অঞ্চল নিয়ে গড়ে ওঠে মগধ রাজ্য একাধিক মহাজনপদের সমষ্টি এই মগধ রাজ্য ছিল মহাবীর ও গৌতম বুদ্ধের সমসাময়িক ভারতের চারটি প্রধান রাজ্যের অন্যতম১৯ মৌর্য রাজবংশের রাজত্বকালে প্রায় সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া মগধ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে এই সাম্রাজ্যের সর্বশ্রেষ্ঠ নরপতি মহামতি অশোকের রাজত্বকালে আফগানিস্তান ও পারস্যের কিছু অংশও এই সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়প্রাচীনকালে জাভা , সুমাত্রা ও শ্যামদেশের অধুনা থাইল্যান্ড সঙ্গে বাংলার বৈদেশিক বাণিজ্য সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ মহাবংশ অনুসারে , বিজয় সিংহ নামে বঙ্গ রাজ্যের এক রাজপুত্র লঙ্কা অধুনা শ্রীলঙ্কা জয় করেন এবং সেই দেশের নতুন নাম রাখেন সিংহল প্রাচীন বাংলার অধিবাসীরা মালয় দ্বীপপুঞ্জ ও শ্যামদেশে গিয়ে সেখানে নিজেদের উপনিবেশ স্থাপন করেছিলেনআদিমধ্য ও মধ্যযুগলালজীউ মন্দির , বিষ্ণুপুরখ্রিষ্টীয় তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মগধ রাজ্য ছিল গুপ্ত সাম্রাজ্যের প্রধান কেন্দ্র বঙ্গের প্রথম সার্বভৌম রাজা ছিলেন শশাঙ্ক খ্রিষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর প্রথম ভাগে তিনি একাধিক ছোটো ছোটো রাজ্যে বিভক্ত সমগ্র বঙ্গ অঞ্চলটিকে একত্রিত করে একটি সুসংহত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন২০ শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ অধুনা মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙামাটি অঞ্চল তাঁর মৃত্যুর অব্যবহিত পরে বঙ্গের ইতিহাসে এক নৈরাজ্যের অবস্থা সৃষ্টি ইতিহাসে এই সময়টি মাৎস্যন্যায় নামে পরিচিত এরপর চারশো বছর বৌদ্ধ পাল রাজবংশ এবং তারপর কিছুকাল হিন্দু সেন রাজবংশ এই অঞ্চল শাসন করেন পাল সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র অধুনা পাটনা , বিহার এবং পরে গৌড় মালদহ জেলা সেন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল নবদ্বীপ নদিয়া জেলা এরপর ভারতে ইসলামের আবির্ভাব ঘটলে বঙ্গ অঞ্চলেও ইসলাম ধর্মে প্রসার ঘটে২১ বকতিয়ার খলজি নামে দিল্লি সুলতানির দাস রাজবংশের এক তুর্কি সেনানায়ক সর্বশেষ সেন রাজা লক্ষ্মণসেনকে পরাস্ত করে বঙ্গের একটি বিরাট অঞ্চল অধিকার করে নেন এরপর কয়েক শতাব্দী এই অঞ্চল দিল্লি সুলতানির অধীনস্থ সুলতান রাজবংশ অথবা সামন্ত প্রভুদের দ্বারা শাসিত হয় ষোড়শ শতাব্দীতে মুঘল সেনানায়ক ইসলাম খাঁ বঙ্গ অধিকার করেন যদিও মুঘল সাম্রাজ্যের রাজদরবার সুবা বাংলার শাসকদের শাসনকার্যের ব্যাপারে আধাস্বাধীনতা প্রদান করেছিলেন এই অঞ্চলের শাসনভার ন্যস্ত হয়েছিল মুর্শিদাবাদের নবাবদের হাতে নবাবেরাও দিল্লির মুঘল সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেনব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রবার্ট ক্লাইভ , ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধ বিজয়ের পরব্রিটিশ শাসনরাজা রামমোহন রায় , বাংলার নবজাগরণের জনকনেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু , বাংলার বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী ব্রিটিশ শাসনের উচ্ছেদকল্পে স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা অবিস্মরণীয়পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষভাগে বঙ্গ অঞ্চলে ইউরোপীয় বণিকদের আগমন ঘটে এই সব বণিকেরা এই অঞ্চলে নিজ নিজ প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন অবশেষে ১৭৫৭ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পলাশীর যুদ্ধে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজদ্দৌলাকে পরাজিত করেন এর পর সুবা বাংলার রাজস্ব আদায়ের অধিকার কোম্পানির হস্তগত হয়২২ ১৭৬৫ সালে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি স্থাপিত হয় ধীরে ধীরে সেন্ট্রাল প্রভিন্সের অধুনা মধ্যপ্রদেশ উত্তরে অবস্থিত গঙ্গাব্রহ্মপুত্রের মোহনা থেকে হিমালয় ও পাঞ্জাব পর্যন্ত সকল ব্রিটিশঅধিকৃত অঞ্চল বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্ভুক্ত হয় ছিয়াত্তরের মন্বন্তরে লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যু ঘটে২৩ ১৭৭২ সালে কলকাতা ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী ঘোষিত হয়বাংলার নবজাগরণ ও ব্রাহ্মসমাজকেন্দ্রিক সামাজিকসাংস্কৃতিক সংস্কার আন্দোলন বাংলার সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করে ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের সূচনা কলকাতার অদূরেই হয়েছিল এই বিদ্রোহ ব্যর্থ হলেও এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের শাসনভার কোম্পানির হাত থেকে ব্রিটিশ রাজশক্তি স্বহস্তে গ্রহণ করে ভারত শাসনের জন্য একটি ভাইসরয়ের পদ সৃষ্টি করা হয়২৪ ১৯০৫ সালে ধর্মীয় বিভাজনের ভিত্তিতে প্রথম পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় বঙ্গ অঞ্চলটিকে পূর্ববঙ্গ থেকে পৃথক করা হয় কিন্তু বঙ্গবিভাগের এই প্রয়াস শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয় এবং ১৯১১ সালে বঙ্গপ্রদেশকে পুনরায় একত্রিত করা হয়২৫ ১৯৪৩ সালে পঞ্চাশের মন্বন্তরে বাংলায় ৩০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়২৬ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বাংলা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে অনুশীলন সমিতি ও যুগান্তর দলের মতো বিপ্লবী দলগুলি এখানে অতিসক্রিয় হয়ে ওঠে বাংলায় ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায় যখন সুভাষচন্দ্র বসু আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া থেকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন ১৯২০ সাল থেকে এই রাজ্যে বামপন্থী আন্দোলন তীব্র আকার ধারন করে সেই ধারা আজও অব্যাহত আছে ১৯৪৭ সালে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগের চক্রান্তে ভারত স্বাধীনতা অর্জন ধর্মের ভিত্তিতে বাংলা দ্বিধাবিভক্ত হয় হিন্দুপ্রধান পশ্চিমবঙ্গ ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয় এবং মুসলমানপ্রধান পূর্ববঙ্গ নবগঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তানে যোগ দেয় এই অঞ্চলটি পরে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত হয় এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে২৭স্বাধীনোত্তর যুগদেশভাগের পর পূর্ববঙ্গ থেকে লক্ষ লক্ষ হিন্দু পশ্চিমবঙ্গে চলে আসেন এই ব্যাপক অভিবাসনের ফলে পশ্চিমবঙ্গে খাদ্য ও বাসস্থানের সমস্যা দেখা দেয় ১৯৫০ সালে দেশীয় রাজ্য কোচবিহারের রাজা জগদ্দীপেন্দ্র নারায়ণ ভারত সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলে কোচবিহার পশ্চিমবঙ্গের একটি জেলায় পরিণত হয় ১৯৫৫ সালে ফরাসি উপনিবেশ চন্দননগর পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয় বিহারের কিছু বাংলাভাষী অঞ্চলও এই সময় পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয়১৯৭০ ও ১৯৮০এর দশকে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় , ধর্মঘট ও সহিংস মার্ক্সবাদীনকশালবাদী আন্দোলনের ফলে রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামো ভেঙে পড়ে এর ফলে এক অর্থনৈতিক স্থবিরতার যুগের সূত্রপাত হয় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি শরণার্থী পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেয় সেই সময় নকশালবাদের সাথে কংগ্রেসের চক্রান্তের ফলে রাজ্যের পরিকাঠামোয় গভীর চাপ সৃষ্টি হয়২৮ ১৯৭৪ সালের বসন্ত মহামারীতে রাজ্যে সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যু হয় ১৯৭৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে পরাজিত করে বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এলে রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ এক রাজনৈতিক পরিবর্তন সূচিত হয় এরপর তিন দশকেরও বেশি সময় ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্ক্সবাদী সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার রাজ্যে শাসনভার পরিচালনা করে২৯১৯৯০এর দশকের মধ্যভাগে ভারত সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার এবং ২০০০ সালে সংস্কারপন্থী নতুন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নির্বাচনের পর রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নতি ত্বরান্বিত হয় বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ছোটোবড়ো বেশ কয়েকটি সশস্ত্র জঙ্গিহানার ঘটনা ঘটেছে৩০৩১ আবার শিল্পায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় অধিবাসীদের একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে৩২৩৩২০০৬ সালে হুগলির সিঙ্গুরে টাটা ন্যানো কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে তীব্র গণঅসন্তোষ দেখা যায় জমি অধিগ্রহণ বিতর্কের প্রেক্ষিতে সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠী কারখানা প্রত্যাহার করে নিলে , তা রাজ্য রাজনীতিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করে৩৪ ২০০৭ সালে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে অশান্তির জেরে পুলিশের গুলিতে ১৪ জন মারা গেলে রাজ্য রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এরপর ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন , ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন ও ২০১০ সালের পৌরনির্বাচনে শাসক বামফ্রন্টের আসন সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পেতে থাকে অবশেষে ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে রাজ্যের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান হয়ভূগোল ও জলবায়ুমূল নিবন্ধ পশ্চিমবঙ্গের ভূগোলদার্জিলিং শহরবর্ষাকালে রাজ্যের বহু অংশই বন্যার কবলে পড়েপূর্ব ভারতে হিমালয়ের দক্ষিণে ও বঙ্গোপসাগরের উত্তরে এক সংকীর্ণ অংশে পশ্চিমবঙ্গ অবস্থিত রাজ্যের মোট আয়তন ৮৮ ,৭৫২ বর্গকিলোমিটার ৩৪ ,২৬৭ বর্গমাইল৩৫ রাজ্যের সর্বোত্তরে অবস্থিত দার্জিলিং হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল পূর্ব হিমালয়ের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু ৩ ,৬৩৬ মিটার বা ১১ ,৯২৯ ফুট এই অঞ্চলে অবস্থিত৩৬ এই পার্বত্য অঞ্চলকে দক্ষিণে গাঙ্গেয় বদ্বীপ অঞ্চলের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে সংকীর্ণ তরাই অঞ্চল অন্যদিকে রাঢ় অঞ্চল গাঙ্গেয় বদ্বীপকে বিচ্ছিন্ন করেছে পশ্চিমের মালভূমি ও উচ্চভূমি অঞ্চলের থেকে রাজ্যের সর্বদক্ষিণে একটি নাতিদীর্ঘ উপকূলীয় সমভূমিও বিদ্যমান অন্যদিকে সুন্দরবন অঞ্চলের ম্যানগ্রোভ অরণ্য গাঙ্গেয় বদ্বীপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যদার্জিলিং হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে কালিম্পঙের কাছে তিস্তা নদীর তীর ঘেঁষে ৩১ ক জাতীয় সড়কপশ্চিমবঙ্গের প্রধান নদী গঙ্গা রাজ্যকে দ্বিধাবিভক্ত করেছে এই নদীর একটি শাখা পদ্মা নাম ধারণ করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে অপর শাখাটি ভাগীরথী ও হুগলি নামে পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে তিস্তা , তোর্ষা , জলঢাকা , ফুলহারও মহানন্দা উত্তরবঙ্গের প্রধান নদনদী পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল থেকে উৎপন্ন নদনদীগুলির মধ্যে প্রধান হল দামোদর , অজয় ও কংসাবতী গাঙ্গেয় বদ্বীপ ও সুন্দরবন অঞ্চলে অজস্র নদনদী ও খাঁড়ি দেখা যায় নদীতে বেপরোয়া বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে গঙ্গার দূষণ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান সমস্যা৩৭ রাজ্যের অন্তত নয়টি জেলায় আর্সেনিক দূষিত ভৌমজলের সমস্যা রয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত ১০ লিটারের অধিক মাত্রার আর্সেনিক দূষিত জল পান করে ৮৭ লক্ষ মানুষ৩৮পশ্চিমবঙ্গ গ্রীষ্মপ্রধান উষ্ণ জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত রাজ্যের প্রধান ঋতু চারটি , যেমন শুষ্ক গ্রীষ্মকাল , আর্দ্র গ্রীষ্মকাল বা বর্ষাকাল , শরৎকাল ও শীতকাল বদ্বীপ অঞ্চলের গ্রীষ্মকাল আর্দ্র হলেও , পশ্চিমের উচ্চভূমি অঞ্চলে উত্তর ভারতের মতো শুষ্ক গ্রীষ্মকাল রাজ্যে গ্রীষ্মকালের গড় তাপমাত্রা ৩৮ সেলসিয়াস ১০০ ফারেনহাইট থেকে ৪৫ সেলসিয়াস ১১৩ ফারেনহাইট৩৯ রাত্রিকালে বঙ্গোপসাগর থেকে শীতল আর্দ্র দক্ষিণা বায়ু বয় গ্রীষ্মের শুরুতে স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে যে প্রবল ঝড় , বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হয় তা কালবৈশাখী নামে পরিচিত৪০ বর্ষাকাল স্থায়ী হয় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভারত মহাসাগরীয় মৌসুমি বায়ুর বঙ্গোপসাগরীয় শাখাটি উত্তরপশ্চিম অভিমুখে ধাবিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টিপাত ঘটায় রাজ্যে শীতকাল ডিসেম্বরজানুয়ারি আরামদায়ক এই সময় রাজ্যের সমভূমি অঞ্চলের গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হয় ১৫ সেলসিয়াস ৫৯ ফারেনহাইট৩৯ শীতকালে শুষ্ক শীতল উত্তরে বাতাস বয় এই বায়ু তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গে আর্দ্রতার মাত্রাও কমিয়ে দেয় যদিও দার্জিলিং হিমালয় পার্বত্য অঞ্চলে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ে এই সময়ে এই অঞ্চলের কোথাও কোথাও তুষারপাতও হয়জীবজগৎরয়্যাল বেঙ্গল টাইগারনেওড়া উপত্যকা জাতীয় উদ্যানে সূর্যাস্তপশ্চিমবঙ্গের রাষ্ট্রীয় প্রতীক পশু মেছোবাঘ৪১     পাখি ধলাগলা মাছরাঙা   বৃক্ষ ছাতিম  ৪২ফুল শিউলি       ৪২পশ্চিমবঙ্গের জৈব বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ এর প্রধান কারণ হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল থেকে উপকূলীয় সমভূমি পর্যন্ত সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভূপৃষ্ঠের উচ্চতার তারতম্য রাজ্যের ভৌগোলিক এলাকার মাত্র ১৪ শতাংশ বনভূমি যা জাতীয় গড় ২৩ শতাংশের চেয়ে অনেকটাই কম৪৩৪৪ রাজ্যের আয়তনের ৪ শতাংশ সংরক্ষিত এলাকা৪৫ বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবনের একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত৪৬উদ্ভিজ্জভৌগোলিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় , যেমন গাঙ্গেয় সমভূমি ও সুন্দরবনের লবনাক্ত ম্যানগ্রোভ অরণ্যভূমি৪৭ গাঙ্গেয় সমভূমির পললমৃত্তিকা এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত এই অঞ্চলকে বিশেষভাবে উর্বর করে তুলেছে৪৭ রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের উদ্ভিদপ্রকৃতি পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের ছোটোনাগপুর মালভূমির উদ্ভিদপ্রকৃতির সমরূপ৪৭ এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকরী বৃক্ষ হল শাল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার উপকূলীয় অঞ্চলের উদ্ভিদপ্রকৃতি উপকূলীয় ধরনের এই অঞ্চলের প্রধান বৃক্ষ হল ঝাউ সুন্দরবন অঞ্চলের সর্বাপেক্ষা মূল্যবান বৃক্ষ সুন্দরী গাছ এই গাছ এই অঞ্চলের সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায় এবং সুন্দরবনের নামকরণও এই গাছের নামেই হয়েছে৪৮ উত্তরবঙ্গের উদ্ভিদপ্রকৃতির প্রধান তারতম্যের কারণ এই অঞ্চলের উচ্চতা ও বৃষ্টিপাত উদাহরণস্বরূপ , হিমালয়ের পাদদেশে ডুয়ার্স অঞ্চলে ঘন শাল ও অন্যান্য ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বন দেখা যায়৪৯ আবার ১০০০ মিটার উচ্চতায় উদ্ভিদের প্রকৃতি উপক্রান্তীয় ১ ,৫০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত দার্জিলিঙে ওক , কনিফার , রডোডেনড্রন প্রভৃতি গাছের নাতিশীতোষ্ণমণ্ডলীয় অরণ্য দেখা যায়৪৯সুন্দরবন বাঘ সংরক্ষণ প্রকল্পের জন্য বিখ্যাত রাজ্যে মোট ছয়টি জাতীয় উদ্যান আছে৫০  সুন্দরবন জাতীয় উদ্যান , বক্সা জাতীয় উদ্যান , গোরুমারা জাতীয় উদ্যান , নেওড়া উপত্যকা জাতীয় উদ্যান , সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যান ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান রাজ্যের অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মধ্যে ভারতীয় গণ্ডার , এশীয় হাতি , হরিণ , বাইসন , চিতাবাঘ , গৌর ও কুমির উল্লেখযোগ্য রাজ্যের পক্ষীজগৎও বৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ পরিযায়ী পাখিদের শীতকালে এ রাজ্যে আসতে দেখা যায়৪৫ সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যানের মতো উচ্চ পার্বত্য বনভূমি অঞ্চলে বার্কিং ডিয়ার , রেড পান্ডা , চিঙ্কারা , টাকিন , সেরো , প্যাঙ্গোলিন , মিনিভেট , কালিজ ফেজান্ট প্রভৃতি বন্যপ্রাণীর সন্ধান মেলে বেঙ্গল টাইগার ছাড়া সুন্দরবন অঞ্চলে গঙ্গা নদী শুশুক , নদী কচ্ছপ , স্বাদুপানির কুমির ও লোনা পানির কুমির প্রভৃতি বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বন্যপ্রাণীও দেখা যায়৫১ ম্যানগ্রোভ অরণ্য প্রাকৃতিক মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্রের কাজও করে এখানে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় মাছ দেখা যায়৫১সরকার ব্যবস্থা ও রাজনীতিমূল নিবন্ধ পশ্চিমবঙ্গ সরকারআরও দেখুন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীপশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সচিবালয় মহাকরণরাজভবনপশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ বিচারালয় কলকাতা হাইকোর্টভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গও প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সংসদীয় পদ্ধতিতে শাসিত হয় রাজ্যের সকল নাগরিকের জন্য সার্বজনীন ভোটাধিকার স্বীকৃত পশ্চিমবঙ্গের আইনসভা বিধানসভা নামে পরিচিত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে এই বিধানসভা গঠিত বিধানসভার সদস্যরা একজন অধ্যক্ষ ও একজন উপাধ্যক্ষকে নির্বাচিত করেন অধ্যক্ষ অথবা অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে উপাধ্যক্ষ বিধানসভা অধিবেশনে পৌরহিত্য করেন কলকাতা হাইকোর্ট ও অন্যান্য নিম্ন আদালত নিয়ে রাজ্যের বিচারবিভাগ গঠিত শাসনবিভাগের কর্তৃত্বভার ন্যস্ত রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার উপর রাজ্যপাল রাজ্যের আনুষ্ঠানিক প্রধান হলেও , প্রকৃত ক্ষমতা সরকারপ্রধান মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই ন্যস্ত থাকে রাজ্যপালকে নিয়োগ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাজ্যপালই অন্যান্য মন্ত্রীদের নিয়োগ করে থাকেন মন্ত্রিসভা বিধানসভার নিকট দায়বদ্ধ থাকে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা এককক্ষীয় এই সভার সদস্য সংখ্যা ২৯৫ জন এঁদের মধ্যে ২৯৪ জন নির্বাচিত এবং একজন অ্যাংলোইন্ডিয়ান সম্প্রদায় থেকে মনোনীত বিধানসভার সদস্যদের বিধায়ক বলা হয়৫২৫৩ বিধানসভার স্বাভাবিক মেয়াদ পাঁচ বছর তবে মেয়াদ শেষ হবার আগেও বিধানসভা ভেঙে দেওয়া যায় গ্রাম ও শহরাঞ্চলে স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন সংস্থাগুলি যথাক্রমে পঞ্চায়েত ও পুরসভা নামে পরিচিত এই সকল সংস্থাও নিয়মিত নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালিত হয় পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় বঙ্গ থেকে ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় ৪২ জন ও উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় ১৬ জন সদস্য প্রতিনিধিত্ব করেন৫৪পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দুই প্রধান প্রতিপক্ষ শক্তি হল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্ক্সবাদী সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট ও সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৫টি আসন দখল করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসে বিগত ৩৪ বছর এই বামফ্রন্ট পশ্চিমবঙ্গ শাসন করেছে এই সরকার ছিল বিশ্বের দীর্ঘতম মেয়াদের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকার২৯৫৫৫৬ ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে , ২২৬টি আসন দখল করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসজাতীয় কংগ্রেস জোট বামফ্রন্টকে পরাজিত করে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করছেপ্রশাসনিক বিভাগমূল নিবন্ধ পশ্চিমবঙ্গের জেলাআরও দেখুন পশ্চিমবঙ্গের শহর ও পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থাপ্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য পশ্চিমবঙ্গকে তিনটি বিভাগ ও ২০টি অধুনা ঘোষিত আলিপুরদুয়ার জেলাটিকে ধরে জেলায় বিভক্ত করা হয়েছে৫৭ এগুলি হলপ্রেসিডেন্সি বিভাগ বর্ধমান বিভাগ জলপাইগুড়ি বিভাগ পশ্চিমবঙ্গের জেলামানচিত্র    ১ কলকাতা    ২ হাওড়া    ৩ উত্তর চব্বিশ পরগনা    ৪ দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা    ৫ নদিয়া    ৬ মুর্শিদাবাদ    ৭ বর্ধমান    ৮ হুগলি    ৯ পূর্ব মেদিনীপুর    ১০ পশ্চিম মেদিনীপুর    ১১ পুরুলিয়া    ১২ বাঁকুড়া    ১৩ বীরভূম    ১৪ জলপাইগুড়ি    ১৫ কোচবিহার    ১৬ দার্জিলিং    ১৭ উত্তর দিনাজপুর    ১৮ দক্ষিণ দিনাজপুর    ১৯ মালদহ   প্রতিটি জেলার শাসনভার একজন জেলাশাসক বা জেলা কালেক্টরের হাতে ন্যস্ত থাকে তিনি ভারতীয় প্রশাসনিক কৃত্যক আইএএস বা পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসন কৃত্যক ডব্লিউবিসিএস কর্তৃক নিযুক্ত হন৫৮ প্রতিটি জেলা মহকুমার বিভক্ত মহকুমার শাসনভার মহকুমাশাসকের হাতে ন্যস্ত থাকে মহকুমাগুলি আবার ব্লকে বিভক্ত ব্লকগুলি গঠিত হয়েছে পঞ্চায়েত ও পুরসভা নিয়ে৫৭কলকাতা পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী তথা বৃহত্তম শহর কলকাতা ভারতের তৃতীয় বৃহৎ মহানগর৫৯ এবং বৃহত্তর কলকাতা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম নগরাঞ্চল৬০ উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি রাজ্যের অপর এক অর্থনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন মহানগর শিলিগুড়ি করিডোরে অবস্থিত এই শহর উত্তরপূর্ব ভারতের সঙ্গে অবশিষ্ট দেশের সংযোগ রক্ষা করছে আসানসোল ও দুর্গাপুর রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের শিল্পতালুকে অবস্থিত অপর দুটি মহানগর৬১ রাজ্যের অন্যান্য শহরগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হাওড়া , রাণীগঞ্জ , হলদিয়া , জলপাইগুড়ি , খড়গপুর , বর্ধমান , দার্জিলিং , মেদিনীপুর , তমলুক , ইংরেজ বাজার ও কোচবিহার৬১অর্থনীতিকলকাতা পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্রপশ্চিমবঙ্গের প্রধান খাদ্য ও পণ্যফসল যথাক্রমে ধান ও পাটমূল নিবন্ধ পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতিমোট রাজ্য আভ্যন্তরীণ উৎপাদন , বর্তমান মূল্যে ৯৩৯৪ ভিত্তি৬২ভারতীয় টাকার কোটির অঙ্কেবছর মোট রাজ্য আভ্যন্তরীণ উৎপাদন১৯৯৯২০০০ ১৩৫ ,১৮২২০০০২০০১ ১৪৩ ,৫৩২২০০১২০০২ ১৫৭ ,১৩৬২০০২২০০৩ ১৬৮ ,০৪৭২০০৩২০০৪ ১৮৯ ,০৯৯২০০৪২০০৫ ২০৮ ,৫৭৮২০০৫২০০৬ ২৩৬ ,০৪৪পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী রাজ্যের প্রধান খাদ্যফসল হল ধান অন্যান্য খাদ্যফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডাল , তৈলবীজ , গম , তামাক , আখ ও আলু এই অঞ্চলের প্রধান পণ্যফসল হল পাট চা উৎপাদনও বাণিজ্যিকভাবে করা হয়ে থাকে উত্তরবঙ্গ দার্জিলিং ও অন্যান্য উচ্চ মানের চায়ের জন্য বিখ্যাত৬৩ যদিও রাজ্যের মোট আভ্যন্তরিণ উৎপাদনে প্রধান অবদানকারী হল চাকুরিক্ষেত্র এই ক্ষেত্র থেকে রাজ্যের মোট আভ্যন্তরিণ উৎপাদনের ৫১ শতাংশ আসে অন্যদিকে কৃষিক্ষেত্র থেকে আসে ২৭ শতাংশ ও শিল্পক্ষেত্র থেকে আসে ২২ শতাংশ৬৪ রাজ্যের শিল্পকেন্দ্রগুলি কলকাতা ও পশ্চিমের খনিজসমৃদ্ধ উচ্চভূমি অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত দুর্গাপুরআসানসোল কয়লাখনি অঞ্চলে রাজ্যের প্রধান প্রধান ইস্পাতকেন্দ্রগুলি অবস্থিত৬৩ ইঞ্জিনিয়ারিং দ্রব্যাদি , ইলেকট্রনিকস , বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি , কেবল , ইস্পাত , চামড়া , বস্ত্র , অলংকার , যুদ্ধজাহাজ , অটোমোবাইল , রেলওয়ে কোচ ও ওয়াগন প্রভৃতি নির্মাণশিল্প রাজ্যের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেস্বাধীনতার বেশ কয়েক বছর পরও খাদ্যের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় বঙ্গ কেন্দ্রীয় সরকারের মুখাপেক্ষী ছিল ভারতের সবুজ বিপ্লব পশ্চিমবঙ্গে কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারায় এই রাজ্যের খাদ্য উৎপাদন অপর্যাপ্তই রয়ে যায় তবে ১৯৮০এর দশক থেকে রাজ্যে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদিত হয়ে থাকে৬৫ ১৯৮০৮১ সালে ভারতের সামগ্রিক শিল্প উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গের অংশ ছিল ৯৮ শতাংশ ১৯৯৭৯৮ সালে এই অংশ কমে দাঁড়ায় ৫ শতাংশ তবে চাকুরিক্ষেত্র জাতীয় হারের তুলনায় অধিক হারে প্রসারিত হয়েছে এই রাজ্যে২০০৩২০০৪ সালের হিসেব অনুযায়ী , পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় বঙ্গ ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থব্যবস্থা রাজ্যের নিট আভ্যন্তরীন উৎপাদন ২১৫ মার্কিন ডলার৬৪ ২০০১২০০২ সালে রাজ্যের গড় রাজ্য আভ্যন্তরীন উৎপাদন ছিল ৭৮ শতাংশেরও বেশি  যা জাতীয় জিডিপি বৃদ্ধির হারকেও ছাপিয়ে যায়৬৬ রাজ্য প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে গুরুত্ব দিয়ে থাকে এই বিনিয়োগ মূলত আসে সফটওয়্যার ও ইলেকট্রনিকস ক্ষেত্রে৬৪ কলকাতা বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র কলকাতা তথা রাজ্যের সামগ্রিক আর্থিক উন্নতির দৌলতে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় বঙ্গ দেশের তৃতীয় দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থব্যবস্থা৬৭ যদিও , এই কৃষিভিত্তিক রাজ্যে দ্রুত শিল্পায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রশ্নে নানারকম বিতর্ক দানা বেঁধেছে৬৮ ন্যাসকমগার্টনার পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ আখ্যা দিয়েছে৬৯ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য আভ্যন্তরিন উৎপাদন বেড়ে ২০০৪ সালে ১২৭ শতাংশ এবং ২০০৫ সালে ১১০ শতাংশ হয়৭০ চীনের দৃষ্টান্ত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কমিউনিস্ট পদ্ধতির পরিবর্তে ধনতান্ত্রিক পন্থায় রাজ্যের উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনৈতিক সংস্কারের পথ গ্রহণ করেছিলেন৭১পরিবহন ব্যবস্থামূল নিবন্ধ পশ্চিমবঙ্গের বিমানবন্দরগুলির তালিকাইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য দার্জিলিং হিমালয়ান রেলপশ্চিমবঙ্গে ভূতল সড়কপথের মোট দৈর্ঘ্য ৯২ ,০২৩ কিলোমিটার ৫৭ ,১৮০ মাইল৭২ এর মধ্যে জাতীয় সড়ক ২ ,৩৭৭ কিলোমিটার ১ ,৪৭৭ মাইল ,৭৩ এবং রাজ্য সড়ক ২ ,৩৯৩ কিলোমিটার ১ ,৪৮৭ মাইল রাজ্যে সড়কপথের ঘনত্ব প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ১০৩৬৯ কিলোমিটার প্রতি ১০০ বর্গমাইলে ১৬৬৯২ মাইল যা জাতীয় ঘনত্ব প্রতি ১০০ বর্গকিলোমিটারে ৭৪৭ কিলোমিটারের প্রতি ১০০ বর্গমাইলে ১২০ মাইল থেকে বেশি৭৪ রাজ্যের সড়কপথে যানবাহনের গড় গতিবেগ ৪০৫০ কিলোমিটারঘণ্টার ২৫৩১ মাইলঘণ্টা মধ্যে থাকে গ্রাম ও শহরাঞ্চলে গতিবেগ ২০২৫ কিলোমিটারঘণ্টার ১২১৬ মাইলঘণ্টা মধ্যে থাকে এই মূল কারণ রাস্তার নিম্নমান ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রাজ্যে রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ৩ ,৮২৫ কিলোমিটার ২ ,৩৭৭ মাইল৭৫ ভারতীয় রেলের পূর্ব রেল ও দক্ষিণ পূর্ব রেল ক্ষেত্রদুটির সদর কলকাতায় অবস্থিত৭৬ রাজ্যের উত্তরভাগের রেলপথ উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের অন্তর্গত কলকাতা মেট্রো ভারতের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রো রেল পরিষেবা৭৭ উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলের অংশ দার্জিলিং হিমালয়ান রেল একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত৭৮পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কলকাতার নিকটেই উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার দমদমে অবস্থিত শিলিগুড়ির নিকটবর্তী বাগডোগরা বিমানবন্দর রাজ্যের অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর সাম্প্রতিককালে এটিকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্তরে উন্নীত করা হয়েছেউত্তরপশ্চিমবঙ্গের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর হল কোচবিহার বিমানবন্দর এটি বৃহত্তর অসমবাংলা সীমান্ত এলাকায় পরিষেবা দেয়৭৯কলকাতা বন্দর পূর্ব ভারতের একটি প্রধান নদীবন্দর কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট কলকাতা ও হলদিয়া ডকের দায়িত্বপ্রাপ্ত৮০ কলকাতা বন্দর থেকে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পোর্ট ব্লেয়ার পর্যন্ত যাত্রী পরিবহন পরিষেবা ও ভারত ও বহির্ভারতের বন্দরগুলিতে শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ার মাধ্যমে পণ্য পরিবহন পরিষেবা চালু আছে রাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে , বিশেষত সুন্দরবন অঞ্চলে , নৌকা পরিবহনের প্রধান মাধ্যম কলকাতা ভারতের একমাত্র শহর যেখানে আজও ট্রাম গণপরিবহনের অন্যতম মাধ্যম এই পরিষেবার দায়িত্বে রয়েছে ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি৮১পশ্চিমবঙ্গের বাস পরিষেবা অপর্যাপ্ত কলকাতা রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা , উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা , দক্ষিণবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা , পশ্চিমবঙ্গ ভূতল পরিবহন নিগম ও ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি এই পরিষেবার দায়িত্বপ্রাপ্ত এছাড়া বেসরকারি কোম্পানিগুলিও বাস চালিয়ে থাকে শহরের বিশেষ বিশেষ রুটে মিটার ট্যাক্সি ও অটোরিকশা চলে কম দুরত্বের যাত্রার জন্য রাজ্যের সর্বত্র সাইকেল রিকশা ও কলকাতাতে সাইকেল রিকশা ও হাতেটানা রিকশা ব্যবহার করা হয়জনপরিসংখ্যানমূল নিবন্ধ বাঙালি জাতিদেখাওজনসংখ্যা বৃদ্ধিপশ্চিমবঙ্গের ধর্মবিশ্বাস৮৩ধর্ম শতকরা হার হিন্দুধর্ম  ৭২৫ইসলাম  ২৫২অন্যান্য  ২৩২০১১ সালের জনগণনার তাৎক্ষণিক ফলাফল অনুযায়ী , পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ৯১ ,৩৪৭ , ৭৩৬ ভারতের মোট জনসংখ্যার ৭৫৫ জনসংখ্যার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের চতুর্থ বৃহত্তম রাজ্য১ জনসংখ্যার সিংহভাগই বাঙালি৮৪ মাড়োয়ারি , বিহারি ও ওড়িয়া সংখ্যালঘুরা রাজ্যের নানা প্রান্তে ছড়িয়েছিটিয়ে বাস করে দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে শেরপা ও তিব্বতিদের দেখা যায় দার্জিলিঙে নেপালি গোর্খা জাতির লোকও প্রচুর সংখ্যায় বাস করে পশ্চিমবঙ্গে সাঁওতাল , কোল , রাজবংশী ও টোটো আদিবাসীরাও বাস করে রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় চীনা , তামিল , গুজরাতি , অ্যাংলোইন্ডিয়ান , আর্মেনিয়ান , পাঞ্জাবি ও পারসি সংখ্যালঘুদেরও খুব অল্প সংখ্যায় বাস করতে দেখা যায়৮৫ ভারতের একমাত্র চায়নাটাউনটি পূর্ব কলকাতায় অবস্থিত৮৬রাজ্যের সরকারি ভাষা বাংলা ও ইংরেজি৮৭ দার্জিলিং জেলার তিনটি মহকুমায় সরকারি ভাষা হল নেপালি৮৭ ২০০১ সালের জনগণনা অনুসারে , ভাষাগত জনসংখ্যার বৃহত্তম থেকে ক্ষুদ্রতম ক্রম অনুযায়ী ভাষাগুলি হল বাংলা , হিন্দি , সাঁওতালি , উর্দু , নেপালি ও ওড়িয়া৮৭ রাজ্যের কোনো কোনো অংশে রাজবংশী ও হো ভাষাও প্রচলিত২০০১ সালের জনগণনা অনুযায়ী , হিন্দুধর্ম পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ধর্মবিশ্বাস হিন্দুধর্মাবলম্বীরা রাজ্যের জনসংখ্যার মোট ৭২৫ শতাংশ অন্যদিকে ইসলাম দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মবিশ্বাস এবং বৃহত্তম সংখ্যালঘু ধর্ম মুসলমানরা রাজ্যের জনসংখ্যার মোট ২৫২ শতাংশ শিখ , খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা জনসংখ্যার অবশিষ্ট অংশ৮৩ পশ্চিমবঙ্গের জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৯০৪ জন এই রাজ্য জনঘনত্বের বিচারে ভারতের রাজ্যগুলির মধ্যে প্রথম স্থানাধিকারী৮৮ ভারতের মোট জনসংখ্যার ৭৮১ শতাংশ বাস করে পশ্চিমবঙ্গে৮৯ ১৯৯১২০০১ সময়কালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৭৮৪ শতাংশ যা জাতীয় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২১৩৪ শতাংশের থেকে কম৯০ রাজ্যে লিঙ্গানুপাতের হার প্রতি ১০০০ পুরুষে ৯৩৪ জন মহিলা৯০পশ্চিমবঙ্গের সাক্ষরতার হার ৭৭০৮ , যা জাতীয় গড় ৭৪০৪এর চেয়ে বেশি৯১ ১৯৯১১৯৯৫ সালের তথ্য থেকে জানা যায় , এই রাজ্যের মানুষের গড় আয়ু ৬৩৪ বছর , যা জাতীয় স্তরে গড় আয়ু ৬১৭ বছরের থেকে কিছু বেশি৯২ রাজ্যের ৭২ শতাংশ মানুষ বাস করেন গ্রামাঞ্চলে ১৯৯৯২০০০ সালের হিসেব অনুযায়ী , রাজ্যের ৩১৮৫ শতাংশ মানুষ বাস করেন দারিদ্র্যসীমার নিচে৬৫ তফসিলি জাতি ও উপজাতিগুলি গ্রামীণ জনসংখ্যার যথাক্রমে ২৮৬ শতাংশ ও ৫৮ শতাংশ এবং নগরাঞ্চলীয় জনসংখ্যার ১৯৯ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ৬৫রাজ্যে অপরাধের হার প্রতি এক লক্ষে ৮২৬ যা জাতীয় হারের অর্ধেক৯৩ ভারতের ৩২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে এই হার চতুর্থ নিম্নতম৯৪ যদিও রাজ্যের বিশেষ ও স্থানীয় আইন সংক্রান্ত অপরাধের হার সর্বোচ্চ বলেই জানা যায়৯৫ রাজ্যে মহিলাদের বিরুদ্ধে কৃত অপরাধের হার ৭১ উল্লেখ্য এই ক্ষেত্রে জাতীয় হার ১৪১৯৪ পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় বঙ্গ ভারতের প্রথম রাজ্য যেটি নিজস্ব মানবাধিকার কমিশন গঠন করেছিল৯৪সংস্কৃতিমূল নিবন্ধ পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতিরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , এশিয়া থেকে প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সাহিত্যিক ও ভারতের জাতীয় সংগীতের রচয়িতাস্বামী বিবেকানন্দ , ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বেদান্ত ও যোগ দর্শনের প্রচারক৯৬ ও হিন্দুধর্মকে বিশ্বের প্রধান ধর্মগুলির পর্যায়ে উন্নীত করা ও আন্তঃধর্ম সুসম্পর্ক স্থাপনের একজন উল্লেখযোগ্য প্রবক্তা৯৭সাহিত্যবাংলা ভাষায় রচিত সাহিত্য যথেষ্ট সমৃদ্ধ ও প্রাচীন ঐতিহ্যের বাহক বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের দশমদ্বাদশ শতাব্দী কবিরা পশ্চিমবঙ্গের রাঢ় অঞ্চলের কথ্য ভাষারীতিকে সাহিত্যের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন৯৮ বাংলা সাহিত্যের দ্বিতীয় প্রাচীনতম নিদর্শন শ্রীকৃষ্ণকীর্তন পঞ্চদশ শতাব্দী কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস ছিলেন অধুনা বাঁকুড়া জেলার ছাতনার বাসিন্দা৯৯ মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্য ধারাতেও রাঢ়ের বহু কবির রচনা পাওয়া যায় মনসামঙ্গল ধারার কবি নারায়ণ দেব পূর্ববঙ্গের কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের বাসিন্দা হলেও আদতে রাঢ়বঙ্গের মানুষ ছিলেন১০০ এই ধারার কবি কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ ছিলেন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলের বাসিন্দা১০১ চণ্ডীমঙ্গল ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ছিলেন বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রামের অধিবাসী১০২এই সাহিত্যের নিদর্শন মঙ্গলকাব্য , শ্রীকৃষ্ণকীর্তন , ঠাকুরমার ঝুলি , ও গোপাল ভাঁড়ের গল্পগুলি ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে বাংলা সাহিত্যের আধুনিকীকরণ সম্পন্ন হয় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , মাইকেল মধুসূদন দত্ত , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , কাজী নজরুল ইসলাম , শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , জীবনানন্দ দাশ , মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় , তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় , বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় , মহাশ্বেতা দেবী , আশাপূর্ণা দেবী প্রমুখ সাহিত্যিকের হাত ধরেসংগীত ও নৃত্যকলাবাংলা সংগীতের এক স্বতন্ত্র ঐতিহ্যবাহী ধারা হল বাউল গান১০৩ লোকসঙ্গীতের অন্যান্য বিশিষ্ট ধারাগুলি হল গম্ভীরা ও ভাওয়াইয়া অন্যদিকে বাংলা ধর্মসঙ্গীতের দুটি জনপ্রিয় ধারা হল কীর্তন ও শ্যামাসংগীত পশ্চিমবঙ্গের বিষ্ণুপুর শহর হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের বিষ্ণুপুরী ঘরানার প্রধান কেন্দ্র রবীন্দ্রসংগীত ও নজরুলগীতি অত্যন্ত জনপ্রিয় দুটি সঙ্গীত ধারা অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী সঙ্গীত ধারাগুলির মধ্যে অতুলপ্রসাদী , দ্বিজেন্দ্রগীতি , রজনীকান্তের গান ও বাংলা আধুনিক গান উল্লেখযোগ্য ১৯৯০এর দশকে বাংলা লোকসঙ্গীত ও পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সংমিশ্রণে বাংলা গানের এক নতুন যুগের সূত্রপাত ঘটে এই গান জীবনমুখী গান নামে পরিচিত ছিল বাংলার নৃত্যকলায় মিলন ঘটেছে আদিবাসী নৃত্য ও ভারতীয় ধ্রুপদি নৃত্যের পুরুলিয়ার ছৌ নাচ একপ্রকার দুর্লভ মুখোশনৃত্যের উদাহরণ১০৪চলচ্চিত্রকলকাতার টালিগঞ্জ অঞ্চলে বাংলা চলচ্চিত্রের প্রধান কেন্দ্রটি অবস্থিত এই কারণে এই কেন্দ্রটি হলিউডের অনুকরণে টলিউড নামে পরিচিত হয়ে থাকে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্প আর্ট ফিল্ম বা শিল্পগুণান্বিত চলচ্চিত্রে সুসমৃদ্ধ সত্যজিৎ রায় , মৃণাল সেন , তপন সিংহ , ঋত্বিক ঘটক প্রমুখ বিশিষ্ট পরিচালকের চলচ্চিত্র বিশ্ববন্দিত সমসাময়িককালের বিশিষ্ট পরিচালকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত , গৌতম ঘোষ , অপর্ণা সেন ও ঋতুপর্ণ ঘোষ বাংলা সিনেমার পাশাপাশি এই রাজ্যে অবশ্য হিন্দি সিনেমাও অত্যন্ত জনপ্রিয়শিল্পকলাবাংলা ভারতীয় শিল্পকলার আধুনিকতার পথপ্রদর্শক অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলা হয় আধুনিক ভারতীয় শিল্পকলার জনক বঙ্গীয় শিল্প ঘরানা ইউরোপীয় রিয়্যালিস্ট ঐতিহ্যের বাইরে এমন একটি নিজস্ব ধারা সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল যা ব্রিটিশ সরকারের ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার আর্ট কলেজগুলিতে শেখানো হত এই ধারার অন্যান্য বিশিষ্ট চিত্রকরেরা হলেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , রামকিঙ্কর বেইজ ও যামিনী রায় স্বাধীনতার পরে কলকাতা গোষ্ঠী ও সোসাইটি অফ কনটেম্পোরারি আর্টিস্টসএর শিল্পীরা ভারতীয় শিল্পকলার জগতে বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী হনউৎসব ও মেলাদুর্গাপূজা পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তম উৎসব১০৫ শরৎকালে আশ্বিনকার্তিক মাসে সেপ্টেম্বরঅক্টোবর চারদিনব্যাপী এই উৎসব আয়োজিত হয়ে থাকে পশ্চিমবঙ্গের অপর একটি বহুপ্রচলিত হিন্দু উৎসব হল কালীপূজা এই পূজা অনুষ্ঠিত হয় দুর্গাপূজার পরবর্তী অমাবস্যা তিথিতে রাজ্যের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য হিন্দু উৎসবগুলি হল পয়লা বৈশাখ , অক্ষয় তৃতীয়া , দশহরা , রথযাত্রা , ঝুলনযাত্রা , জন্মাষ্টমী , বিশ্বকর্মা পূজা , মহালয়া , কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা , ভ্রাতৃদ্বিতীয়া , নবান্ন , জগদ্ধাত্রী পূজা , সরস্বতী পূজা , দোলযাত্রা , শিবরাত্রি ও চড়কগাজন রথযাত্রা উপলক্ষ্যে হুগলি জেলার মাহেশ ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে বিশেষ মেলা ও জনসমাগম হয়ে থাকে হুগলি জেলার চন্দননগর ও নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পূজা ও জগদ্ধাত্রী বিসর্জন শোভাযাত্রা বিখ্যাত মকর সংক্রান্তির দিন বীরভূম জেলার কেন্দুলিতে জয়দেব মেলা উপলক্ষ্যে বাউল সমাগম ঘটে পৌষ সংক্রান্তির দিন হুগলি নদীর মোহনার কাছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার গঙ্গাসাগরে আয়োজিত গঙ্গাসাগর মেলায় সারা ভারত থেকেই পুণ্যার্থী সমাগম হয় ৪ঠা মাঘ বাঁকুড়ার কেঞ্জেকুড়া গ্রামে দ্বারকেশ্বর নদীর তীরে এক বিশাল মুড়ি মেলা হয়  শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির নিকটে প্রাচীন জল্পেশ্বর শিবমন্দিরকে কেন্দ্র করে আয়োজিত হয় বিখ্যাত জল্পেশ্বর মেলা শ্রাবণ সংক্রান্তির সর্পদেবী মনসার পূজা উপলক্ষ্যে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে আয়োজিত হয় ঝাঁপান উৎসব বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরের ঝাঁপান উৎসব সবচেয়ে বিখ্যাত কোচবিহার শহরের মদনমোহন মন্দিরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত রাসমেলা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম বৃহত্তম মেলা১০৬ইসলামি উৎসব মধ্যে ঈদুজ্জোহা , ঈদুলফিতর , মিলাদউননবি , শবেবরাত ও মহরম বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পালিত হয় খ্রিষ্টান উৎসব বড়দিন ও গুড ফ্রাইডে বৌদ্ধ উৎসব বুদ্ধপূর্ণিমা জৈন উৎসব মহাবীর জয়ন্তী এবং শিখ উৎসব গুরু নানক জয়ন্তীও মহাধুমধামের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক উৎসবগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্বাধীনতা দিবস , প্রজাতন্ত্র দিবস , পঁচিশে বৈশাখ , নেতাজি জয়ন্তী ইত্যাদি প্রতি বছর পৌষ মাসে শান্তিনিকেতনে বিখ্যাত পৌষমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে১০৬ বইমেলা পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক উৎসব আন্তর্জাতিক কলকাতা পুস্তকমেলা রাজ্যে একমাত্র তথা বৃহত্তম আন্তর্জাতিক বইমেলা আঞ্চলিক বইমেলাগুলি রাজ্যের সকল প্রান্তেই বছরের নানা সময়ে আয়োজিত হয় এছাড়া সারা বছরই রাজ্য জুড়ে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকেশিক্ষামূল নিবন্ধগুলি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা এবং পশ্চিমবঙ্গের কলেজসেন্ট জোসেফস কলেজ , নর্থ পয়েন্ট , দার্জিলিংকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়আইআইএম কলকাতাআইআইটি খড়গপুরপশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয়গুলি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে অথবা বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে থাকে বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনও বিদ্যালয় পরিচালনা করে প্রধানত বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমেই শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত তবে সাঁওতালি , নেপালি , হিন্দি ও উর্দু ভাষাতেও পঠনপাঠন করার সুযোগ এরাজ্যে অপ্রতুল নয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি পশ্চিমবঙ্গ মধ্য শিক্ষা পর্ষদ অথবা কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ সিবিএসসি অথবা কাউন্সিল ফর ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট একজামিনেশন আইসিএসই দ্বারা অনুমোদিত ১০২৩ পরিকল্পনায় মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর ছাত্রছাত্রীদের দুই বছরের জন্য প্রাকবিশ্ববিদ্যালয় জুনিয়র কলেজে পড়াশোনা করতে হয় এছাড়াও তারা পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ অথবা কোনো কেন্দ্রীয় বোর্ড অনুমোদিত উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়েও প্রাকবিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করতে পারে এই ব্যবস্থায় তাদের কলাবিভাগ , বাণিজ্যবিভাগ অথবা বিজ্ঞানবিভাগের যেকোনো একটি ধারা নির্বাচন করে নিতে হয় এই পাঠ্যক্রম সম্পূর্ণ করার পরই তারা সাধারণ বা পেশাদার স্নাতক স্তরের পড়াশোনা করতে পারে২০০৬ সালের হিসেব অনুসারে , পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা আঠারো১০৭১০৮ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম ও অন্যতম বৃহৎ আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে প্রায় ২০০টি কলেজ১০৯ বেঙ্গল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্যের দুটি প্রসিদ্ধ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম১১০ শান্তিনিকেতনে অবস্থিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন এক প্রতিষ্ঠান১১১ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কলকাতা , বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় বর্ধমান , বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বাঁকুড়া , বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় মেদিনীপুর , উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় রাজা রামমোহনপুর , শিলিগুড়ি , বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় , কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় কল্যাণী , নদিয়া , পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়  , পশ্চিমবঙ্গ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় , পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় , পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় , উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় , নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আরও তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়  আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় , পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতিসম্পন্ন রাজ্যের অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হল ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি , খড়গপুর , ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট , কলকাতা , জাতীয় প্রযুক্তি সংস্থান , দুর্গাপুর পূর্বতন আঞ্চলিক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ , ওয়েস্ট বেঙ্গল ন্যাশানাল ইউনিভার্সিটি অফ জুরিডিক্যাল সায়েন্সেস , ভারতীয় বিজ্ঞান শিক্ষা ও অনুসন্ধান সংস্থান , কলকাতা  ও ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউশনগণমাধ্যম২০০৫ সালের হিসেব অনুসারে , পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় বঙ্গ থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রের সংখ্যা ৫০৫১১২ এগুলির মধ্যে ৩৮৯টি বাংলা সংবাদপত্র১১২ কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকা ভারতে এককসংস্করণে সর্বাধিক বিক্রিত বাংলা পত্রিকা এই পত্রিকার দৈনিক গড় বিক্রির পরিমাণ ১ ,২৩৪ ,১২২টি কপি১১২ অন্যান্য উল্লেখযোগ্য বাংলা সংবাদপত্রগুলি হল আজকাল , বর্তমান , সংবাদ প্রতিদিন , উত্তরবঙ্গ সংবাদ , জাগো বাংলা , দৈনিক স্টেটসম্যান ও গণশক্তি দ্য টেলিগ্রাফ , দ্য স্টেটসম্যান , এশিয়ান এজ , হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ইংরেজি দৈনিকের নাম এছাড়াও হিন্দি , গুজরাটি , ওড়িয়া , উর্দু ও নেপালি ভাষাতেও সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়ে থাকেদূরদর্শন পশ্চিমবঙ্গের সরকারি টেলিভিশন সম্প্রচারক এছাড়া কেবল টেলিভিশনের মাধ্যমে মাল্টিসিস্টেম অপারেটরগণ বাংলা , নেপালি , হিন্দি , ইংরেজি সহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যানেল সম্প্রচার করে থাকেন বাংলা ভাষায় সম্প্রচারিত ২৪ ঘণ্টার বাংলা টেলিভিশন সংবাদচ্যানেলগুলি হল স্টার আনন্দ , কলকাতা টিভি , ২৪ ঘণ্টা , এনই বাংলা , নিউজ টাইম , চ্যানেল টেন , আরপ্লাস ও তারা নিউজ১১৩১১৪ ২৪ ঘণ্টার টেলিভিশন বিনোদনচ্যানেলগুলি হল স্টার জলসা , ইটিভি বাংলা , জি বাংলা , আকাশ বাংলা ইত্যাদি এছাড়া চ্যানেল এইট টকিজ নামে একটি ২৪ ঘণ্টার চলচ্চিত্রচ্যানেল এবং তারা মিউজিক ও সঙ্গীত বাংলা নামে দুটি উল্লেখনীয় ২৪ ঘণ্টার সংগীতচ্যানেলও দৃষ্ট হয় আকাশবাণী পশ্চিমবঙ্গের সরকারি বেতার কেন্দ্র১১৪ বেসরকারি এফএম স্টেশন কেবলমাত্র কলকাতা , শিলিগুড়ি ও আসানসোল শহরেই দেখা যায়১১৪ বিএসএনএল , ইউনিনর , টাটা ডোকোমো , আইডিয়া সেলুলার , রিলায়েন্স ইনফোকম , টাটা ইন্ডিকম , ভোডাফোন এসার , এয়ারসেল ও এয়ারটেল সেলুলার ফোন পরিষেবা দিয়ে থাকে সরকারি সংস্থা বিএসএনএল ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা থেকে ব্রডব্যান্ড ও ডায়ালআপ অ্যাকসেস ইন্টারনেট পরিষেবা পাওয়া যায়খেলাধূলাবিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম বিধাননগরের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বায়ার্ন মিউনিখমোহনবাগান ফুটবল ম্যাচের একটি দৃশ্য উল্লেখ্য , এই ম্যাচটি ছিল জার্মান গোলকিপার অলিভার কানের বিদায়ী ম্যাচক্রিকেট ও ফুটবল এই রাজ্যের দুটি জনপ্রিয় খেলা কলকাতা ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র১১৫ মোহনবাগান , ইস্ট বেঙ্গল ও মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের মতো দেশের প্রথম সারির জাতীয় ক্লাবগুলি রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে১১৬ খো খো , কবাডি প্রভৃতি দেশীয় খেলাও এখানে খেলা হয়ে থাকে ক্যালকাটা পোলো ক্লাব বিশ্বের প্রাচীনতম পোলো ক্লাব বলে পরিগণিত হয়১১৭ অন্যদিকে রয়্যাল ক্যালকাটা গলফ ক্লাব গ্রেট ব্রিটেনের বাইরে এই ধরনের ক্লাবগুলির মধ্যে প্রথম১১৮পশ্চিমবঙ্গে একাধিক সুবৃহৎ স্টেডিয়াম অবস্থিত সারা বিশ্বে যে দুটি মাত্র লক্ষআসন বিশিষ্ট ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে কলকাতার ইডেন গার্ডেনস তার অন্যতম১১৯ অন্যদিকে বিধাননগরের বহুমুখী স্টেডিয়াম যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম১২০১২১ ক্যালকাটা ক্রিকেট অ্যান্ড ফুটবল ক্লাব বিশ্বের দ্বিতীয় প্রাচীনতম ফুটবল ক্লাব১২২ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজিত হয় দুর্গাপুর , শিলিগুড়ি ও খড়গপুর শহরেও১২৩ পশ্চিমবঙ্গের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বেরা হলেন প্রাক্তন জাতীয় ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় , অলিম্পিক টেনিস ব্রোঞ্জ পদকজয়ী লিয়েন্ডার পেজ , দাবা আন্তর্জাতিক গ্র্যান্ডমাস্টার দিব্যেন্দু বড়ুয়া প্রমুখ আবার অতীতের খ্যাতমানা ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফুটবলার চুনী গোস্বামী , পি কে বন্দ্যোপাধ্যায় , শৈলেন মান্না , সাঁতারু মিহির সেন , অ্যাথলেট জ্যোতির্ময়ী শিকদার প্রমুখ১২৪ পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে প্রচুর সাংস্কৃতিক সংস্থা কলকাতার জোকায় রয়েছে বাংলার ব্রতচারী সমিতি ব্রতচারী কেন্দ্রীয় নায়কমন্ডলী , কবি সুকান্তের কিশোর বাহিনী , সব পেয়েছির আসর , মনিমেলা মহাকেন্দ্র ইত্যাদি শিশু কিশোর সংস্থামৌর্য সাম্রাজ্য ছিল প্রাচীন ভারতের একটি সাম্রাজ্য মৌর্য রাজবংশশাসিত এই সাম্রাজ্য ৩২১ থেকে ১৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত টিকে ছিল মৌর্য সাম্রাজ্যের উৎসভূমি ছিল গাঙ্গেয় সমভূমি অঞ্চলের মগধ রাজ্য অধুনা বিহার , পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও বাংলা সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র অধুনা পাটনা৪৫৩২২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য নন্দ রাজবংশকে উচ্ছেদ করে এই সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং তারপর সামরিক শক্তিবলে মধ্য ও পশ্চিম ভারতের আঞ্চলিক রাজ্যগুলিকে জয় করে বিরাট সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন ৩২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যেই মৌর্য সাম্রাজ্য সম্পূর্ণ উত্তরপশ্চিম ভারত জয় করে নেয়৬মৌর্য সাম্রাজ্যের মোট আয়তন ছিল ৫ ,০০০ ,০০০ বর্গ কিলোমিটার এই সাম্রাজ্য ছিল সমসাময়িক বিশ্বের বৃহত্তম সাম্রাজ্যগুলির অন্যতম সাম্রাজ্যের সর্বাধিক বিস্তার ছিল উত্তরে হিমালয় , পূর্বে বর্তমান অসম , পশ্চিমে বালুচিস্তান , দক্ষিণপূর্ব ইরান ও আফগানিস্তান পর্যন্ত৬ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও বিন্দুসারের আমলে মৌর্য সাম্রাজ্য মধ্য ও দক্ষিণ ভারতেও প্রসারিত হয় মহামতি অশোক কলিঙ্গ বর্তমান ওড়িশা জয় করেন অশোকের মৃত্যুর ৬০ বছরের মধ্যে মৌর্য সাম্রাজ্যের পতন সূচিত হয় ১৮৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মগধে সূঙ্গ রাজবংশের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সাম্রাজ্যের পতন সম্পূর্ণ হয়মৌর্য বংশের রাজারা চতুর্থ তৃতীয় খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে প্রতিষ্ঠিত মৌর্য সাম্রাজ্যের শাসনকর্তা ছিলেন মগধের নন্দ বংশীয় রাজবংশকে পরাজিত করে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এ কাজে তাকে সাহায্য করেন চাণক্য বা কৌটিল্য নামে খ্যাত বিচক্ষন ব্যক্তি কথিত আছে যে , নন্দ বংশীয় রাজার কাছে অপমানিত হয়ে চাণক্য বিন্ধ্যপর্বত সন্নিহিত অরণ্যে চলে যান সেখানেই চন্দ্রগুপ্তের সাথে তার সাক্ষাত ঘটেআলেক্সান্ডার এর আক্রমণের পর ভারতীয় দের মধ্যে এককেন্দ্রিক সাম্রাজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যায় সেই চিন্তাধারার অনুসারী চন্দ্রগুপ্ত ভারত উপমহাদেশে আলেক্সান্ডারের উত্তরসূরী ম্যাসিডোনিয়ান সেনাপতি সেলুকাস নিকেটর কে পরাজিত করেনএভাবে মৌর্য সাম্রাজ্যের অবস্থান সুসংহত হয় মৌর্য সাম্রাজ্য বাস্তবে ভারতের প্রথম বৃহৎ আকারের এবং শক্তিশালী সাম্রাজ্য ছিলপরিচ্ছেদসমূহ    ১ চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য    ২ বিন্দুসার    ৩ বিক্রমাদিত্য    ৪ অশোক    ৫ কলিঙ্গ যুদ্ধ    ৬ পতন    ৭ তথ্যসূত্রচন্দ্রগুপ্ত মৌর্যমৌর্য রাজ বংশের প্রতিষ্টাতা ছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য তাঁর শাসনকাল ৩২৪৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ তাঁর পরামর্শ দাতা প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ কৌটিল্যের মন্ত্রণায় ও নিজ বাহুবলে তিনি ভারত বর্ষের বুক থেকে বিদেশী গ্রিক শক্তিকে পরাজিত করেন এছাড়া দেশীয় নন্দরাজকে পরাজিত করে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেনবিন্দুসার এই অনুচ্ছেদেটিতে কোনো উৎস বা তথ্যসূত্র উদ্ধৃত করা হয়নি দয়া করে উপযুক্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র থেকে উৎস প্রদান করে এই নিবন্ধটির মানোন্নয়নে সাহায্য করুন সাহায্যের জন্য দেখুন যাচাইযোগ্যতা নিবন্ধের যেসব অংশে সঠিক তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই , সেগুলি যেকোনো মুহূর্তে সরিয়ে ফেলা হতে পারে ডিসেম্বর ২০১১মৌর্য বংশের চন্দ্রগুপ্ত পরবর্তী রাজার নাম রাজা বিন্দুসার তাঁর রাজত্বকাল আনুমানিক ৩০০২৭২ খ্রিস্টপূর্বাব্দ একথা প্রচলিত আছে যে চন্দ্রগুপ্তের গুরু চাণিক্য প্রত্যহ সম্রাটকে অল্প পরিমানে বিষ সেবন করাতেন যেন তার শরীর বিষ প্রতিরোধক হতে পারে একবার সম্রাট জানতেন না যে তার খাদ্যে বিষ মেশানো আছে এবং সেই খাবার তিনি তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রী দুরধারার সাথে গ্রহন করেন , খাবার গ্রহনে দুরধারার মৃত্যু হয় এসময় কক্ষে প্রবেশ করেন চাণিক্য তিনি অনাগত সন্তান কে বাচানোর জন্য দুরধারার পেট চিরে শিশু বিন্দুসার কে বের করেন , কিন্তু কিছু বিষ ইতোমধ্যেই শিশুর মাথায় উঠে এবং তার মাথার কিয়দংশে সারাজীবনের জন্য নীল রংএর দাগ বা বিন্দু স্থান পায় এবং এ থেকেই তার নাম হয় বিন্দুসার উত্তরাধিকার সূত্রেই পিতার বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকার হন তিনি তিনি তার সাম্রাজ্যকে দক্ষিণে কর্ণাটক পর্য্যন্ত বিস্ত্রত করেছিলেন তিনি ১৬ টি প্রদেশকে এক শাসনের অধীনে আনেন যদিওবা তিনি বন্ধুবৎসল দ্রাবিড় ও কোল সাম্রাজ্য আক্রমন করেননি দক্ষিণের কলিঙ্গ প্রদেশ বাদে তিনি অধিকাংশ স্থানই তার শাসনের অধীন ই ছিল বিন্দুসারের জীবন সম্পর্কে তেমন কোন সুনির্দিস্ট ইতিহাস পাওয়া যায়না যেমনটা পাওয়া যায় তার পিতা চন্দ্রগুপ্ত বা তার পুত্র মহামতি অশোক সম্পর্কে মহাপন্ডিত চাণিক্য তার জীবদ্দশায় বিন্দুসারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অধিস্ঠিত ছিলেন মধ্যযুগীয় তিব্বতীয় পন্ডিত তারানাথ এর মতে চাণিক্যের পরামর্শেই বিন্দুসার ১৬ টি প্রদেশের রাজাকে পরাজিত করেন এবং তা তার শাসনের অধিভুক্ত করেন তার শাসন আমলে তক্ষশীলায় দুইবার বিদ্রোহ সংঘটিত হয় যার প্রথমটির কারন ছিলো বিন্দুসার পুত্র সুসীমের অপশাসনবিক্রমাদিত্যঅশোকবিন্দুসারের মৃত্যুর পরে তার পুত্র অশোক মৌর্য বংশের সিংহাসণে আরোহন করেন তাঁর রাজত্ব কাল আনুমানিক ২৭২২৩৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ তিনি ছিলেন প্রাচীন ভারতের সর্বশ্রেষ্ট সম্রাট তিনি সূদীর্ঘ ৩৬ বছর রাজত্ব করেনকলিঙ্গ যুদ্ধতাঁর সিংহাসন লাভের বারো বছর পরে , কলিঙ্গ যুদ্ধে অসংখ্য জীবনহানির ঘটনায় তিনি মর্মাহত হন এবং বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করে অহিংস নীতির অনুসারী হন তাঁর আমলে বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক বিস্তার ঘটেপতনঅশোকের মৃত্যুর পরে মৌর্য বংশের শেষ নরপতি বৃপদ্রর্থ নিজ সেনাপতি কর্তৃক নিহত হবার পর , মৌর্য বংশের সমাপ্তি ঘটেতথ্যসূত্রচাণক্য খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০২৮৩ অব্দ২ ছিলেন একজন প্রাচীন ভারতীয় গুরু শিক্ষক , দার্শনিক ও রাজউপদেষ্টাতিনি প্রাচীন তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি ও রাষ্ট্রনীতির অধ্যাপক ছিলেন তিনি মৌর্য সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের উত্থানে প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেন তিনিই তরুণ চন্দ্রগুপ্তকে শিক্ষা দিয়েছিলেন মৌর্য সাম্রাজ্য ছিল ভারতীয় উপমহাদেশের নথিভুক্ত ইতিহাসে প্রথম সর্বভারতীয় সাম্রাজ্য চাণক্য চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য ও তাঁর পুত্র বিন্দুসারের রাজউপদেষ্টার কাজ করেছিলেনচাণক্যকে কৌটিল্য বা বিষ্ণুগুপ্ত নামেও অভিহিত করা হয় তিনি প্রাচীন ভারতের রাষ্ট্রবিজ্ঞান গ্রন্থ অর্থশাস্ত্রএর রচয়িতা৩ তাঁকেই ভারতের প্রথম অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মনে করা হয় প্রাচীন ভারতের ইতিহাসে তাঁর অর্থনীতি তত্ত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল৪৫৬৭ চাণক্যকে ভারতের মেকিয়াভেলি বলা হয়৮ যদিও তিনি নিকোলো মেকিয়াভেলির ১৮০০ বছর আগের মানুষ ছিলেন৯ গুপ্ত রাজবংশের শাসনের শেষ দিকে তাঁর বইটি হারিয়ে যায় এটি আবার আবিষ্কৃত হয় ১৯১৫ সালে৫পরিচ্ছেদসমূহ    ১ জন্ম    ২ নন্দ বংশকে উৎখাত    ৩ প্রধানমন্ত্রী চাণক্য    ৪ চাণক্যের অর্থশাস্ত্র    ৫ অনাড়ম্বর জীবনযাপন    ৬ চাণক্য শ্লোক    ৭ তথ্যসূত্র    ৮ আরও দেখুন    ৯ বহিঃসংযোগজন্মএই বিজ্ঞ ও প্রতিভাধর ব্রাহ্মণের জন্ম বর্তমান পাকিস্তানের তক্ষশীলায় যেখানে উপমহাদেশে উচ্চতর জ্ঞান আহরণের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপীঠ অবস্থিত ছিল রাজনৈতিক দর্শনের বাস্তব চর্চা ও রাষ্ট্রীয় কৌশলের প্রয়োগ পদ্ধতির নির্দেশনা দানে তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত উপমহাদেশের প্রাচীন ইতিহাসে তার অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালীবিষ্ণু গুপ্ত নামেও পরিচিত ছিলেন তিনি কারণ এ নামটিই দিয়েছিলেন তার বাবা মা এছাড়া তার বিখ্যাত ছদ্মনাম কৌটিল্য , যা তিনি তার বিখ্যাত সংস্কৃত গ্রন্থ অর্থশাস্ত্র এ গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রশাসন ও কূটনীতির কৌশলের সারসংক্ষেপ বলা যায় অর্থশাস্ত্রকে যেহেতু তিনি কূটিলা গোত্র থেকে উদ্ভূত ছিলেন , অতএব তা টিকিয়ে রাখার জন্যে তিনি কৌটিল্য ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন অন্যদিকে তার অধিকতর প্রিয় নাম চাণক্য এর উদ্ভব চানকা থেকে , যে গ্রামে তার জন্ম হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতেনন্দ বংশকে উৎখাতরাজা ধনানন্দ কর্তৃক বিস্তৃত নন্দরাজ্য , আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৩৭০চন্দ্র গুপ্তের সাম্রাজ্যের প্রাথমিক অবস্থায় বিস্তৃতিতার অসাধারণ কৃতিত্ব ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী নন্দ বংশের শাসন উৎখাত করে সম্রাট অশোকের পিতামহ চন্দ্র গুপ্ত মৌর্যকে ভারতের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা চন্দ্র গুপ্ত মৌর্যকেই উপমহাদেশের প্রথম ঐতিহাসিক সম্রাট হিসেবে বিবেচনা করা হয় চন্দ্র গুপ্ত মগধের সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং পাটালিপুত্রকে তার রাজ্যের রাজধানীতে পরিণত করেন পাটালিপুত্র বিহারের আধুনিক শহর পাটনার কাছেই অবস্থিত ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ৩২২ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ২৯৮ সাল পর্যন্ত চন্দ্র গুপ্ত রাজ্য শাসন করেন তার সময়কালে সমগ্র রাজ্য জুড়ে শান্তি বিরাজমান ছিল , প্রজাদের প্রতি তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ এবং রাজ্য বিকশিত হয়েছিল সমৃদ্ধিতে এ সম্পর্কে বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করে গেছেন চন্দ্র গুপ্তের দরবারে গ্রিক দূত মেগাস্থিনিস তার ইন্ডিকা গ্রন্থেনন্দ বংশের সর্বশেষ রাজা প্রজা সাধারণের কাছে প্রিয় ছিলেন না একবার তিনি চাণক্যকে অপমান করেছিলেন চাণক্য এই অপমানের প্রতিশোধ গ্রহণের প্রতিজ্ঞা করেন এদিকে তরুণ ও উচ্চাভিলাষী চন্দ্র গুপ্ত , যিনি নন্দ রাজার পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন , তিনিও ষড়যন্ত্র করছিলেন সিংহাসন দখলের কিন্তু তার ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয় এবং জীবন বাঁচাতে তাকে পালাতে হয় চন্দ্র গুপ্ত যখন বিন্ধানের জঙ্গলে পলাতক ও নির্বাসিত জীবন যাপন করছিলেন তখন ঘটনাচক্রে চাণক্যের সাথে তার সাক্ষাত হয় চন্দ্র গুপ্ত তার জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেন চাণক্যকে এবং তখনই তাকে তার গুরু , উপদেষ্টা ও মন্ত্রণাদাতা হিসেবে মেনে নেন পরবর্তীতে তিনি চন্দ্র গুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রীও হয়েছিলেনচাণক্যের সক্রিয় সাহায্যে চন্দ্রগুপ্ত একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন এবং গুরুর তৈরি সুনিপুণ পরিকল্পনা অনুসারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে শেষ পর্যন্ত নন্দ রাজাকে সিংহাসনচ্যুত করতে সক্ষম হন অতঃপর মগধের সিংহাসনে আরোহণ করেন চন্দ্র গুপ্ত মৌর্যপ্রধানমন্ত্রী চাণক্যমৌর্য আমলের চাকা এবং হাতি প্রতীকযুক্ত রৌপ্যমুদ্রা , খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতকএর আগে আলেকজান্ডারের আকস্মিক মৃত্যুতে গ্রিক শাসনের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবে বিদ্রোহের সূচনা হয় এবং এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে চন্দ্র গুপ্ত গ্রিক বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে পরাজিত করেন ও পাঞ্জাবকে নিজ শাসনাধীনে আনেন পরে চন্দ্র গুপ্ত একে একে পশ্চিম ভারতের সকল রাজ্য বিজয় করে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন সাম্রাজ্য দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্যে তিনি একটি মন্ত্রী পরিষদ গঠন করেন চাণক্যকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেযে পরিস্থিতিতে চন্দ্র গুপ্ত নন্দ বংশকে ক্ষমতাচ্যুত করে নিজের বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন তা অত্যন্ত চমৎকারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে পঞ্চম শতাব্দীতে লিখিত একটি রাজনৈতিক নাটক মুদ্রা রাক্ষসএ এ নাটকের রচয়িতা বিশাখাদত্ত নামে এক প্রাচীন নাট্যকার শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই নাটকটি পঠিত , মঞ্চস্থ ও প্রশংসিত হয়েছেচন্দ্র গুপ্তের শ্রদ্ধেয় গুরু ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাণক্য অবলীলায় বিলাসবহুল জীবন কাটাতে পারতেন জাঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদে কিন্তু তিনি এর পরিবর্তে খুব সাধারণভাবে একটি কুঁড়েঘরে বসবাসের জীবন বাছাই করে নিয়েছিলেন এই কুঁড়েঘরটি অবস্থিত ছিল এক শ্মশানে সেখানে ক্ষমতার দৃশ্যপট থেকে দূরে অবস্থান করে তিনি বহু শিষ্যকে রাজ্যশাসনের কৌশল শিক্ষা দিয়েছেন এবং নৈতিক ও আর্থসামাজিক বিষয়ে জ্ঞান দান করেছেন এসব ছাড়াও তিনি তার রাজার দেয়া দায়িত্ব পালন করেছেন বিশ্বস্ততার সাথে চন্দ্রগুপ্তের জীবনে তিনি ছিলেন অভিভাবক স্বর্গীয় দূতের মতো এবং সত্যিকার বন্ধু , দার্শনিক ও গুরুচাণক্যের অর্থশাস্ত্রচাণক্যের বিরাট সাহিত্য কর্ম অর্থশাস্ত্র , যার শব্দগত অর্থ পৃথিবীতে সাধারণ কল্যাণ বিষয়ক বিবরণী এই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ রয়েছে শাসকের উদ্দেশ্যে পরামর্শ যে , কিভাবে একজন শাসককে তার প্রজাদের নিরাপত্তা , কল্যাণ ও জীবন মান উন্নত করার জন্যে কাজ করতে হবে এবং কিভাবে আরও ভূখণ্ড ও মূল্যবান সম্পদ নিজ সাম্রাজ্যভুক্ত করতে হবে চাণক্য যে সব পরামর্শ বা নির্দেশনা সেই গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন সেসবের অধিকাংশই শুধু রাজ্যশাসন নয় বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য চাণক্য উপমহাদেশে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রথম প্রবক্তা এবং তার কিছু নীতি বিশ্বজনীনভাবে প্রযোজ্যএই বিজ্ঞ ও বাস্তবজ্ঞান সম্পন্ন দার্শনিক ধর্ম , নীতিশাস্ত্র , সামাজিক আচরণ ও রাজনীতির ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু পর্যবেক্ষণ বর্ণনা করেছেন এসবের কিছু কিছু অন্যান্য বিবরণীতে সংগৃহীত হয়েছে এ ধরণের একটি সংকলনের নাম চাণক্য নীতি দর্পণ তার কথাগুলো হয়তো আধুনিক যুগের পরিশীলিত কথাবার্তা থেকে ভিন্ন , কিন্তু দুই হাজার বছরের অধিক সময়ের ব্যবধানেও সেগুলো গুরুত্ব হারিয়ে ফেলেনিচাণক্য তার কালোত্তীর্ণ গ্রন্থ অর্থশাস্ত্রে রাজাকে পরামর্শ দিয়েছেন , যে রাজা শত্রুর গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা করতে পারে না এবং শুধু অভিযোগ করে যে তার পিঠে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে , তাকে সিংহাসনচ্যুত করা উচিত অর্থনৈতিক দুর্নীতি সর্বকালেই ছিল এবং চাণক্যের যুগেও তা নতুন কোন বিষয় ছিল না সে কারণে তিনি লিখেছেন , সকল উদ্যোগ নির্ভর করে অর্থের ওপর সেজন্যে সবচেয়ে অধিক মনোযোগ দেয়া উচিত খাজাঞ্চিখানার দিকে তহবিল তসরুপ বা অর্থ আত্মসাতের চল্লিশটি পদ্ধতি আছে জিহ্বার ডগায় বিষ রেখে যেমন মধুর আস্বাদন করা সম্ভব নয় , তেমনি কোন রাজ কর্মচারীর পক্ষে রাজার রাজস্বের সামান্য পরিমাণ না খেয়ে ফেলার ঘটনা অসম্ভব ব্যাপার পানির নিচে মাছের গতিবিধি যেমন পানি পান করে বা পান না করেও বুঝা সম্ভব নয় , অনুরূপ রাজ কর্মচারীর তহবিল তসরুপও দেখা অসম্ভব আকাশের অতি উঁচুতেও পাখির উড্ডয়ন দেখা সম্ভব , কিন্তু রাজ কর্মচারীর গোপন কার্যকলাপ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সমভাবে অসম্ভবচাণক্য তার নীতিকথায় বলেছেন , বিষ থেকে সুধা , নোংরা স্থান থেকে সোনা , নিচ কারো থেকে জ্ঞান এবং নিচু পরিবার থেকে শুভলক্ষণা স্ত্রী  এসব গ্রহণ করা সঙ্গতমনের বাসনাকে দূরীভূত করা উচিত নয় এই বাসনাগুলোকে গানের গুঞ্জনের মতো কাজে লাগানো উচিতযারা পরিশ্রমী , তাদের জন্যে কোনকিছু হাসিল করা অসাধ্য কিছু নয় শিক্ষিত কোন ব্যক্তির জন্যে কোন দেশই বিদেশ নয় মিষ্টভাষীদের কোন শত্রু নেইবিরাট পশুপালের মাঝেও শাবক তার মাকে খুঁজে পায় অনুরূপ যে কাজ করে অর্থ সবসময় তাকেই অনুসরণ করেমন খাঁটি হলে পবিত্র স্থানে গমন অর্থহীনঅনাড়ম্বর জীবনযাপনচাণক্য তার জীবদ্দশায় , এমনকি মৃত্যুর পরও ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয় ও ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী পণ্ডিত , সাধু , দেশপ্রেমিক , গুরু ও কর্মবীর হিসেবে শ্রদ্ধেয় প্রথমেই তিনি পাঞ্জাবকে বিদেশী শাসন গ্রিক মুক্ত করতে রাজাকে সাহায্য করেন এরপর অযোগ্য শাসক নন্দ রাজাকে উৎখাত করে চন্দ্রগুপ্তের সাম্রাজ্যের সাথে আরও রাজ্য যুক্ত করেন এবং সাম্রাজ্যে শান্তি , সমৃদ্ধি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তার ভূমিকা পালন করেন সন্ন্যাসীর মতো জীবন যাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেও অসংখ্য শিষ্যকে তিনি জ্ঞান দান করেন তিনি শিষ্যদের দেশপ্রেম , রাজার প্রতি আনুগত্য শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রজাদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সবসময় রাজাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিসের মতোই চাণক্যের চেহারাও সুন্দর বা আকর্ষণীয় ছিলনা এবং দৈহিক গড়নও ছিল আকর্ষণহীন দুর্বল স্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন তিনি , যদিও সক্রেটিসের মতোই পণ্ডিত ও দার্শনিক ছিলেন সক্রেটিস বিশ্বাস করতেন যে , দেহের সৌন্দর্যের চাইতে চিন্তার সৌন্দর্য অধিকতর মোহময় ও এর প্রভাব যাদুতুল্য অন্যদিকে চাণক্য ছিলেন দক্ষ পরিকল্পনাবিদ সিদ্ধান্তে তিনি ছিলেন অটল এবং অর্থহীন আবেগের কোন মূল্য ছিল না তার কাছে নিজস্ব পরিকল্পনা উদ্ভাবন ও তা বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন কঠোরচাণক্য শ্লোকবাংলায় প্রচলিত কিছু চাণক্য শ্লোক নিচে উল্লেখ করা হলো১০    অতি পরিচয়ে দোষ আর ঢাকা থাকে না    অধমেরা ধন চায় , মধ্যমেরা ধন ও মান চায় উত্তমেরা শুধু মান চায় মানই মহতের ধন    অনেকে চারটি বেদ এবং ধর্মশাস্ত্র অধ্যয়ন করলেও আত্মাকে জানে না , হাতা যেমন রন্ধনরস জানে না    অন্তঃসার শূন্যদের উপদেশ দিয়ে কিছু ফল হয় না , মলয়পর্বতের সংসর্গে বাঁশ চন্দনে পরিণত হয় না    অবহেলায় কর্মনাশ হয় , যথেচ্ছ ভোজনে কুলনাশ হয় , যাচ্ঞায় সম্মাননাশ হয় , দারিদ্র্যে বুদ্ধিনাশ হয়    অভ্যাসহীন বিদ্যা , অজীর্ণে ভোজন , দরিদ্রের সভায় বা মজলিশে কালক্ষেপ এবং বৃদ্ধের তরুণী ভার্যা বিষতুল্য    অহংকারের মত শত্রু নেই    আকাশে উড়ন্ত পাখির গতিও জানা যায় , কিন্তু প্রচ্ছন্নপ্রকৃতিকর্মীর গতিবিধি জানা সম্ভব নয়    আদর দেওয়ার অনেক দোষ , শাসন করার অনেক গুণ , তাই পুত্র ও শিষ্যকে শাসন করাই দরকার , আদর দেওয়া নয়    আপদের নিশ্চিত পথ হল ইন্দ্রিয়গুলির অসংযম , তাদের জয় করা হল সম্পদের পথ , যার যেটি ঈপ্সিত সে সেই পথেই যায়    আড়ালে কাজের বিঘ্ন ঘটায় , কিন্তু সামনে ভাল কথা বলে , যার উপরে মধু কিন্তু অন্তরে বিষ , তাকে পরিত্যাগ করা উচিত    ইন্দ্রিয়ের যে অধীন তার চতুরঙ্গ সেনা থাকলেও সে বিনষ্ট হয়    উপায়জ্ঞ মানুষের কাছে দুঃসাধ্য কাজও সহজসাধ্য    উৎসবে , বিপদে , দুর্ভিক্ষে , শত্রুর সঙ্গে সংগ্রামকালে , রাজদ্বারে এবং শ্মশানে যে সঙ্গে থাকে , সেই প্রকৃত বন্ধু    ঋণ , অগ্নি ও ব্যাধির শেষ রাখতে নেই , কারণ তারা আবার বেড়ে যেতে পারে    একটি দোষ বহু গুণকেও গ্রাস করে    একটি কুবৃক্ষের কোটরের আগুন থেকে যেমন সমস্ত বন ভস্মীভূত হয় , তেমনি একটি কুপুত্রের দ্বারাও বংশ দগ্ধ হয়    একটিমাত্র পুষ্পিত সুগন্ধ বৃক্ষে যেমন সমস্ত বন সুবাসিত হয় , তেমনি একটি সুপুত্রের দ্বারা সমস্ত কুল ধন্য হয়    একশত মূর্খ পুত্রের চেয়ে একটি গুণী পুত্র বরং ভাল একটি চন্দ্রই অন্ধকার দূর করে , সকল তারা মিলেও তা পারে না    কর্কশ কথা অগ্নিদাহের চেয়েও ভয়ঙ্কর    খেয়ে যার হজম হয় , ব্যাধি তার দূরে রয়    গুণবানকে আশ্রয় দিলে নির্গুণও গুণী হয়    গুণহীন মানুষ যদি উচ্চ বংশেও জন্মায় তাতে কিছু আসে যায় না নীচকুলে জন্মেও যদি কেউ শাস্ত্রজ্ঞ হয় , তবে দেবতারাও তাঁকে সম্মান করেন    গুরু শিষ্যকে যদি একটি অক্ষরও শিক্ষা দেন , তবে পৃথিবীতে এমন কোনও জিনিস নেই , যা দিয়ে সেই শিষ্য গুরুর ঋণ শোধ করতে পারে    গৃহে যার মা নেই , স্ত্রী যার দুর্মুখ তার বনে যাওয়াই ভাল , কারণ তার কাছে বন আর গৃহে কোনও তফাৎ নেই    চন্দন তরুকে ছেদন করলেও সে সুগন্ধ ত্যাগ করে না , যন্ত্রে ইক্ষু নিপিষ্ট হলেও মধুরতা ত্যাগ করে না , যে সদ্বংশজাত অবস্থা বিপর্যয়েও সে চরিত্রগুণ ত্যাগ করে না    তিনটি বিষয়ে সন্তোষ বিধেয় নিজের পত্নীতে , ভোজনে এবং ধনে কিন্তু অধ্যয়ন , জপ , আর দান এই তিন বিষয়ে যেন কোনও সন্তোষ না থাকে    দারিদ্র্য , রোগ , দুঃখ , বন্ধন এবং বিপদ সব কিছুই মানুষের নিজেরই অপরাধরূপ বৃক্ষের ফল    দুর্জনের সংসর্গ ত্যাগ করে সজ্জনের সঙ্গ করবে অহোরাত্র পুণ্য করবে , সর্বদা নশ্বরতার কথা মনে রাখবে    দুর্বলের বল রাজা , শিশুর বল কান্না , মূর্খের বল নীরবতা , চোরের মিথ্যাই বল    দুষ্টা স্ত্রী , প্রবঞ্চক বন্ধু , দুর্মুখ ভৃত্য এবং সসর্পগৃহে বাস মৃত্যুর দ্বার , এবিষয়ে সংশয় নেই    ধর্মের চেয়ে ব্যবহারই বড়    নানাভাবে শিক্ষা পেলেও দুর্জন সাধু হয় না , নিমগাছ যেমন আমূল জলসিক্ত করে কিংবা দুধে ভিজিয়ে রাখলেও কখনও মধুর হয় না    পরস্ত্রীকে যে মায়ের মত দেখে , অন্যের জিনিসকে যে মূল্যহীন মনে করে এবং সকল জীবকে যে নিজের মত মনে করে , সেই যথার্থ জ্ঞানী    পাপীরা বিক্ষোভের ভয় করে না    পাঁচ বছর বয়স অবধি পুত্রদের লালন করবে , দশ বছর অবধি তাদের চালনা করবে , ষোল বছরে পড়লে তাদের সঙ্গে বন্ধুর মত আচরণ করবে    পুত্র যদি হয় গুণবান , পিতামাতার কাছে তা স্বর্গ সমান    পুত্রকে যারা পড়ান না , সেই পিতামাতা তার শত্রু হাঁসদের মধ্যে বক যেমন শোভা পায় না , সভার মধ্যে সেই মূর্খও তেমনি শোভা পায় না    বইয়ে থাকা বিদ্যা , পরের হাতে থাকা ধন একইরকম প্রয়োজনকালে তা বিদ্যাই নয় , ধনই নয়    বিদ্বান সকল গুণের আধার , অজ্ঞ সকল দোষের আকর তাই হাজার মূর্খের চেয়ে একজন বিদ্বান অনেক কাম্য    বিদ্যাবত্তা ও রাজপদ এদুটি কখনও সমান হয় না রাজা কেবল নিজদেশেই সমাদৃত , বিদ্বান সর্বত্র সমাদৃত    বিদ্যা ব্যতীত জীবন ব্যর্থ , কুকুরের লেজ যেমন ব্যর্থ , তা দিয়ে সে গুহ্যঅঙ্গও গোপন করতে পারে না , মশাও তাড়াতে পারে না    বিদ্যাভূষিত হলেও দুর্জনকে ত্যাগ করবে , মণিভূষিত হলেও সাপ কি ভয়ঙ্কর নয়    বিদ্যার চেয়ে বন্ধু নাই , ব্যাধির চেয়ে শত্রু নাই সন্তানের চেয়ে স্নেহপাত্র নাই , দৈবের চেয়ে শ্রেষ্ঠ বল নাই    বিনয়ই সকলের ভূষণ    বিষ থেকেও অমৃত আহরণ করা চলে , মলাদি থেকেও স্বর্ণ আহরণ করা যায় , নীচজাতি থেকেও বিদ্যা আহরণ করা যায় , নীচকুল থেকেও স্ত্রীরত্ন গ্রহণ করা যায়    ভোগবাসনায় বুদ্ধি আচ্ছন্ন হয়    মিত ভোজনেই স্বাস্থ্যলাভ হয়    যশবানের বিনাশ নেই    যারা রূপযৌবনসম্পন্ন এবং উচ্চকুলজাত হয়েও বিদ্যাহীন , তাঁরা সুবাসহীন পলাশ ফুলের মত বেমানান    যে অলস , অলব্ধলাভ তার হয় না    যে গাভী দুধ দেয় না , গর্ভ ধারণও করে না , সে গাভী দিয়ে কী হবে যে বিদ্বান ও ভক্তিমান নয় , সে পুত্র দিয়ে কী হবে    রাতের ভূষণ চাঁদ , নারীর ভূষণ পতি , পৃথিবীর ভূষণ রাজা , কিন্তু বিদ্যা সবার ভূষণ    শাস্ত্র অনন্ত , বিদ্যাও প্রচুর সময় অল্প অথচ বিঘ্ন অনেক তাই যা সারভূত তারই চর্চা করা উচিত হাঁস যেমন জলমিশ্রিত দুধ থেকে শুধু দুধটুকুই তুলে নেয় , তেমনি    সত্যনিষ্ঠ লোকের অপ্রাপ্য কিছুই নাই    সত্যবাক্য দুর্লভ , হিতকারীপুত্র দুর্লভ , সমমনস্কাপত্নী দুর্লভ , প্রিয়স্বজনও তেমনি দুর্লভ    সাপ নিষ্ঠুর খলও নিষ্ঠুর , কিন্তু সাপের চেয়ে খল বেশি নিষ্ঠুর সাপকে মন্ত্র বা ওষধি দিয়ে বশ করা যায় , কিন্তু খলকে কে বশ করতে পারে    সুবেশভূষিত মূর্খকে দূর থেকেই দেখতে ভাল , যতক্ষণ সে কথা না বলে ততক্ষণই তার শোভা , কথা বললেই মূর্খতা প্রকাশ পায়    হাতি থেকে একহাজার হাত দূরে , ঘোড়া থেকে একশ হাত দূরে , শৃঙ্গধারী প্রাণী থেকে দশহাত দূরে থাকবে অনুরূপ দুর্জনের কাছ থেকেও যথাসম্ভব দূরে থাকবেগণকযন্ত্র বা কম্পিউটার ইংরেজি  কম্পিঊটার্ হল এমন একটি যন্ত্র যা সুনির্দিষ্ট নির্দেশ অনুসরণ করে গাণিতিক গণনা সংক্রান্ত কাজ করতে পারেকম্পিউটার  শব্দটি গ্রিক কম্পিউট শব্দ থেকে এসেছে  শব্দের অর্থ হিসাব বা গণনা করাআর  শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র কিন্তু এখন আর কম্পিউটারকে শুধু গণনাকারী যন্ত্র বলা যায় না কম্পিউটার এমন এক যন্ত্র যা তথ্য গ্রহণ করে এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা বিশ্লেষণ ও উপস্থাপন করে বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার আসে ১৯৬৪ সালেপরিচ্ছেদসমূহ    ১ ইতিহাস    ২ কম্পিউটার সিস্টেম        ২১ হার্ডওয়্যার        ২২ সফটওয়্যার        ২৩ হিউম্যানওয়্যার বা ব্যবহারকারী        ২৪ ডেটাইনফরমেশন        ২৫ অপারেটিং সিস্টেম    ৩ প্রয়োগ    ৪ কম্পিউটারের প্রকার        ৪১ এনালগ কম্পিউটার        ৪২ ডিজিটাল কম্পিউটার        ৪৩ হাইব্রিড কম্পিউটার        ৪৪ মেইনফ্রেম কম্পিউটার        ৪৫ মিনি কম্পিউটার        ৪৬ মাইক্রো কম্পিউটার        ৪৭ সুপার কম্পিউটার        ৪৮ ট্যাবলেট কম্পিউটার    ৫ তথ্যসূত্রইতিহাসবর্তমান প্রযুক্তিতে কম্পিউটারের অবদানের অন্তরালে রয়েছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের নিরলস পরিশ্রম , উদ্ভাবনী শক্তি ও গবেষণার স্বাক্ষর প্রাগৈতিহাসিক যুগে গণনার যন্ত্র উদ্ভাবিত বিভিন্ন কৌশল প্রচেষ্টাকে কম্পিউটার ইতিহাস বলা যায় প্রাচীন কালে মানুষ সংখ্যা বুঝানোর জন্য ঝিনুক , নুড়ি , দড়ির গিট ইত্যাদি ব্যবহার করত পরবর্তীতে গণনার কাজে বিভিন্ন কৌশল ও যন্ত্র ব্যবহার করে থাকলেও অ্যাবাকাস  নামক একটি প্রাচীন গননা যন্ত্রকেই কম্পিউটারের ইতিহাসে প্রথম যন্ত্র হিসেবে ধরা হয় অর্থাৎ অ্যাবাকাস থেকেই কম্পিউটারের ইতিহাসের শুভযাত্রা এটি আবিষ্কৃত হয় খ্রিষ্টপূর্ব ২৪০০ সালে ব্যাবিলনে অ্যাবাকাস ফ্রেমে সাজানো গুটির স্থান পরিবর্তন করে গননা করার যন্ত্র খ্রিস্টপূর্ব ৪৫০৫০০ অব্দে মিশরে বা চীনে গননা যন্ত্র হিসেবে অ্যাবাকাস তৈরি হয়১৬১৬ সালে স্কটল্যান্ডের গণিতবিদ জন নেপিয়ার গণনার কাজে ছাপা বা দাগ কাটাকাটি দন্ড ব্যবহার করেন  এসব দন্ড নেপিয়ার   এর অস্থি নামে পরিচিত১৬৪২ সারে ১৯ বছর বয়স্ক ফরাসি বিজ্ঞানী ব্লেইজ প্যাসকেল সর্বপ্রথম যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর আবিষ্কার করেন তিনি দাঁতযুক্ত চাকা বা গিয়ারের সাহায্যে যোগ বিয়োগ করার পদ্ধতি চালু করেন ১৬৭১ সালের জার্মান গণিতবিদ গটফ্রাইড ভন লিবনিজ প্যাসকেলের যন্ত্রের ভিত্তিতে চাকা ও দন্ড ব্যবহার করে গুণ ও ভাগের ক্ষমতাসম্পন্ন আরো উন্নত যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর তেরি করেন তিনি যন্ত্রটির নাম দেন রিকোনিং যন্ত্র   যন্ত্রটি তাত্ত্বিক দিক দিয়ে ভাল হলেও যান্ত্রিক অসুবিধার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেনিপরে ১৮২০ সালে টমাস ডি কোমার রিকোনিং যন্ত্রের অসুবিধা দূর করে লিবনিজের যন্ত্রকে জনপ্রিয় করে তোলেনউনিশ শতকের শুরুর দিকে আধুনিক একটি যন্ত্রের নির্মাণ ও ব্যবহারের ধারণা যা কেবলমাত্র যান্ত্রিকভাবে , মানে যেকোনও রকম বুদ্ধিমত্তা ব্যতিরেকে , গাণিতিক হিসাব করতে পারে প্রথম সোচ্চার ভাবে প্রচার করেন চার্লস ব্যাবেজ তিনি এটির নাম দেন ডিফারেন্স ইন্জিন   এই ডিফারেন্স ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করার সময় ১৮৩৩ সালে তিনি অ্যানালিটিক্যাল ইন্জিন নামে আরও উন্নত ও সর্বজনীন একটি যন্ত্রে ধারনা লাভ করেন কিন্তু প্রয়োজনীয় যন্ত্র ও অর্থের অভাবে কোনোটির কাজই তিনি শেষ করতে পারেননিকম্পিউটার বিজ্ঞানের সত্যিকার সূচনা হয় অ্যালান টুরিং এর প্রথমে তাত্ত্বিক ও পরে ব্যবহারিক গবেষণার মাধ্যমেপৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার এনিয়াককম্পিউটার সিস্টেমসিস্টেম হলো কতগুলো ইন্টিগ্রেটেড উপাদানের সম্মিলিত প্রয়াস যা কিছু সাধারণ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য কাজ করে কম্পিউটার সিস্টেমের উপাদানগুলো নিম্নরূপ     হার্ডওয়্যার ,    সফটওয়্যার ,    হিউম্যানওয়্যার বা ব্যবহারকারী ,    ডেটা বা ইনফরমেশনহার্ডওয়্যারকম্পিউটারের বাহ্যিক আকৃতিসম্পন্ন সকল যন্ত্র , যন্ত্রাংশ ও ডিভাইস সমূহকে হার্ডওয়্যার বলে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারকে প্রাথমিকভাবে তিনভাগে ভাগ করা যায়     ইনপুট যন্ত্রপাতি  কীবোর্ড , মাউস , ডিস্ক , স্ক্যানার , কার্ড রিডার , ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি     সিস্টেম ইউনিট  হার্ড ডিস্ক , মাদারবোর্ড , এজিপি কার্ড ইত্যাদি     আউটপুট যন্ত্রপাতি  মনিটর , প্রিন্টার , ডিস্ক , স্পিকার ইত্যাদিসফটওয়্যারসমস্যা সমাধান বা কার্য সম্পাদনের উদ্দেশ্যে কম্পিউটারের ভাষায় ধারাবাহিকভাবে সাজানো নির্দেশমালাকে প্রোগ্রাম বলে প্রোগ্রাম বা প্রোগ্রাম সমষ্টি যা কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও ব্যবহারকারীর মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমে হার্ডওয়্যারকে কার্যক্ষম করে তাকেই সফটওয়্যার বলে কম্পিউটারের সফট্ওয়্যারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়     সিস্টেম সফটওয়্যার  সিস্টেম সফট্ওয়্যার কম্পিউটারের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে কাজের সমন্বয় রক্ষা করে ব্যবহারিক প্রোগ্রাম নির্বাহের জন্য কম্পিউটারের সামর্থ্যকে সার্থকভাবে নিয়োজিত রাখে    এপ্লিকেশন সফটওয়্যার  ব্যবহারিক সমস্যা সমাধান বা ডেটা প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহিত প্রোগ্রামকে অ্যাপ্লিকেশন সফট্ওয়্যার বলে ব্যবহারিক সমস্যা সমাধানের জন্য অনেক রকম তৈরি প্রোগ্রাম বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে পাওয়া যায় , যাকে সাধারণত প্যাকেজ প্রোগ্রামও বলা হয়হিউম্যানওয়্যার বা ব্যবহারকারীডেটা সংগ্রহ , প্রোগ্রাম বা ডেটা সংরক্ষণ ও পরীক্ষাকরণ , কম্পিউটার চালানো তথা প্রোগ্রাম লিখা , সিস্টেমগুলো ডিজাইন ও রেকর্ড লিপিবদ্ধকরণ এবং সংরক্ষণ , সফট্ওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের মধ্যে সমন্বয় সাধন ইত্যাদি কাজগুলোর সাথে যুক্ত সকল মানুষকে একত্রে হিউম্যানওয়্যার  বলা হয়ডেটাইনফরমেশনইনফরমেশন বা তথ্যের ক্ষুদ্রতম একককে ডেটা বলে ডেটা হল সাজানো নয় এমন কিছু বিশৃঙ্খল ফ্যাক্ট  ডেটা প্রধানত দুরকম ক নিউমেরিক  ডেটা বা সংখ্যাবাচক ডেটা যেমনঃ ২৫ ,১০০ ,৪৫৬ ইত্যাদি খ অনিউমেরিক  ডেটা যেমনঃ মানুষ , দেশ ইত্যাদির নাম , জীবিকা , জাতি কিংবা ছবি , শব্দ ও তারিখ প্রভৃতিঅপারেটিং সিস্টেমমূল নিবন্ধ অপারেটিং সিস্টেমঅপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে এমন একটি সফটওয়্যার যা কম্পিউটার প্রোগ্রামের এক্সিকিউশনকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং যা সিডিউলিং , ডিবাগিং , ইনপুটআউটপুট কন্ট্রোল , একাউন্টিং , কম্পাইলেশন , স্টোরেজ অ্যাসাইনমেন্ট , ডেটা ম্যানেজমেন্ট এবং আনুষঙ্গিক কাজ করে থাকে বর্তমানে মাইক্রো কম্পিউটার বা পিসিতে বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমগুলো হলো  ডস , উইন্ডোজ ৯৫ , উইন্ডোজ ৯৮ , উইন্ডোজ ২০০০ , ইউনিক্স , উবুন্টু , মিন্ট অপারেটিং সিস্টেম ,  , ডেবিয়ান , ফেডোরা , ম্যাক ওএসএক্স , উইন্ডোজ এক্সপি , উইন্ডোজ ভিস্তা , উইন্ডোজ ৭ , উইন্ডোজ ৮ , উইন্ডোজ ৮১ , উইন্ডোজ ১০ , লিনাক্সপ্রয়োগকম্পিউটারের রয়েছে প্রচুর ব্যবহার ঘরের কাজ থেকে শুরু করে ব্যবসায়িক , বৈজ্ঞানিক ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে এর অপরিসীম ব্যবহার সর্বোপরি যোগাযোগ ক্ষেত্রে এটি এনেছে অনন্য বিপ্লব চিকিৎসা ও মানবকল্যাণেও এটি এক অনন্য সঙ্গী এক কথায় কম্পিউটার এমন এক যন্ত্র যা প্রায় সকল কাজ করতে সক্ষম ভূগোলে কমপিউটারের ব্যবহার ঃ  জি আই এস এ কম্পিউটার ঃ  প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কমপিউটার ব্যবহার করা হয়এ প্রযুক্তিতে কম্পিউটারের সাহায্যে মানচিত্রে বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করা হয়কম্পিউটারের প্রকারকম্পিউটারের গঠন ও প্রচলন নীতির ভিত্তিতে একে তিন ভাগে ভাগ করা যায়    এনালগ কম্পিউটার    ডিজিটাল কম্পিউটার    হাইব্রিড কম্পিউটারআকার , সামর্থ্য , দাম ও ব্যবহারের গুরুত্বের ভিত্তিতে ডিজিটাল কম্পিউটারকে আবার চার ভাগে ভাগ করা যায়    মাইক্রো কম্পিউটার    মিনি কম্পিউটার    মেইনফ্রেম কম্পিউটার    সুপার কম্পিউটারমাইক্রো কম্পিউটাগুলোকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়    ডেক্সটপ    ল্যাপটপনিচে কম্পিউটারের পূর্ণাঙ্গ শ্রেণীবিভাগ দেখানো হলো এনালগ কম্পিউটারযে কম্পিউটার একটি রাশিকে অপর একটি রাশির সাপেক্ষে পরিমাপ করতে পারে ,তাই এনালগ কম্পিউটার এটি উষ্ণতা বা অন্যান্য পরিমাপ যা নিয়মিত পরিবর্তিত হয় তা রেকর্ড করতে পারেমোটর গাড়ির বেগ নির্ণায়ক যন্ত্র এনালগ কম্পিউটারের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণডিজিটাল কম্পিউটারডিজিটাল কম্পিউটার দুই ধরনের বৈদ্যুতিক ভোল্টেজ দ্বারা সকল কিছু প্রকাশ করা হয় ভোল্টেজের উপস্থিতিকে ১ এবং অনুপস্থিতিকে ০ দ্বারা প্রকাশ করা হয় এটি যে কোন গণিতের যোগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে এবং বিয়োগ ,গুণ ও ভাগের মতো অন্যান্য অপারেশন সম্পাদন করে আধুনিক সকল কম্পিউটার ডিজিটাল কম্পিউটারহাইব্রিড কম্পিউটারহাইব্রিড কম্পিউটার হলো এমন একটি কম্পিউটার যা এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের সর্বোত্তম বৈশিষ্ট্যগুলোর সমন্বয়ে গঠিত এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহার করা হয় সুতরাং বলা যায় , প্রযুক্তি ও ভিত্তিগত দিক থেকে এনালগ ও ডিজিটাল কম্পিউটারের আংশিক সমন্বয়ই হচ্ছে হাইব্রিড কম্পিউটার সাধারণত হাইব্রিড কম্পিউটারে তথ্য সংগ্রহ করা হয় অ্যানালগ পদ্ধতিতে এবং গণনা করা হয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে যেমন আবহাওয়া দপ্তরে ব্যবহৃত হাইব্রিড কম্পিউটার অ্যানালগ পদ্ধতিতে বায়ুচাপ ,তাপ ইত্যাদি পরিমাপ করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গণনা করে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়ে থাকেমেইনফ্রেম কম্পিউটারমিনি কম্পিউটারযে কম্পিউটার টার্মিনাল লাগিয়ে প্রায় এক সাথে অর্ধ শতাধিক ব্যবহারকারী ব্যবহার করতে পারে তাই মিনি কম্পিউটার এটা শিল্পবাণিজ্য ও গবেষণাগারে ব্যবহার করা হয়ে থাকেযেমন   ,  ,  ,  মাইক্রো কম্পিউটারমাইক্রো কম্পিউটারকে পার্সোনাল কম্পিউটার বা পিসি বলেও অভিহিত করা হয় ইন্টারফেস চিপ    , একটি মাইক্রোপ্রসেসর , সিপিইউ , র্যাম , রম , হার্ডডিস্ক ইত্যাদি সহযোগে মাইক্রো কম্পিউটার গঠিত হয় দৈনন্দিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে এ কম্পিউটারের ব্যবহার দেখা যায় ম্যকিনটোস আইবিএম পিসি এ ধরনের কম্পিউটারসুপার কম্পিউটারআধুনিক সুপার কম্পিউটার এর ছবিঅত্যন্ত শক্তিশালী ও দ্রুতগতিসম্পন্ন কম্পিউটারকে সুপার কম্পিউটার বলে এ কম্পিউটারের গতি প্রায় প্রতি সেকেন্ডে ১ বিলিয়ন ক্যারেক্টর কোনো দেশের আদমশুমারির মতো বিশাল তথ্য ব্যবস্থাপনা করার মতো স্মৃতিভাণ্ডার বিশিষ্ট কম্পিউটার হচ্ছে সুপার কম্পিউটার   ,   এ ধরনের কম্পিউটারট্যাবলেট কম্পিউটারট্যাবলেট কম্পিউটার এক ধরণের মাইক্রো কম্পিউটার যা পাম টপ কম্পিউটার নামে পরিচিত এটি স্পর্শপর্দা সম্বলিত প্রযুক্তি এটি এনড্রয়েড এবং উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলেতথ্যসূত্রবিষয়শ্রেণীসমূহ    কম্পিউটিং    যন্ত্র    প্রযুক্তিপরিভ্রমণ মেনু    অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন    প্রবেশ    নিবন্ধ    আলোচনা    পড়ুন    সম্পাদনা    ইতিহাস দেখুনলিওনেল আন্দ্রেস লিও মেসি কুচ্চিত্তিনি স্পেনীয়     স্পেনীয় উচ্চারণ     শুনুন জন্ম ২৪ জুন ১৯৮৭ একজন আর্জেন্টিনীয় পেশাদার ফুটবলার যিনি লা লিগা ক্লাব বার্সেলোনা এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলেন তিনি বর্তমানে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক মাত্র ২১ বছর বয়সেই মেসি বালোঁ দঅর এবং ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় পুরস্কার দুটির জন্য মনোনীত হন পরের বছর তিনি প্রথমবারের মত বালোঁ দঅর৪ এবং ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেন ২০১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে বালোঁ দঅর এবং ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড় পুরস্কার দুটিকে এক করে নাম দেওয়া হয় ফিফা বালোঁ দঅর উদ্বোধনী বছরেই এই পুরস্কার জিতেন তিনি৫ এরপর ২০১১৬ এবং ২০১২৭ সালের পুরস্কারও জিতেন তিনি ২০১১১২ মৌসুমে তিনি ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়ও নির্বাচিত হন ২৪ বছর বয়সেই তিনি সব ধরণের অফিসিয়াল প্রতিযোগিতায় বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হন৮ ২৫ বছর বয়সে তিনি লা লিগায় সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ২০০ গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে , ক্লাবও জাতীয় দল উভয় মিলিয়ে তিনি তার ক্যারিয়ারের ৪০০তম অফিসিয়াল গোল করেন একই বছরের নভেম্বরে , তিনি লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লীগের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হনঅনেক ভাষ্যকার , কোচ এবং খেলোয়াড় তাকে বর্তমান সময়ের সেরা এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে দাবী করে থাকেন৯১০১১১২১৩ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় মেসি যিনি টানা চারটি ফিফা  বালোঁ দঅর পুরস্কার জিতেছেন এছাড়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনি তিনটি ইউরোপীয়ান গোল্ডেন শু পুরস্কারও জিতেছেন বার্সেলোনার হয়ে মেসি সাতটি লা লিগা , দুইটি কোপা দেল রে , পাঁচটি স্পেনীয় সুপার কোপা , চারটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লীগ , দুইটি উয়েফা সুপার কাপ এবং দুইটি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছেনমেসি প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা চারটি চ্যাম্পিয়নস লীগে সর্বোচ্চ গোল প্রদান করেছেন১৪১৫ এবং প্রতিযোগিতায় তার সর্বোচ্চ হ্যাট্রিকেরও রেকর্ড রয়েছে ৪টি ২০১২ খ্রিস্টাব্দের মার্চে চ্যাম্পিয়নস লীগে বেয়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে খেলায় পাঁচ গোল করে মেসি ইতিহাস গড়েন১৬ এছাড়া তিনি চ্যাম্পিয়নস লীগের এক মৌসুমে হোসে আলতাফিনির করা ১৪ গোলের রেকর্ডও স্পর্শ করেন১৭ ২০১১১২ মৌসুমে সব ধরণের প্রতিযোগিতায় ৭৩টি গোল করার মাধ্যমে ইউরোপীয় ফুটবলে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়েন মেসি১৮ ঐ একই মৌসুমে , লা লিগায় ৫০ গোল করার মাধ্যমে লা লিগার এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও গড়েন তিনি১৯ মেসি ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় যিনি একই মৌসুমে ছয়টি আলাদা অফিসিয়াল প্রতিযোগিতায় গোল এবং গোলে সহায়তা উভয়ই করেছেন ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ফেব্রুয়ারি মেসি বার্সেলোনার হয়ে তার ৩০০তম গোল করেন২০ ২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০ মার্চ মেসি লা লিগায় টানা ১৯টি খেলায় গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লীগের সব কয়টি দলের বিপক্ষে টানা গোল করার রেকর্ড গড়েন তিনি২১ অবশ্য তিনি টানা ২১টি খেলায় গোল করেছিলেন আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলায় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির    উরূর মাংসপেশীর টান কারণে মাঠ ছাড়লে তার এই গোলরথ থামে ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ তারিখে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করার মাধ্যমে এল ক্লাসিকোর ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল এবং হ্যাট্রিক করার রেকর্ড গড়েন মেসি২২২৩ এরপর নভেম্বরে , সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্ট্রিক করার মাধ্যমে ২৫৩ গোল নিয়ে তিনি লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার গৌরব অর্জন করেন২৪ একই মাসে , চ্যাম্পিয়নস লীগে নিজের ৭৪তম গোল করার মাধ্যমে তিনি এই প্রতিযোগিতারও সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার গৌরব অর্জন করেনমেসি আর্জেন্টিনাকে ২০০৫ ফিফা অনুর্ধ্ব ২০ বিশ্বকাপ জয়ে সাহায্য করেন প্রতিযোগিতায় তিনি সর্বোচ্চ ছয়টি গোল করেন এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনা রানারআপ হয় এবং তিনি প্রতিযোগিতার কনিষ্ঠ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন২৫ ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে বেইজিং অলিম্পিকে আর্জেন্টিনা অলিম্পিক ফুটবল দলের হয়ে মেসি স্বর্ণপদক জিতে নেন এটিই ছিল তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মাননা ২০১৪ বিশ্বকাপে তিনি আর্জেন্টিনাকে নেতৃত্ব দেন তিনি টানা চার খেলায় সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন এবং দলকে ফাইনালে নিয়ে যান প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হিসাবে তিনি গোল্ডেন বলের পুরস্কারও জিতেন খেলার ধরন এবং দৈহিক গঠনের কারণে তাকে তারই স্বদেশী দিয়েগো মারাদোনার সাথে তুলনা করা হয় যিনি নিজেই মেসিকে স্বীয় উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেছেন২৬পরিচ্ছেদসমূহ    ১ প্রারম্ভিক জীবন    ২ ক্লাব কর্মজীবন        ২১ বার্সেলোনা        ২২ ২০০৫০৬ মৌসুম        ২৩ ২০০৬০৭ মৌসুম        ২৪ ২০০৭০৮ মৌসুম        ২৫ ২০০৮০৯ মৌসুম        ২৬ ২০০৯১০ মৌসুম        ২৭ ২০১০১১ মৌসুম        ২৮ ২০১১১২ মৌসুম        ২৯ ২০১২১৩ মৌসুম        ২১০ ২০১৩১৪ মৌসুম        ২১১ ২০১৪১৫ মৌসুম    ৩ আন্তর্জাতিক কর্মজীবন        ৩১ ২০০৬ বিশ্বকাপ        ৩২ ২০০৭ কোপা আমেরিকা        ৩৩ ২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক        ৩৪ ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব        ৩৫ ২০১০ বিশ্বকাপ        ৩৬ ২০১১ কোপা আমেরিকা , ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং প্রদর্শনী খেলাসমূহ        ৩৭ ২০১৪ বিশ্বকাপ    ৪ খেলার ধরণ    ৫ ফুটবলের বাহিরে        ৫১ ব্যক্তিগত জীবন        ৫২ দানশীলতা        ৫৩ সম্পত্তি        ৫৪ পারিশ্রমিক        ৫৫ মিডিয়া        ৫৬ বিজ্ঞাপনী উদ্যোগ    ৬ কর্মজীবনের পরিসংখ্যান        ৬১ ক্লাব        ৬২ সহায়তা        ৬৩ আন্তর্জাতিক            ৬৩১ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি            ৬৩২ আন্তর্জাতিক গোল    ৭ সম্মাননা        ৭১ বার্সেলোনা        ৭২ আর্জেন্টিনা        ৭৩ একক        ৭৪ রেকর্ডসমূহ            ৭৪১ বিশ্ব            ৭৪২ ইউরোপ            ৭৪৩ আর্জেন্টিনা            ৭৪৪ স্পেন        ৭৫ বার্সেলোনা    ৮ আরও দেখুন    ৯ তথ্যসূত্র    ১০ বহিঃসংযোগপ্রারম্ভিক জীবনমেসি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে জন্মগ্রহণ করেন তার ববা হোর্হে হোরাসিও মেসি ইস্পাতের কারখানায় কাজ করতেন এবং মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি ছিলেন একজন খণ্ডকালীন পরিচ্ছন্নতা কর্মী২৭২৮২৯৩০ তাঁর পৈতৃক পরিবারের আদি নিবাস ছিল ইতালির আকোনা শহরে তার পূর্বপুরুষদের একজন অ্যাঞ্জেলো মেসি ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে সেখান থেকে আর্জেন্টিনায় চলে আসেন৩১৩২ মেসির বড় দুই ভাই এবং এক ছোট বোন রয়েছে বড় দুই ভাইয়ের নাম রদ্রিগো ও মাতিয়াস এবং ছোট বোনের নাম মারিয়া সল৩৩ পাঁচ বছর বয়সে মেসি স্থানীয় ক্লাব গ্রান্দোলির হয়ে ফুটবল খেলা শুরু করেন , যার কোচ ছিলেন তার বাবা হোর্হে৩৪ ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে মেসি রোজারিও ভিত্তিক ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজে যোগ দেন৩৪ তিনি একটি স্থানীয় যুব শক্তিঘরের সদস্য হয়ে পড়েন , যারা পরবর্তী চার বছরে একটি মাত্র খেলায় পরাজিত হয়েছিল এবং স্থানীয়ভাবে দ্য মেশিন অফ ৮৭     নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল তাদেরকে এই নামে অভিহিত করার কারণ ছিল তাদের জন্ম সাল ১৯৮৭৩৫১১ বছর বয়সে মেসির গ্রোথ হরমোনের   সমস্যা ধরা পড়ে৩৬ স্থানীয় ক্লাব রিভার প্লেট মেসির প্রতি তাদের আগ্রহ দেখালেও সেসময় তারা মেসির চিকিত্সার খরচ বহন করতে অপারগ ছিল এ চিকিৎসার জন্যে প্রতিমাসে প্রয়োজন ছিল ৯০০ মার্কিন ডলার৩০ বার্সেলোনার তত্কালীন ক্রীড়া পরিচালক কার্লেস রেক্সাচ মেসির প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি মেসির খেলা দেখে মুগ্ধ হন হাতের কাছে কোন কাগজ না পেয়ে একটি ন্যাপকিন পেপারে তিনি মেসির বাবার সাথে চুক্তি সাক্ষর করেন৩৭৩৮ বার্সেলোনা মেসির চিকিত্সার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করতে রাজী হয় এরপর মেসি এবং তার বাবা বার্সেলোনায় পাড়ি জমান সেখানে মেসিকে বার্সেলোনার যুব একাডেমী লা মাসিয়ার সভ্য করে নেয়া হয়৩৪৩৭ক্লাব কর্মজীবনবার্সেলোনামেসি ২০০০ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনার যুব একাডেমীর ইনফান্তিল বি , কাদেতে বি এবং কাদেতে এ দলে খেলেছেন কাদেতে এ দলে খেলার সময় তিনি ৩০ খেলায় ৩৭ গোল করেন ২০০৩ সালে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাকে ক্লাব থেকে প্রায় ছেড়েই দেওয়া হয়েছিল , কিন্তু যুব দলের পশিক্ষণ কর্মিদের জোড়াজুড়িতে ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিষদ তাকে দলে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সেসময় সেস্ ফ্যাব্রিগাসকে ছেড়ে দেওয়া হয়৩৯ ২০০৩০৪ মৌসুমে মেসি পাঁচটি আলাদা দলে খেলেন , যা একটি রেকর্ড৪০ তিনি হুভেনিল বি দলে খেলে ১টি গোল করেন এবং হুভেনিল এ দলে খেলার সুযোগ লাভ করেন সেখানে তিনি ১৪ খেলায় ২১টি গোল করেন ২০০৩ সালের ২৯ নভেম্বর , বার্সেলোনা সি তের্সেরা দিভিসিওন দলে এবং ২০০৪ সালের ৬ মার্চ , বার্সেলোনা বি সেহুন্দা দিভিসিওন দলে তার অভিষেক হয় ঐ মৌসুমে তিনি উভয় দলের হয়েই খেলেন এবং সি দলের হয়ে তার গোল সংখ্যা ছিল ১০ খেলায় ৫ এবং বি দলের হয়ে ৫ খেলায় শূন্য৪১৪২৪৩৪৪ এই দুই দলে অভিষেকের পূর্বে মেসির দাপ্তরিক অভিষেক হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর , পোর্তোর বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলায় ১৬ বছর এবং ১৪৫ দিন বয়সে৪৫৪৬২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর , ইস্পানিওলের বিপক্ষে বার্সেলোনার তৃতীয় কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে মেসির লা লিগায় অভিষেক হয় ১৭ বছর এবং ১১৪ দিন বয়সে অবশ্য , ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে , বোয়ান কিরকিচ এই স্থান দখল করেন ২০০৫ সালের ১ মে , আলবাকেতে বালোম্পাইয়ের বিপক্ষে বার্সেলোনার সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে লা লিগায় গোল করার রেকর্ড গড়েন মেসি ১৭ বছর ১০ মাস এবং ৭ দিন বয়সে৪৭ অবশ্য , তার এই রেকর্ড ২০০৭ সালে বোয়ান কিরকিচ ভেঙ্গে ফেলেন বোয়ান ঐ গোলটি মেসির পাস থেকেই করেছিলেন৪৮ মেসি তার প্রাক্তন কোচ ফ্রাংক রাইকার্ড সম্পর্কে বলেন আমি কখনও ভুলবনা যে তিনি আমার ক্যারিয়ার শুরু করিয়েছিলেন , মাত্র ১৬ বা ১৭ বছর বয়সে আমার প্রতি তার আস্থা ছিল৪৯ ঐ মৌসুমে মেসি বার্সেলোনা বি দলের হয়েও খেলেন এবং ১৭ খেলায় ৬ গোল করেন২০০৫০৬ মৌসুম১৬ সেপ্টেম্বর , তিন মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মত বার্সেলোনা মেসির সাথে তাদের চুক্তি নবায়ন করে এসময় মূল দলের খেলোয়াড় হিসেবে মেসির পারিশ্রমিক বাড়ানো হয় এবং চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৪ সাল পর্যন্ত করা হয় ২০০৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর , মেসিকে স্পেনের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় ,৫০ এবং তিনি লা লিগায় খেলার সুযোগ পেয়ে যান ২৭ সেপ্টেম্বর , মেসি ঘরের মাঠে ইতালিয়ান ক্লাব উদিনেসের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লীগে তার প্রথম খেলায় মাঠে নামেন৪৫ মেসি যখন মাঠে নামেন তখন ক্যাম্প ন্যু এর দর্শকগন তাকে দাড়িয়ে অভ্যর্থনা জানানমেসি লা লিগায় ১৭ খেলায় ৬ গোল এবং চ্যাম্পিয়নস লীগে ৬ খেলায় ১ গোল করেন ২০০৬ সালের ৭ মার্চ , চেলসির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লীগের দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় লেগের খেলায় মেসির ডান উরুর পেশী ছিঁড়ে যায় ফলে সেসমই তাকে মৌসুমের ইতি টানতে হয়৫১ ঐ মৌসুমে রাইকার্ডের অধীনে বার্সেলোনা স্পেন এবং ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মৌসুম শেষ করে৫২৫৩২০০৬০৭ মৌসুম২০০৭ সালে রেঞ্জার্সের বিপক্ষে খেলায় মেসি২০০৬০৭ মৌসুমে মেসি নিজেকে দলের নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে স্থাপন করেন এবং ২৬ খেলায় ১৪ গোল করেন৫৪ ১২ নভেম্বর , জারাগোজার বিপক্ষে খেলার সময় মেসির পায়ের হাড় ভেঙ্গে যায় , ফলে তিনি তিন মাসের জন্য মাঠের বাহিরে চলে যান৫৫৫৬ ১০ মার্চ , এল ক্ল্যাসিকোতে মেসি হ্যাট্রিক করেন , খেলাটি ৩৩ গোল ড্র হয় বার্সেলোনা খেলায় তিনবার পিছিয়ে পরলেও , প্রত্যেকবারই মেসি দলকে সমতায় ফেরান , যার মধ্যে একটি গোল তিনি দ্বিতীয়ার্ধের অতিরিক্ত সময়ে করেছিলেন৫৭ এর আগে এল ক্ল্যাসিকোতে সর্বশেষ হ্যাট্রিক করেছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের ইভান জামোরানো , ১৯৯৪৯৫ মৌসুমে৫৮ মেসিই এল ক্ল্যাসিকোতে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার মৌসুমের শেষের দিকে মেসি আগের চেয়ে আরও বেশি গোল করতে শুরু করেন লীগে তার করা ১৪টি গোলের ১১টিই এসেছিল শেষ ১৩টি খেলা থেকে৫৯খেতাফের বিপক্ষে ছয় জনকে কাটিয়ে মেসির গোল করার আগের মুহূর্তএই মৌসুমে মেসি কিংবদন্তী দিয়েগো মারাদোনার বিখ্যাত কিছু গোলের পুনরাবৃত্তি ঘটান৬০ এবং নিজেকে নতুন মারাদোনা রূপে স্থাপন করেন ২০০৭ সালের ১৮ এপ্রিল , কোপা দেল রের সেমিফাইনালে খেতাফের বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন যার মধ্যে একটি গোল ছিল মারাদোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা দ্বিতীয় গোলটির মত , যে গোলটি শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে খ্যাত৬১ বিশ্বের ক্রীড়া মাধ্যম মেসিকে মারাদোনার সাথে তুলনা করতে শুরু করে এবং স্পেনীয় সংবাদ মাধ্যম তাকে মেসিদোনা উপাধিতে ভূষিত করে৬২ মারাদোনার মত মেসিও প্রায় ৬২ মিটার দূরত্ব পাড়ি দিয়ে গোলরক্ষকসহ ছয় জনকে কাটিয়ে একই স্থান থেকে গোল করেছিলেন এবং কর্ণার ফ্লাগের দিকে ছুটে গিয়েছিলেন , যেমনটি করেছিলেন মারাদোনা , ২১ বছর আগে মেক্সিকো বিশ্বকাপে৬০ খেলা শেষে একটি সংবাদ সম্মেলনে মেসির সতীর্থ জেকো বলেছিলেন , এটি আমার জীবনে দেখা সেরা গোল৬৩ ইস্পানিওলের বিপক্ষেও মেসি একটি গোল করেছিলেন , যা ছিল মারাদোনার হ্যান্ড অব গড খ্যাত গোলটির মত৬৪ যেটি ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মারাদোনার করা প্রথম গোল ছিলবার্সেলোনার তত্কালীন ম্যানেজার ফ্রাংক রাইকার্ড মেসিকে মাঠের বাম পার্শ্ব হতে ডান উইঙ্গে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন , যেন তিনি সহজে মাঠের মাঝখানে প্রবেশ করতে পারেন এবং বাম পা দিয়ে শট বা ক্রস করতে পারেন অবশ্য , প্রাথমিকভাবে এটি মেসির ইচ্ছার বিরুদ্ধে ছিল৬৫২০০৭০৮ মৌসুম২০০৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর , সেভিয়ার বিপক্ষে বার্সেলোনাকে ২০ ব্যাবধানের জয় এনে দেন মেসি২৭ ফেব্রুয়ারী , মেসি ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে তার ১০০তম অফিসিয়াল খেলায় মাঠে নামেন৬৬স্পেনীয় সংবাদপত্র মার্কা তাদের অনলাইন সংস্করনে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের জন্য ভোটের আয়োজন করে , যেখানে মেসি ৭৭ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হন৬৭ বার্সেলোনা ভিত্তিক সংবাদপত্র এল মুন্দো দেপোর্তিভো এবং দেইলি স্পোর্ত সে বছর ব্যালোন দিঅর মেসিকে দেওয়ার জন্য দাবি করে৬৮ ফ্রাঞ্চেসকো তোত্তির মত ফুটবল ব্যক্তিত্ব মেসিকে বর্তমান সময়ের সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যক্ত করেন৬৯ ২০০৭ সালের ব্যালোন দিঅর পুরষ্কারে মেসি , কাকা এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পেছনে থেকে তৃতীয় হন , এবং ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরষ্কারে তিনি কাকার পেছনে থেকে দ্বিতীয় হন৪ মার্চ সেল্টিকের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলায় , মেসি বাম পায়ের মাংস পেশীর ইনজুরিতে আক্রান্ত হন এবং ছয় সপ্তাহের জন্য মাঠের বাহিরে চলে যান তিনটি মৌসুমে চতুর্থবারের মত মেসি একই ধরনের ইনজুরিতে আক্রান্ত হন৭০ এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসি ৬ গোল করেন এবং ১টি গোলে সহায়তা করেন , যদিও বার্সেলোনা সেমিফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে হেরে বিদায় নেয় মৌসুমে মেসি বার্সেলোনার হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ১৬ গোল করেন এবং ১৩টি গোলে সহায়তা করেন২০০৮০৯ মৌসুমলা লিগায় হুয়েলভার বিপক্ষে খেলায় কর্ণার কিক নিচ্ছেন মেসিদল থেকে রোনালদিনিয়োর প্রস্থানের পর মেসি তার ১০ নম্বর জার্সি পেয়ে যান৭১ এই মৌসুমে মেসি ২০০৮ ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারএর পুরস্কারে ৬৭৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে কোপা দেল রের একটি খেলায় মেসি ২০০৯ সালে তার প্রথম হ্যাট্রিক করেন খেলায় বার্সেলোনা ৩১ ব্যবধানে জয় লাভ করে৭২ ২০০৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি , মেসি রেসিং স্যান্তেনদার এর বিপক্ষে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে জোড়া গোল করেন ঐ খেলায় ১০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও মেসির কর্তৃত্বে বার্সেলোনা ১২ ব্যবধানে জয় লাভ করে খেলার দ্বিতীয় গোলটি ছিল বার্সেলোনার ৫ ,০০০ তম লীগ গোল৭৩ ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল , বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলায় মেসি জোড়া গোল করেন যার মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে তার ৮ গোলের ব্যক্তিগত নতুন রেকর্ড স্থাপিত হয়৭৪২০০৯ সালের ২ মে , স্যান্তিয়াগো বের্ন্যাবেউ স্টেডিয়ামে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন এবং বার্সেলোনা ২৬ ব্যবধানে জয় লাভ করে৭৫ ১৩ মে , মেসি বার্সেলোনার হয়ে প্রথম কোপা দেল রে শিরোপা জিতেন ফাইনাল খেলায় অ্যাথলেতিক বিলব্যাও এর বিপক্ষে তিনি ১টি গোল করেন ও ২টি গোলে সহায়তা করেন৭৬ মৌসুমে বার্সেলোনা লা লিগা শিরোপাও জিতে ২৭ মে , চ্যাম্পিয়নস লীগের ফাইনালে গোল করে তিনি দলকে চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা জিততে সহায়তা করেন এই গোলের মাধ্যমে মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে মেসির গোল সংখ্যা দাড়ায় ৯ তিনিই উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে ৯ গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়৭৭ মেসি একটি দূর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে উয়েফা বর্ষসেরা ক্লাব ফরোয়ার্ড ও বর্ষসেরা ক্লাব খেলোয়াড়ের পুরস্কার অর্জন করেন৭৮ বার্সেলোনা এক মৌসুমে লা লিগা , কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়নস লিগ তিনটি শিরোপাই জিতে৭৯ এবং এটিই ছিল কোন স্পেনীয় ক্লাবের প্রথম ট্রেবল জয়৮০ এই মৌসুমে মেসি বার্সেলোনার হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৩৮ গোল করেন এবং ১৮টি গোলে সহায়তা করেন২০০৯১০ মৌসুম২০০৯ উয়েফা সুপার কাপ জেতার পর বার্সেলোনা ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা জাহির করেন , মেসিই খুব সম্ভবত তার দেখা সেরা খেলোয়াড়৮১ এই মৌসুমে গার্দিওলা মেসিকে ডান উইঙ্গ থেকে সরিয়ে ফলস নাইন পজিশনে নিয়ে আসেন৮২ ১৮ সেপ্টেম্বর , মেসি বার্সেলোনার সাথে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হন এই চুক্তির সময় মেসির মূল্য রাখা হয় ২৫০ মিলিয়ন ইউরো এবং এই চুক্তির মাধ্যমে মেসির বার্ষিক আয় বেড়ে হয় ৯৫ মিলিয়ন ইউরো৮৩৮৪২০০৯ সালের ১ ডিসেম্বর , ব্যালন দিঅর বিজয়ী হিসেবে মেসির নাম ঘোষনা করা হয় এবারের ব্যালন দিঅর পুরষ্কারে মেসি ৪৭৩ পয়েন্ট নিয়ে প্রথম এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ২৩৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় হন এটি ছিল ব্যালন দিঅর এর ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড৮৫৮৬৮৭ মেসি আইএফএফএইচএস বর্ষসেরা প্লেমেকার পুরস্কারে জাভির পেছনে থেকে দ্বিতীয় হন৮৮২০০৯ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সেমি ফাইনালে , আটলান্টার বিপক্ষে খেলায় মেসি১৯ ডিসেম্বর আবু ধাবিতে , মেসি ২০০৯ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে এস্তুদিয়ান্তেসের বিপক্ষে গোল করেন এবং দলকে ঐ বছর ৬টি শিরোপা এনে দেন৮৯ এর দুই দিন পরই তাকে ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের পুরস্কার দেয়া হয় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো , জাভি হার্নান্দেজ , আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা এবং কাকাকে হারিয়ে মেসি এই পুরস্কার জিতেন তিনিই প্রথম আজেন্টাইন হিসেব এই পুরস্কার জেতার কৃতিত্ব অর্জন করেন৯০ ১০ জানুয়ারি , মেসি মৌসুমে তার প্রথম হ্যাট্রিক করেন এবং বার্সেলোনা ০৫ ব্যবধানে টেনেরিফের বিপক্ষে জয় লাভ করে৯১ ১৭ জানুয়ারি , মেসি বার্সেলোনার হয়ে তার ১০০ তম গোলটি করেন এবং বার্সেলোনা সেভিয়ার বিপক্ষে ৪০ ব্যবধানে জয় লাভ করে৯২মেসি ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন এবং দলকে ৩০ ব্যবধানের জয় এনে দেন৯৩ পরের খেলায় জারাগোজার বিপক্ষেও তিনি হ্যাট্রিক করেন এবং দলকে ২৪ ব্যবধানের জয় এনে দেন৯৪ মেসি বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় টানা দুই খেলায় হ্যাট্রিক করা প্রথম খেলোয়াড়৯৫ ২০১০ সালের ২৪ মার্চ , মেসি ওসাসুনার বিপক্ষে বার্সেলোনার হয়ে তার ২০০তম অফিসিয়াল খেলায় মাঠে নামেন৯৬ ২০১০ সালের ৬ এপ্রিল , মেসি তার ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মত এক খেলায় ৪ গোল করেন চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের আর্সেনালের বিপক্ষে ঐ খেলায় বার্সেলোনা ৪১ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে৯৭৯৮ এর মাধ্যমে মেসি চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা রিভালদোকে টপকে যান৯৯ মৌসুমে লা লিগার শেষ খেলায় ভায়াদোলিদের বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন এবং বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় এক মৌসুমে রোনালদোর করা ৩৪ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন , যেটি রোনালদো ১৯৯৬১৯৯৭ মৌসুমে করেছিলেন১০০১০১ ২০১০ সালের ৩ জুন , মেসি টানা দ্বিতীয়বারের মত লা লিগার সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন১০২ তিনি সব ধরনের প্রতিযোগীতায় ৪৭ গোল করে মৌসুম শেষ করেন ১৯৯৬৯৭ মৌসুমে রোনালদোও সমান সংখ্যক গোল করেছিলেন মেসি মৌসুমে ১১টি গোলে সহায়তাও করেন১০৩২০১০১১ মৌসুম২০১০ সালের ২১ আগস্ট , মৌসুমে মেসি তার প্রথম খেলায় সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন স্পেনীয় সুপার কাপের ঐ খেলায় বার্সেলোনা ৪০ ব্যবধানে জয় লাভ করে প্রথম লেগের খেলায় বার্সেলোনা ৩১ ব্যবধানে হেরেছিল দ্বিতীয় লেগে জয়ের ফলে ৫৩ গোল ব্যবধানে বার্সেলোনা শিরোপা জিতে১০৪ ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর , অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার ৯২তম মিনিটে ডিফেন্ডার টমাস উজফালুসির অবিবেকী ট্যাকলের ফলে মেসি গোড়ালির ইনজুরিতে আক্রান্ত হন প্রাকদর্শনে মনে হয়েছিল মেসির গোড়ালি ভেঙ্গে গিয়েছে এবং এই তারকা খেলোয়াড়কে কমপক্ষে ছয় মাসের জন্য মাঠের বাহিরে থাকতে হবে কিন্তু পরের দিন মেসির এমআরআই স্ক্যান করানো হলে দেখা যায় , তার ডান গোড়ালির অভ্যন্তরীণ এবং বহিস্থিত লিগামেন্ট মচকে গেছে১০৫ ঐ ঘটনা সম্পর্কে মেসির সতীর্থ ডেভিড ভিয়া বলেন , মেসির উপর করা ট্যাকলটি ছিল পাশবিক খেলার ভিডিও চিত্র দেখে তিনি আরও বলেন যে তিনি বিশ্বাস করেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের ঐ ডিফেন্ডার আঘাত করার জন্য ট্যাকলটি করেননি১০৬আলমেরিয়ার বিপক্ষে মেসি মৌসুমে তার দ্বিতীয় হ্যাট্রিক করেন এবং দলকে ০৮ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন এই হ্যাট্রিকের দ্বিতীয় গোলটি লা লিগায় তার ১০০তম গোল ছিলচ্যম্পিয়ন্স লীগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে খেলার একটি মূহুর্তমেসি তার ক্লাব সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজ এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে হারিয়ে ২০১০ ফিফা ব্যালোন দিঅর পুরস্কার জিতেন১০৭ মেসি এই পুরস্কারের জন্য টানা চতুর্থবারের মত মনোনীত হয়েছিলেন১০৮ ৫ ফেব্রুয়ারী , ক্যাম্প ন্যুতে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদকে ৩০ ব্যবধানে হারিয়ে বার্সেলোনা লা লিগায় টানা ১৬ খেলায় বিজয়ী হওয়ার নতুন রেকর্ড গড়ে১০৯ খেলায় মেসি হ্যাট্রিক করেন খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেসি বলেন , ডি স্টিফানোর মত গ্রেটদের করে যাওয়া রেকর্ড ভাঙ্গতে পারাটা অনেক সম্মানের তিনি আরও বলেন , যদি রেকর্ডটি অনেক দীর্ঘস্থায়ী হয় তার মানে এই যে তা অর্জন করা খুব কঠিন এবং আমরা সেটি অর্জন করেছি একটি শক্তিশালী দলেকে হারিয়ে , যারা একটি খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে আছে , যার ফলে বিষয়টি আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল১১০এক মাস ধরে কোন গোল করতে না পেরে আলমেরিয়ার বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন যার দ্বিতীয় গোলটি মৌসুমে তার ৪৭তম গোল ছিল এর মাধ্যমে মেসি তার বিগত মৌসুমে করা ৪৭গোলের ব্যক্তিগত রেকর্ড স্পর্শ করেন১১১ ২০১১ সালের ১২ এপ্রিল , চ্যাম্পিয়নস লিগে শাখতার দোনেত্স্ক এর বিপক্ষে জয়সূচক গোল করে মেসি তার ব্যক্তিগত রেকর্ডটিকে ছাড়িয়ে যান এতে করে বার্সেলোনার হয়ে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড করেন মেসি১১২  ২৩ এপ্রিল , ওসাসুনার বিপক্ষে খেলার ৬০তম মিনিটে বদলি হিসেবে খেলতে নেমে মৌসুমে মেসি তার ৫০তম গোলটি করেন ঘরের মাঠে খেলায় বার্সেলোনা ২০ ব্যবধানে জয়লাভ করে১১৩ মৌসুমে বার্সেলোনা লা লিগা শিরোপা জিতে এবং মেসি ৩১টি গোল করেন এতে করে পিচিচি ট্রফিতে মেসি রানারআপ হন এবং ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ৪০ গোল নিয়ে ট্রফি জিতেন মেসি লীগে ১৮টি গোলে সহায়তা করে সর্বোচ্চ সহায়তাকারী হিসেবে মৌসুম শেষ করেন ২০ এপ্রিল , রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোপা দেল রের ফাইনালে বার্সেলোনা হেরে যায় খেলায় মেসি পেদ্রোকে একটি একটি গোলে সহায়তা করলেও গোলটি অফসাইডের কারনে বাতিল হয়ে যায় খেলার অতিরিক্ত সময়ে একমাত্র গোলটি করেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো প্রতিযোগীতায় ৭টি করে গোল করে মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো উভয়েই সর্বোচ্চ গোলদাতা হন১১৪১১৫ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমি ফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন এবং দলকে ২০ ব্যবধানে জয় এনে দেন খেলায় দ্বিতীয় গোলটি তিনি কয়েকজন খেলোয়াড়কে কাটিয়ে করেছিলেন এই গোলটি চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল হিসেবে বিবেচিত১১৬১১৭ ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলার ৫৪তম মিনিটে মেসি একটি গোল করেন এবং দলকে ২১ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান খেলার ৬৯তম মিনিটে ডেভিড ভিয়া গোল করলে বার্সেলোনা ৩১ ব্যবধানে জয়লাভ করে এবং ছয় বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মত চ্যাম্পিয়নস লীগ শিরোপা নিজেদের ঘরে তোলে এটি ছিল বার্সেলোনার চতুর্থ চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা১১৮ খেলায় মেসির গোলটি ছিল প্রতিযোগীতায় তার ১২তম গোল এতে করে মেসি রুড ভান নিস্টেলরুইএর ইউরোপীয়ান কাপের এক মৌসুমে করা ১২ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন১১৯ ২০১০১১ মৌসুমে মেসি সব ধরনের প্রতিযোগীতায় ৫৩টি গোল করেন এবং ২৪টি গোলে সহায়তা করেন২০১১১২ মৌসুমবার্সেলোনার হয়ে স্পেনীয় সুপার কাপ জেতার মাধ্যমে মৌসুম শুরু করেন মেসি ১৪ আগস্ট , প্রথম লেগের খেলায় স্যান্তিয়াগো বের্ন্যাবেউ স্টেডিয়ামে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মেসি একটি গোল করেন খেলাটি ২২ সমতায় শেষ হয় ১৭ আগস্ট , দ্বিতীয় লেগের খেলায় ক্যাম্প ন্যুতে মেসি জোড়া গোল করেন এবং বার্সেলোনা ৩২ ব্যবধানে জয় লাভ করে এতে করে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে একটি ড্র ও একটি জয় নিয়ে ৫৪ গোল ব্যবধানে শিরোপা জিতে বার্সেলোনা১২০ ২৬ আগস্ট , পোর্তোর বিপক্ষে ইউরোপীয় সুপার কাপের খেলায় মেসি একটি গোল করেন এবং দলকে ২০ গোলের ব্যবধানে জয় এনে দেন১২১১৭ সেপ্টেম্বর , মেসি ওসাসুনার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন১৭ সেপ্টেম্বর , মেসি ওসাসুনার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করেন এবং বার্সেলোনা ৮০ ব্যবধানে বড় জয় লাভ করে খেলায় মেসি তার প্রথম গোলটি মরোক্কোর সুফিয়ান নামক ১০ বছরের এক শিশুর জন্য উত্সর্গ করেন , যে একটি বিরল পায়ের রোগে আক্রান্ত মেসি সাধারনত গোল করার পর দুহাত দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করেন , কিন্তু ঐ খেলায় প্রথম গোলটি করার পর তিনি হাত দিয়ে তার উরুতে চড় মেরেছিলেন , যা সুফিয়ানের প্রতি ইংগিত বহন করে১২২২০১১ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে সান্তোসের বিপক্ষে খেলছেন মেসি খেলায় তিনি জোড়া গোল করেন২৪ সেপ্টেম্বর , অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে মেসি হ্যাট্রিক করেন এবং দলকে ৫০ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন১২৩ ২৮ সেপ্টেম্বর , বাতে বরিসভের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে মৌসুমে মেসি তার প্রথম দুই গোল করেন১২৪ এতে করে , সব ধরনের প্রতিযোগিতায় বার্সেলোনার হয়ে ১৯৪ গোল করে বার্সেলোনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা কুবালাকে স্পর্শ করেন মেসি১২৫ ১৫ অক্টোবর , লা লিগায় রেসিং স্যান্তেন্দারএর বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাধ্যমে ১৯৬ গোল নিয়ে মেসি কুবালাকে ছাড়িয়ে যান১২৬ এবং লা লিগায়ও ১৩২ গোল নিয়ে বার্সেলোনার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিনত হন১২৭ ১ নভেম্বর , ভিক্টোরিয়া প্লাজেনএর বিপক্ষে মেসি হ্যাট্রিক করেন , যার প্রথম গোলটি বার্সেলোনার হয়ে তারর ২০০তম গোল ছিল১২৮ ১৮ ডিসেম্বর , ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে স্যান্তোসের বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন এবং দলকে ৪০ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন মেসিকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ এবং প্রতিযোগিতার সেরা খোলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বলের পুরস্কার দেওয়া হয়১২৯মেসি তার ক্লাব সতীর্থ জাভি হার্নান্দেজ ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে হারিয়ে ২০১১ সালের উয়ফা ইউরোপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেন জাভি হার্নান্দেজ ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে হারিয়ে তিনি ২০১১ ফিফা ব্যালোন দিঅর পুরস্কারও জিতেন এর মাধ্যমে ফুটবলের ইতিহাসে চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে তিনবার ও দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে টানা তিনবার এ পুরস্কার জিতেন মেসি এর আগে তিনবার এ পুরস্কার জিতেছেন ইয়োহান ক্রুইফ , মিশেল প্লাতিনি ও মার্কো ফন বাস্তেন এবং টানা তিনবার জিতেছেন মিশেল প্লাতিনি১৩০ ২০১২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারী , ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে মেসি লা লিগায় তার ২০০তম খেলায় মাঠে নামেন খেলায় মেসি ৪টি গোল করেন এবং বার্সেলোনা ৫১ ব্যবধানে জয় লাভ করে১৩১ ৭ মার্চ , বেয়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের খেলায় মেসি ৫টি গোল করেন এবং দলকে ৭১ গোলের বড় জয় এনে দেন ১৯৯২ সালে , চ্যাম্পিয়নস লিগ পুনঃ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এক খেলায় ৫ গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন মেসি১৩২২০ মার্চ , গ্রানাদার বিপক্ষে মেসি হ্যাট্রিক করেন এতে করে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় বার্সেলোনার হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতা সিজার রদ্রিগুয়েজএর ২৩২ গোলের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান তিনি১৩৩৩ এপ্রিল , চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগের খেলায় এসি মিলানের বিপক্ষে মেসি পেনাল্টি থেকে ২টি গোল করেন এতে করে তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগের এক মৌসুমে নিজের করা ১২ গোলের ব্যক্তিগত রেকর্ড টপকে যান এবং হোসে আলতাফিনির এক মৌসুমে করা সর্বোচ্চ ১৪ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন , যেটি আলতাফিনি ইউরোপীয়ান কাপের ১৯৬২৬৩ মৌসুমে করেছিলেন১৩৪ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের দুই লেগের কোনটিতেই মেসি গোল করতে পারেননি চেলসির বিপক্ষে দুই লেগ মিলিয়ে ৩২ গোল ব্যবধানে হেরে বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় নিতে হয় দ্বিতীয় লেগের খেলায় মেসি একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করেন , যা বার্সেলোনাকে গোল ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারত১৩৫১১ এপ্রিল , মেসি গেতাফের বিপক্ষে মৌসুমে তার ৬১ তম গোল করেন এবং ২টি গোলে সহায়তা করেন১৩৬ ২ মে , মালাগার বিপক্ষে মেসি হ্যাট্রিক করেন এতে করে তিনি ১৯৭২৭৩ মৌসুমে গার্ড ম্যুলারের করা এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ৬৭ গোলের রেকর্ড টপকে যান এবং ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের মালিক বনে যান১৩৭ এই খেলায় হ্যাট্রিকের মাধ্যমে তিনি মৌসুমে ২১তম বার এক খেলায় একাধিক গোল করেন এবং এটি মৌসুমে লা লিগায় তার সপ্তম হ্যাট্রিক ছিল১৩৮৫ মে , এস্প্যানিওলের বিপক্ষে মেসি ৪টি গোল করেন , এতে মৌসুমে তার মোট গোল সংখ্যা হয় ৭২ ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম শ্রেনীর লীগে এক মৌসুমে ৭০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা দ্বিতীয় ফুটবলার মেসি আমেরিকান সকার লীগে ১৯২৪২৫ মৌসুমে বেথলেহেম স্টিলের হয়ে আর্কি স্টার্ক ৭০ গোল করেছিলেন২৫ মে , কোপা দেল রের ফাইনালে মেসি আবারও গোল করেন এবং বার্সেলোনা ২৬ বারের মত কোপা দেল রে শিরোপা জিতে এতে করে , মৌসুমে সব ধরনের প্রতিযোগীতায় মেসির গোলসংখ্যা দাড়ার ৭৩এ১৩৯ এই খেলাটি ছিল বার্সেলোনার ম্যানেজার হিসেবে পেপ গার্দিওলার শেষ খেলা এবং এই শিরোপাটি ছিল বার্সেলোনার হয়ে মেসির দ্বিতীয় কোপা দেল রে শিরোপা এবং ম্যানেজার হিসেবে চার বছরের মেয়াদে গার্দিওলার ১৪তম শিরোপা মৌসুমে বার্সেলোনা লা লিগায় রানারআপ হয় এবং চ্যাম্পিয়ন হয় রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগায় ১৬টি গোলে সহায়তা করে মেসি দ্বিতীয় সবোর্চ্চ সহায়তাকারী হিসেবে মৌসুম শেষ করেন , যেখানে মেসুত ওজিল ১৭টি সহায়তা করে প্রথম হন তিনি ১৪টি গোল নিয়ে টানা চতুর্থবারের মত চ্যাম্পিয়নস লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ড গড়েন১৩৯ এবং ৫টি গোলে সহায়তা করে প্রতিযোগীতার অন্যতম সর্বোচ্চ সহায়তাকারী হিসেবে মৌসুম শেষ করেন ক্লাবের হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ৭৩টি গোল ও ২৯টি গোলে সহায়তা করে সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সহায়তাকারী হিসেবে মৌসুম শেষ করেন মেসি২০১২১৩ মৌসুমক্যাম্প ন্যুতে রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে মৌসুমের প্রথম খেলায় জোড়া গোল করার মাধ্যমে মেসি তার গোল করার ধারা অব্যাহত রাখেন খেলায় বার্সেলোনা ৫১ ব্যবধানের বড় জয় লাভ করে ২৩ আগস্ট , রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে স্পেনীয় সুপার কাপের প্রথম লেগের খেলায় মেসি পেনাল্টি থেকে একটি গোল করেন খেলায় বার্সেলোনা ৩২ ব্যবধানে জয় লাভ করে১৪০ ২৬ আগস্ট , ওসাসুনার বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন পিছিয়ে পড়েও খেলায় বার্সেলোনা ১২ ব্যবধানে জয় লাভ করে১৪১ ২৯ আগস্ট , স্পেনীয় সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগের খেলায় মেসি ফ্রিকিক থেকে একটি গোল করেন খেলায় বার্সেলোনা ২১ ব্যবধানে পরাজিত হয় দুই লেগ মিলিয়ে গোল ব্যবধান দাড়ায় ৪৪ কিন্তু প্রতিপক্ষের মাঠে অধিক গোল করায় শিরোপা জিতে রিয়াল মাদ্রিদ১৪২ ইউরোপের সেরা খোলোয়াড়ের পুরস্কারে ১৭ ভোট নিয়ে মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো যৌথভাবে দ্বিতীয় হন পুরস্কারটি জিতেন মেসির ক্লাব সতীর্থ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা১৪৩২ সেপ্টেম্বর , ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে লা লিগার তৃতীয় খেলায় একমাত্র গোলটি করেন আদ্রিয়ানো গোলটিতে সহায়তা করেছিলেন মেসি১৪৪ ১৫ সেপ্টেম্বর , গেতাফের বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন খেলায় বার্সেলোনা ৪১ ব্যবধানে জয় লাভ করে১৪৫ ১৯ সেপ্টেম্বর , স্পার্তাক মস্কোর বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম খেলায়ও তিনি জোড়া গোল করেন এবং দলকে ৩২ ব্যবধানের জয় এনে দেন১৪৬ ৭ অক্টোবর , রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে লা লিগার প্রথম এল ক্ল্যাসিকোতে মেসি জোড়া গোল করেন খেলাটি ২২ সমতায় শেষ হয় ২০ অক্টোবর , লা করুনার বিপক্ষে মেসি হ্যাট্রিক করেন খেলায় বার্সেলোনা ৪৫ ব্যবধানে জয় লাভ করে লা লিগায় পরের খেলায় রায়ো ভায়েক্যানোর বিপক্ষে মেসি আবরও জোড়া গোল করেন এবং দলকে ০৫ ব্যবধানের বড় জয় এনে দেন ১১ নভেম্বর , মায়োর্কার বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন , যা ছিল ২০১২ সালে তার ৭৫তম ও ৭৬তম গোল এর মাধ্যমে তিনি ১৯৫৮ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে পেলের করা ৭৫ গোলের মাইলফলক টপকে যান লা লিগার ১১তম থেকে ১৬তম পর্যন্ত টানা ছয় খেলায় মেসি জোড়া গোল করেন ২০ নভেম্বর , চ্যাম্পিয়নস লিগে স্পার্তাক মস্কোর বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন , যা ছিল ২০১২ সালে তার ৭৯তম ও ৮০তম গোল১৪৭ মেসি তার গোল করার ধারা অব্যাহত রাখেন এবং ২৫ নভেম্বর , লেভান্তের বিপক্ষে বছরে তার ৮১তম ও ৮২তম গোল করেন১৪৮১ ডিসেম্বর , অ্যাথলেতিক বিলবাও এর বিপক্ষে মেসি বছরে তার ৮৩তম ও ৮৪তম গোল করেন এর মাধ্যমে মেসি বার্সেলোনার হয়ে লা লিগায় সর্বোচ্চ গোলদাতা সিজার রোদ্রিগুয়েজের ১৯০ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন১৪৯ ৯ ডিসেম্বর , রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে মেসি বছরে তার ৮৫তম ও ৮৬তম গোল করেন এবং ১৯৭২ সালে জার্মান কিংবদন্তী গার্ড ম্যুলারের করা ৮৫ গোলের মাইলফলক টপকে যান গার্ড ম্যুলার , বায়ার্ন মিউনিখ ও জার্মানি জাতীয় দলের হয়ে এই রেকর্ড গড়েছিলেন১৫০১৫১১৫২ ১২ ডিসেম্বর , করদোবার বিপক্ষে কোপা দেল রের খেলায় মেসি জোড়া গোল করেন১৫৩ ১৬ ডিসেম্বর , অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে আবারও জোড়া গোল করার মাধ্যমে মেসি দলকে ৪১ ব্যবধানের জয় এনে দেন এবং তার গোলসংখ্যাকে ৯০এ নিয়ে যান১৫৪ ২২ ডিসেম্বর , ভায়াদোলিদের বিপক্ষে বছরের শেষ খেলায় মেসি একটি গোল করেন এতে করে , বছর শেষে তার মোটা গোলসংখ্যা দাড়ায় ৯১ , যার মধ্যে ৭৯টি বার্সেলোনার হয়ে এবং ১২টি আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর , মেসি বার্সেলোনার সাথে নতুন করে চুক্তিবদ্ধ হন ২০১৬ সাল পর্যন্ত করা চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে করা হয় ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত১৫৫২০১৩ সালের ৭ জানুয়ারি , ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ২য় এবং সতীর্থ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাকে ৩য় হারিয়ে টানা চতুর্থবারের মত ফিফা ব্যালন দিঅর জেতার কৃতিত্ব গড়েন মেসি ফুটবলের ইতিহাসে তিনিই একমাত্র খেলোয়াড় , যিনি চারবার এই পুরস্কার জিতেছেন১৫৬ এই অর্জনের ফলে মিডিয়া মেসিকে সাবেক কিংবদন্তী দিয়েগো মারাদোনা এবং পেলের সাথে তুলনা করতে শুরু করে১৫৭১৫৮২০১৩ সালের ২৭ জানুয়ারি , ওসাসুনার বিপক্ষে বার্সেলোনা ৫১ ব্যবধানে জয় লাভ করে খেলায় মেসি চার গোল করেন এরমধ্য দ্বিতীয় গোলটি লা লিগায় তার ২০০তম গোল ছিল তিনি ৮ম এবং সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে লা লিগায় ২০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন১৫৯ এতে করে , মৌসুমে লা লিগায় মেসির গোল সংখ্যা হয় ৩৩ এবং সবধরনের প্রতিযোগীতায় ৪৪২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি , গ্রানাদার বিপক্ষে মেসি জোড়া গোল করেন ফলে খেলায় পিছিয়ে পড়লেও বার্সেলোনা ১২ ব্যবধানে জয় লাভ করে১৬০ এবং জোড়া গোলের মাধ্যমে বার্সেলোনার হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় মেসি ৩০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন১৬১২০১৩ সালের ২ মার্চ , রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ২১ ব্যবধানে পরাজিত হয় বার্সেলোনা বার্সেলোনার হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মেসি এর মাধ্যমে এল ক্ল্যাসিকোতে আলফ্রেডো ডি স্টিফানোর করা ১৮ গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি১৬২১৬৩ ২০১৩ সালের ৯ মার্চ , দেপর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে একটি গোল করার মাধ্যমে লা লিগায় টানা ১৭ খেলায় গোল করার রেকর্ড গড়েন মেসি কোন ঘরোয়া লীগে যা একটি বিশ্ব রেকর্ড১৬৪ ১২ মার্চ , চ্যাম্পিয়নস লিগে এসি মিলানের বিপক্ষে দ্বিতীয় পর্বের দ্বিতীয় লেগের খেলায় মেসি জোড়া গোল করেন এবং দলকে ৪০ ব্যবধানের জয় এনে দেন প্রথম লেগে বার্সেলোনা ২০ ব্যবধানে হেরেছিল ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৪২ গোল ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌছায় বার্সেলোনা ,১৬৫ এবং এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল দাতায় পরিণত হন মেসি১৬৬২০১৩ সালের ১৭ মার্চ , রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে মেসি অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামেন এই প্রথম কোন অফিসিয়াল খেলায় তিনি বার্সেলোনার অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন১৬৭ ৩০ মার্চ , সেল্তা ভিগোর বিপক্ষে গোল করার মাধ্যমে লা লিগায় টানা ১৯ খেলায় গোল করার কৃতিত্ব গড়েন মেসি এছাড়াও ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে লীগের সবগুলো দলের বিপক্ষে টানা গোল করার কৃতিত্ব গড়েন তিনি২১ ২ এপ্রিল , চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে পারি সাঁ জার্মেই এর বিপক্ষে খেলার সময় মেসি ডান পায়ের হ্যামস্ট্রিং এর ইনজুরিতে আক্রান্ত হন ফলে তাকে এক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাহিরে চলে যেতে হয়১৬৮ খেলায় মেসি একটি গোল করেন খেলাটি ২২ সমতায় শেষ হয়১৬৯২০১৩১৪ মৌসুমটানা তৃতীয়বারের মত মেসি উয়েফা ইউরোপের সেরা খেলোয়াড় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন তার সাথে ছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এবং ফ্রাংক রিবেরি১৭০ ৩৬ ভোট পেয়ে পুরস্কারটি জিতেন রিবেরি , মেসি পান ১৪টি এবং রোনালদো পান ৩টি ভোট১৭১১৭২১৭৩২০১৩ সালের ১৮ আগস্ট , লেভান্তের বিপক্ষে জোড়া গোল এবং একটি সহায়তার মাধ্যমে ২০১৩১৪ লা লিগা মৌসুম উদ্বোধন করেন মেসি খেলায় বার্সেলোনা ৭০ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে১৭৪ ২০১৩ সালের ২৮ আগস্ট , অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে অ্যাওয়ে গোলে জয় লাভ করে নিজেদের ১১তম স্পেনীয় সুপার কাপ শিরোপা ঘরে তোলে বার্সেলোনা১৭৫১ সেপ্টেম্বর , ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ক্যারিয়ারে নিজের ২৩তম হ্যাট্রিক পুরণ করেন মেসি প্রতিপক্ষের মাঠে বার্সেলোনা ২৩ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে১৭৬১৭৭১৭৮ এই গোলের মাধ্যমে তিনি প্রতিপক্ষের মাঠে ১০০ গোলের মালিক বনে যান এবং লা লিগার ইতিহাসেও প্রতিপক্ষের মাঠে সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড গড়েন১৭৯ এই গোলসমূহ তাকে লা লিগার ইতিহাসের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করে১৮০১৮১ ১৮ সেপ্টেম্বর , মেসি তার ক্যারিয়ারের ২৪তম হ্যাট্রিক পুরণ করেন চ্যাম্পিয়নস লিগের আয়াক্সের বিপক্ষে নিজেদের মাঠে বার্সেলোনা ৪০ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে এই গোলসমূহ তাকে চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত করে এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থানে নিয়ে আসে১৮২ এছাড়া এই হ্যাট্রিকের মাধ্যমে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে চারটি হ্যাট্রিকের রেকর্ড গড়েন মেসি১৮৩ ৬ নভেম্বর , চ্যাম্পিয়ন্স লীগের গ্রুপ পর্বের খেলায় মিলানের মেসি বিপক্ষে জোড়া গোল করেন খেলায় বার্সেলোনা ৩১ গোলের ব্যবধানে জয় লাভ করে এর আগে তিনি টানা চার খেলায় গোল বঞ্চিত ছিলেন১৮৪ ১০ নভেম্বর , রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে খেলায় মেসি ইনজুরি আক্রান্ত হন , যা তাকে ২০১৪ এর জানুয়ারী পর্যন্ত মাঠের বাহিরে রাখে এটি ছিল মৌসুমে তার তৃতীয় ইনজুরি১৮৫ ৮ জানুয়ারী , খেতাফের বিপক্ষে খেলায় ইনজুরি থেকে ফিরে জোড়া গোল করেন মেসি১৮৬ ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারী , ২০১৩ ফিফা বালোঁ দঅর পুরস্কারে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পেছনে থেকে দ্বিতীয় হন মেসি১৮৭ ১৫ ফেব্রুয়ারী , রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে বার্সার ৬০ গোলে জয়ের খেলায় মেসি জোড়া গোল করেন এবং লা লিগার ইতিহাসের শীর্ষ গোলদাতাদের তালিকায় আরেক আর্জেন্টিনীয় আলফ্রেদো দি স্তিফানোকে টপকে রাউলের সাথে তালিকার তৃতীয় স্থান ভাগাভাগি করেন১৮৮২০১৪ সালের ১৬ মার্চ , ওসাসুনার বিপক্ষে মেসি হ্যাট্রিক করেন এবং পেদ্রোর একটি গোলে সহায়তা করেন খেলায় বার্সেলোনা ৭০ গোলে জয় লাভ করে১৮৯১৯০ এই হ্যাট্রিকের মাধ্যমে তিনি পাউলিনো আলকান্তারাকে ৩৬৯ গোল অতিক্রম করে বার্সেলোনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হন দাপ্তরিক ও প্রদর্শনী খেলা সহ , ৩৭১ গোল১৯১১৯২ ২৩ মার্চ , সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করার মাধ্যমে এল ক্লাসিকোর ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিণত হন মেসি১৯৩২০১৪ সালের এপ্রিলে , বার্সেলোনার হয়ে মেসি তার অসাধারণ ফর্ম হারিয়ে ফেলায় সমালোচিত হন বিশেষ করে , চ্যাম্পিয়নস লীগের কোয়ার্টারফাইনালে আতলেতিকো মাদ্রিদ এবং কোপা দেল রের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে বার্সার পরাজয়ের খেলায় তিনি তার স্বাভাবিক খেলা উপহার দিতে ব্যর্থ হন , যার ফলে এই সমালোচনার উদ্ভব ঘটে১৯৪২০১৪ সালের ১৪ মে , বার্সেলোনার সাথে নতুন চুক্তিতে রাজি হন মেসি ১৬ মে , তিনি চুক্তি স্বাক্ষর করেন১৯৫২০১৪১৫ মৌসুমঅক্টোবর ২০১৪ গ্রানাদার বিপক্ষে গোল উৎযাপন করছেন মেসিএলচের বিপক্ষে জোড়া গোলের মাধ্যমে মেসি তার ২০১৪১৫ মৌসুম শুরু করেন১৯৬ পরের খেলায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে তিনি সান্দ্রোর জয়সূচক গোলে সহায়তা করেন , যদিও তিনি সামান্য ইনজুরিতে আক্রান্ত হন১৯৭ ২৭ সেপ্টেম্বের , গ্রানাদার বিপক্ষে খেলায় মাত্র ২৭ বছর বয়সে , মেসি তার কর্মজীবনের ৪০০তম পেশাদার গোল করেন খেলায় বার্সেলোনা ৬০ গোলে জয় লাভ করে ওই খেলায় তিনি আরও একটি গোল করেন এবং দুইটি গোলে সহায়তা করেন১৯৮ খেলা পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তার কোচ লুইস এনরিক তার প্রশংসা করেন তিনি বলেন মনে হয় যেন মেসিকে জাদুর লাঠি স্পর্শ করেছে১৯৯১৬ অক্টোবর , বার্সেলোনায় নিজের অভিষেক হওয়ার দশম বার্ষিকী উৎযাপন করেন মেসি২০০ ১৮ অক্টোবর , এইবারের বিপক্ষে লা লিগায় নিজের ২৫০তম গোল করেন মেসি , তিনি ওই খেলায় একটি গোলে সহায়তাও করেন , যার ফলে ৩০ গোলে জয় পায় বার্সেলোনা এই গোল তাকে লা লিগার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তেলমো জারার ২৫১ গোলের রেকর্ডের আরও কাছে নিয়ে যায়২০১ ৫ নভেম্বর , আয়াক্সের বিপক্ষে বার্সেলোনার ২০ গোলে জয়ের খেলায় উভয় গোলই করেন মেসি , যার মাধ্যমে গ্রুপ পর্বের দুইটি খেলা বাঁকি থাকতেই চ্যাম্পিয়নস লীগের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে বার্সেলোনা এবং এই দুই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা রাউলের রেকর্ডে ভাগ বসান মেসি২০২ ২২ নভেম্বর , সেভিয়ার বিপক্ষে মেসি হ্যাট্ট্রিক করেন এবং দলকে ৫১ গোলের জয় এনে দেন এর মাধ্যমে তিনি ২৫৩ গোল নিয়ে লা লিগার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা তেলমো জারাকে ২৫১ গোল ছাড়িয়ে যান জারার ২৫১ গোলের রেকর্ডটি ১৯৫৫ সাল থেকে অক্ষুন্ন ছিল২০৩ এর তিন দিন পর , আপোয়েল নিকোসিয়ার বিপক্ষে তিনি আবারও হ্যাট্ট্রিক করেন এবং দলকে ৪০ গোলে জয় এনে দেন এই হ্যাট্ট্রিকের মাধ্যমে ৭৪ গোল নিয়ে রাউলকে ছাড়িয়ে তিনি চ্যাম্পিয়নস লীগের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্থান নিজের করে নেন২০৪৭ ডিসেম্বর , বার্সেলোনা ডার্বিতে এস্পানিওলের বিপক্ষে মেসি আবারও হ্যাট্ট্রিক করেন এটি ছিল শেষ চার খেলায় তার তৃতীয় হ্যাট্ট্রিক২০৫ এর মাধ্যমে তিনি ১২ গোল নিয়ে সেসার রদ্রিগেসকে পেছনে ফেলে বার্সেলোনা ডার্বির সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবেনিজের নাম লেখান২০৬ ২০১৫ সালের ১১ জানুয়ারী , বার্সেলোনা ত্রয়ী মেসি , নেইমার ও সুয়ারেজ আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে গোল করেন এবং দলকে ৩১ গোলের জয় এনে দেন মেসি তার গোলের মাধ্যমে আতলেতিকোর বিপক্ষে নিজের গোল খরা কাটান ১২ জানুয়ারী , ২০১৪ ফিফা বালোঁ দঅরে টানা দ্বিতীয়বারের মত ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পেছনে থেকে দ্বিতীয় হন মেসি২০৭আন্তর্জাতিক কর্মজীবনআর্জেন্টাইনস্পেনীয় নাগরিক হিসেবে ২০০৪ সালে মেসিকে স্পেনের জাতীয় অনুর্ধ্ব ২০ ফুটবল দলে খেলার জন্য আমন্ত্রন জানানো হয় কিন্তু মেসি তা প্রত্যাখ্যান করেন তিনি ২০০৪ সালের জুনে , আর্জেন্টিনার অনুর্ধ্ব ২০ দলের হয়ে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে প্রথম প্রীতি খেলায় মাঠে নামেন২০৮ তিনি ২০০৫ দক্ষিণ আমেরিকান যুব চ্যাম্পিয়নশীপে আর্জেন্টিনা দলের হয়ে খেলেন , যেখানে আর্জেন্টিনা তৃতীয় হয় ২০০৫ ফিফা যুব চ্যাম্পিয়নশীপে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয় এবং তিনি ৬টি গোল করে প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল এবং গোল্ডেন বুটের পুরস্কার জিতেন২০৯২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট , ১৮ বছর বয়সে হাঙ্গেরির বিপক্ষে সিনিয়র দলে মেসির অভিষেক হয় খেলার ৬৩তম মিনিটে বদলি হিসেবে খেলতে নেমে ৬৫তম মিনিটেই তাকে লাল কার্ড দেখে মাঠের বাহিরে চলে যেতে হয় ম্যাচরেফারি মার্কাস মের্ক দাবী করেন , মেসি হাঙ্গেরির ডিফেন্ডার ভিলমস ভ্যানজাককে কনুই দিয়ে আঘাত করেছিলেন , যিনি মেসির শার্ট ধরে টানছিলেন রেফারির সিদ্ধান্তটি ছিল বিতর্কিত কিংবদন্তী দিয়েগো মারাদোনা দাবী করেন , রেফারির সিদ্ধান্তটি পূর্বসংকল্পিত ছিল২১০২১১২০০৫ এর ৩ সেপ্টেম্বর , আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে মেসি আবারও খেলতে নামেন বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ঐ খেলায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ০১ ব্যবধানে হেরে যায়২১২ পেরুর বিপক্ষে খেলায় মেসি প্রথম দলের সদস্য হিসেবে খেলতে নামেন এবং খেলায় আর্জেন্টিনা জয় পায় খেলা শেষে পেকারম্যান মেসিকে রত্ন হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেন২১৩ ২০০৬ সালের ১ মার্চ , আর্জেন্টিনার হয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলায় মেসি প্রথম গোল করেন২১৪২০০৬ বিশ্বকাপ২০০৫০৬ মৌসুমে ইনজুরির কারনে ২০০৬ ফিফা বিশ্বকাপে মেসির খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তবুও মেসি দলে ডাক পান বিশ্বকাপ শুরুর পূর্বে আর্জেন্টিনা অনুর্ধ্ব ২০ দলের বিপক্ষে সিনিয়র দলের হয়ে একটি খেলায় তিনি ১৫ মিনিট খেলেন এবং অ্যাঙ্গোলার বিপক্ষে একটি প্রীতি খেলায় ৬৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন২১৫২১৬ আইভরি কোস্টের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম খেলায় মেসি সাইড বেঞ্চে বসেছিলেন২১৭ পরের খেলায় সার্বিয়া এবং মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে খেলার ৭৪তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মেসি এবং ৭৮তম মিনিটে হের্নান ক্রেসপোর একটি গোলে সহায়তা করেন খেলার ৮৮তম মিনিটে মেসি একটি গোল করেন এতে করে , আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ এবং ইতিহাসের ৬ষ্ঠ কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি খেলায় আর্জেন্টিনা ৬০ ব্যবধানে জয় লাভ করে২১৮ নেদারল্যান্ডসএর বিপক্ষে পরের খেলায় মেসি প্রথম দলে সুযোগ পান খেলাটি ০০ সমতায় শেষ হয়২১৯ মেক্সিকোর বিপক্ষে রাউন্ড১৬ এর খেলায় ৮৪তম মিনিটে মেসি বদলি হিসেবে খেলতে নামেন খেলায় উভয় দল তখন ১১ গোলে সমতায় ছিল খেলতে নেমেই তিনি একটি গোল করলেও তা অফসাইডের কারনে বাতিল হয়ে যায় অতিরিক্ত সময়ে রদ্রিগুয়েজের গোলে আর্জেন্টিনা ২১ ব্যবধানে জয় পায়২২০২২১ কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির বিপক্ষে কোচ জোসে পেকারম্যান মেসিকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন পেনাল্টি শুটআউটে ৪২ ব্যবধানে আর্জেন্টিনা হেরে যায় এবং টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে২২২২০০৭ কোপা আমেরিকা২০০৭ কোপা আমেরিকায় মেসি২০০৭ সালের ২৯ জুন , মেসি কোপা আমেরিকায় তার প্রথম খেলায় মাঠে নামেন যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ঐ খেলায় আর্জেন্টিনা ৪১ ব্যবধানে জয় লাভ করে খেলায় মেসি প্লেমেকার হিসেবে তার সামর্থের জানান দেন তিনি হের্নান ক্রেসপোর একটি গোলে সহায়তা করেন থেলার ৭৯তম মিনিটে মেসিকে উঠিয়ে তেভেজকে নামানো হয় এবং তেভেজ একটি গোল করেন২২৩আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় খেলা ছিল কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলায় তিনি একটি পেনাল্টি জিতেন এবং পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে সমতায় ফেরান হের্নান ক্রেসপো খেলায় আরও একটি গোলে তার ভূমিকা ছিল ডিবক্সের বাহিরে মেসিকে ট্যাকল করা হলে রেফারি ফাউলের বাঁশি বাজান এবং আর্জেন্টিনার পক্ষে ফ্রিকিক দেন ফ্রিকিক থেকে গোল করেন রিকুয়েলমে খেলায় আর্জেন্টিনা ৪২ ব্যবধানে জয় লাভ করে এতে করে , আর্জেন্টিনার কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয়২২৪তৃতীয় খেলায় প্যারাগুয়ের বিপক্ষে , কোচ মেসিকে বিশ্রামে রাখেন খেলার ৬৪তম মিনিটে এস্তেবান কাম্বিয়াসোর বদলে তিনি মাঠে নামেন খেলাটি তখন ০০ গোলে সমতায় ছিল তিনি হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানোর গোলে সহায়তা করেন খেলায় আর্জেন্টিনা ১০ ব্যবধানে জয় লাভ করে২২৫কোয়ার্টার ফাইনালে , আর্জেন্টিনা মুখোমুখি হয় পেরুর রিকুয়েলমের পাস থেকে মেসি টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় গোল করেন খেলায় আর্জেন্টিনা ৪০ ব্যবধানে জয় লাভ করে২২৬ সেমি ফাইনালে মেক্সিকোর বিপক্ষে , মেসি একটি গোল করেন এবং দলকে ৩০ ব্যবধানের জয় এনে দেন২২৭ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে , আর্জেন্টিনা ৩০ ব্যবধানে পরাজিত হয়২২৮ মেসি টুর্নামেন্টের কনিষ্ঠ সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে ব্রাজিলের বিপক্ষে খেলায় মেসি২০০৮ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে খেলার জন্য বার্সেলোনা মেসিকে ছাড়পত্র দিতে রাজি হয়২২৯ তিনি আর্জেন্টিনা দলে যোগদান করেন এবং আইভরি কোস্টের বিপক্ষে থেলায় প্রথম গোল করে দলকে ২১ ব্যবধানে জয় এনে দেন২২৯ নেদারল্যান্ডসএর বিপক্ষে দ্বিতীয় থেলায় তিনি একটি গোল করেন এবং অতিরিক্ত সময়ে এঙ্গেল ডি মারিয়ার একটি গোলে সহায়তা করে দলকে ২১ ব্যবধানের জয় এনে দেন২৩০ সেমি ফাইনালে , চিরপ্রতিদ্বন্দী ব্রাজিলের বিপক্ষে তিনি খেলতে নামেন এবং দলকে ৩০ ব্যবধানের জয় এনে দেন ফাইনালে , নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এঙ্গেল ডি মারিয়ার একমাত্র গোলটিতে তিনি সহায়তা করেন খেলায় আর্জেন্টিনা ১০ ব্যবধানে জয় লাভ করে এবং স্বর্ণপদক জিতে২৩১২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব২০০৯ সালের ২৮ মার্চ , ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলায় মেসি ১০ নম্বর জার্সি পরে খেলতে নামেন আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের ম্যানেজার হিসেবে এটি ছিল মারাদোনার প্রথম খেলা খেলায় আর্জেন্টিনা ৪০ ব্যবধানে জয় লাভ করে খেলার প্রথম গোলটি করেন মেসি২৩২ ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মেসি মোট ১৮টি খেলায় মাঠে নামেন এবং চারটি গোল করেন২৩৩২০১০ বিশ্বকাপ২০১০ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে খেলায় মেসি২০১০ বিশ্বকাপে মেসি ১০ নম্বর জার্সি পরে মাঠে নামেন এই প্রথম বড় কোন প্রতিযোগীতায় তিনি ১০ নম্বর জার্সি পরে নামেন২৩৪ বিশ্বকাপের প্রথম খেলায় , নাইজেরিয়ার বিপক্ষে খেলার পুরোটা সময়ই তিনি মাঠে ছিলেন তিনি গোল করার অনেকগুলো সুযোগ তৈরি করেছিলেন , কিন্তু তার সবকয়টি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন নাইজেরিয়ান গোলরক্ষক ভিনসেন্ট এনইয়েমা খেলায় আর্জেন্টিনা ১০ ব্যবধানে জয় লাভ করে২৩৫ পরের খেলায় কোরিয়া রিপাবলিকের বিপক্ষে মেসি মাঠে নামেন খেলায় আর্জেন্টিনা ৪১ ব্যবধানে জয় লাভ করে মারাদোনার অধীনে তিনি মূলত একজন আক্রমনাত্মক মাঝমাঠের খেলোয়াড় বা প্লেমেকার হিসেবে খেলেছিলেন২৩৪২৩৬২৩৭ খেলার সবকটি গোলেই তার ভূমিকা ছিল তার সহায়তায় গঞ্জালো হিগুয়েইন খেলায় হ্যাট্রিক করেন২৩৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তৃতীয় ও গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় গ্রীসের বিপক্ষে মেসি অধিনায়ক হিসেবে মাঠে নামেন খেলায় আর্জেন্টিনা ২০ ব্যবধানে জয় লাভ করে কোন গোল না করলেও এই জয়ে মেসির বড় ভূমিকা ছিল , যার ফলে তাকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করা হয়২৩৯রাউন্ড ১৬তে , মেক্সিকোর বিপক্ষে খেলায় কার্লোস তেভেজর একটি গোলে মেসি সহায়তা করেন খেলায় আর্জেন্টিনা ৩১ ব্যবধানে জয় লাভ করে২৪০ কোয়ার্টার ফাইনালে , জার্মানির বিপক্ষে ৪০ ব্যবধানে হেরে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়২৪১ প্রতিযোগীতার গোল্ডেন বল পুরষ্কারের জন্য ১০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মেসি জায়গা পান ফিফার টেকনিক্যাল গবেষনা দল মেসির সক্ষমতা সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে বলে , অসাধারন গতি , দলের জন্য সৃজনশীলতা , ড্রিবলিং , শুটিং , পাসিং এ সবগুলোতেই তিনি দক্ষ এবং দর্শনীয়২৪২২০১১ কোপা আমেরিকা , ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব এবং প্রদর্শনী খেলাসমূহ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি , সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে হাট্ট্রিক করেন মেসি২০১০ সালের ১৭ নভেম্বর , দোহায় ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি খেলার শেষ মিনিটে মেসি একটি গোল করেন এবং দলকে ১০ ব্যবধানের জয় এনে দেন২৪৩ ২০১১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি , সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় , পর্তুগালের বিপক্ষে খেলার শেষ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন মেসি খেলায় আর্জেন্টিনা ২১ ব্যবধানে জয় লাভ করে প্রথম গোলটিতে সহায়তা করেছিলেন তিনি২৪৪২০১১ কোপা আমেরিকায় মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে অংশগ্রহন করেন প্রতিযোগীতায় তিনি কোন গোল করতে না পারলেও তিনটি গোলে সহায়তা করেন ১ জুলাই , বলিভিয়ার বিপক্ষে প্রথম খেলাটি ১১ সমতায় শেষ হয় মেসিকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করা হয়২৪৫ কলম্বিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় খেলাটি গোলশূন্য ড্র হয়২৪৬ তৃতীয় খেলায় , কোস্টারিকার বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ৩০ ব্যবধানে জয় লাভ করে এই খেলায়ও মেসিকে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত করা হয়২৪৭ কোয়ার্টার ফাইনালে , উরুগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে ৫৪ ব্যবধানে হেরে আর্জেন্টিনাকে প্রতিযোগীতা থেকে বিদায় নিতে হয় আর্জেন্টিনার পক্ষে প্রথম পেনাল্টি শট নিয়ে মেসি গোল করেন২৪৮কোপা আমেরিকায় অসফল হওয়ার পর সার্হিও বাতিস্তাকে সরিয়ে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয় আলেহান্দ্রো সাবেয়াকে ২০১১ সালের আগস্টে , সাবেয়া মেসিকে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব প্রদান করেন২৪৯ ২০১২ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি , সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি তার প্রথম হ্যাট্রিক করেন খেলায় আর্জেন্টিনা ৩১ ব্যবধানে জয় লাভ করে২৫০ ২০১২ সালের ৯ জুন , আর্জেন্টিনার হয়ে মেসি তার দ্বিতীয় হ্যাট্রিক করেন ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐ খেলায় আর্জেন্টিনা ৪৩ ব্যবধানে জয় লাভ করে২৫১ এতে করে , আর্জেন্টিনার হয়ে ৭০ খেলায় মেসির মোট গোল সংখ্যা দাড়ায় ২৬ এবং ২০১২তে আর্জেন্টিনার হয়ে ৩ খেলায় তার গোল সংখ্যা দাড়ায় ৭ এই গোলটি তার রেকর্ড ভঙ্গকারী মৌসুমের ৮২তম গোল ছিল এ পর্যন্ত মোট ২৬ গোল করে তিনি আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের চতুর্থ সর্বোচ্চ গোলদাতায় পরিনত হন২৫২৭ সেপ্টেম্বর , প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের খেলায় মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে তার ২৮তম গোল করেন খেলাটিতে আর্জেন্টিনা ৩১ ব্যবধানে জয় লাভ করে এতে করে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থানে চলে যায় আর্জেন্টিনা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে গোলটি ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ৮ খেলায় মেসির চতুর্থ গোল ছিল এতে করে আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে আসেন মেসি২৫৩ এই গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বশেষ ছয় খেলার সবকটিতে মোট দশ গোল করেন তিনি২৫৪ ২০১২ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে ৯ খেলায় ১২ গোল করেন মেসি২৫৫২০১৩ সালের ২২ মার্চ , ভেনিজুয়েলার বিপক্ষে ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের খেলায় পেনাল্টি থেকে মেসি ২০১৩ সালে তার প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন এছাড়া , ওই খেলায় তিনি গঞ্জালো ইগুয়াইনের দুইটি গোলে সহায়তাও করেন খেলায় আর্জেন্টিনা ৩০ গোলে জয় লাভ করে২৫৬ ২০১৩ সালের ১৪ জুন , মেসি গুয়াতেমালার বিপক্ষে হ্যাট্রিক করে দলকে ৪০ গোলের জয় এনে দেন এবং এর মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় দিয়েগো মারাদোনার ৩৪ গোলকে ছাড়িয়ে যান এবং ৩৫ গোল নিয়ে এর্নান ক্রেসপোর সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করতে থাকেন২৫৭২৫৮ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে জোড়া গোল করে ক্রেসপোকেও ছাড়িয়ে যান মেসি এছাড়া , ওই খেলায় তিনি আগুয়েরোর একটি গোলে সহায়তায়ও করেন খেলায় আর্জেন্টিনা ৫২ গোলে জয় লাভ করে এবং দুইটি খেলা হাতে রেখেই ২০১৪ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে২৫৯মেসি তার ২০১৪ বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব অভিযান শেষ করেন ১০ গোল নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে২৬০ ২০১৪ সালের ৭ জুন , স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে মেসি একটি গোল করেন এবং দলকে ২০ গোলের জয় এনে দেন এটিই ২০১৪ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে তার প্রথম গোল২৬১২০১৪ বিশ্বকাপ২০১৪ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনা দলে মেসিকে রাখা হয় অধিনায়ক হিসেবে ১৫ জুন , গ্রুপ পর্বের প্রথম খেলায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ২১ গোলের জয়ে তিনি দলকে নেতৃত্ব দেন খেলার ৬৫তম মিনিটে তিনি গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২০ ব্যাবধানে এগিয়ে নিয়ে যান বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার তিন জন রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে তিনি গোলটি করেন২৬২ ২০০৬ বিশ্বকাপে সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে গোল করার আট বছর পর করা এই গোলটি বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় তার দ্বিতীয় গোল গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় খেলায় ইরানের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধের ইনজুরি সময়ে আর্জেন্টিনার পক্ষে জয়সূচক গোল করেন মেসি প্রায় ২৫ মিটার দূর থেকে নেয়া শটে বলটি সামান্য বাঁক খেয়ে গোলপোস্টের বাম পাশের উপরের কোনা দিয়ে ঢুকে যায় এটি ছিল তার ৪০তম আন্তর্জাতিক গোল এবং এই জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ২০১৪ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করে২৬৩২৬৪ ২৫ জুন , গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় নাইজেরিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার মাধ্যমে মেসি প্রতিযোগিতায় তার গোল সংখ্যা ৪এ নিয়ে যান খেলায় আর্জেন্টিনা ৩২ গোলে জয় লাভ করে এবং গ্রুপে প্রথম স্থানে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করে২৬৫ গ্রুপ পর্বের ৩টি খেলায়ই সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন মেসি২৬৬২৬৭২৬৮২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির ম্যাটস হুমেলসের সাথে বল দখলের লড়াইয়ে মেসিখেলার ধরণএকই খেলার ধরণ ও দৈহিক উচ্চতার কারণে মেসিকে প্রায়ই তার স্বদেশী দিয়েগো মারাদোনার সাথে তুলনা করা হয়২৬৯ মেসি অন্যান্য খেলোয়াড়দের তুলনায় অধিক ক্ষিপ্র এবং তিনি অতি দ্রুত গতিপথ পরিবর্তন করতে পারেন এছাড়াও তিনি কৌশলে ট্যাকল এড়িয়ে যেতে পারেন২৭০ তার ছোট ও শক্তিশালী পায়ের কারনে অতি অল্প সময়ে তিনি অধিক গতি অর্জন করতে পারেন তার দ্রুতগতির পা তাকে গতিশীল অবস্থায়ও ড্রিবলিং করার সক্ষমতা প্রদান করে২৭১ প্রাক্তন বার্সেলোনা ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা বলেন , মেসিই একমাত্র খেলোয়াড় যে বল ছাড়া যত দ্রুত দৌড়াতে পারে , বলসহ তার চেয়েও বেশি দ্রুত দৌড়াতে পারে২৭২ মারাদোনার মত মেসিও একজন বাম পায়ের খেলোয়াড়২৭৩ বল কাটাতে এবং দৌড়াতে তিনি সাধারণত তাঁর বাম পায়ের বহির্দেশ ব্যবহার করে থাকেন সতীর্থদের সহায়তা করতে ও পাস দিতে এবং ফিনিশিংএ তিনি সাধারণত তার বাম পায়ের ভেতরের অংশ ব্যবহার করেন২৭০মেসিকে প্রায়ই গোলপোস্টের দিকে বল নিয়ে দৌড়াতে দেখা যায় রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের কাটিয়ে আক্রমণ করতে তিনি সমর্থও হন তাঁকে মধ্য মাঠের দাগ থেকে অথবা মাঠের ডান পার্শ্ব দিয়ে আক্রমণ করতে বেশি দেখা যায় মেসিকে বহুমুখী খেলোয়াড়ও বলা হয়ে থাকে জাভি ও ইনিয়েস্তার সাথে পাসিং ও সৃজনশীলতায় তার চমত্কার সমন্বয় রয়েছে২৭৪২৭৫২৭৬ এছাড়া তিনি নির্ভুলভাবে সেটপিস্ ও পেনাল্টি কিকও নিতে পারেন২৭৭ মেসির বল কাটানোর সক্ষমতা প্রসঙ্গে মারাদোনা বলেন , বল তার পায়ের সাথে আঠার মত লেগে থাকে আমি আমার খেলোয়াড়ি জীবনে অনেক কিংবদন্তীকে দেখেছি , কিন্তু মেসির মত বল নিয়ন্ত্রণ করতে কাউকে দেখিনি২৭৮ মারাদোনা আরও বলেন যে তিনি বিশ্বাস করেন মেসিই বর্তমানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়২৭৯২৮০তাঁর ব্যক্তিত্ব তাঁর কাছে এবং আমার ব্যক্তিত্ব আমার কাছে তাঁর খেলা তাঁর কাছে এবং আমার খেলা আমার কাছে আমিও তাঁর মত বড় দলে খেলি সকল দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা আলাদা কিন্তু বর্তমানে সেই বিশ্বের সেরা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো , সেপ্টেম্বর ২০১১২৮১কৌশলগতভাবে মেসি দলের আক্রমণভাগে খেলে থাকেন , তবে কখনও কখনও তিনি প্লেমেকারের দায়িত্বও পালন করেন২৮২ মেসি উইঙ্গ বা মাঠের মাঝখান দিয়ে আক্রমন করতে পছন্দ করেন তিনি বামউইঙ্গার ও ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন প্রাক্তন বার্সেলোনা ম্যানেজার ফ্রাংক রাইকার্ড তাকে ডানউইঙ্গে নিয়ে যান তিনি ভেবেছিলেন , এই অবস্থানে থেকে মেসি আরও সহজে বিপক্ষ দলের রক্ষণভাগ ভেদ করে মধ্য মাঠে প্রবেশ করতে পারবেন এবং বাম পা দিয়ে গোলপোস্টে বাঁকানো শট নিতে পারবেন২৮২ গার্দিওলার অধীনে মেসি ফলস৯ অবস্থানে খেলেছিলেন যা মেসির প্রবৃত্তির সাথে মিলে গিয়েছিল২৮৩ আপাতদৃষ্টিতে , মেসি একজন ফরোয়ার্ড বা লোন স্ট্রাইকার হিসেবে খেললেও তিনি কখনও কখনও রক্ষণভাগ পর্যন্ত চলে যান অন্যান্য ফরোয়ার্ড  , উইঙ্গার ও আক্রমণাত্মক মধ্যমাঠের খেলোয়াড়দের সহায়তা করার জন্য বা আক্রমণাত্মক দৌড় শুরু করার জন্য তিনি এ কাজ করে থাকেন২৮৩ আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে মেসি সাধারণত ফ্রন্ট লাইনের যেকোন অবস্থানে খেলে থাকেন ফরোয়ার্ড বা উইঙ্গার হিসেবে শুরু করলেও তিনি মাঠের অন্যান্য অবস্থানেও খেলেন মারাদোনার অধীনে তিনি মূলত আক্রমনাত্মক মিডফিল্ডার বা প্লেমেকার হিসেবে খেলেছিলেন২৩৪২৩৬২৩৭ মেসি প্রকাশ করেন যে তিনি সাবেক আর্জেন্টাইন প্লেমেকার পাবলো আইমারের ভক্ত২৮৪ফুটবলের বাহিরেলিওনেল মেসি  ২০১১ সালে মেসিজন্ম লিওনেল আন্দ্রেস মেসি২৭ জুন ১৯৮৭ বয়স ২৮রোজারিও , সান্তা ফে , আর্জেন্টিনাবাসস্থান বার্সেলোনা , কাতালোনিয়া , স্পেনজাতীয়তা আর্জেন্টিনীয়বংশোদ্ভূত আর্জেন্টিনীয় এবং ইতালীয়পেশা অ্যাসোসিয়েশন ফুটবলারধর্ম রোমান ক্যাথলিকদম্পতি আন্তোনেল্লা রক্কুজ্জোসন্তান থিয়াগো মেসিপিতামাতা হোর্হে ওরাসিও মেসি বাবাসেলিয়া মারিয়া কুচ্চিত্তিনি মাআত্মীয় মাক্সি বিয়ানকুচ্চি খুড়তুতো ভাইএমানুয়েল বিয়ানকুচ্চি খুড়তুতো ভাইওয়েবসাইটঅফিসিয়াল ওয়েবসাইটব্যক্তিগত জীবনমাকারিনা লেমোস নামক এক মেয়ের সাথে মেসির সম্পর্ক ছিল মেসি পরে বলেছিলেন , ২০০৬ বিশ্বকাপের আগে ইনজুরি সারিয়ে যখন তিনি আর্জেন্টিনায় যান , তখন মেয়ের বাবা ঐ মেয়ের সাথে মেসিকে পরিচয় করিয়ে দেন২৮৫২৮৬ লুসিয়ানা স্যালাজার নামক এক আর্জেন্টাইন মডেলের সাথেও তার সম্পর্ক ছিল২৮৭২৮৮ ২০০৯ সালে ক্যানাল ৩৩ টেলিভেশন চ্যানেলের হ্যাট্রিক বার্সা নামক অনুষ্ঠানে মেসি বলেন , আমার একজন মেয়েবন্ধু আছে এবং সে আর্জেন্টিনাতে থাকে আমি সুখী এবং নিশ্চিন্তে আছি২৮৮ সিজেস কার্নিভালে , অ্যান্তোনেলা রকুজ্জো২৮৯ নামক ঐ মেয়ের সাথে মেসিকে দেখা যায় রকুজ্জো রোজারিওর স্থানীয় অধিবাসী২৯০ ২০১২ সালের ২ জুন , ইকুয়েডরের বিপক্ষে মেসি একটি গোল করেন ও একটি গোলে সহায়তা করেন গোল করার পর তিনি বলটি তার জার্সির ভেতর ঢুকিয়ে নেন , যা তার মেয়েবন্ধুর গর্ভবতী হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে রকুজ্জো তার টুইটারে পোস্ট করেন যে তিনি সেপ্টেম্বরে সন্তান জন্ম দিতে যাচ্ছেন২৯১ মেসি নিশ্চিত করেন যে এটি একটি ছেলে শিশু , সে অক্টোবরে জন্মগ্রহন করবে এবং তিনি ও তার মেয়েবন্ধু শিশুটির নাম থিয়াগো রাখার পরিকল্পনা করেছেন তবে , থিয়াগোর জন্ম একটু পরেই হয় ২ নভেম্বর , থিয়াগো জন্মগ্রহন করে এবং মেসি সন্তানের বাবা হন বার্সেলোনার দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করা হয় , লিও মেসি একজন বাবা পাশাপাশি , মেসি তার ফেসবুক পাতায় পোস্ট করেন , আজ আমি বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ , আমার সন্তান জন্মগ্রহন করেছে এবং এই উপহারের জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ৩৫২৯২মেসির দুজন খুড়তুত ভাই রয়েছে ম্যাক্সি , প্যারাগুয়ের ক্লাব অলিম্পিয়াতে উইঙ্গার হিসেবে খেলেন এবং এমানুয়েল বিয়ানচুচ্চি , প্যারাগুয়ের ইন্দিপেনদিয়েন্তে ক্লাবে মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন২৯৩২৯৪আমেরিকান লেখক রাইট থমসন এর মতে , মেসি স্পেনে থাকা সত্বেও রোজারিও এবং তার পরিবারের সাথে সুনিবিড় বন্ধন রক্ষনাবেক্ষন করে চলেছেন তার কথার মাধ্যমেই এই বন্ধন সম্পর্কে বোঝা যায় আজকের দিনে , মেসি কিছুটা আলাদা ধরনের স্পেনীয় ভাষায় কথা বলেন , যেমনটি রোজারিওর স্থানীয় মানুষেরা বলে থাকেন তিনি প্রতিনিয়তই রোজারিওতে তার কিছু বন্ধুর সাথে ফোন বা বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকেন , যাদের অধিকাংশই দ্য মেশিন অব ৮৭ এর সদস্য ছিলেন একদিন বুয়েনোস আইরেসে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ট্রেনিং শেষে তিনি পরিবারের সাথে ডিনার করতে এবং রাত কাটানোর জন্য গাড়িতে করে রোজারিওর উদ্দেশ্য যাত্রা করেন এবং পরের দিন ট্রেনিং শুরু হওয়ার আগে বুয়েনোস আইরেসে ফিরে আসেন মেসি রোজারিওতে তার পুরনো বাড়ির মালিকানাও রেখে দিয়েছেন , যদিও তার পরিবার বাড়িটি আর ব্যবহার করেনাদানশীলতা২০০৭ সালে , মেসি প্রতিষ্ঠা করেন লিও মেসি ফাউন্ডেশন এই সংস্থা সুরক্ষিত নয় এমন শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থের প্রতি নজর রাখে২৯৫২৯৬ শৈশবে মেসিরও শারীরিক সমস্যা ছিল , তাই এই সংস্থা আর্জেন্টিনার রোগাক্রান্ত শিশুদের স্পেনে নিয়ে গিয়ে চিকিত্সার ব্যবস্থা করে এবং যাতায়াত , চিকিত্সা ও অন্যান্য ব্যয় বহন করে এই সংস্থার জন্য মেসি নিজে চাঁদা সংগ্রহ করে থাকেন এছাড়াও হার্বালাইফ নামক একটি বহুমুখী বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান লিও মেসি ফাউন্ডেশনের সহায়তা করে থাকে২০১০ সালের ১১ মার্চ , মেসিকে ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে ঘোষনা করা হয়২৯৭ শুভেচ্ছা দূত হিসেবে মেসির লক্ষ্য , শিশুদের অধিকার রক্ষা এক্ষেত্রে মেসিকে সহায়তা করে থাকে তার নিজের ক্লাব বার্সেলোনা বার্সেলোনাও ইউনিসেফের সাথে নানাবিধ কর্মকন্ডে জড়িত২৯৮ এছাড়া মেসি তার সাবেক ক্লাব নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের স্টেডিয়ামের ভেতরে ক্লাবের যুব প্রকল্পের জন্য একটি শয়নাগার তৈরিতে আর্থিকভাবে সহায়তা প্রদান করেন , এমনকি একটি নতুন ব্যায়ামাগারও তৈরি করে দেন এতে করে লিওয়েলসএর সাথে মেসির বন্ধন আরও দৃঢ় হয় তারা মেসির ছেলে সন্তান থিয়াগোকে একটি বিশেষ সদস্যপত্র দেওয়ার পরিকল্পনাও করেন৩৫২০১৩ সালের মার্চে , মেসি তার জন্মভূমি আর্জেন্টিনার রোজারিওতে একটি শিশু হাসপাতালে ৬০০ ,০০০ ইউরো অনুদান প্রদান করেন এই অর্থ ব্যয় হয় ভিক্টর জে ভিলেলার শিশু হাসপাতালের অনকোলজি ইউনিটের পুনঃ সংস্কারের কাজে সেইসাথে , ডাক্তারদের প্রশিক্ষনের জন্য বার্সেলোনায় ভ্রমনের জন্যেও এই অর্থ ব্যয় করা হয়২৯৯সম্পত্তি২০১০ সালের মার্চে , ফুটবল ভিত্তিক ফরাসি ম্যাগাজিন ফ্রান্স ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ফুটবলারদের তালিকায় মেসিকে শীর্ষস্থানে রাখে ২৯৬ মিলিয়ন পাউন্ড ৩৩ মিলিয়ন ইউরো বার্ষিক আয় নিয়ে ডেভিড বেকহ্যাম ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলে তিনি শীর্ষস্থান দখল করেন বেতন , বোনাস ও মাঠের বাহিরের বিভিন্ন মাধ্যম হতে তিনি এই অর্থ আয় করে থাকেন৩০০৩০১ তার সর্বমোট সম্পত্তি হিসাব করা হয়েছে ১১০ মিলিয়ন ইউএস ডলার৩০২ ২০১৪ সালের মে মাসে , ফোর্বস কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক প্রাপ্ত খেলোয়াড়দের তালিকায় ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর পেছনে থেকে দ্বিতীয় হন মেসি বিগত ১২ মাসে তার মোট আয় ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার৩০৩পারিশ্রমিক২০১২ সালের ডিসেম্বরে , বার্সেলোনা ঘোষণা যে মেসি পাঁচ বছরের জন্য চুক্তি নবায়ণ করতে যাচ্ছেন যার মাধ্যমে তিনি ২০১৮ সাল পর্যন্ত বার্সেলোনায় থাকবেন এই চুক্তিতে তার পারিশ্রমিক বাড়িয়ে করা হয় ১৬ মিলিয়ন ইউরো ২১২ মিলিয়ন ডলার , যা তাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত ফুটবলারে পরিণত করে স্পেনে এই স্তরের আয়ের আয়কর বন্ধনী ৫৬ হওয়ায় , বার্সাকে মেসির পক্ষে আয়কর দিতে হবে ২০ মিলিয়ন ইউরোর ২৬৫ মিলিয়ন ডলার চেয়ে সামান্য বেশি৩০৪মিডিয়ামেসির জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের একটি উদাহরন ছবিটি ভারতে তোলা হয়েছেপ্রো ইভলিউশন সকার ২০০৯ ও প্রো ইভলিউশন সকার ২০১১ ভিডিও গেম দুটির কভারে মেসির ছবি ব্যবহার করা হয় এছাড়া , গেম দুটির প্রচারমূলক অভিযানের সাথেও তিনি জড়িত ছিলেন৩০৫৩০৬ প্রো ইভলিউশন সকার ২০১০ গেমটির কভারে ফের্নান্দো তোরেসের৩০৭ সাথে মেসির ছবি ব্যবহার করা হয় ২০১১ সালের নভেম্বরে , প্রো ইভলিউশন সকারের প্রধান প্রতিদ্বন্দী ফুটবল গেম সিরিজ ফিফার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইলেক্ট্রনিক আর্টস ঘোষনা করে , ২০১২ সালে তাদের আসন্ন ভিডিও গেম ফিফা স্ট্রিটের কভারে মেসির ছবি ব্যবহার করা হবে ইলেক্ট্রনিক আর্টসের ফিফা ২০১৩ ভিডিও গেমটির কভারেও মেসির ছবি ব্যবহার করা হয়৩০৮ জার্মান খেলাধূলার সামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আডিডাস মেসির স্পন্সর তাকে আডিডাসের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনেও দেখা যায়৩০৯ ২০১০ সালের জুনে , মেসি হার্বালাইফের সাথে তিন বছরের একটি চুক্তি সাক্ষর করেন৩১০ এই প্রতিষ্ঠানটি লিও মেসি ফাউন্ডেশনের কাজেও সহায়তা করেমেসি টাইম ১০০ এর তালিকায় ২০১১৩১১ ও ২০১২৩১২ সালে টানা দুইবার জায়গা পান এটি টাইম ম্যাগাজিন কর্তৃক প্রকাশিত একটি তালিকা প্রতি বছর বিশ্বের ১০০ জন সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে নিয়ে এই তালিকা তৈরি করা হয়২০১১ সালের এপ্রিলে , মেসি তার ফেসবুক পাতা চালু করেন মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পাতার অনুসারীর সংখ্যা ৬০ লক্ষ ছাড়িয়ে যায়৩১৩ ২০১৩ সালের নভেম্বর অনুসারে , তার পাতায় অনুসারীর সংখ্যা পাঁচ কোটিরও বেশি৩১৪২০১৩ সালের মার্চে , খাটি স্বর্ণ দ্বারা মেসির বাঁ পায়ের একটি প্রতিরূপ তৈরি করা হয় যা জাপানে ৫২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রিত হয় ২৫ কিলোগ্রাম ওজনের প্রতিরূপটি নির্মান করেন জাপানী গহনা নির্মাতা গিনজা তানাকা তিনি এটি নির্মান করেন মেসির টানা চতুর্থ ব্যালোন দঅর জয়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্য৩১৫২০১৩ সালের ৮ মে , ঘোষনা করা হয় যে এপিক পিকচার্স গ্রুপের প্রযোজনা এবং অর্থায়নে মেসির জীবন নিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করা হবে এই চলচ্চিত্রটি ২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর সময় মুক্তি পাবে৩১৬বিজ্ঞাপনী উদ্যোগ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে , মেসিকে তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের ব্র্যান্ড অ্যাম্ব্যাসাডর করা হয়৩১৭ এনবিএ তারকা কোব ব্রায়ান্টের সাথে একটি বিজ্ঞাপন চিত্রে মেসি কাজ করেন তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের সর্বশেষ বিজ্ঞাপনে , এই দুই তারকা একটি যুবকের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য প্রতিযোগীতায় নেমে পড়ে৩১৮২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর , লা লিগায় অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে মেসি এডিডাস আডিজেরো জুতা পরে মাঠে নামেন এই জুতা মেসির একজন ভক্তের ডিজাইন করা ২০১২ সালের প্রথম দিকে মেসি তার ভক্তদের জন্য এডিডাস আডিজেরো এফ৫০এস জুতা ডিজাইন করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন ১৪ ,২০০এরও বেশি ডিজাইনের মধ্য থেকে স্পেনের হ্যাভিয়ের পাসকুয়াল মুলোরের ডিজাইনটি মেসি পছন্দ করেন৩১৯ ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি , মালাগার বিপক্ষে খেলায় , তার চতুর্থবারের মত ব্যালোন দিঅর বিজয় স্মরণীয় করে রাখার জন্য তিনি আডিডাস আডিজেরো এফ৫০ এর বিশেষ জুতা জোড়া পরে মাঠে নামেন৩২০২০১৩ সালের জানুয়ারিতে , মেসিকে জাপানি ফেইস ওয়াশ স্কাল্পডি এর সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপনে দেখা যায় বিজ্ঞাপনে তিনি জাপানি ভাষায় কিছু কথা বলেন৩২১২০১৩ সালের জুলাইয়ে , চীনে বার্তা আদানপ্রদান সংক্রান্ত অ্যাপলিকেশন উইচ্যাটের বিজ্ঞাপন চিত্রে মেসি অংশগ্রহন করেন তিনি এডিডাসের স্যুট পরেছিলেন এবং দুইটি উইচ্যাটের মাসকট ধরে রেখেছিলেন উইচ্যাট টেনসেন্টের একটি ক্রস প্ল্যাটফর্ম বার্তা প্রেরক অ্যাপলিকেশন৩২২ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে , জিলেটের একটি বিজ্ঞাপনে টেনিস তারকা রজার ফেদেরারের সাথে মেসি কাজ করেন মেসিকে কোম্পানিটির আন্তর্জাতিক ফুটবল অভিযানের দূত হিসেবে ঘোষণা করা হয় এছাড়া জিলেট লিও মেসি ফাউন্ডেশনের উদ্দেশ্য পুরনে তাদের অংশীদার হিসেবেও কাজ শুরু করে৩২৩